কিভাবে চুলের যত্ন করবেন

উজ্জ্বল এবং মসৃণ চুল আর শারীরিক সৌন্দর্য যেন একসূত্রে গাঁথা! নিত্য আমাদেরকে চুল ফাটা, চুল ভেঙে যাওয়া, রুক্ষ হওয়াসহ চুলের নানা সমস্যায় পড়তে হয়। তবে আশার কথা হলো, নিয়মিত চুলের যত্ন এবং খাদ্যাভ্যাসে সতর্কতায় আপনি পেতে পারেন সুন্দর ঝলমলে চুলের বাহার।

 

চুলের যত্নে লেবু

চুলের যত্নে বিভিন্ন উপায়ে লেবু ব্যবহার করতে পারেন।

লেবুর এমন কিছু ব্যবহারের কথা জেনে নেওয়া যাক-

১. ৪ টেবিল চামচ আমলকির রস ও সমপরিমাণ লেবুর রস মিশিয়ে চুলের ত্বকে ম্যাসেজ করুন। আধ ঘণ্টা অপেক্ষা করে চুল শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে ২ থেকে ৩বার এই প্যাক ব্যবহারে চুল হবে মসৃণ ও ঝলমলে।

২. খানিকটা নারকেল তেল ও লেবুর রস একত্রে মেশান। এবার মিশ্রণটি ধীরে ধীরে চুলের গোঁড়ায়স্ক্যাল্প মাখুন। ১৫ থেকে ২০ মিনিট পর হালকা শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন। চুল ধোয়ার পর কন্ডিশনার লাগিয়ে নিন। সপ্তাহে একবার এই পদ্ধতি অনুসরণ করুন। এভাবে ছয় সপ্তাহ ব্যবহার করুন। এতে চুল পড়া বন্ধ হবে।

৩. চুল শুষ্ক প্রকৃতির হলে অথবা মাথার ত্বক ঘেমে যাওয়ার প্রবণতা থাকলে, শ্যাম্পুর সঙ্গে কয়েক ফোঁটা লেবুর রস মিশিয়ে ব্যবহার করুন। এতে চুল ঝরঝরে থাকে, মাথার ত্বক ও চুল ঘেমে স্যাঁতসেঁতে হয়ে পড়ে না, এবং ঘামজনিত দুর্গন্ধও হয় না। বাইরে যাওয়ার আগে এভাবে শ্যাম্পু করে নেওয়া ভালো, প্রয়োজনে প্রতিদিনই করতে পারবেন।

৪. তৈলাক্ত মাথার ত্বকে যদি খুশকি হয়, তাহলে ২ টেবিল চামচ মেথি, ২ টেবিল চামচ লেবুর রস ও ২ টেবিল চামচ পানি মিশিয়ে সারা রাত ভিজিয়ে রাখুন। সকালে মাথার ত্বকে লাগিয়ে ১ ঘণ্টা পর শ্যাম্পু করে নিন। অনেক সময় মাথায় ফুসকুড়ির মতো গোটা দেখা যায়। এ রকম সমস্যা দূর করতে এটি সপ্তাহে ২ দিন ব্যবহার করুন।

৫. ২ টেবিল চামচ আমলকির পাউডার, সমপরিমাণ মেথি পাউডার ও ১টি লেবুর খোসা (সবুজ অংশ) একসঙ্গে পেস্ট করে নিন। এরপর এক থেকে দেড় টেবিল চামচ জলপাই তেল বা নারকেল তেল মিশিয়ে মাথার ত্বকে লাগিয়ে রাখুন ১ ঘণ্টা (মাথার ত্বকের সঙ্গে সঙ্গে চুলেও দেওয়া যায়)। এরপর শ্যাম্পু করে ফেলুন। সপ্তাহে এক দিন ব্যবহার করুন। এটি চুলের দ্রুত বৃদ্ধিতে দারুণ সহায়ক।


নিয়মিত লেবুর এই হেয়ার প্যাকগুলো ব্যবহারে খুশকিসহ চুলের সব সমস্যা দূর হবে। চুলের রুক্ষতা কমবে, সে সঙ্গে কমবে চুল পড়ার হারও।

 

চুলের যত্নে পেঁয়াজ

পেঁয়াজে প্রচুর পরিমাণে জীবাণুনাশক উপাদান থাকে। এটি চুলের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে দারুণভাবে সাহায্য করে।

কীভাবে তৈরি করবেন পেঁয়াজের রস

প্রথমে পেঁয়াজের খোসা ছাড়িয়ে নিন। তারপর একে চার টুকরো করে কাটুন। এবার পেঁয়াজের টুকরোগুলো মিক্সারে ব্লেন্ড করে নিন। ব্লেন্ড হয়ে গেলে পেঁয়াজের রস ছেঁকে নিন। এ ক্ষেত্রে খেয়াল রাখতে হবে পেঁয়াজের রস চুলের গোঁড়াে লাগানোর সময় গোটা পেঁয়াজের টুকরো যেন চুলে আটকে না যায়।

পেঁয়াজ দিয়ে তৈরি হেয়ার প্যাক

১. পেঁয়াজ ও মধু দিয়ে তৈরি হেয়ার প্যাক : এক কাপের এক তৃতীয়াংশ পেঁয়াজের রস নিন। তারপর এক টেবিল চামচ মধু মেশান। এবার মিশ্রণটি চুলের গোঁড়ায় ভালো করে মেখে নিন। ৩০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন।

২. অলিভ অয়েল এবং পেঁয়াজের রস : অলিভ অয়েলের সঙ্গে তিন টেবিল চামচ পেঁয়াজের রস মেশান। এ মিশ্রণটি হাতে নিয়ে চারপাশ থেকে চুলের গোঁড়ায় এবং চুলের গোঁড়াে লাগিয়ে নিন। দুই ঘণ্টা রেখে কম ক্ষারযুক্ত শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন। চুলের শক্তি বৃদ্ধিতে এবং খুশকি কমাতে এটি দারুণ কার্যকর।

 

চুলের যত্নে মধু

ঝলমলে ও সুন্দর চুলের জন্য মধু অত্যন্ত কার্যকর। চুলের যত্নের জন্য যে প্রক্রিয়ায় মধু ব্যবহার করবেন:

২০০ গ্রাম নারকেল তেলের সঙ্গে ২ টেবিল চামচ মধু মিশিয়ে চুলের গোড়ায় ম্যাসাজ করুন। ১ ঘণ্টা পর শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

অথবা ১ কাপ টক দইয়ের সাথে আধা কাপ মধু মিশিয়ে চুলে লাগিয়ে আধা ঘণ্টা পর ভেষজ শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

 

চুলের যত্নে অ্যালোভেরার ব্যবহার

অ্যালোভেরা জেলে রয়েছে ছত্রাকবিরোধী এবং জীবাণুনাশক উপাদান, যা মাথার ত্বকের চুলকানি প্রতিরোধ করে। ফলে খুশকি থেকে মুক্ত থাকে চুল। এতে বিদ্যমান বিশেষ ধরনের ময়েশ্চারাইজার আপনার চুলে প্রাকৃতিক কন্ডিশনার হিসেবে কাজ করে এবং চুলের আর্দ্রতা ধরে রাখে। প্রোটিন, ভিটামিন ও মিনারেলে ভরপুর অ্যালোভেরা চুলের ফলিকলকে পরিপুষ্ট করে চুল পড়া কমায়। চুল দ্রুত বড় হতেও সাহায্য করে।

অ্যালোভেরা ব্যবহারের নিয়ম

১. অ্যালোভেরার জেল সরাসরি মাথার ত্বকে এক ঘণ্টা লাগিয়ে রেখে দিন, এরপর মৃদু (মাইল্ড) শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে দু-তিন দিন ব্যবহারে দারুণ উপকার পাবেন।

২. রুক্ষ চুলকে উজ্জ্বল করতে ব্যবহার করতে পারেন মধু,নারকেল তেল ও অ্যালোভেরা জেল। শুষ্ক চুলে আর্দ্রতা ফেরাতে ও চুলের ডিপ কন্ডিশনিং করতে এই উপাদানগুলো ব্যবহার করতে পারেন।

এক চা চামচ মধু, দু’ চামচ নারকেল তেল ও দু’ চামচ অ্যালোভেরা নিয়ে মিশিয়ে এক জেলের মতো উপাদান তৈরি করুন। গোসলের ৩০ মিনিট আগে এই মিশ্রণ চুলে লাগিয়ে একটা শাওয়ার ক্যাপে ঢেকে দিন মাথা। পারে আধঘণ্টা পর শ্যাম্পু করুন।

৩. চুলের উজ্জ্বলতা ধরে রাখতে দই ও অ্যালোভেরা ব্যবহার করুন। দু’ চামচ টক দইয়ের সঙ্গে এক চামচ অ্যালোভেরা মিশিয়ে প্রায় ১০ মিনিট ধরে মাথার ত্বকে মাসাজ করুন। পরে শ্যাম্পু করে ধুয়ে নিন চুল। এরপর অবশ্যই কন্ডিশনার লাগাবেন।

যারা নিয়মিত চুলে মেহেদি লাগান, তারা মেহেদির সঙ্গেও অ্যালোভেরা জেল ব্যবহার করতে পারেন ।




 

চুলের যত্নে ডিম

ডিমে প্রচুর পরিমাণে খনিজ, প্রোটিন এবং ভিটামিন বি কমপ্লেক্স রয়েছে যা চুলের যত্নে দারুণ উপকারি। এটি চুল পড়া প্রতিরোধ করে এবং চুলের বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।

আসুন জেনে নেই পাতলা চুল ঘন করতে ডিমের ব্যবহার-

১. একটি পাত্রে ডিম ফাটিয়ে নিন। এক টেবিল চামচ ক্যাস্টর অয়েল মিশিয়ে নিন। ক্যাস্টর অয়েলের পরিবর্তে নারকেল তেলও ব্যবহার করতে পারেন। ভাল করে ডিম ফাটিয়ে একটা মাস্ক তৈরি করে নিন।

সপ্তাহে তিন দিন এই মাস্ক ভাল করে চুলের গোড়া থেকে ডগা পর্যন্ত লাগিয়ে নিন। মাথার তালুতেও ম্যাসাজও করুন। আধ ঘণ্টা পর ঠাণ্ডা পানিতে ধুয়ে শ্যাম্পু করে নিন। শ্যাম্পুর পর চুলে হালকা করে কন্ডিশনার লাগিয়ে নিন।

২. চুল সিল্কি করতে এক কাপ দইয়ের সঙ্গে একটা ডিমের কুসুম মিশিয়ে নিন। এই প্যাক চুলে লাগিয়ে ২০ মিনিট রাখুন। ঠান্ডা পানিতে ধুয়ে ফেলুন। চুল থেকে আঁশটে গন্ধ বেরোলে হালকা শ্যাম্পু করে নিন।

৩. ঘন চুল পেতে চাইলে একটি ডিমের সাদা অংশের সঙ্গে এক চা চামচ অলিভ অয়েল ঘন করে মিশিয়ে নিন। স্ক্যাল্প ও চুলে ভালো করে লাগিয়ে নিন। ১৫ থেকে ২০ মিনিট পর প্রথমে ঠান্ডা পানিতে ধুয়ে তারপর শ্যাম্পু করে নিন।

৪. ডিম দিয়ে তৈরি করতে পারেন কন্ডিশনার। একটা ডিমের কুসুমের সঙ্গে এক টেবিল চামচ অলিভ অয়েল ভালো করে মেশান। এর সঙ্গে হালকা গরম পানি মিশিয়ে পাতলা করে নিন। চুল শ্যাম্পু করার পর এই কন্ডিশনার গোটা চুলে লাগান।

 

ছেলেদের চুলের যত্ন

ছেলেরা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দীর্ঘসময় ধরে জেল হেয়ার স্প্রে ব্যবহার করে থাকে। এতে চুলে ময়লা, ধুলোবালি আটকে যায়। তাই দিনের বেলা যখন আপনার বাইরে কাজ করার সম্ভাবনা বেশি, তখন জেল ব্যবহার করবেন না। আর যখনই জেল বা হেয়ার স্প্রে ব্যবহার করবেন, চেষ্টা করুন দ্রুত বাসায় ফিরে শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলতে। শ্যাম্পু করার পর কন্ডিশনার ব্যবহার করুন। কন্ডিশনার এর স্থলে এক মগ পানিতে লেবুর রস দিয়েও চুল ধুয়ে নিতে পারেন। কন্ডিশনার ব্যবহারের ক্ষেত্রে খেয়াল রাখুন কন্ডিশনার যেন চুলের গোঁড়া ও মাথার ত্বকে না লেগে থাকে।

এছাড়া যেসব বিষয় লক্ষ্য রাখতে হবে:

নিয়মিত চুল আঁচড়াতে হবে। এতে খুশকি হবার সম্ভাবনা কমে যাবে।
পুষ্টিকর খাবার খাওয়া প্রয়োজন। এতে মাথার ত্বক ও চুল ভালো থাকবে।
অতিরিক্ত চা, কফি পান পরিহার করতে হবে।
প্রতিটি চুলের গোড়ায় অক্সিজেনের প্রবেশ ও হাইড্রোজেন নির্গমনের ব্লক রয়েছে। প্রতিদিন গোসল করলে এ ব্লকগুলো সচল থাকে। চুলের বৃদ্ধিও ভালো হয়।
মাফলার, টুপি বা অন্য কোনো গরম কাপড়ের উপকরণ দিয়ে মাথা বা চুল ঢেকে রাখলে চুল ভালো থাকে।
শীতের সময় গরম পানি দিয়ে গোসল করলেও মাথায় গরম পানি দেয়া থেকে বিরত থাকুন।

 

মেয়েদের চুলের যত্ন

মেয়েদের সৌন্দর্য হলো চুল(Hair)। তাই নিয়মিত চুলের যত্ন নেয়া অত্যন্ত জরুরি। ব্যস্ত জীবনের মাঝে একটু সময় বের করে কীভাবে চুলের যত্ন নেবেন—তা জেনে নিই-

 

আবহাওয়া ও পরিবেশ বুঝে চুলের যত্ন

আবহাওয়া পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে চুলের অনেক সমস্যা দেখা দিতে পারে। বৃষ্টিতে চুল ভিজলে ভেঙে যেতে পারে এবং পড়েও যায়।

এজন্য-

সপ্তাহে দুই দিন চুলে তেল লাগান। মাথায় পুরো এক ঘণ্টা তেল রেখে তবে শ্যাম্পু(Shampoo) করে চুল ধুয়ে নিতে হবে। এভাবে নিয়মিত চুলে তেল লাগালে চুল সতেজ ও কোমল থাকবে।


 

চুল বুঝে শ্যাম্পু নির্বাচন

কারও চুল পাতলা আবার কারও ঘন হয়। তাই চুলের ব্যালান্স বুঝে শ্যাম্পু কন্ডিশন করতে হবে। স্বাভাবিক ও রং করা চুলের শ্যাম্পু করার ক্ষেত্রে রয়েছে ভিন্নতা। অনেকের ধারণা, বেশি শ্যাম্পু করলে চুল পড়ে যায়। বরং চুলে নিয়মিত শ্যাম্পু করলে পরিষ্কার থাকে এবং এর স্বাভাবিক আর্দ্রতা বজায় থাকে।

শ্যাম্পুর পরিবর্তে

শ্যাম্পুর বিকল্প হিসেবে এবং রং করা চুলের জন্য মসুর ডাল বেশ ভালো কাজ করে। দুই টেবিল চামচ শর্ষেবাটা ও দুই টেবিল চামচ মসুর ডাল সারা রাত ভিজিয়ে রেখে পাতলা পেস্ট তৈরি করে নিন। এরপর পরিষ্কার মাথার চুলের গোড়ায় এই পেস্টটি ব্যবহার করুন।

কন্ডিশনারের বিকল্প চা–পাতা

বাড়িতে চা খাওয়ার পর চায়ের পাতা ফেলে না দিয়ে এটি চুলের যত্নে ব্যবহার করতে পারেন। এ চা–পাতা পানিতে ভিজিয়ে শ্যাম্পুর পর চুলে দিয়ে স্বাভাবিক পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। কিন্তু এর জন্য চা তৈরির সময়ে কোনো রকম চিনি ব্যবহার করা যাবে না। তাতে চুলে আঠালো ভাব চলে আসবে।

 

মেয়েদের চুলের যত্নে কিছু ভেষজ তেল-

ক্যাস্টর অয়েল

ক্যাস্টর অয়েল ওমেগা ৬ ফ্যাটি এসিড, ভিটামিন ই-সমৃদ্ধ যা চুলকে মজবুত ও উজ্জ্বল করে। এ ছাড়া এটি নতুন চুল গজাতেও সাহায্য করে। অন্যদিকে এতে ভিটামিন বি রয়েছে, যা চুলের বৃদ্ধির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

নারকেল তেল

চুলের যত্নে নারকেল তেলের জুড়ি নেই। নারকেল তেল ভিটামিন ই-সমৃদ্ধ। চুল এ তেল ভালোভাবে শুষে নিতে পারে। এর ফলে এই তেলের কার্যকারিতাও বেশি।

সূর্যমুখী তেল

তৈলাক্ত চুলের জন্য এ তেল খুব উপযোগী। হালকা হওয়ার ফলে চুলে ম্যাসাজ করলে, চুল তেল তেলে হয় না। তবে কখনোই চুলে সূর্যমুখী তেল বেশি সময়ের জন্য লাগিয়ে রাখবেন না। এতে চুলের গোড়া নরম হয়ে চুল পড়ার সমস্যা দেখা দিতে পারে।

 

চুলের যত্নে ভিটামিন ই ক্যাপসুল

ভিটামিন ই ক্যাপসুল চুলের গোড়ায় রক্ত সঞ্চালন বাড়ায়। ফলে দ্রুত বাড়ে চুল এবং নতুন চুল গজাতে সাহায্য করে। পাশাপাশি চুলের গোড়া মজবুত করে চুল পড়া বন্ধ করে। চুলের অকালপক্কতা প্রতিরোধে ভিটামিন-ই ক্যাপসুল দারুণ সহায়ক।

যেভাবে ব্যবহার করবেন

১. নারকেল তেলের সঙ্গে কয়েকটি ভিটামিন ই ক্যাপসুলের মিশিয়ে নিন। মিশ্রণটি রাতে ঘুমানোর আগে চুলের আগা থেকে গোড়া পর্যন্ত লাগান। চুলের গোড়ায় ৫ মিনিট ম্যাসাজ করুন। পরদিন সকালে ভেষজ শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন চুল।

২. একটি কলা চটকে নিন। ৩টি ভিটামিন ই ক্যাপসুলের তেল ও ১ টেবিল চামচ মধু মিশিয়ে চুলের লাগান। ১ ঘণ্টা পর শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। অ্যালোভেরা জেল ব্লেন্ড করে ভিটামিন ই ক্যাপসুল মিশিয়ে চুলের গোড়ায় ম্যাসাজ করুন। কিছুক্ষণ পর ধুয়ে শ্যাম্পু করে নিন।

৩. ২ টেবিল চামচ টক দইয়ের সঙ্গে কয়েকটি ভিটামিন ই ক্যাপসুলের তেল মেশান। মিশ্রণটি চুলের আগা থেকে গোড়া পর্যন্ত লাগিয়ে রাখুন ৪০ মিনিট। মাইল্ড শ্যাম্পু ব্যবহার করে পরিষ্কার করে ফেলুন চুল।

 

বাড়তি সতর্কতা

অ্যান্ড্রোজেনিক হরমোন নারীর চুল পড়া ও পুরুষের টাকের সবচেয়ে বড় কারণ। এই হরমোন সাধারণত পুরুষের শরীরে বেশি পরিমাণে থাকে। নারীর মেনোপজের সময় ও পরে অ্যান্ড্রোজেনিক হরমোন আনুপাতিক হারে বেড়ে যায়। তখন হঠাৎ চুল বেশি করে পড়তে শুরু করে। এক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

ছত্রাক সংক্রমণ বা খুশকি চুল পড়ার অন্যতম কারণ। তাই চুল ভেজা রাখা যাবে না। প্রয়োজনে চুলে ছত্রাক বিরোধী শ্যাম্পু ব্যবহার করুন।

শরীরের পুষ্টির ওপর চুলের স্বাস্থ্য নির্ভর করে। দৈনিক খাদ্যতালিকায় পরিমিত পরিমাণে প্রোটিন, শর্করা, চর্বি, খনিজ ও ভিটামিন জাতীয় খাবার রাখুন। এছাড়া স্বাস্থ্যজ্জ্বল চুল পেতে প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করা উচিৎ।

Source:

https://www.medicalnewstoday.com/articles/321850
https://www.healthline.com/health/beauty-skin-care/regrow-hair-naturally
https://www.mayoclinic.org/diseases-conditions/hair-loss/diagnosis-treatment/drc-20372932
https://www.healthline.com/health/beauty-skin-care/how-to-repair-damaged-hair


Notice: Function Elementor\Controls_Manager::add_control_to_stack was called incorrectly. Cannot redeclare control with same name "_skin". Please see Debugging in WordPress for more information. (This message was added in version 1.0.0.) in /home/mxumgquj/sustho.com/wp-includes/functions.php on line 5831
আপনার পছন্দের লেখাগুলো নিয়মিত পেতে ইমেইল দিয়ে এখনি সাবস্ক্রাইব করুন।
সর্বশেষ পোস্টগুলো
আমার ওজন কমানোর গল্প

আমার ৩৪ কেজি ওজন কামানোর কথা

home remedies for insomnia

অনিদ্রা দূর করার উপায় । ১০ টি ঘরোয়া ঔষধ

আঁচিলের প্রাকৃতিক চিকিৎসা

আঁচিলের প্রাকৃতিক চিকিৎসা

আমার ওজন কমানোর খাবার তালিকা

আমার ওজন কমানোর খাবার তালিকা বা ডায়েট চার্ট

অতিরিক্ত ওজন কমানোর ঔষধ

ওজন কমানোর প্রাকৃতিক ঔষধ

ওজন বাড়ানোর খাবার তালিকা

কফ কাশির প্রাকৃতিক ঔষধ

কফ বা কাশির প্রাকৃতিক চিকিৎসা

কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করার উপায়

কোষ্টকাঠিন্য থেকে মুক্তির উপায়

গরম পানি খাওয়ার উপকারিতা

গরম পানি খাওয়ার ১০ টি উপকারিতা

খুশকি দূর করার উপায়

ঘরে বসে খুশকি দূর করার সহজ ১০টি উপায় । খুশকি দূর করার প্রাকৃতিক শ্যাম্পু

চুল পরা বন্ধের উপায়

চুল পড়া বন্ধের প্রাকৃতিক ঔষধ 

দ্রুত ওজন বাড়ানোর উপায়

দ্রুত ওজন বারানোর উপায়

বমি দূর করার উপায়

বমি দূর করার উপায় | বমি হলে করনীয়

ব্যায়াম ছাড়া ওজন কমানোর উপায়

ব্যায়াম ছাড়া ওজন কমানোর ৯ টি সহজ উপায়

দ্রুত ওজন কমানোর খাবার তালিকা

মাসে ১০ কেজি ওজন কমানোর ডায়েট চার্ট




Categories
ভাল লাগলে ৫ স্টার রেটিং দিন!

Recommended Posts

No comment yet, add your voice below!


Add a Comment

Your email address will not be published.