ঘুম কমানোর উপায়

ঘুম কমানোর উপায়

আমাদের সংক্ষিপ্ত জীবনে সময়ের হিসাব মেলানো খুবই গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন সময়ের সদ্ব্যবহার করলেই জীবনে সফলতা অর্জন করা সম্ভব৷ কিন্তু আমরা অনেকেই দিন-রাত্রির বড় একটি সময় বিছানায় ঘুমিয়ে কাটিয়ে দেই। কেউ কাজের প্রতি অনীহা করে  ঘুমান, আবার কেউ অনিচ্ছাকৃতভাবে।

চিকিৎসকদের ভাষায় একজন মানুষের সুস্থ থাকার জন্য ৮ ঘণ্টার ঘুমই যথেষ্ট। কোনো কোনো চিকিৎসকের মতে আবার সেটি ৮ ঘণ্টারও কম। কিন্তু আমাদের মধ্যে অনেকেই আছেন শুধুমাত্র রাতেই ৮ ঘণ্টার বেশি ঘুমান। পাশাপাশি অনেকের দিনে ঘুমানোর অভ্যাস রয়েছে। অতিরিক্ত ঘুমের কারণে দিনের বড় একটি সময় নষ্ট হয়। অথচ এই সময়ে আমরা অনেক প্রয়োজনীয় কাজ করতে পারি। পরিমিত ঘুমের পর বাকি সময়ের সদ্ব্যবহার আমাদের সাফল্য পেতে সহায়ক হতে পারে। সুস্থ ডট কমের আজকের লেখাটি ঘুম কমানোর উপায় সমূহ নিয়ে সাজানো হয়েছে।

 

অতিরিক্ত ঘুমের কারণ

সাধারণত রাতে অপর্যাপ্ত ঘুম, ঘুমের সময়সূচি পরিবর্তন এবং স্লিপ অ্যাপনিয়ার মতো বিভিন্ন স্লিপিং ডিসঅর্ডারের কারণে দিনে অতিরিক্ত ঘুম হয়। সপ্তাহ কিংবা মাসের মধ্যে তিন থেকে চারদিন এমন ঘটলে স্বাভাবিকভাবে নেওয়া যায়৷ তবে কেউ যদি নিয়মিতভাবে দিনের বেলা অতিরিক্ত ঘুমায় তাহলে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত। কেননা ব্রেন এবং দেহের বিভিন্ন অবস্থার পরিপেক্ষিতেও অতিরিক্ত ঘুমানোন প্রবণতা দেখা যায়৷ পারিপার্শ্বিক বিভিন্ন ঘটনার জন্য অতিরিক্ত ঘুম হয়৷ যেমন, কোনো শব্দ বা অন্য কোনো কারণে যদি রাতে ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে তাহলে দিনে ঘুম বেশি হয়। আবার পার্কিনসনের মতো স্নায়ুতন্ত্রের রোগের কারণেও অতিরিক্ত ঘুম হয়। এর বাইরে যারা সাইকিয়াট্রিক ডিসঅর্ডারের কারণে দুশ্চিন্তা ও বিষণ্নতায় ভোগেন তাদের মধ্যে কারো ঘুম খুব বেশি হয়, আবার কারো খুবই কম হয়।

অতিরিক্ত ঘুম শুধুমাত্র স্বাস্থ্য ও কাজের জন্য ক্ষতিকর নয়। পাশাপাশি এটি হতে পারে অন্য কোনো রোগের প্রাথমিক লক্ষণ। চিকিৎসকদের মতে যারা হটাৎ করে অতিরিক্ত ঘুমের সমস্যায় ভোগেন তাদের অনেকে পরবর্তীতে বিভিন্ন ইনফেকশন, অ্যাজমা, গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল ডিসঅর্ডার ও মেটাবলিক অ্যাবনরমালাইটিজে আক্রান্ত হন। প্রাথমিক অবস্থায় এই বিষয়টি অনেকে বুঝতে পারেন না। আবার যারা বুঝতে পারেন তারা কোনো গুরুত্ব দেন না। ভালো ঘুম অফিস কিংবা স্কুল কলেজে, পরিবারের সদস্য এবং বন্ধুদের সাথে ভালো সময় কাটাতে সাহায্য করে। বিপরীতে অতিরিক্ত তন্দ্রা কাজের ক্ষতির পাশাপাশি বড় জটিল কোনো রোগের দিকে নিয়ে যায়। তাই নিয়মিত অতিরিক্ত তন্দ্রাভাব হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। পাশাপাশি খাবারদাবার, লাইফস্টাইল ও অভ্যাসে পরিবর্তন আনা আবশ্যক৷ 

 

দিনে কম ঘুমানোর উপায়

প্রায় সবারই দিনের বিশেষ কিছু সময়ে ঘুম ঘুম ভাব হয়। তবে কেউ কেউ দিনের বেলা অতিরিক্ত ঘুমের সমস্যায় ভোগেন। কখনো কাজের সময় অথবা অবসর সময়েও এই সমস্যায় ভুগতে হয়। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় এই সমস্যার নাম হলো হাইপারসোমনিয়া। দিনের বেলা এই সমস্যা হলেও এর শুরু হয় রাতে। মূলত রাতের বেলা অপর্যাপ্ত ঘুম অথবা অনিয়মিত ঘুমের কারণেই দিনে অতিরিক্ত ঘুমের ভাব হয়। এই সমস্যা থেকে কিভাবে মুক্তি পেতে পারেন সে সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক।

 

১. রাতে পর্যাপ্ত ঘুমঃ দিনের বেলা অতিরিক্ত ঘুম হওয়ার প্রধান কারণ হলো রাতে পর্যাপ্ত ঘুম না হওয়া। অনেকেই রাতে বিভিন্ন ধরনের কাজ করেন। এমনকি ভোরের দিকে ঘুমাতে যান। যে কারণে দিনে ঘুমের ভাব হয়। একজন প্রাপ্ত বয়স্ক নারী-পুরুষের জন্য সাত থেকে নয় ঘণ্টা ঘুমের প্রয়োজন। অল্প বয়সী ছেলে মেয়েদের পুরো নয় ঘণ্টা ঘুমানো প্রয়োজন। তবে গড়ে সবারই রাতে কমপক্ষে আট ঘণ্টা ঘুমানো উচিত। 

২. বিছানা থেকে দূরত্ব তৈরিঃ ইউনিভার্সিটি অব মেরিল্যান্ড স্কুল অব মেডিসিনের সহকারী অধ্যাপক অ্যাভেলিনো ভার্সেলেস বলেছেন, “বিছানাকে শুধুমাত্র ঘুমানো ও যৌন মিলনের জন্য ব্যবহার করুন। বিছানায় বসে কিংবা শুয়ে পড়াশোনা, টিভি দেখা, গেমস খেলা ও ল্যাপটপ ব্যবহার করা থেকে দূরে থাকুন।” এছাড়া বিছানায় কোনো হিসাব-নিকাশ ও কারো সাথে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় থেকে দূরে থাকতে হবে। 

৩. নির্দিষ্ট সময়ে ঘুম থেকে উঠাঃ যারা ঘুমের সমস্যায় ভোগেন তাদের প্রায়ই ঘুমানো ও ঘুম থেকে উঠার জন্য নির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ করার কথা বলা হয়৷ এমনকি সপ্তাহের শেষ দিনেও এই নিয়ম মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়। কিন্তু যারা ইনসোমনিয়া বা অনিদ্রায় ভুগছেন তারা নির্দিষ্ট ঘুমানোর সময় নির্ধারণ করে আরো বেশি সমস্যায় পড়তে পারেন। এ কারণে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা শুধুমাত্র নির্দিষ্ট সময়ে ঘুম থেকে উঠার উপর জোর দিতে বলেছেন। সেটা হতে পারে এক সপ্তাহ থেকে কয়েক মাস। 

৪. তাড়াতাড়ি ঘুমানোর উপর জোর দেওয়াঃ হটাৎ করে তাড়াতাড়ি ঘুমানোর চেষ্টা না করে ধারাবাহিকভাবে অল্প অল্প করে সময় কমিয়ে আনা বুদ্ধিমানের কাজ। প্রতি চার রাত পরপর আগের চেয়ে ১৫ মিনিট আগে ঘুমানোর চেষ্টা করতে হবে। এরপর একটা নির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ করা যেতে পারে। 

৫. নির্দিষ্ট সময়ে খাওয়ার অভ্যাসঃ নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমানোর পাশাপাশি নির্দিষ্ট সময়ে খাবার খাওয়ার অভ্যাস গড়তে হবে। প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে সকাল ও দুপুরের খাবার খেতে হবে। রাতের খাবার খেতে হবে ঘুমানোর দুই থেকে তিন ঘণ্টা পূর্বে। 

৬. ব্যায়ামঃ ভালো ঘুমের জন্য ব্যায়াম বিভিন্নভাবে সহায়ক হতে পারে। বিশেষ করে অ্যারোবিক এক্সারসাইজ রাতে ভালো ঘুম হতে সহায়তা করে। পাশাপাশি দিনে কাজ করার জন্য এনার্জি প্রদান করে এবং বিভিন্ন বিষয়ে বুদ্ধিমত্তার সাথে সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রত্যেকের দিনের আলোতে কমপক্ষে ৩০ মিনিট ব্যায়াম করা উচিত। 

৭. সময়সূচি তৈরিঃ যদি আপনাকে রাতে বিভিন্ন ধরনের কাজ সামলাতে গিয়ে ৭-৮ ঘণ্টা ঘুমাতে সমস্যা হয়, তাহলে একটি সময়সূচি তৈরি করুন। বিভিন্ন কাজের গুরুত্ব নির্ধারণ করুন। রাতে অপ্রয়োজনীয় কাজ করা থেকে বিরত থাকুন। এতে আপনি ঘুমের জন্য পর্যাপ্ত সময় পাবেন। পাশাপাশি আপনাকে অহেতুক কাজের চাপে পড়তে হবে না।

৮. ঘুম না আসা পর্যন্ত বিছানায় না যাওয়াঃ কখনো ক্লান্ত হলেই বিছানায় গা এলিয়ে দেবেন না। এতে আপনার ভালো ঘুম হবে না। যখন ঘুমের ভাব হবে তখনই বিছানায় যাওয়া উচিত। তাই সবার আগে নিজের ক্লান্তি ও ঘুমের মধ্যে ফারাক বোঝার চেষ্টা করুন। 

৯. বিকালে না ঘুমানোঃ বিকালের ঘুম রাতের ঘুমে ব্যাঘাত সৃষ্টি করে। যার ফলে দিনে কাজের সময় ঘুমের ভাব হয়। তাই বিকালেই না ঘুমানোই ভালো। 

১০. ঘুমানোর আগে চিত্তবিনোদন (Relaxing): ঘুমানোর আগে বিশেষ কিছু চিত্তবিনোদন দিনের সকল ক্লান্তি দূর করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। চিত্তবিনোদনের জন্যে গান শুনতে পারেন, বই পড়তে পারেন, হট বাথ করতে পারেন অথবা মেডিটেশন করতে পারেন। পাশাপাশি এক কাপ হারবাল চা অথবা গরম দুধ পান করতে পারেন। তবে যেসব খাবার খেলে রাতে বারবার ওয়াশরুমে যাওয়ার প্রয়োজন হয়, সে সকল খাবার পরিহার করতে হবে। 

১১. অ্যালকোহল পরিহারঃ অনেকে মনে করেন মদ বা অ্যালকোহল জাতীয় কোনো খাবার রাতে ঘুমানোর জন্য সহায়তা করে। কিন্তু এটি পুরোপুরি ভুল। বরং অ্যালকোহলের কারণে অনিদ্রা হয়। যার প্রভাব পড়ে দিনের কাজকর্মে। 

১২. বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণঃ স্লিপিং ডিসঅর্ডারের কারণে দিনে অতিরিক্ত ঘুম হতে পারে। যদি কোনোভাবে দিনে বেলায় অতিরিক্ত ঘুমের সমস্যা দূর না করা যায় তাহলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উত্তম। 

 

ঘুম কমানোর খাবার

গ্রিন টিঃ শরীরে পানিশূন্যতা হলে ঘুম পায়। কিন্তু বিশেষ কিছু তরল খাবার পানিশূন্যতা কমানোর পাশাপাশি জেগে থাকতে সহায়তা করে। এ জন্য পানি উত্তম তরল খাবার। তবে এর সাথে ক্যাফেইন থাকলে ঘুম দূর করা যায়। এক্ষেত্রে কফির চেয়ে গ্রিন টি বেশি উপকারী৷ কেননা কফি অপেক্ষা গ্রিনটিতে ক্যাফেইনের পরিমাণ অনেক কম। সাথে শরীরের জন্য উপকারী অ্যান্টি-অক্সিডেন্টও পাওয়া যায়।

চকোলেটঃ চকোলেট তৈরির প্রধান উপকরণ চকোয়া বিনে মনকে উৎফুল্ল ও সজাগ করার উপাদান থাকে। তবে কফি অপেক্ষা কম। বোনাস হিসেবে চকোলেটে হার্টের জন্য উপকারী ফ্লাভোনয়েড। তবে মনে রাখতে হবে, চকোলেট যত ডার্ক হবে, ক্যাফেইনের মাত্রাও তত বেশি। তাই অতিরিক্ত মাত্রায় ডার্ক চকোলেট না খাওয়াই উত্তম। 

শস্যদানাঃ আমাদের শরীর কার্বোহাইড্রেট থেকে এনার্জি যোগায়। শস্যদানা থেকে মূলত কার্বোহাইড্রেট। যেমন, চাল, গম, বার্লি, ওটস, রাই ইত্যাদি। শস্যদানা খুব ধীরে ধীরে ভাঙে। এর ফলে শরীরে ধারাবাহিকভাবে শক্তি যোগাতে পারে। শরীর শক্তি থাকলে ক্লান্ত হবার সম্ভাবনা কম। মূলত ক্লান্তি থেকেই ঘুম আসে। ঘুম কমানোর জন্য পরিমিত ভাত, রুটি অথবা টোস্ট খাওয়া যেতে পারে। যেহেতু আমাদের প্রধান খাবার ভাত। তাই শস্যদানা থেকে অন্য কোনো খাবার খাওয়া খেতে পারেন।

ফলমূলঃ  ফলে থাকা সুগার আমাদের শরীরে দ্রুত এনার্জি যোগায়। কিন্তু ফল খেলে শরীরের গ্লুকোজ লেভেল খুব বেশি বাড়ে না। তাই এনার্জি পাওয়ার জন্য ফল খাওয়া নিরাপদ। বিশেষ ভিটামিন -সি সমৃদ্ধ কমলা অথবা আনারস খেতে পারেন। এই ফলগুলো শরীরের চর্বিকে গলিয়ে এনার্জিতে রূপান্তিত করে। 

প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবারঃ প্রোটিন থেকে এনার্জি খুব ধীরে ধীরে পাওয়া যায়। ফলে শরীরে দীর্ঘ সময় এনার্জি পাওয়া যায়। তবে মাংস খুবই কম খাওয়া উচিত। এছাড়া খাওয়ার আগে কিছু সময় ব্যায়াম করা যেতে পারে। এতে করে ক্ষুধা বাড়ে। 

 

ঘুম কমানোর আমল

ঘুম কমানোর দোয়াটি ইবনে আবি শাইবাতে আছে—– ﺍَﻟﻠّﻬُﻢَّ ﺍﺷْﻔِﻨِﻲْ ﻣِﻦَ ﺍﻟﻨَّﻮْﻡِ ﺑِﻴَﺴِﻴْﺮٍ، ﻭَﺍﺭْﺯُﻗْﻨِﻲْ ﺳَﻬَﺮًﺍ ﻓِﻲْ ﻃَﺎﻋَﺘِﻚَ . ( 302/15 ) বাংলা উচ্চারণঃ ( মোটামুটি) আল্লাহুম্মাশফিনী মিনান নাওমি বিইয়াসীর, ওয়ারযুক্বনী সাহারন ফী ত্ব~য়াতিক অর্থঃ ‘ইয়া আল্লাহ, সামান্য ঘুম দ্বারাই আমার প্রয়োজন পূরণ করুন এবং আপনার আদেশ পালনে রাত্রিজাগরণের তাওফীক দিন।’

মধুর উপকারিতা ও মধু খাওয়ার নিয়ম

মধুর উপকারিতা ও মধু খাওয়ার নিয়ম

প্রকৃতি থেকে প্রাপ্ত উপকারী খাদ্যের মধ্যে মধু অন্যতম। হাজার বছর ধরে এটি মানুষের নিকট একটি গুরুত্বপূর্ণ খাবার। ধারণা করা হয় যে, প্রাচীন মিশরীয়রা সর্বপ্রথম মধুকে খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করার প্রচলন শুরু করে। এর হাজার বছর পর আজ এটি শুধু খাদ্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি! সময়ের পরিক্রমায় মানুষের নিকট গুরুত্বপূর্ণ ঔষধে পরিণত হয়েছে। বর্তমান সময়ে মধু যেমন খুব দামী তেমনি বেশ চাহিদা সম্পন্ন। স্বাস্থ্য সচেতন মানুষের নিকট মধু একটি গুরুত্বপূর্ণ খাদ্য। বিভিন্ন প্রকার ফুল থেকে সংগৃহীত মধুর উপকারিতা, মধুর ব্যবহার ও মধু সেবনের নিয়ম সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।

মৌমাছিরা বিভিন্ন ফুলের পরাগ রেণু থেকে মধু সংগ্রহ করে সেগুলো মৌচাকে একত্রিত করে। সে জমানো মধু মৌয়ালদের মাধ্যমে সংগ্রহ করে প্রক্রিয়াকরণ এবং প্রক্রিয়াকরণ ছাড়া দু-ভাবেই বাজারজাত করা হয়। মধুতে মানবদেহের জন্য প্রয়োজনীয় বেশকিছু খাদ্য উপাদান রয়েছে। যুগে যুগে মধুর নানা প্রয়োজনীয় ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যবহারের কারণে  বিশেষজ্ঞরা একে সোনালি তরল হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

মধুতে প্রায় ৪৫টি খাদ্য উপাদান রয়েছে। প্রতি ১০০ গ্রাম মধুতে থাকে ৩০৪ ক্যালরি। এছাড়া মধুতে আরো রয়েছে ৮২ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট, ৪ মিলিগ্রাম সোডিয়াম, ৫২ মিলিগ্রাম পটাশিয়াম, ০.৩ গ্রাম প্রোটিন, ২% লৌহ ও ৮২ গ্রাম চিনি। মধুতে কোনোপ্রকার চর্বি ও কোলেস্টেরল নেই। আর এতে যে চিনি থাকে তা একেবারেই প্রাকৃতিক।

মধুর উপকারিতা ও মধু খাওয়ার নিয়ম
মধুর উপকারিতা ও মধু খাওয়ার নিয়মগুলো জেনে নিন।

 

মধুর উপকারিতা

মধু একটি উপকারী তরল খাদ্য। মধু সেবনে বিভিন্ন ধরণের জটিল রোগবালাই থেকে সহজে আরোগ্য লাভ করা যায়। দেহে তাপ ও শক্তি উৎপাদন করার প্রয়োজনীয় উপাদান থাকার কারণে শীতপ্রধান দেশে মধু খুবই জনপ্রিয়কারণ বছরের নির্দিষ্ট কিছু সময় তাপমাত্রা যখন হিমাঙ্কের নিচে নেমে যায় তখন মধু শরীরে তাপ ও শক্তির যোগান দেয়। এতে করে সেখানকার মানুষ তীব্র শীতেও সুস্থ থাকতে পারেন।

কোষ্ঠকাঠিন্য ও পেটের রোগের জন্য মধু খুবই উপকারী। এতে প্রাকৃতিক শর্করা রয়েছে যা খুব সহজেই খাবার হজমে সহায়তা করে। এতে থাকা ডেক্সট্রিন খাওয়ার পর খুব অল্প সময়ে রক্তে প্রবেশ করে মানবদেহে হজমক্রিয়া শুরু করে। যাদের কোষ্ঠকাঠিন্য এবং খাবারদাবার হজমে সমস্যা তারা মধু সেবনে উপকার পেতে পারেন।

মধুতে কোনোপ্রকার চর্বি ও কোলেস্টেরল না থাকায় এটি সেবনে হৃদরোগের ঝুঁকি কমে। এছাড়াও যাদের অনেক আগে থেকেই শ্বাসকষ্ট রয়েছে তারাও মধু সেবনে উপকার পেতে পারেন। মধুতে থাকা ক্যালসিয়াম মানবদেহের হাঁড় গঠনে সহায়তা করে। আর এই ক্যালসিয়াম মুখের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধিতেও কার্যকরী ভূমিকা পালন করে। মধু ব্যাতিত পৃথিবীতে বিদ্যমান খুব কম প্রাকৃতিক খাদ্য থেকে সৌন্দর্য বৃদ্ধির গুণাগুণ পাওয়া যায়। 

দৈনন্দিন জীবনে নানা সমস্যার কারণে মানুষ দুশ্চিন্তায় অনিদ্রায় ভোগেন। ঘুমানোর পূর্বে মধু সেবনের ফলে এই অনিদ্রা দূর হয়। এছাড়াও যাদের যৌন দুর্বলতা রয়েছে তারাও মধু সেবন করতে পারেন। যেসকল পুরুষরা যৌন দুর্বলতায় ভুগছেন তারা প্রতিদিন ছোলার সঙ্গে মধু সেবনে ভালো ফলাফল পেতে পারেন। যৌন রোগের প্রাকৃতিক ঔধের মধ্যে মধু এখন অবধি সবচেয়ে বেশি কার্যকর ভূমিকা পালন করছে।

 

খালি পেটে মধুর উপকারিতা

মধু সেবনের কয়েকটি বিশেষ নিয়মের মধ্যে খালি পেটে সেবনের নিয়মটি সবচেয়ে বেশি কার্যকর। খুব সকালে এক গ্লাস কুসুম গরম পানির সাথে এক চামচ মধু ও এক চামচ লেবুর রস মিশিয়ে পান করলে শরীরের অতিরিক্ত ওজন কমে যায়। এই প্রক্রিয়ায় নিয়মিত মধু সেবন করলে শরীরের বিষাক্ত উপাদানগুলো বের হয়ে যায়, লিভার পরিষ্কার হয় এবং মেদ গলে বেরিয়ে আসে।

সকালে খালি পেটে মধু সেবনে আরো নানাবিধ উপকার পাওয়া যায়। বিশেষ করে যারা স্থায়ীভাবে সর্দি, কাশি, কফ ও শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত তারা উপকৃত হবেন। ভালো ফল পাওয়ার জন্য প্রতিদিন সকালেমধু সেবন চালিয়ে যেতে হবে। এছাড়াও বদহজম কিংবা ভারী খাবারে যাদের সমস্যা হয় তারা খাবারের পূর্বে এক চামচ মধু সেবন করলে বদহজম থেকে মুক্তি পেতে পারেন।

 

পুরাতন মধুর উপকারিতা

পুরাতন মধু বলতে এক বছর কিংবা তার পূর্বে সংগৃহীত মধুকে বোঝায়। গবেষণায় দেখা গেছে যে, কিছু কিছু ক্ষেত্রে নতুন কিংবা কাঁচা মধুর থেকে পুরাতন মধু বেশি কার্যকরী ভূমিকা পালন করে। তবে পুরাতন মধু হৃদরোগ এবং শ্বাসকষ্টে আক্রান্তদের জন্য বেশি উপকারি। এছাড়াও এটি বার্ধক্যজনিত সমস্যায় ভুগতে থাকা পুরুষদের নানাবিধ উপকার করে।

কাঁচা মধুর উপকারিতা
এসিডিটি থেকে বাঁচতে আদা ও লেবুর সাথে কাঁচা মধু মিশিয়ে সেবন করুন।

কাঁচা মধুর উপকারিতা

মৌচাক থেকে সংগ্রহ করার পর যে মধু পাওয়া যায় সেটিই কাঁচা মধু (Row Honey)। মধু মৌচাক থেকে সংগ্রহের পর কয়েকটি ধাপে বোতলজাত করা হয়। প্রক্রিয়াজাত মধু থেকেকাঁচা মধু বেশি বেশ তাজা হয়ে থাকে। যার কারণে এতে বিশেষ কিছু প্রতিষেধক ও উপকার পাওয়া যায়। আদা কিংবা লেবুর রসের সঙ্গে কাঁচা মধু মিশ্রিত করে খাওয়ার কারণে অ্যাসিডিটি কমে যায়। এছাড়াও বমি বমি ভাব দূর হয় এবং শরীরে তাপ সঞ্চান সঞ্চালনে বৃদ্ধি ঘটে। গর্ভবতী নারীদের গর্ভধারণের প্রথম অবস্থায় কাঁচা মধু সেবনের পরামর্শ দেয়া হয়।

 

রূপচর্চায় মধুর ব্যবহার

ঔষধ হিসেবে মধু যেমন খুব কার্যকর তেমনি নারীদের রূপচর্চায়ও মধুর ব্যাপক কার্যকারিতা লক্ষ্য করা যায়। কৃত্রিম প্রসাধনী ব্যবহারের কারণে যখন ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়তে শুরু করেছিলো ঠিক তখনি গবেষকরা রূপচর্চায় মধুর উপকারিতা প্রমাণ করেন।

লাবণ্যময় চেহারার জন্য মধু বেশ উপকারি। প্রতিদিন এক চামচ মধু মুখে মেখে ১০ মিনিট রাখলে ত্বক সহজেই আর্দ্র হয়না এবং চেহারার উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পায়। আর এই কাজটি নিয়মিত করলে দীর্ঘ মেয়াদি ফল পাওয়া সম্ভব। এছাড়াও মধুতে থাকা অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল বা জীবাণুনাশক উপাদান মুখের ব্রণ ও কালচে ভাব দূর করে। আর এই সুফল পাওয়ার জন্য এক চামচ মধু ও নারিকেল মিশিয়ে মুখে লাগালে ভাল ফল পাওয়া যায়

 

চুলের যত্নে মধুর উপকারিতা

বর্তমানে চুলের যত্নেও মধুর ব্যাপক ব্যবহার শুরু হয়েছে। চুলের জন্য উপকারী বেশকিছু উপাদান সঠিক মাত্রায় মধুতে বিদ্যমান থাকায় আজকাল কয়েকটি নামিদামি শ্যাম্পু ও কন্ডিশনার প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান তাদের পণ্যের কার্যকারিতা বৃদ্ধির জন্য মধু ব্যবহার করছে। মধুতে থাকা পুষ্টিগুণ নিস্তেজ চুলকে উজ্জ্বল ও প্রাণবন্ত করে তোলে। দুই চা চামচ মধু পরিমাণমত নারিকেল তেলের সঙ্গে মিশিয়ে চুলে মাখিয়ে ২০ মিনিট থেকে ৩০ মিনিট পর্যন্ত রেখে ধুয়ে ফেলতে হবে। এতে করে কন্ডিশনারের সুফলও পাওয়া যায়। এছাড়াও মধুতে থাকা গ্লুকোজের কারণে চুলের উজ্জ্বলতাও বৃদ্ধি পায়। প্রাকৃতিকভাবে চুলের নানাবিধ যুত্নে মধুর থেকে বেশি উপকারি উপাদান দ্বিতীয়টি এখন অবধি খুঁজে পাওয়া যায়নি।

চায়ের সাথে মধুর উপকারিতা
চায়ের সাথে মধুর মিশ্রণ ওজন কমাতে কার্যকরী।

চায়ের সাথে মধুর উপকারিতা

দৈনন্দিন জীবনে আমরা প্রায় সবাই কমবেশি চা পান করে থাকি। আর এই চা যেমনই হোক তাতে মিষ্টি স্বাদ না হলে যেন অসম্পূর্ণ থেকে যায়। চায়ে মিষ্টতা আনতে আমরা সব চেয়ে বেশি ব্যবহার করি চিনি। আর এতেই বিপত্তি ঘটে! কারণ নিয়মিত চিনি গ্রহণ করায় দিন দিন ডায়াবেটিস সহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্তের হার বাড়ছে। ফলে বিশেষজ্ঞরা বরাবরই চায়ে চিনি পরিহার করার পরামর্শ দেন। তবে একাধিক গবেষণার ফলাফল থেকে জানা যায়, চায়ে মিষ্ট স্বাদ পেতে চিনির পরিবর্তে মধু ব্যবহার নিরাপদ।

এক কাপ গরম চায়ে পরিমাণমত মধু মিশ্রিত করে পান করলে শরীরের রক্ত সঞ্চালনে উন্নতি ঘটে। এছাড়াও পুরাতন কাশি থাকলে তা সেরে যায়। বিশেষ করে গ্রিন টি বা হার্বাল টি এর সঙ্গে মধু মিশিয়ে খেলে মানবদেহের ভোকাল কর্ড বা স্বরতন্ত্রী সবসময় নিরাপদ থাকে।

তবে চায়ের সঙ্গে মধু সেবনে শরীরের কোষগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হয়। কারণ মধুতে থাকা অ্যান্টি অক্সিডেন্টস ক্যান্সারের কোষ গঠনে বাধা প্রদান করে। শুধু ক্যান্সারই নয়, আরো কয়েকটি মারাত্মক রোগও প্রতিরোধ করে চা এবং মধুর মিশ্রণ। চিনিতে ডায়াবেটিস হওয়ার ঝুঁকি থাকলেও মধুতে এমন ঝুঁকি নেই। হাজার বছর ধরে চায়ে চিনির পরিবর্তে মধুর ব্যবহার হয়ে আসছে। 

ধারনা করা হয়, খ্রিস্টপূর্ব ২৭৩৭ সালে চীনা সম্রাট কাসান নুঙ্গের সময় থেকে চায়ে মধু মেশানোর প্রচলন শুরু হয়। পরে এই পদ্ধতি চীন, জাপান থেকে আস্তে আস্তে ভারতীয় উপমহাদেশে ছড়িয়ে পরে।  যদিও আধুনিক যুগে চিনি সহজলভ্য ও সস্তা হওয়ায় চায়ে চিনির ব্যাবহার ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে গবেষকদের মতে খুব শীঘ্রই চায়ে চিনির ব্যবহার সীমিত পর্যায়ে আনা জরুরি। নতুবা হৃদরোগ, ক্যান্সার ও ডায়াবেটিকস জাতীয় রোগির সংখ্যা দ্বিগুণ বৃদ্ধি পাবে। আর চায়ে চিনির বিকল্প হিসেবে মধু হতে পারে সর্বোত্তম।

 

সরিষা ফুলের মধুর উপকারিতা

সহজলভ্য মধুর মধ্যে সরিষা ফুলের মধু অন্যতম। কারণ বর্তমানে যেসকল দেশে বাণিজ্যিকভাবে মধু উৎপাদন হচ্ছে, প্রায় সবখানেই সরিষার চাষকেই কাজে লাগানো হচ্ছে। আর এই সরিষা ফুল থেকে প্রাপ্ত মধুর ঘ্রাণ এবং স্বাদ এক কথায় অসাধারণ। বিশেষ করে সরিষা ফুলের কাঁচা মধু। এতে পাকস্থলীর ক্যান্সার নিরাময়যোগ্য কিছু বিশেষ উপাদান মিশ্রিত থাকে। এছাড়াও সরিষা ফুলের মধু পেশীতে বাহ্যিকভাবে ব্যবহার করলে আঘাতের ব্যাথা কিংবা সাধারণ যে কোনো ব্যাধা উপশম হয়।

 

কালোজিরা ফুলের মধুর উপকারিতা

কালোজিরা মানবদেহের জন্য খুবই উপকারি একটি মশলা দানা। নানানপ্রকার ভেষজগুণ সম্পন্ন হওয়ায়, এর ব্যবহার রান্না ঘর ছাপিয়ে ঔষধালয়েও সুপ্রসিদ্ধ। শরীরের অভ্যন্তরীণ রোগবালাই নিরাময়ে কালোজিরার ব্যবহার প্রাচীন কাল থেকেই হয়ে আসছে। সেই পরিপ্রেক্ষিতে কালোজিরার মধুও বিভিন্ন সময় মানুষের নিকট জনপ্রিয়তা পেয়েছে। তবে কালোজিরার চাষ পৃথিবীর সব অঞ্চলে হয় না বলে এই জাতীয় মধু সহজলভ্য নয়। কালোজিরার ফুলের মধু মূলত পুরুষদের যৌন দুর্বলতা কমায় এবং নানাবিধ যৌন সমস্যার স্থায়ী সমাধান করে।

 

লিচু ফুলের মধুর উপকারিতা

টি বাজারে পাওয়া সব চেয়ে কম দামে ভাল ফুলের মধু। কারণ এটি সরিষা ও কালোজিরা ফুলের মধুর থেকেও সহজলভ্য এবং দামে সস্তা। তবে লিচু ফুল থেকে প্রাপ্ত মধুর চাহিদাও নেহাতই কম নয়। মূলত শরীরের অতিরিক্ত ওজন কমানোর জন্য সহায়ক ভূমিকা পালন করে এটি। অনেকে সরিষা কিংবা কালোজিরার মধুর ঘ্রাণ সহ্য করতে পারেন না। আর তাদের জন্য ডাক্তাররা সবসময় লিচু ফুলের মধু খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন।

মধুর অপকারিতা

মধুর অপকারিতা

প্রায় প্রত্যেক খাদ্যেরই উপকারি দিকের পাশাপাশি কিছু অপকারি দিকও থাকে। তেমনিভাবে মধুরও কখনো কখনো উপকারের বদল অপকার করে। কারণ সকল ফুলের মধু মানুষের পক্ষে সেবন যোগ্য না। কারণ বনজঙ্গলে থাকা বিষাক্ত ফুলের মধু সেবন করলে নানাবিধ জটিল রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। এমনি এমনই একপ্রকার ফুল হচ্ছে রোডড্রেনডন।

শিশু এবং প্রাপ্তবয়স্কদের মধু সেবনে বেশ নিয়মনীতি রয়েছে। একজন কিশোর যতটুকু মধু সেবন করতে পারবে একজন শিশু কিন্তু ততটুক মধু সেবন করতে পারবে না। যদি শিশুরা মাত্রাতিরিক্ত মধু সেবন করে তবে এলার্জি, পেটে অস্বস্তি এমনকি মারাও যেতে পারে।

বর্তমানে বাজার থেকে ক্রয়কৃত কৃত্রিম রাসায়নিক ওষুধ সেবনের পাশাপাশি মধু সেবন করলে বিষক্রিয়া সৃষ্টি হতে পারে। তবে এমনটা আবার সব ওষুধের ক্ষেত্রে ঘটে না। চা, গরম পানি কিংবা খালি মধু অতিরিক্ত সেবনের কারণে রক্তচাপ বেড়ে যেতে পারে।

 

যদিও বর্তমান সময়ে মধু প্রক্রিয়াজাতকরণে ব্যাপক উন্নতি সাধিত হয়েছে। বিশেষ করে মধুকে বেশিদেন সংগ্রহে রাখতে বিভিন্নরকম ক্যামিকেল ব্যবহার করছে প্রতিষ্ঠানগুলো। এছাড়াও নকল মধু তৈরিকারী অসাধু ব্যবসায়ীরা তো রয়েছেই। সবমিলিয়ে মধু দ্বারা মানুষের উপকারের বদলে ক্ষতি করার পেছনে সবচেয়ে বেশি দায়ী আধুনিক সংগ্রহ পদ্ধতি এবং নকল মধু প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। এতে করে মানুষ যেমন উপকারের বদল ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে তেমনি নানাপ্রকার রোগেও আক্রান্ত হচ্ছে। তাই পরিশেষে বলতে চাই, মধু আমাদের জন্য স্রষ্টার দানকৃত মহৌষধ হয়েই থাকুক।

ডেঙ্গু জ্বর হলে করনীয় | ডেঙ্গু জ্বরের লক্ষণ সমূহ ও ঘরোয়া ঔষধ

ডেঙ্গু থেকে মুক্তির উপায়

ডেঙ্গুকে ঘাতক জ্বরও বলা হয়। এই জ্বরের ভাইরাস বা জীবাণু সরাসরি একজনের দেহ থেকে আরেকজনের দেহে যেতে পারে না। জ্বরে আক্রান্ত ব্যাক্তির রক্তে থাকা জীবাণু মশার মাধ্যমে আশে পাশের অন্য কারো শরীরে প্রবেশ করলে তারও ডেঙ্গু জ্বর হয়।

Continue reading

জ্বর কমানোর প্রাকৃতিক চিকিৎসা

home remedies for fever

শরীরের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি হলে তাকে আমরা জ্বর বলি। ৯৮.৬ ডিগ্রি ফারেনহাইট অথবা ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রাকে আমরা স্বাভাবিক হিসেবে গণ্য করি। কিন্তু এটা সর্বজন গ্রহণযোগ্য মত না। বয়সভেদে দেহের স্বাভাবিক তাপমাত্রার ভিন্নতা হয়।

জাতীয় স্বাস্থ্য ইন্সটিটিউট (NIH) এর মতে একজন শিশুর শরীরের তাপমাত্রা ৯৯.৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট বা ৩৭.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি হলে সেটাকে জ্বর হলা হবে। আর একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষের শরীরের তাপমাত্রা ৯৯ থেকে ৯৯.৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট অথবা ৩৭.২ থেকে ৩৭.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি হলে সেটাকে জ্বর বলা হবে।

কখনো কখনো জ্বর অন্যকোন রোগের লক্ষণ হিসেবে হতে পারে। মানব দেহ যখন কোন সংক্রামণ (Infection)’র সাথে লড়াই করে তখন জ্বর হতে পারে। হঠাত এক পরিবেশ থেকে আরেক পরিবেশে যাওয়া এবং অস্বাস্থ্যকর জীবন যাপনের কারণেও জ্বর হয়।

সাধারণত কয়েকদিনের মধ্যে আপনা আপনি জ্বর ভাল হয়ে যায়। তবে জ্বরের কারণে যদি অস্বস্তি লাগে তাহলে আপনি সহজে ঘরে বানানো জ্বর কমানোর কিছু প্রাকৃতিক ঔষধ ব্যবহার করে শরীরের তাপমাত্রা স্বাভাবিক করতে পারেন।

সতর্কতাঃ শরীরের তাপমাত্রা ১০৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট বা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি হলে দ্রুত ডাক্তারের শরণাপন্ন হন।

 

জ্বর হলে কি খাবেন
আদা, লেবু পানিতে জ্বর ভাল হয় | Source: Pixabay

 

নিচে জ্বরের ঘরোয়া সমাধানগুলো বর্ণনা করা হল।

১। ঠান্ডা পানিঃ পরিষ্কার কাপড় ঠান্ডা পানিতে ভিজিয়ে হাত-পায়ের তালু ও বগলের নিচে ভাল করে বার বার মুছে নিতে হবে। অথবা এক টুকরো কাপড় ভিজিয়ে কপাল এবং ঘাড়ে জলপট্টি দিলে শরীরের তাপমাত্রা কমে যায়। এছাড়াও কুসুম গরম পানি দিয়ে গোসল করলে জ্বর ভাল হয়ে যায়। যদিও জ্বর হলে মোটেও গোসল করা উচিত নয়। যত বেশি সম্ভব বিশ্রাম নিতে হবে। অতিরিক্ত ঠান্ডা পানি ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন।

২। তুলসী পাতাঃ জ্বর কমানোর উপায় হিসেবে তুলসী পাতার ব্যবহার খুব কার্যকর। বাজারে পাওয়া জ্বরের এন্টিবায়োটিক ওষুধের মতই এটা কাজ করে।এতে থাকা নানা ঔষধি গুন দ্রুত জ্বর ভাল করতে পারে।

  • ২০ টি তুলসী পাতা এবং ১ চা চামচ আদা কুচি এক কাপ পানিতে গরম করতে থাকুন। পানি যখন অর্ধেক হয়ে যাবে তখন নামিয়ে ফেলুন। ১ চামচ মধু মিশিয়ে দিয়ে দুই থেকে তিনবার এই পানীয় পান করুন।

৩। আপেল সিডার ভিনেগারঃ জ্বরের প্রাকৃতিক ঔষধ হিসেবে আপেল সিডার ভিনেগার দামি হলেও খুব কার্যকরী। এতে থাকা উপকারী এসিড ত্বকের  নিচ থেকে তাপ কমাতে দ্রুত কাজ করে।এতে উচ্চ মাত্রায় শরীরের জন্য উপকারী খনিজ পানীয় বা মিনারেল থাকায় জ্বর দূর করতে কার্যকরী ভূমিকা রাখে।

  • আধাকাপ ভিনেগার গোসলের পানির সাথে মিশিয়ে ৫ থেকে ১০ মিনিট সেই পানি সারা শরীরে ঢালুন। ২০ মিনিটের মধ্যে শরীরের তাপমাত্রা কমে যাবে।
  • এক টুকরো কাপড় ৩ ভাজ করে এক ভাজ ভিনেগার দিয়ে আর বাকি দুই ভাগ পানি দিয়ে ভিজিয়ে কপাল এবং পেটে জলপট্টি দিন। পায়ের তালুতেও এই পট্টি দিতে পারেন। ভেজা কাপড় গরম হয়ে গেলে আবার পানি এবং ভিনেগার দিয়ে ভিজিয়ে নিন।
  • ২ চা চমচ আপেল সিডার ভিনেগারের সাথে ১ টেবিল চামচ মধু এক গ্লাস পানির সাথে মিশিয়ে দিনে ১বার পান করলেও ভাল ফল পাওয়া যায়।

৪। রসুনঃ রসুন শরীর গরম করে। আবার এই রসুন জ্বর কমানোর উপায় হিসেবে ভাল কাজ করে। রসুনে থাকা শরীর গরম করার নানা উপাদান দেহকে আরো উত্তপ্ত করে ঘাম ঝরানোর মাধ্যমে জ্বর সারাতে পারে। এটা শরীর থেকে ক্ষতিকর বিষাক্ত ব্যাকটেরিয়া দূর করতে সাহায্য করে। এছাড়াও রসুনে আছে এন্টিফাঙ্গাল (Antifungal) এবং এন্টিব্যাকটেরিয়াল (Antibacterial) যা দেহের বিভিন্ন সংক্রামণের সাথে যুদ্ধ করতে সক্ষম।

  • বড় সাইজের এক কোয়া রসুন কুচি কুচি করে কেটে নিয়ে এক কাপ ফুটন্ত গরম পানির মধ্যে ১০ মিনিট ভিজিয়ে রাখুন। এরপর রসুনের কুচিগুলো ছেঁকে ফেলে দিয়ে পানিটুকু চায়ের মত করে পান করুন। ভাল ফলাফলের জন্য এই পানি দিনে দুইবার পান করুন।
  • ২ কোয়া রসুন ছেঁচে, ২ টেবিল চামচ অলিভ অয়েলের সাথে মিশিয়ে নিন। এই মিশ্রণ দুই পায়ের তালুতে লাগিয়ে নিন। তবে পুরো তালু জুড়ে লাগানো যাবে না। মাঝে মাঝে ফাকা রাখতে হবে। গজ কাপড় দিয়ে পায়ের তালু পেঁচিয়ে সারারাত রাখুন। এই পদ্ধতিতে অনেকের এক রাতের মধ্যে জ্বর ভাল হয়ে যায়।

সতর্কতাঃ রসুনের এই চিকিৎসা গর্ভবতী ও বাচ্চাদের জন্য নয়।

৫। কিশমিশঃ কিশমিশে আছে নানা ধরনের এন্টিব্যাক্টেরিয়াল এবং এন্টিওক্সিডেন্ট খাদ্যগুণ। এছাড়াও জ্বর থেকে মুক্তির উপায় হিসেবে কিশমিশ টনিকের হিসেবে কাজ করে।

  • ২৫ টি কিশমিশ দেড় কাপ পানিতে নরম না হওয়া পর্যন্ত ভিজিয়ে রাখুন। এরপর কিশমিশগুলো চটকে পানির সাথে ভাল করে মিশিয়ে নিন। ২ টেবিল চামচ লেবুর রস দিয়ে ভাল করে মিশ্রণ করুন। দিনে দুই বার এই মিশ্রণ সেবন করুন জ্বর না কমা পর্যন্ত।

৬। আদাঃ আদা দেহের তাপ কমাতে সাহায্য করে। এতে আছে প্রাকৃতিক এন্টিভাইরাল (Antiviral) যা দেহের ইমিউন সিস্টেমকে (Immune System) যে কোন ধরনের সংক্রামণ থেকে রক্ষা করে। ফলে দ্রুত অতিরিক্ত জ্বর কমানোর উপায় হিসেবে আদা অনেক কার্যকরী।

  • এক কাপ গরম পানির সাথে আধা চা চামচ আদা বাটা ভাল করে মিশিয়ে অল্প কিছুক্ষণ রাখুন। পরিমাণ মত মধু মিশিয়ে এই চা দিনে ৩ থেকে ৪ বার পান করুন।
  • এছাড়াও আধা চা চামচ আদার রসের সাথে ১ চা চামচ লেবুর রস এবং ১ চা চামচ মধু মিশিয়ে দিনে ৩ থেক ৪ বার খেলে জ্বর কমে যায়।

৭। পুদিনা পাতাঃ জ্বরের প্রাকিতিক চিকিৎসা হিসেবে পুদিনা পাতা প্রসিদ্ধ। পুদিনা পাতা শরীরের ভেতরকে ঠান্ডা করতে পারে। এক কাপ গরম পানির সাথে এক টেবিল চামচ পুদিনা পাতা বাটা মিশিয়ে ১০ মিনিট রেখে দিন। এরপর ১ টেবিল চামচ মধু মিশিয়ে দিনে ৩ থেকে ৪ বার পান করুন।

৮। চন্দনঃ চন্দনে থেরাপিউটিক ( Therapeutic) নামক ভেষজ উপাদান আছে, যা জ্বর কমানোর উপায় হিসেবে কার্যকরী ভূমিকা রাখে। চন্দন মূলত দেহ এবং মন দুটোকেই ঠান্ডা ও শান্ত রাখতে পারে।

  • আধা চা চামচ চন্দনের গুড়ার সাথে সামান্য পানি মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন। এই পেস্ট কপালে ভাল করে মাখিয়ে রাখুন। দ্রুত জ্বর কমাতে দিনে কয়েকবার এই পেস্ট ব্যবহার করুন।

অতিরিক্ত পরামর্শঃ

  • জ্বর হলে বেশি বেশি পানি এবং লেবু জাতীয় পানীয় পান করুন।
  • অতিরিক্ত ঠান্ডা পানি অথবা বরফ ব্যবহার করবেন না।
  • ১ থেকে ২ দিন পুরোপুরি বিশ্রাম নিন।
  • প্রচুর পরিমাণে সবুজ শাক সবজি খান।
  • ফ্রিজের খাবার এড়িয়ে চলুন।
  • ধূমপান থেকে বিরত থাকুন।

ডায়াবেটিসের প্রাকৃতিক চিকিৎসা

বর্তমানে ডায়াবেটিস খুব প্রচলিত একটি রোগ। নানা কারনে মানব দেহে এই রোগ হতে পারে। এটা দুই ধরনের হয়ে থাকে। ধরন ১ ডায়াবেটিস (Type 1 diabetes) হয় যখন দেহ ইনসুলিন (Insulin) বা হর্মোন তৈরি করতে পারে না। দ্বিতীয় ধরনের ডায়াবেটিস (Type 2 diabetes) হয় যখন দেহ পর্যাপ্ত পরিমাণে ইনসুলিন উৎপাদন করতে পারে না অথবা উৎপাদিত ইনসুলিন ভালভাবে কাজ করে না।

Continue reading

হাত পা ঘামার প্রাকৃতিক চিকিৎসা

হাত পা ঘামার ঔষধ

অতিরিক্ত হাত পা ঘামা অন্যান্য রোগের মতই একটি রোগ এবং অনেকেই এই রোগে আক্রান্ত। হাত ঘামার কারণে অন্যের সাথে হাত মেলাতে বা হ্যান্ডশেক করতে ভয় লাগে। পা ঘামার কারণে সবার সামনে মোজা খুলতে ভয় পান। কেননা বিকট দুর্গন্ধে সবাই আপনার দিকে ভয়ঙ্কর দৃষ্টিতে তাকাবে। কেউ কেউ আবার হাসাহাসি করবে। হাত পা ঘামার সমাধান খুঁজতে খুঁজতে ক্লান্ত হয়েছেন।

Continue reading

শুষ্ক ও রুক্ষ ত্বকের যত্ন । ১০ টি ঘরোয়া ময়েশ্চারাইজার

শুষ্ক ও রুক্ষ ত্বকের যত্ন

শুষ্ক ও রুক্ষ ত্বক শীতকালের একটি সাধারণ সমস্যা। গরমকালে ধুলাবালির কারণে ত্বক শুষ্কতা দেখা দেয়। আর শীতের শুষ্ক বাতাস ত্বকের আদ্রতা শুষে নেয় ফলে ত্বক রুক্ষ হয়ে যায়। এছাড়াও বয়সের কারণে, পুষ্টির অভাবে এবং বংশীয় কারণে ত্বক শুষ্ক ও রুক্ষ হতে পারে। শুষ্ক ও রুক্ষ ত্বকের যত্নে বাজারে প্রচলিত অনেক লোশন এবং ময়েশ্চারাইজার ক্রিম পাওয়া যায়।

Continue reading

শিশুদের সর্দি-কাশি হলে করনীয়

শিশুর সর্দি কাশি হলে করনীয়

প্রত্যেক বছর বাংলাদেশে কমপক্ষে হাজার হাজার নবজাতক এবং শিশুরা সর্দিকাশিতে ভোগে শুধুমাত্র দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হওয়ার কারণে। অধিকাংশ শিশু জন্মের প্রথম বছরে সাতবারের বেশি ঠান্ডা রোগে আক্রান্ত হয়। নানা মাধ্যমে শিশুদের শরীরে রোগসংক্রামণ দ্বরা আক্রান্ত হয়। ক্ষতিকর ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত ব্যাক্তি অথবা দূষিত বাতাস এবং আবহাওয়ার মাধ্যে বেশি আক্রান্ত হয়।

Continue reading

মেয়েদের ওজন কমানোর উপায়

মেয়েদের ওজন কমানোর উপায়

মেয়েদের ওজন কামানোর উপায়গুলোর মধ্যে নির্দিষ্ট পরিমাণে ঘুম, পরিমিত খাওয়া, সবসময় হাসি খুশি থাকা, শরীরের যত্ন নেয়া এবং কিছু ব্যায়াম করা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। অতিরিক্ত মুটিয়ে যাওয়া মেয়েদের সমস্যার শেষ নেই। শারীরিক, মানসিক, পারিবারিক এমনি বন্ধুদের মধ্যেও সে হাসির পাত্র এবং বৈষম্যের শিকার। আর আমাদের দেশে এটা আরো ভয়াবহরূপে দেখা যায়।

Continue reading

মাসে ১০ কেজি ওজন কমানোর খাবার তালিকা

দ্রুত ওজন কমানোর খাবার তালিকা

১ মাসে ১০ কেজি ওজন কমানো অসম্ভব নয়। কঠোর ইচ্ছাশক্তি ও পরিশ্রমের মাধ্যেমে এটা করা যায়। আপনার মনও দেহ যদি এটা করতে পুরোপুরি সম্মতি না দেয় তাহলে এটা চেষ্টা করাই ভাল। কেননা শুধু ৭-১০ দিন কষ্ট করার কোন মানে হয় না। আপনি বরং অন্যকোন পদ্ধতি অনুসরণ করুন। আপনি আজ শুরু করলে আজ থেকেই ওজন কমা শুরু করবে না।

Continue reading