টাইফয়েড জ্বরের লক্ষণ ও ঔষধ | টাইফয়েড হলে করনীয়

টাইফয়েড আমাদের অতি পরিচিত একটি রোগ। আবহাওয়ার পরিবর্তনের সময় এই রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। বিশেষ করে শীত শেষ হওয়ার পর গরম পড়তে শুরু করলে টাইফয়েড জ্বরে আক্রান্ত হওয়ার হার বেড়ে যায়। টাইফয়েড এক ধরনের ব্যাকটেরিয়া জনিত রোগ।

মূলত সালমোনালা টাইফিমিউরিয়াম বা এস. টাইফি ও প্যারা টাইফি ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণের কারণে এই রোগ হয়। মানুষ ব্যতীত অন্য কোনো প্রাণী এই রোগ বহন করে না। তাই টাইফয়েড আক্রান্ত ব্যক্তিকে যথাসময়ে চিকিৎসা প্রদান না করলে তার আশেপাশের অন্যদের মধ্যে এই রোগ খুব সহজেই ছড়িয়ে পড়ে।

 

টাইফয়েড কেন হয়

টাইফয়েড রোগ মূলত দূষিত পানি ও খাবারের মাধ্যমে ছড়ায়। টাইফি ব্যাকটেরিয়া যুক্ত পানি ও খাবার খাওয়ার ফলে টাইফয়েড জ্বর হয়৷ এই ব্যাকটেরিয়া মূলত বাসা-বাড়িতে সরবরাহ করা পানি ও সিউয়েজ লাইন থেকে ছড়ায়। এছাড়া টাইফয়েড আক্রান্ত রোগীর মলমূত্র থেকেও টাইফি ব্যাকটেরিয়া পরিবেশে ছড়িয়ে পড়ে।


একবার দূষিত পানি ও খাবারে সাথে টাইফয়েডের ব্যাকটেরিয়া মানুষের দেহে প্রবেশের পর তা কয়েক সপ্তাহ অন্ত্রের মধ্যে থাকে। সেখানে এই ব্যাকটেরিয়া পুরোপুরি শক্তিশালী হওয়ার পর তা অন্ত্রের গাত্র ও রক্তনালির মধ্য দিয়ে দেহের অন্যান্য কোষ ও অঙ্গে ছড়িয়ে পড়েছে। টাইফি ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে আমাদের দেহের ইমুউন সিস্টেম খুব বেশি প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারে না। ফলে খুব সহজেই এই ব্যাকটেরিয়া মানুষকে কাবু করে ফেলে।

টাইফয়েডে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ৩-৫% ব্যক্তি এই ব্যাকটেরিয়া বহনকারী হিসেবে কাজ করে থাকে। বাকিদের অনেকে সামান্য মাত্রা আক্রান্ত হয়৷ কেউ কেউ আবার টাইফি ব্যাকটেরিয়ায় আক্রান্ত হলেও তাদের মধ্যে রোগের কোনো লক্ষণ প্রকাশ পায় না। কিন্তু এদের শরীরে দীর্ঘদিন এই ব্যাকটেরিয়া বসবাস করে। পরবর্তী সময়ে এদের মাধ্যমেই এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে।

 

টাইফয়েড জ্বরের লক্ষণ

ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণের ৬ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে টাইফয়েড জ্বরের লক্ষণ সমূহ প্রকাশ হতে শুরু করে। টাইফয়েডের প্রধান দুটি লক্ষণ হলো জ্বর ও শরীরে লালচে ফুসকুড়ি। টাইফয়েড আক্রান্ত ব্যক্তির জ্বরের মাত্রা সাধারণ জ্বরের চেয়ে অনেক বেশি হয়। জ্বর ক্রমান্বয়ে বাড়তে বাড়তে ১০৩-১০৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত উঠে যায়৷ জ্বরের পাশাপাশি ঘাড় ও তলপেটে লালচে রঙের ফুসকুড়ি উঠে থাকে৷ তবে টাইফয়েডে আক্রান্ত সকলেরই ফুসকুড়ি উঠে না।

এর বাইরে টাইফয়েড আক্রান্ত ব্যক্তির প্রচণ্ড মাথাব্যথা, গলাব্যথা, কোষ্ঠকাঠিন্য ও শরীর দুর্বল হয়। অনেক টাইফয়েড রোগীর ডায়রিয়া ও বমি হয়। টাইফয়েড যদি মারাত্মক আকার ধারণ করে তাহলে অন্ত্রে ছিদ্রের সৃষ্টি হয়। যা থেকে অন্ত্রের ঝিল্লিতে প্রচণ্ড প্রদাহ হয়। তবে এই ঘটনা খুবই কম সংখ্যক রোগীর সাথে হয়ে থাকে। আরেক ধরনের টাইফয়েড রয়েছে যাকে বলা হয় প্যারা টাইফয়েড। এই রোগের লক্ষণসমূহ টাইফয়েড রোগের মতোই। কিন্তু এটা টাইফয়েডের চেয়ে কিছুটা দুর্বল।

 

টাইফয়েড টেস্ট

সাধারণত রক্ত, মল ও মূত্রের পরীক্ষার মাধ্যমে টাইফয়েড নির্ণয় করা হয়। রোগীর এসব নমুনা মাইক্রোস্কোপের মাধ্যমে পরীক্ষা করে সালমোনেলা টাইফি ভাইরাসের উপস্থিতি আছে কিনা তা যাচাই করা হয়।  অনেক সময় প্রথমবারের পরীক্ষায় টাইফয়েড ধরা পড়ে না। এ কারণে বেশ কয়েকবার একই ধরনের পরীক্ষা করে টাইফয়েড হয়েছে কিনা তা নিশ্চিত করা হয়।

তবে বোন ম্যারো পরীক্ষার মাধ্যমে সূক্ষ্মভাবে টাইফয়েড নির্ণয় করা যায়। কিন্তু পরীক্ষা ও নমুনা গ্রহণ, উভয়ই বেশ জটিল ও কষ্টকর। তাই অন্য পরীক্ষায় যদি কোনোভাবে টাইফয়েড ধরা না পড়ে তবেই বোন ম্যারো টেস্ট করা হয়। যদি পরিবারের একজনের টাইফয়েড ধরা পড়ে তাহলে অন্য সদস্যদেরও টাইফয়েড পরীক্ষা করে দেখতে হবে। কেননা টাইফয়েডে আক্রান্ত ব্যক্তির মাধ্যমে অন্যরা এই রোগে আক্রান্ত হতে পারেন।

 

টাইফয়েড হলে করণীয়

রক্ত পরীক্ষা: টাইফয়েড পানিবাহিত জীবাণুর মাধ্যমে ছড়ায়। তাই টাইফয়েডের কোনো লক্ষণ দেখা গেলে সবার আগে রক্ত পরীক্ষা করতে হবে। রক্ত পরীক্ষা থেকে নিশ্চিত হতে হবে টাইফয়েড হয়েছে কিনা।

পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকতে হবে: টাইফয়েড হওয়ার অন্যতম কারণ নোংরা পরিবেশ। তাই টাইফয়েড রোগ থেকে দূরে থাকতে হলে এবং টাইফয়েডে আক্রান্ত হলে পরিষ্কার পোশাক পরিধান করতে হবে। নিরাপদ ও বিশুদ্ধ পানি পান করতে হবে। ফলমূল ধুঁয়ে খেতে হবে। ঘরের সকল জিনিসপত্র নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে। আক্রান্ত ব্যক্তির ব্যবহৃত জিনিসপত্র আলাদা করে রাখতে হবে।

পানি ও খাবারে সতর্কতা: টাইফয়েডে আক্রান্ত হলে পানি ফুটিয়ে পান করতে হবে। ঠাণ্ডা কোনো খাবার খাওয়া যাবে না৷ প্রয়োজনে গরম করে খেতে হবে। অপরিষ্কার শাক-সবজি ও ফলমূল খাওয়া যাবে না।

বাসস্থান ও টয়লেটের ব্যবস্থা: সবসময় বাসস্থান ও টয়লেট পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। টয়লেট অথবা ঘরে যেন নোংরা পানি জমে না থাকে সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। আক্রান্ত ব্যক্তির টয়লেট ও নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে। আক্রান্ত ব্যক্তিতে খোলামেলা পরিবেশে রাখতে হবে।

 

টাইফয়েড হলে যেসব খাবার খাবেন

চিকিৎসকদের মতে টাইফয়েডের যেকোনো রোগীর উচ্চ ক্যালোরি যুক্ত খাবার খাওয়া উচিত। কেননা উচ্চ ক্যালোরি যুক্ত খাবার টাইফয়েডের কারণে ওজন হ্রাস হওয়া প্রতিরোধ করে। এ কারণে এই রোগে আক্রান্ত হলে রোগীকে পাস্তা, সেদ্ধ আলু, সাদা রুটি ও কলা খেতে দিতে হবে।

টাইফয়েডের রোগীকে পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করতে হবে। কারণ টাইফয়েডের কারণে অনেক সময় ডায়রিয়া হতে পারে। যার ফলে শরীরে পানিশূন্যতা সৃষ্টি হতে পারে। শরীরে পানির পরিমাণ কমে টাইফয়েডের চিকিৎসাতেও সমস্যা হয়। তাই টাইফয়েড আক্রান্ত রোগীকে পর্যাপ্ত পরিমাণে বিশুদ্ধ পানি, প্রচুর পানিযুক্ত ফল ও অন্যান্য খাবার এবং ফলের রস খাওয়াতে হবে।

অধিক পরিমাণে কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাবার দিতে হবে। হালকা শক্ত ও হালকা নরম জাতীয় খাবার সহজেই পরিপাক হয়। এ জন্য টাইফয়েডের রোগীদের ভাত, ভাজা আলু ও ডিম পোচ খেতে দিতে হবে। এই খাবারগুলো টাইফয়েডেে রোগীদের জন্য খুবই উপকারী।

টাইফয়েডে আক্রান্তদের প্রচুর পরিমাণে দুগ্ধজাত খাবার খেতে হবে। পাশাপাশি তাদের খাঁটি মধু খাওয়ালে দ্রুত রোগ থেকে আরোগ্য লাভ করবেন।

টাইফয়েড রোগীর ডায়েটে অবশ্যই দই ও ডিম রাখতে হবে। এগুলো খুব তাড়াতাড়ি পরিপাক হয়। যা টাইফয়েড রোগীদের দ্রুত আরোগ্য লাভ করতে সহায়তা করে। পাশাপাশি দেহের প্রোটিনের অভাব পূরণ করে। তবে যারা নিরামিষভোজী তারা দই ও ডিমের পরিবর্তে মসুরের ডাল, মাষকলাই ও কটেজ চিজ খেতে পারেন।

 

যেসব খাবার খাওয়া যাবে না

টাইফয়েড রোগীদের প্রচুর পরিমাণে আঁশযুক্ত খাবার পরিহার করতে হবে। এ ধরনের খাবার হজম হতে অনেক সময় লাগে।

ক্যাপসিকাম ও বাঁধাকপির মতো গ্যাস সৃষ্টিকারী সবজি পরিহার করতে হবে। এই খাবারগুলো পেটে গ্যাস তৈরি করে এবং পেট ফেঁপে যায়।

রসুন ও পেঁয়াজ বেশি খাওয়া যাবে না। এমন ফ্লেভারযুক্ত অন্য কোনো সবজিও খাওয়া যাবে না।

মসলাদার ও এসিটিক এসিড সৃষ্টিকারী খাবার খাওয়া খাবে না। যেমন: হট সস, কাঁচামরিচ ও ভিনেগার খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।

ঘি, মাখন, ডেজার্ট ও ভাজাপোড়া খাবার পরিহার করতে হবে।

 

টাইফয়েডের চিকিৎসা



টাইফয়েড সাধারণত ৩-৪ সপ্তাহ পর্যন্ত স্থায়ী হয়৷ তবে ক্ষেত্র বিশেষে আরো দীর্ঘস্থায়ী হয়ে থাকে। টাইফয়েডের চিকিৎসা সাধারণত বিভিন্ন ধরনের অ্যান্টিবায়োটিকের মাধ্যমে করা হয়। অ্যান্টিবায়োটিকগুলো সাধারণত টাইফয়েডের ব্যাকটেরিয়াকে মেরে ফেলে। সচরাচর এই রোগের চিকিৎসায় সিপ্রোফ্লোক্সাসিন (সিপ্রো), অ্যাজিথ্রোমাইসিন ও সেফট্রিয়াক্সোন।

যুক্তরাষ্ট্রে সাধারণত গর্ভবতী ব্যতীত অন্যান্য রোগীদের চিকিৎসকরা সিপ্রোফ্লোক্সাসিন দিয়ে থাকেন। আমাদের দেশেও টাইফয়েডের রোগীদের এই অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া হয়। কিন্তু সম্প্রতি এক গবেষণা থেকে জানা গেছে, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে এই অ্যান্টিবায়োটিক আর কাজ করছে না। বাদ নেই দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোও। যে সকল রোগী সিপ্রোফ্লক্সাসিন নিতে পারেন না কিংবা এই অ্যান্টিবায়োটিক যাদের শরীরে কোনো কাজ করে না তাদের টাইফয়েড চিকিৎসায় অ্যাজিথ্রোমাইসিন দেওয়া হয়।

আর যাদের টাইফয়েডের মাত্রা অনেক বেশি এবং বাচ্চাদের সিপ্রোফ্লক্সাসিনের পরিবর্তে সেফট্রিয়াক্সোন অ্যান্টিবায়োটিক ইনজেকশনের মাধ্যম্যে শরীরে দেওয়া হয়। তবে এসব অ্যান্টিবায়োটিকের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া রয়েছে। দীর্ঘদিন এসব ঔষুধ ব্যবহার করলে শরীরে অ্যান্টিবায়োটিক রেজিসট্যান্ট তৈরি হতে পারে। আর টাইফয়েডের ফলে যদি কারো অন্ত্রে ছিদ্র হয় তাহলে তাকে অবশ্যই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হয়ে অস্ত্রোপচার করতে হবে।

 

টাইফয়েডের ভ্যাকসিন

টাইফয়েড প্রতিরোধ করার জন্য মূলত দুই ধরনের ভ্যাকসিন রয়েছে। এক. ভিআই অ্যান্টিজেন বা ভিআই-পিএস (Vi-PS) ভ্যাকসিন। অপরটি হলো টিওয়াই-২১ ভ্যাকসিন। ভিআই ভ্যাকসিন সাধারণত ইনজেকশনের মাধ্যমে একবার দেওয়া হয়। যা প্রায় ৩ বছর পর্যন্ত ৭০ ভাগ টাইফয়েড প্রতিরোধ করে। অপরদিকে টিওয়াই-২১ ভ্যাকসিন ক্যাপসুল আকারে খেতে হয়। ভিন্ন ভিন্ন দিনে মোট তিনটি ক্যাপসুল খেতে হয়। এই ভ্যাকসিন দীর্ঘদিন টাইফয়েডের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সক্ষম।

 

Source:

1. https://doctor.ndtv.com/living-healthy/typhoid-diet-foods-to-eat-and-avoid-during-typhoid-1879975?amp=1#aoh=15741785461923&referrer=https%3A%2F%2Fwww.google.com&amp_tf=From%20%251%24s
2. https://www.mayoclinic.org/diseases-conditions/typhoid-fever/diagnosis-treatment/drc-20378665
3. https://www.who.int/immunization/research/development/typhoid/en/
4. https://www.nhs.uk/conditions/typhoid-fever/vaccination/
5. https://www.webmd.com/a-to-z-guides/typhoid-fever
6. https://www.medicalnewstoday.com/articles/156859.php

আপনার পছন্দের লেখাগুলো নিয়মিত পেতে ইমেইল দিয়ে এখনি সাবস্ক্রাইব করুন।
সর্বশেষ পোস্টগুলো
আমার ওজন কমানোর গল্প

আমার ৩৪ কেজি ওজন কামানোর কথা

home remedies for insomnia

অনিদ্রা দূর করার উপায় । ১০ টি ঘরোয়া ঔষধ

আঁচিলের প্রাকৃতিক চিকিৎসা

আঁচিলের প্রাকৃতিক চিকিৎসা

আমার ওজন কমানোর খাবার তালিকা

আমার ওজন কমানোর খাবার তালিকা বা ডায়েট চার্ট

অতিরিক্ত ওজন কমানোর ঔষধ

ওজন কমানোর প্রাকৃতিক ঔষধ

ওজন বাড়ানোর খাবার তালিকা

কফ কাশির প্রাকৃতিক ঔষধ

কফ বা কাশির প্রাকৃতিক চিকিৎসা

কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করার উপায়

কোষ্টকাঠিন্য থেকে মুক্তির উপায়

গরম পানি খাওয়ার উপকারিতা

গরম পানি খাওয়ার ১০ টি উপকারিতা

খুশকি দূর করার উপায়

ঘরে বসে খুশকি দূর করার সহজ ১০টি উপায় । খুশকি দূর করার প্রাকৃতিক শ্যাম্পু

চুল পরা বন্ধের উপায়

চুল পড়া বন্ধের প্রাকৃতিক ঔষধ 

দ্রুত ওজন বাড়ানোর উপায়

দ্রুত ওজন বারানোর উপায়

বমি দূর করার উপায়

বমি দূর করার উপায় | বমি হলে করনীয়

ব্যায়াম ছাড়া ওজন কমানোর উপায়

ব্যায়াম ছাড়া ওজন কমানোর ৯ টি সহজ উপায়

দ্রুত ওজন কমানোর খাবার তালিকা

মাসে ১০ কেজি ওজন কমানোর ডায়েট চার্ট




Categories

টনসিলের ওষুধ | টনসিল হলে কি করবেন

টনসিলের ঔষধ

টনসিল শব্দটি আমাদের কাছে খুবই পরিচিত। গলায় সামান্য ব্যথা বলেই আমরা মনে করি টনসিলের সমস্যা হয়েছে। কিন্তু টনসিল আসলে কী? টনসিল আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার একটি অংশ। গলার পেছনের দিকে এবং মুখের ভেতরে মোট চারটি অংশে বিভক্ত। এই চারটি অংশের নাম হলো লিঙ্গুয়াল, প্যালাটাইন, টিউবাল ও অ্যাডেনয়েড৷

টনসিল আমাদের শরীরে ফিল্টারের মতো কাজ করে। এটি বিভিন্ন ধরনের জীবাণুকে আটকে দেয়। যেগুলো শ্বাসনালীতে প্রবেশ করে ইনফেকশন তৈরি করতে পারে। এছাড়া টনসিল অ্যান্টিবডি তৈরি করে, যা ইনফেকশনের বিরুদ্ধে লড়াই করে। কিন্তু কখনো কখনো অতিরিক্ত ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়ার কারণে টনসিল নিজেই ইনফেকশনের শিকার হয়। যাকে বলা হয় টনসিলাইটিস। টনসিলের চারটি অংশের যেকোনো একটিতে প্রদাহ হলে তাকে টনসিলাইটিস বলে।

টনসিল বলতে আমরা সাধারণভাবে যেটা বুঝি সেটাই টনসিলাইটিস। এটা সচরাচর শিশুদের হয়ে থাকে। তবে শিশু ছাড়াও অন্যান্য বয়সী মানুষেরও টনসিলাইটিস হতে পারে৷ টনসিলের চারটি অংশের মধ্যে প্যালাটাইন টনসিলে অধিক পরিমাণ প্রদাহ সৃষ্টি হয়। যার ফলে আমাদের গলাব্যথা হয়। প্যালাটাইন টলসিলের প্রদাহ আবার দুই রকমের হয়ে থাকে। একটি তীব্র বা অ্যাকিউট৷ আর দীর্ঘমেয়াদী বা ক্রনিক টনসিলাইটিস। 

 

টনসিলের কারণ 



ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাস সংক্রমণের কারণে টনসিলাইটিস বা টনসিলের সমস্যা হয়ে থাকে। তবে টনসিলের জন্য প্রধানত স্ট্রেপটোকক্কাস (স্ট্রেপ) ব্যাকটেরিয়া দায়ী৷ এছাড়া টনসিলের জন্য অন্যান্য যে সকল ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়া দায়ী: 

  • অ্যাডেনো ভাইরাস
  • ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস
  • এপস্টেইন-বার ভাইরাস
  • প্যারা-ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস
  • এনটারো ভাইরাস
  • হার্পস সিম্পলেক্স ভাইরাস

 

টনসিলের লক্ষণ

টনসিলাইটিসের সাধারণ লক্ষণ হলো টনসিলে জ্বালাপোড়া ও ফুলে যাওয়া৷ এছাড়াও টনসিলাইটিসের হওয়ার আগে যেসব লক্ষণ দেখা যায়: 

  • গলায় প্রচণ্ড ব্যথা
  • টনসিল লাল হওয়া
  • খাবার খেতে কষ্ট ও মুখ হাঁ করতে ব্যথা অনুভূত হওয়া
  • গলার মধ্যে তীব্র ব্যথাযুক্ত ফোস্কা বা ক্ষত সৃষ্টি হওয়া
  • মাথাব্যথা হওয়া
  • কানেও ব্যথা হতে পারে
  • শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়া
  • খাবারে অরুচি
  • মুখে দুর্গন্ধ সৃষ্টি হওয়া
  • বমিবমি ভাব হওয়া
  • পেটে ব্যথা হওয়া
  • ঢোঁক গিলতে কষ্ট হওয়া
  • স্বরভঙ্গ
  • গলা ফুলে যাওয়া

 

টনসিলের ঘরোয়া চিকিৎসা

প্রাথমিকভাবে টনসিলের সমস্যা হওয়ার পর প্রচুর পরিমাণ পানি পান করতে হবে। এবং সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত পূর্ণ বিশ্রামে থাকতে হবে। এছাড়া টনসিল নিরাময়ের জন্য ঘরোয়া বেশ কিছু চিকিৎসা পদ্ধতি রয়েছে।

১. লবণ পানি দিয়ে কুলকুচি করা

কুসুম গরম পানিতে লবণ দিয়ে কুলকুচি ও গড়গড়া করলে টনসিলের কারণে গলার ব্যথা প্রশমিত হয়৷ এছাড়া গলার মধ্যে যে জ্বালাপোড়া হয় সেটা কমাতে সাহায্য করে। একই সাথে ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ বন্ধ করতে সহায়তা করে। এক গ্লাস পানিতে আধা চা চামচ লবণ মিশিয়ে কয়েক সেকেন্ড করে কয়েকবার কুলকচি করতে হবে। 

২. যষ্টিমধু 

যষ্টিমধুতে প্রদাহ কমানোর উপাদান থাকায় টনসিলের জন্য এটি খুবই উপকারী। মুখের মধ্যে সামান্য যষ্টিমধু নিয়ে চিবাতে হবে। এর মাধ্যমে একই সাথে গলা ও টনসিলের প্রদাহ উপশম হয়ে থাকে৷ যদি হাতের নাগালে যষ্টিমধু না পান, তাহলে এর উপাদান সমৃদ্ধ লজেন্স কিনতে পাবেন। এই লজেন্স খেলেও টনসিলের সমস্যায় উপকার পাওয়া যায়৷ তবে কেনার সময় অবশ্যই ভালো মানের লজেন্স কিনতে হবে। বাচ্চাদের টনসিলের সমস্যা হলে এই লজেন্স খেতে দেওয়া যাবে না। কেননা গলায় আটকে যেতে পারে। এর পরিবর্তে টনসিলের জন্য ‘থ্রোট (গলা) স্পে’ ব্যবহার করতে পারেন।

৩. মধু দিয়ে চা

চা অথবা অন্য কোনো গরম পানীয় টনসিলের কারণে গলায় সৃষ্ট হওয়া অস্বস্তি দূর করতে সাহায্য করে। চায়ের সাথে মধু যোগ করলে আরো বেশি উপকার পাওয়া যায়। কেননা মধুতে রয়েছে শক্তিশালী ব্যাকটেরিয়া প্রতিরোধী উপাদান। যার ফলে ব্যাকটেরিয়ার কারণে টনসিলাইটিস সংক্রমণ হলে দ্রুত ফল পাওয়া যায়। 

গরম চায়ের সাথে মধু মিশিয়ে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতে হবে৷ মধু যখন চায়ের সাথে মিশে যাবে তখন পানির মতো চুমুক দিয়ে খেতে হবে। এছাড়া টনসিল নিরাময়ের জন্য আদা চা ও পুদিনা পাতার চা বেশ কার্যকরী। 

৪. ঠাণ্ডা জাতীয় খাবার

ফ্রিজে রাখা দই অথবা আইসক্রিমের মতো ঠাণ্ডা ও নরম খাবার খেলে সাময়িকভাবে টনসিলের ব্যথা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। কেননা এই জাতীয় খাবার গলার মধ্যে ব্যথার অনুভূতিকে অসাড় করে দেয়৷ এর জন্য অনেকে আইস পপ, ঠাণ্ডা পানীয় ও ফ্রিজের ঠাণ্ডা পানি খেয়ে থাকেন। একই ধরনের ফল পাওয়ার জন্য চাইলে মিন্ট (পুদিনা) বা মেনথল যুক্ত চুইংগাম বা লজেন্স খেতে পারেন। 

৫. পর্যাপ্ত বিশ্রাম

টনসিলাইটিস হলে পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়া প্রয়োজন। কেননা ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়া জনিত রোগের সাথে লড়াই করতে হলে পূর্ণ বিশ্রাম নেওয়া প্রয়োজন। এই রোগকে হালকাভাবে না নিয়ে সুস্থ মানুষের মতো স্কুল, কলেজ বা অফিসে যাওয়া উচিত নয়। কয়েকদিনের পূর্ণ বিশ্রাম না নিয়ে অন্য সময়ের মতো কাজ করলে টনসিলাইটিস বেড়ে যেতে পারে। একই সাথে আশেপাশে থাকা অন্য মানুষজন এই রোগে আক্রান্ত হতে পারে। 

 

টনসিল হলে যা খাবেন 

মধু: টনসিলের সমস্যায় মধু খু্বই কার্যকরী। বিশেষ করে টনসিলের সংক্রমণ প্রতিরোধ এবং রাতে ভালো ঘুমের জন্য মধু খুবই উপকারী। এছাড়া মধু কফের ঔষুধ হিসেবে কাজ করে। টনসিলে আক্রান্ত হলে চা অথবা গরম লেবু পানির সাথে মধু পান করলে দ্রুত আরোগ্য লাভ করা যায়।

কলা: কলা পুষ্টিকর, নরম এবং সহজে গেলা যায়। টনসিলে আক্রান্ত রোগীর যেহেতু শক্ত খাবার খাওয়া নিষেধ। সেজন্য কলার সাথে আরো কিছু নরম ফলমূল মিশিয়ে খেলে টনসিলের উপর চাপ কম পড়বে। একই সাথে ক্ষুধা নিবারণ করা সম্ভব। 

সুপ: টনসিলের রোগীদের জন্য গরম সুপ উত্তম খাবার। সুপের মধ্যে শস্য দানার ভাত, গাজর, শিম বা অন্য কোনো সবজি কুচিকুচি করে কেটে সেদ্ধ করে সুপের সাথে মিশিয়ে খেলে শরীরের পুষ্টির চাহিদা মিটবে। এছাড়া টনসিল থেকে অল্প সময়ে আরোগ্য লাভ করার জন্যও সুপ কার্যকরী।

নরম পাস্তা: কলার মতো পাস্তা সহজে গেলা যায়। তাই টনসিল হলে ক্ষুধা নিবারণের জন্য ভাতের পরিবর্তে নরম পাস্তা খাওয়া ভালো। চাইলে সুপের সাথে পাস্তা মিশিয়ে খেতে পারেন। 

ডিম ভর্তা: ডিম সেদ্ধ করে পেঁয়াজ, মরিচ ছাড়া ছাড়া ভর্তার মতো করে আলুর সাথে মিশিয়ে খেতে পারেন। কেননা এই খাবারটি টনসিলে কোনো সমস্যা সৃষ্টি করে না। কিন্তু শরীরে শক্তি যোগাতে ডিম ও আলু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। 



 

টনসিল হলে যা খাবেন না

টমেটো সস: টমেটো দিয়ে তৈরি টমেটো কেচাপ কিংবা পিৎজা সস খেলে টনসিলের সমস্যা আরো বাড়তে পারে। কারণ টমেটো সস জাতীয় খাবার খুবই এসিডিক। তাই টনসিলের রোগীদের এই খাবার এড়িয়ে চলাই উত্তম। 

মসলাদার খাবার: টমেটো সসের মতোই মরিচ কিংবা রসুন যুক্ত যেকোনো খাবার টনসিলের সমস্যা বাড়িয়ে দেয়। এই মসলাগুলো গলার মধ্যে অস্বস্তিকর কাশি ও কফের সৃষ্টি করে গলার ব্যথা বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই এসব মসলাদার খাবার টনসিলের সমস্যা ঠিক না হওয়া পর্যন্ত বাদ রাখতে হবে। 

শক্ত খাবার: হালকা নাস্তায় পপকর্ন, আলুর চিপস কিংবা ক্র্যাকার্স বাদ দিতে হবে। এই খাবারগুলো টনসিলের সমস্যাকে দীর্ঘমেয়াদী করে তুলতে পারে। সেই সাথে গলায় ব্যথা বাড়াতে পারে। 

টক ফল: কমলা বা মাল্টার মতো অন্যান্য টক স্বাদযুক্ত ফলে এসিড থাকে, যা গলার প্রদাহ বাড়িয়ে দেয়। তাই এই খাবারগুলো না খাওয়াই উত্তম। এমনকি এসব ফলের রস খাওয়া থেকেও বিরত থাকতে হবে।

টোস্ট বিস্কুট: মচমচে টোস্ট বিস্কুট খাওয়ার পরিবর্তে নরম পাউরুটি খেতে হবে। চাইলে রুটি দুধে ভিজিয়ে খেতে পারেন। টনসিলের আক্রান্ত রোগীদের কফি ও মদ খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। এই দুটি পানীয় টনসিলের জন্য ক্ষতিকর। এসব পানীয় পরিবর্তে প্রচুর পরিমাণ পানি পান করতে হবে। 

 

টনসিলের চিকিৎসা

টনসিলের চিকিৎসার শুরুতে সাধারণত ব্যথানাশক ঔষধ দেওয়া হয়। কিন্তু ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণের ফলে যদি টনসিলের সমস্যা হয় তাহলে চিকিৎসকরা অ্যান্টিবায়োটিক দিয়ে থাকেন। অবশ্যই এই অ্যান্টিবায়োটিকগুলো শেষ না হওয়া পর্যন্ত খেতে হবে। টনসিলের সমস্যা ঠিক হয়ে যাওয়ার পরও। কেননা অ্যান্টিবায়োটিক শুরু করার পর কোর্স শেষ না করলে পরবর্তীতে আবারো সমস্যা দেখা দিতে পারে। এমনকি কিডনির সমস্যাও হতে পারে।

আগে টনসিলের সমস্যায় অস্ত্রোপচার করা নিয়মিত ঘটনা ছিল। কিন্তু বর্তমানে চিকিৎসারা পরিস্থিতি বুঝে টনসিলের অস্ত্রোপচার করার সিদ্ধান্ত নেন। বিশেষ করে একজন মানুষ যদি বছরে ৭ বার অথবা বছরে ৩ বার করে টানা ৩ বছর টনসিলের সমস্যায় আক্রান্ত হন তাহলে চিকিৎসকরা অস্ত্রোপচার করার সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন৷ কিন্তু টনসিল যেহেতু আমাদের শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। তাই অপ্রয়োজনে অস্ত্রোপচার করে ফেলে দেওয়া উচিত নয়।

যদি অস্ত্রোপচার ছাড়া আর কোনো সমাধান না থাকে তাহলে ভালো কোনো চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উত্তম। বর্তমানে টনসিলের অপারেশনের বিভিন্ন পদ্ধতি রয়েছে। তার মধ্যে থেকে সবচেয়ে নিরাপদ পদ্ধতি বেছে নেওয়া ভালো৷ টনসিলের সমস্যায় অস্ত্রোপচার শেষ চিকিৎসা। সাধারণত এই সমস্যায় অস্ত্রোপচার করার হার খুবই কম। তাই টনসিল হলে ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই।

 

টনসিল প্রতিরোধ

টনসিলেল সমস্যা থেকে দূরে থাকার জন্য এর প্রতিরোধ করতে হবে। টনসিল প্রতিরোধ করার জন্য দিনে কয়েকবার হাত পরিষ্কার করতে হবে। নিজের খাবার, পানীয় বা অন্যান্য ব্যক্তিগত জিনিসপত্রকে অন্যকে ব্যবহার করতে দেওয়া উচিত না। এছাড়া যারা টনসিলের সময় ভুগছেন তাদের থেকে দূরে থাকাই শ্রেয়।

Source:

https://www.healthline.com/health/home-remedies-for-tonsilitis#warm-tea-and-honeyhttps://www.webmd.com/oral-health/tonsillitis-symptoms-causes-and-treatments#1https://www.everydayhealth.com/tonsillitis/home-remedies-fast-recovery/

আপনার পছন্দের লেখাগুলো নিয়মিত পেতে ইমেইল দিয়ে এখনি সাবস্ক্রাইব করুন।
সর্বশেষ পোস্টগুলো
আমার ওজন কমানোর গল্প

আমার ৩৪ কেজি ওজন কামানোর কথা

home remedies for insomnia

অনিদ্রা দূর করার উপায় । ১০ টি ঘরোয়া ঔষধ

আঁচিলের প্রাকৃতিক চিকিৎসা

আঁচিলের প্রাকৃতিক চিকিৎসা

আমার ওজন কমানোর খাবার তালিকা

আমার ওজন কমানোর খাবার তালিকা বা ডায়েট চার্ট

অতিরিক্ত ওজন কমানোর ঔষধ

ওজন কমানোর প্রাকৃতিক ঔষধ

ওজন বাড়ানোর খাবার তালিকা

কফ কাশির প্রাকৃতিক ঔষধ

কফ বা কাশির প্রাকৃতিক চিকিৎসা

কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করার উপায়

কোষ্টকাঠিন্য থেকে মুক্তির উপায়

গরম পানি খাওয়ার উপকারিতা

গরম পানি খাওয়ার ১০ টি উপকারিতা

খুশকি দূর করার উপায়

ঘরে বসে খুশকি দূর করার সহজ ১০টি উপায় । খুশকি দূর করার প্রাকৃতিক শ্যাম্পু

চুল পরা বন্ধের উপায়

চুল পড়া বন্ধের প্রাকৃতিক ঔষধ 

দ্রুত ওজন বাড়ানোর উপায়

দ্রুত ওজন বারানোর উপায়

বমি দূর করার উপায়

বমি দূর করার উপায় | বমি হলে করনীয়

ব্যায়াম ছাড়া ওজন কমানোর উপায়

ব্যায়াম ছাড়া ওজন কমানোর ৯ টি সহজ উপায়

দ্রুত ওজন কমানোর খাবার তালিকা

মাসে ১০ কেজি ওজন কমানোর ডায়েট চার্ট




Categories

ঘুম কমানোর উপায়

ঘুম কমানোর উপায়

আমাদের সংক্ষিপ্ত জীবনে সময়ের হিসাব মেলানো খুবই গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন  সময়ের সদ্ব্যবহার করলেই জীবনে সফলতা অর্জন করা সম্ভব৷ কিন্তু আমরা অনেকেই দিন-রাত্রির বড় একটি সময় বিছানায় ঘুমিয়ে কাটিয়ে দেই। কেউ কাজের প্রতি অনীহা করে  ঘুমান, আবার কেউ অনিচ্ছাকৃতভাবে।

চিকিৎসকদের ভাষায় একজন মানুষের সুস্থ থাকার জন্য ৮ ঘণ্টার ঘুমই যথেষ্ট। কোনো কোনো চিকিৎসকের মতে আবার সেটি ৮ ঘণ্টারও কম। কিন্তু আমাদের মধ্যে অনেকেই আছেন শুধুমাত্র রাতেই ৮ ঘণ্টার বেশি ঘুমান। পাশাপাশি অনেকের দিনে ঘুমানোর অভ্যাস রয়েছে। অতিরিক্ত ঘুমের কারণে দিনের বড় একটি সময় নষ্ট হয়। অথচ এই সময়ে আমরা অনেক প্রয়োজনীয় কাজ করতে পারি। পরিমিত ঘুমের পর বাকি সময়ের সদ্ব্যবহার আমাদের সাফল্য পেতে সহায়ক হতে পারে। সুস্থ ডট কমের আজকের লেখাটি ঘুম কমানোর উপায় সমূহ নিয়ে সাজানো হয়েছে।

অতিরিক্ত ঘুমের কারণ

সাধারণত রাতে অপর্যাপ্ত ঘুম, ঘুমের সময়সূচি পরিবর্তন এবং স্লিপ অ্যাপনিয়ার মতো বিভিন্ন স্লিপিং ডিসঅর্ডারের কারণে দিনে অতিরিক্ত ঘুম হয়। সপ্তাহ কিংবা মাসের মধ্যে তিন থেকে চারদিন এমন ঘটলে স্বাভাবিকভাবে নেওয়া যায়৷ তবে কেউ যদি নিয়মিতভাবে দিনের বেলা অতিরিক্ত ঘুমায় তাহলে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত। কেননা ব্রেন এবং দেহের বিভিন্ন অবস্থার পরিপেক্ষিতেও অতিরিক্ত ঘুমানোন প্রবণতা দেখা যায়৷ পারিপার্শ্বিক বিভিন্ন ঘটনার জন্য অতিরিক্ত ঘুম হয়৷ যেমন, কোনো শব্দ বা অন্য কোনো কারণে যদি রাতে ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে তাহলে দিনে ঘুম বেশি হয়। আবার পার্কিনসনের মতো স্নায়ুতন্ত্রের রোগের কারণেও অতিরিক্ত ঘুম হয়। এর বাইরে যারা সাইকিয়াট্রিক ডিসঅর্ডারের কারণে দুশ্চিন্তা ও বিষণ্নতায় ভোগেন তাদের মধ্যে কারো ঘুম খুব বেশি হয়, আবার কারো খুবই কম হয়।

অতিরিক্ত ঘুম শুধুমাত্র স্বাস্থ্য ও কাজের জন্য ক্ষতিকর নয়। পাশাপাশি এটি হতে পারে অন্য কোনো রোগের প্রাথমিক লক্ষণ। চিকিৎসকদের মতে যারা হটাৎ করে অতিরিক্ত ঘুমের সমস্যায় ভোগেন তাদের অনেকে পরবর্তীতে বিভিন্ন ইনফেকশন, অ্যাজমা, গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল ডিসঅর্ডার ও মেটাবলিক অ্যাবনরমালাইটিজে আক্রান্ত হন। প্রাথমিক অবস্থায় এই বিষয়টি অনেকে বুঝতে পারেন না। আবার যারা বুঝতে পারেন তারা কোনো গুরুত্ব দেন না। ভালো ঘুম অফিস কিংবা স্কুল কলেজে, পরিবারের সদস্য এবং বন্ধুদের সাথে ভালো সময় কাটাতে সাহায্য করে। বিপরীতে অতিরিক্ত তন্দ্রা কাজের ক্ষতির পাশাপাশি বড় জটিল কোনো রোগের দিকে নিয়ে যায়। তাই নিয়মিত অতিরিক্ত তন্দ্রাভাব হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। পাশাপাশি খাবারদাবার, লাইফস্টাইল ও অভ্যাসে পরিবর্তন আনা আবশ্যক৷ 



দিনে কম ঘুমানোর উপায়

প্রায় সবারই দিনের বিশেষ কিছু সময়ে ঘুম ঘুম ভাব হয়। তবে কেউ কেউ দিনের বেলা অতিরিক্ত ঘুমের সমস্যায় ভোগেন। কখনো কাজের সময় অথবা অবসর সময়েও এই সমস্যায় ভুগতে হয়। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় এই সমস্যার নাম হলো হাইপারসোমনিয়া। দিনের বেলা এই সমস্যা হলেও এর শুরু হয় রাতে। মূলত রাতের বেলা অপর্যাপ্ত ঘুম অথবা অনিয়মিত ঘুমের কারণেই দিনে অতিরিক্ত ঘুমের ভাব হয়। এই সমস্যা থেকে কিভাবে মুক্তি পেতে পারেন সে সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক।

১. রাতে পর্যাপ্ত ঘুমঃ দিনের বেলা অতিরিক্ত ঘুম হওয়ার প্রধান কারণ হলো রাতে পর্যাপ্ত ঘুম না হওয়া। অনেকেই রাতে বিভিন্ন ধরনের কাজ করেন। এমনকি ভোরের দিকে ঘুমাতে যান। যে কারণে দিনে ঘুমের ভাব হয়। একজন প্রাপ্ত বয়স্ক নারী-পুরুষের জন্য সাত থেকে নয় ঘণ্টা ঘুমের প্রয়োজন। অল্প বয়সী ছেলে মেয়েদের পুরো নয় ঘণ্টা ঘুমানো প্রয়োজন। তবে গড়ে সবারই রাতে কমপক্ষে আট ঘণ্টা ঘুমানো উচিত। 

২. বিছানা থেকে দূরত্ব তৈরিঃ ইউনিভার্সিটি অব মেরিল্যান্ড স্কুল অব মেডিসিনের সহকারী অধ্যাপক অ্যাভেলিনো ভার্সেলেস বলেছেন, “বিছানাকে শুধুমাত্র ঘুমানো ও যৌন মিলনের জন্য ব্যবহার করুন। বিছানায় বসে কিংবা শুয়ে পড়াশোনা, টিভি দেখা, গেমস খেলা ও ল্যাপটপ ব্যবহার করা থেকে দূরে থাকুন।” এছাড়া বিছানায় কোনো হিসাব-নিকাশ ও কারো সাথে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় থেকে দূরে থাকতে হবে। 

৩. নির্দিষ্ট সময়ে ঘুম থেকে উঠাঃ যারা ঘুমের সমস্যায় ভোগেন তাদের প্রায়ই ঘুমানো ও ঘুম থেকে উঠার জন্য নির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ করার কথা বলা হয়৷ এমনকি সপ্তাহের শেষ দিনেও এই নিয়ম মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়। কিন্তু যারা ইনসোমনিয়া বা অনিদ্রায় ভুগছেন তারা নির্দিষ্ট ঘুমানোর সময় নির্ধারণ করে আরো বেশি সমস্যায় পড়তে পারেন। এ কারণে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা শুধুমাত্র নির্দিষ্ট সময়ে ঘুম থেকে উঠার উপর জোর দিতে বলেছেন। সেটা হতে পারে এক সপ্তাহ থেকে কয়েক মাস। 

৪. তাড়াতাড়ি ঘুমানোর উপর জোর দেওয়াঃ হটাৎ করে তাড়াতাড়ি ঘুমানোর চেষ্টা না করে ধারাবাহিকভাবে অল্প অল্প করে সময় কমিয়ে আনা বুদ্ধিমানের কাজ। প্রতি চার রাত পরপর আগের চেয়ে ১৫ মিনিট আগে ঘুমানোর চেষ্টা করতে হবে। এরপর একটা নির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ করা যেতে পারে। 

৫. নির্দিষ্ট সময়ে খাওয়ার অভ্যাসঃ নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমানোর পাশাপাশি নির্দিষ্ট সময়ে খাবার খাওয়ার অভ্যাস গড়তে হবে। প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে সকাল ও দুপুরের খাবার খেতে হবে। রাতের খাবার খেতে হবে ঘুমানোর দুই থেকে তিন ঘণ্টা পূর্বে। 

৬. ব্যায়ামঃ ভালো ঘুমের জন্য ব্যায়াম বিভিন্নভাবে সহায়ক হতে পারে। বিশেষ করে অ্যারোবিক এক্সারসাইজ রাতে ভালো ঘুম হতে সহায়তা করে। পাশাপাশি দিনে কাজ করার জন্য এনার্জি প্রদান করে এবং বিভিন্ন বিষয়ে বুদ্ধিমত্তার সাথে সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রত্যেকের দিনের আলোতে কমপক্ষে ৩০ মিনিট ব্যায়াম করা উচিত। 

৭. সময়সূচি তৈরিঃ যদি আপনাকে রাতে বিভিন্ন ধরনের কাজ সামলাতে গিয়ে ৭-৮ ঘণ্টা ঘুমাতে সমস্যা হয়, তাহলে একটি সময়সূচি তৈরি করুন। বিভিন্ন কাজের গুরুত্ব নির্ধারণ করুন। রাতে অপ্রয়োজনীয় কাজ করা থেকে বিরত থাকুন। এতে আপনি ঘুমের জন্য পর্যাপ্ত সময় পাবেন। পাশাপাশি আপনাকে অহেতুক কাজের চাপে পড়তে হবে না।

৮. ঘুম না আসা পর্যন্ত বিছানায় না যাওয়াঃ কখনো ক্লান্ত হলেই বিছানায় গা এলিয়ে দেবেন না। এতে আপনার ভালো ঘুম হবে না। যখন ঘুমের ভাব হবে তখনই বিছানায় যাওয়া উচিত। তাই সবার আগে নিজের ক্লান্তি ও ঘুমের মধ্যে ফারাক বোঝার চেষ্টা করুন। 

৯. বিকালে না ঘুমানোঃ বিকালের ঘুম রাতের ঘুমে ব্যাঘাত সৃষ্টি করে। যার ফলে দিনে কাজের সময় ঘুমের ভাব হয়। তাই বিকালেই না ঘুমানোই ভালো। 

১০. ঘুমানোর আগে চিত্তবিনোদন (Relaxing): ঘুমানোর আগে বিশেষ কিছু চিত্তবিনোদন দিনের সকল ক্লান্তি দূর করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। চিত্তবিনোদনের জন্যে গান শুনতে পারেন, বই পড়তে পারেন, হট বাথ করতে পারেন অথবা মেডিটেশন করতে পারেন। পাশাপাশি এক কাপ হারবাল চা অথবা গরম দুধ পান করতে পারেন। তবে যেসব খাবার খেলে রাতে বারবার ওয়াশরুমে যাওয়ার প্রয়োজন হয়, সে সকল খাবার পরিহার করতে হবে। 

১১. অ্যালকোহল পরিহারঃ অনেকে মনে করেন মদ বা অ্যালকোহল জাতীয় কোনো খাবার রাতে ঘুমানোর জন্য সহায়তা করে। কিন্তু এটি পুরোপুরি ভুল। বরং অ্যালকোহলের কারণে অনিদ্রা হয়। যার প্রভাব পড়ে দিনের কাজকর্মে। 

১২. বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণঃ স্লিপিং ডিসঅর্ডারের কারণে দিনে অতিরিক্ত ঘুম হতে পারে। যদি কোনোভাবে দিনে বেলায় অতিরিক্ত ঘুমের সমস্যা দূর না করা যায় তাহলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উত্তম। 

 

ঘুম কমানোর খাবার

গ্রিন টিঃ শরীরে পানিশূন্যতা হলে ঘুম পায়। কিন্তু বিশেষ কিছু তরল খাবার পানিশূন্যতা কমানোর পাশাপাশি জেগে থাকতে সহায়তা করে। এ জন্য পানি উত্তম তরল খাবার। তবে এর সাথে ক্যাফেইন থাকলে ঘুম দূর করা যায়। এক্ষেত্রে কফির চেয়ে গ্রিন টি বেশি উপকারী৷ কেননা কফি অপেক্ষা গ্রিনটিতে ক্যাফেইনের পরিমাণ অনেক কম। সাথে শরীরের জন্য উপকারী অ্যান্টি-অক্সিডেন্টও পাওয়া যায়।

চকোলেটঃ চকোলেট তৈরির প্রধান উপকরণ চকোয়া বিনে মনকে উৎফুল্ল ও সজাগ করার উপাদান থাকে। তবে কফি অপেক্ষা কম। বোনাস হিসেবে চকোলেটে হার্টের জন্য উপকারী ফ্লাভোনয়েড। তবে মনে রাখতে হবে, চকোলেট যত ডার্ক হবে, ক্যাফেইনের মাত্রাও তত বেশি। তাই অতিরিক্ত মাত্রায় ডার্ক চকোলেট না খাওয়াই উত্তম। 

শস্যদানাঃ আমাদের শরীর কার্বোহাইড্রেট থেকে এনার্জি যোগায়। শস্যদানা থেকে মূলত কার্বোহাইড্রেট। যেমন, চাল, গম, বার্লি, ওটস, রাই ইত্যাদি। শস্যদানা খুব ধীরে ধীরে ভাঙে। এর ফলে শরীরে ধারাবাহিকভাবে শক্তি যোগাতে পারে। শরীর শক্তি থাকলে ক্লান্ত হবার সম্ভাবনা কম। মূলত ক্লান্তি থেকেই ঘুম আসে। ঘুম কমানোর জন্য পরিমিত ভাত, রুটি অথবা টোস্ট খাওয়া যেতে পারে। যেহেতু আমাদের প্রধান খাবার ভাত। তাই শস্যদানা থেকে অন্য কোনো খাবার খাওয়া খেতে পারেন।

ফলমূলঃ  ফলে থাকা সুগার আমাদের শরীরে দ্রুত এনার্জি যোগায়। কিন্তু ফল খেলে শরীরের গ্লুকোজ লেভেল খুব বেশি বাড়ে না। তাই এনার্জি পাওয়ার জন্য ফল খাওয়া নিরাপদ। বিশেষ ভিটামিন -সি সমৃদ্ধ কমলা অথবা আনারস খেতে পারেন। এই ফলগুলো শরীরের চর্বিকে গলিয়ে এনার্জিতে রূপান্তিত করে। 

প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবারঃ প্রোটিন থেকে এনার্জি খুব ধীরে ধীরে পাওয়া যায়। ফলে শরীরে দীর্ঘ সময় এনার্জি পাওয়া যায়। তবে মাংস খুবই কম খাওয়া উচিত। এছাড়া খাওয়ার আগে কিছু সময় ব্যায়াম করা যেতে পারে। এতে করে ক্ষুধা বাড়ে। 



ঘুম কমানোর আমল

ঘুম কমানোর দোয়াটি ইবনে আবি শাইবাতে আছে—– ﺍَﻟﻠّﻬُﻢَّ ﺍﺷْﻔِﻨِﻲْ ﻣِﻦَ ﺍﻟﻨَّﻮْﻡِ ﺑِﻴَﺴِﻴْﺮٍ، ﻭَﺍﺭْﺯُﻗْﻨِﻲْ ﺳَﻬَﺮًﺍ ﻓِﻲْ ﻃَﺎﻋَﺘِﻚَ . ( 302/15 ) বাংলা উচ্চারণঃ ( মোটামুটি) আল্লাহুম্মাশফিনী মিনান নাওমি বিইয়াসীর, ওয়ারযুক্বনী সাহারন ফী ত্ব~য়াতিক অর্থঃ ‘ইয়া আল্লাহ, সামান্য ঘুম দ্বারাই আমার প্রয়োজন পূরণ করুন এবং আপনার আদেশ পালনে রাত্রিজাগরণের তাওফীক দিন।’

আপনার পছন্দের লেখাগুলো নিয়মিত পেতে ইমেইল দিয়ে এখনি সাবস্ক্রাইব করুন।
সর্বশেষ পোস্টগুলো
আমার ওজন কমানোর গল্প

আমার ৩৪ কেজি ওজন কামানোর কথা

home remedies for insomnia

অনিদ্রা দূর করার উপায় । ১০ টি ঘরোয়া ঔষধ

আঁচিলের প্রাকৃতিক চিকিৎসা

আঁচিলের প্রাকৃতিক চিকিৎসা

আমার ওজন কমানোর খাবার তালিকা

আমার ওজন কমানোর খাবার তালিকা বা ডায়েট চার্ট

অতিরিক্ত ওজন কমানোর ঔষধ

ওজন কমানোর প্রাকৃতিক ঔষধ

ওজন বাড়ানোর খাবার তালিকা

কফ কাশির প্রাকৃতিক ঔষধ

কফ বা কাশির প্রাকৃতিক চিকিৎসা

কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করার উপায়

কোষ্টকাঠিন্য থেকে মুক্তির উপায়

গরম পানি খাওয়ার উপকারিতা

গরম পানি খাওয়ার ১০ টি উপকারিতা

খুশকি দূর করার উপায়

ঘরে বসে খুশকি দূর করার সহজ ১০টি উপায় । খুশকি দূর করার প্রাকৃতিক শ্যাম্পু

চুল পরা বন্ধের উপায়

চুল পড়া বন্ধের প্রাকৃতিক ঔষধ 

দ্রুত ওজন বাড়ানোর উপায়

দ্রুত ওজন বারানোর উপায়

বমি দূর করার উপায়

বমি দূর করার উপায় | বমি হলে করনীয়

ব্যায়াম ছাড়া ওজন কমানোর উপায়

ব্যায়াম ছাড়া ওজন কমানোর ৯ টি সহজ উপায়

দ্রুত ওজন কমানোর খাবার তালিকা

মাসে ১০ কেজি ওজন কমানোর ডায়েট চার্ট

Categories

ডেঙ্গু জ্বর হলে করনীয় | ডেঙ্গু জ্বরের লক্ষণ সমূহ ও ঘরোয়া ঔষধ

ডেঙ্গু থেকে মুক্তির উপায়

ডেঙ্গুকে ঘাতক জ্বরও বলা হয়। এই জ্বরের ভাইরাস বা জীবাণু সরাসরি একজনের দেহ থেকে আরেকজনের দেহে যেতে পারে না। জ্বরে আক্রান্ত ব্যাক্তির রক্তে থাকা জীবাণু মশার মাধ্যমে আশে পাশের অন্য কারো শরীরে প্রবেশ করলে তারও ডেঙ্গু জ্বর হয়।

Continue reading

জ্বর কমানোর প্রাকৃতিক চিকিৎসা

home remedies for fever

শরীরের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি হলে তাকে আমরা জ্বর বলি। ৯৮.৬ ডিগ্রি ফারেনহাইট অথবা ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রাকে আমরা স্বাভাবিক হিসেবে গণ্য করি। কিন্তু এটা সর্বজন গ্রহণযোগ্য মত না। বয়সভেদে দেহের স্বাভাবিক তাপমাত্রার ভিন্নতা হয়।

জাতীয় স্বাস্থ্য ইন্সটিটিউট (NIH) এর মতে একজন শিশুর শরীরের তাপমাত্রা ৯৯.৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট বা ৩৭.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি হলে সেটাকে জ্বর হলা হবে। আর একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষের শরীরের তাপমাত্রা ৯৯ থেকে ৯৯.৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট অথবা ৩৭.২ থেকে ৩৭.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি হলে সেটাকে জ্বর বলা হবে।

কখনো কখনো জ্বর অন্যকোন রোগের লক্ষণ হিসেবে হতে পারে। মানব দেহ যখন কোন সংক্রামণ (Infection)’র সাথে লড়াই করে তখন জ্বর হতে পারে। হঠাত এক পরিবেশ থেকে আরেক পরিবেশে যাওয়া এবং অস্বাস্থ্যকর জীবন যাপনের কারণেও জ্বর হয়।

সাধারণত কয়েকদিনের মধ্যে আপনা আপনি জ্বর ভাল হয়ে যায়। তবে জ্বরের কারণে যদি অস্বস্তি লাগে তাহলে আপনি সহজে ঘরে বানানো জ্বর কমানোর কিছু প্রাকৃতিক ঔষধ ব্যবহার করে শরীরের তাপমাত্রা স্বাভাবিক করতে পারেন।

সতর্কতাঃ শরীরের তাপমাত্রা ১০৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট বা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি হলে দ্রুত ডাক্তারের শরণাপন্ন হন।

 

নিচে জ্বরের ঘরোয়া সমাধানগুলো বর্ণনা করা হল।



১। ঠান্ডা পানিঃ পরিষ্কার কাপড় ঠান্ডা পানিতে ভিজিয়ে হাত-পায়ের তালু ও বগলের নিচে ভাল করে বার বার মুছে নিতে হবে। অথবা এক টুকরো কাপড় ভিজিয়ে কপাল এবং ঘাড়ে জলপট্টি দিলে শরীরের তাপমাত্রা কমে যায়। এছাড়াও কুসুম গরম পানি দিয়ে গোসল করলে জ্বর ভাল হয়ে যায়। যদিও জ্বর হলে মোটেও গোসল করা উচিত নয়। যত বেশি সম্ভব বিশ্রাম নিতে হবে। অতিরিক্ত ঠান্ডা পানি ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন।

২। তুলসী পাতাঃ জ্বর কমানোর উপায় হিসেবে তুলসী পাতার ব্যবহার খুব কার্যকর। বাজারে পাওয়া জ্বরের এন্টিবায়োটিক ওষুধের মতই এটা কাজ করে।এতে থাকা নানা ঔষধি গুন দ্রুত জ্বর ভাল করতে পারে।

  • ২০ টি তুলসী পাতা এবং ১ চা চামচ আদা কুচি এক কাপ পানিতে গরম করতে থাকুন। পানি যখন অর্ধেক হয়ে যাবে তখন নামিয়ে ফেলুন। ১ চামচ মধু মিশিয়ে দিয়ে দুই থেকে তিনবার এই পানীয় পান করুন।

৩। আপেল সিডার ভিনেগারঃ জ্বরের প্রাকৃতিক ঔষধ হিসেবে আপেল সিডার ভিনেগার দামি হলেও খুব কার্যকরী। এতে থাকা উপকারী এসিড ত্বকের  নিচ থেকে তাপ কমাতে দ্রুত কাজ করে।এতে উচ্চ মাত্রায় শরীরের জন্য উপকারী খনিজ পানীয় বা মিনারেল থাকায় জ্বর দূর করতে কার্যকরী ভূমিকা রাখে।

  • আধাকাপ ভিনেগার গোসলের পানির সাথে মিশিয়ে ৫ থেকে ১০ মিনিট সেই পানি সারা শরীরে ঢালুন। ২০ মিনিটের মধ্যে শরীরের তাপমাত্রা কমে যাবে।
  • এক টুকরো কাপড় ৩ ভাজ করে এক ভাজ ভিনেগার দিয়ে আর বাকি দুই ভাগ পানি দিয়ে ভিজিয়ে কপাল এবং পেটে জলপট্টি দিন। পায়ের তালুতেও এই পট্টি দিতে পারেন। ভেজা কাপড় গরম হয়ে গেলে আবার পানি এবং ভিনেগার দিয়ে ভিজিয়ে নিন।
  • ২ চা চমচ আপেল সিডার ভিনেগারের সাথে ১ টেবিল চামচ মধু এক গ্লাস পানির সাথে মিশিয়ে দিনে ১বার পান করলেও ভাল ফল পাওয়া যায়।

৪। রসুনঃ রসুন শরীর গরম করে। আবার এই রসুন জ্বর কমানোর উপায় হিসেবে ভাল কাজ করে। রসুনে থাকা শরীর গরম করার নানা উপাদান দেহকে আরো উত্তপ্ত করে ঘাম ঝরানোর মাধ্যমে জ্বর সারাতে পারে। এটা শরীর থেকে ক্ষতিকর বিষাক্ত ব্যাকটেরিয়া দূর করতে সাহায্য করে। এছাড়াও রসুনে আছে এন্টিফাঙ্গাল (Antifungal) এবং এন্টিব্যাকটেরিয়াল (Antibacterial) যা দেহের বিভিন্ন সংক্রামণের সাথে যুদ্ধ করতে সক্ষম।

  • বড় সাইজের এক কোয়া রসুন কুচি কুচি করে কেটে নিয়ে এক কাপ ফুটন্ত গরম পানির মধ্যে ১০ মিনিট ভিজিয়ে রাখুন। এরপর রসুনের কুচিগুলো ছেঁকে ফেলে দিয়ে পানিটুকু চায়ের মত করে পান করুন। ভাল ফলাফলের জন্য এই পানি দিনে দুইবার পান করুন।
  • ২ কোয়া রসুন ছেঁচে, ২ টেবিল চামচ অলিভ অয়েলের সাথে মিশিয়ে নিন। এই মিশ্রণ দুই পায়ের তালুতে লাগিয়ে নিন। তবে পুরো তালু জুড়ে লাগানো যাবে না। মাঝে মাঝে ফাকা রাখতে হবে। গজ কাপড় দিয়ে পায়ের তালু পেঁচিয়ে সারারাত রাখুন। এই পদ্ধতিতে অনেকের এক রাতের মধ্যে জ্বর ভাল হয়ে যায়।

সতর্কতাঃ রসুনের এই চিকিৎসা গর্ভবতী ও বাচ্চাদের জন্য নয়।

৫। কিশমিশঃ কিশমিশে আছে নানা ধরনের এন্টিব্যাক্টেরিয়াল এবং এন্টিওক্সিডেন্ট খাদ্যগুণ। এছাড়াও জ্বর থেকে মুক্তির উপায় হিসেবে কিশমিশ টনিকের হিসেবে কাজ করে।

  • ২৫ টি কিশমিশ দেড় কাপ পানিতে নরম না হওয়া পর্যন্ত ভিজিয়ে রাখুন। এরপর কিশমিশগুলো চটকে পানির সাথে ভাল করে মিশিয়ে নিন। ২ টেবিল চামচ লেবুর রস দিয়ে ভাল করে মিশ্রণ করুন। দিনে দুই বার এই মিশ্রণ সেবন করুন জ্বর না কমা পর্যন্ত।

৬। আদাঃ আদা দেহের তাপ কমাতে সাহায্য করে। এতে আছে প্রাকৃতিক এন্টিভাইরাল (Antiviral) যা দেহের ইমিউন সিস্টেমকে (Immune System) যে কোন ধরনের সংক্রামণ থেকে রক্ষা করে। ফলে দ্রুত অতিরিক্ত জ্বর কমানোর উপায় হিসেবে আদা অনেক কার্যকরী।

  • এক কাপ গরম পানির সাথে আধা চা চামচ আদা বাটা ভাল করে মিশিয়ে অল্প কিছুক্ষণ রাখুন। পরিমাণ মত মধু মিশিয়ে এই চা দিনে ৩ থেকে ৪ বার পান করুন।
  • এছাড়াও আধা চা চামচ আদার রসের সাথে ১ চা চামচ লেবুর রস এবং ১ চা চামচ মধু মিশিয়ে দিনে ৩ থেক ৪ বার খেলে জ্বর কমে যায়।

৭। পুদিনা পাতাঃ জ্বরের প্রাকিতিক চিকিৎসা হিসেবে পুদিনা পাতা প্রসিদ্ধ। পুদিনা পাতা শরীরের ভেতরকে ঠান্ডা করতে পারে। এক কাপ গরম পানির সাথে এক টেবিল চামচ পুদিনা পাতা বাটা মিশিয়ে ১০ মিনিট রেখে দিন। এরপর ১ টেবিল চামচ মধু মিশিয়ে দিনে ৩ থেকে ৪ বার পান করুন।

৮। চন্দনঃ চন্দনে থেরাপিউটিক ( Therapeutic) নামক ভেষজ উপাদান আছে, যা জ্বর কমানোর উপায় হিসেবে কার্যকরী ভূমিকা রাখে। চন্দন মূলত দেহ এবং মন দুটোকেই ঠান্ডা ও শান্ত রাখতে পারে।

  • আধা চা চামচ চন্দনের গুড়ার সাথে সামান্য পানি মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন। এই পেস্ট কপালে ভাল করে মাখিয়ে রাখুন। দ্রুত জ্বর কমাতে দিনে কয়েকবার এই পেস্ট ব্যবহার করুন।

অতিরিক্ত পরামর্শঃ

  • জ্বর হলে বেশি বেশি পানি এবং লেবু জাতীয় পানীয় পান করুন।
  • অতিরিক্ত ঠান্ডা পানি অথবা বরফ ব্যবহার করবেন না।
  • ১ থেকে ২ দিন পুরোপুরি বিশ্রাম নিন।
  • প্রচুর পরিমাণে সবুজ শাক সবজি খান।
  • ফ্রিজের খাবার এড়িয়ে চলুন।
  • ধূমপান থেকে বিরত থাকুন।

ডায়াবেটিসের প্রাকৃতিক চিকিৎসা

বর্তমানে ডায়াবেটিস খুব প্রচলিত একটি রোগ। নানা কারনে মানব দেহে এই রোগ হতে পারে। এটা দুই ধরনের হয়ে থাকে। ধরন ১ ডায়াবেটিস (Type 1 diabetes) হয় যখন দেহ ইনসুলিন (Insulin) বা হর্মোন তৈরি করতে পারে না। দ্বিতীয় ধরনের ডায়াবেটিস (Type 2 diabetes) হয় যখন দেহ পর্যাপ্ত পরিমাণে ইনসুলিন উৎপাদন করতে পারে না অথবা উৎপাদিত ইনসুলিন ভালভাবে কাজ করে না।

Continue reading

হাত পা ঘামার প্রাকৃতিক চিকিৎসা

হাত পা ঘামার ঔষধ

অতিরিক্ত হাত পা ঘামা অন্যান্য রোগের মতই একটি রোগ এবং অনেকেই এই রোগে আক্রান্ত। হাত ঘামার কারণে অন্যের সাথে হাত মেলাতে বা হ্যান্ডশেক করতে ভয় লাগে। পা ঘামার কারণে সবার সামনে মোজা খুলতে ভয় পান। কেননা বিকট দুর্গন্ধে সবাই আপনার দিকে ভয়ঙ্কর দৃষ্টিতে তাকাবে। কেউ কেউ আবার হাসাহাসি করবে। হাত পা ঘামার সমাধান খুঁজতে খুঁজতে ক্লান্ত হয়েছেন।

Continue reading

শুষ্ক ও রুক্ষ ত্বকের যত্ন । ১০ টি ঘরোয়া ময়েশ্চারাইজার

শুষ্ক ও রুক্ষ ত্বকের যত্ন

শুষ্ক ও রুক্ষ ত্বক শীতকালের একটি সাধারণ সমস্যা। গরমকালে ধুলাবালির কারণে ত্বক শুষ্কতা দেখা দেয়। আর শীতের শুষ্ক বাতাস ত্বকের আদ্রতা শুষে নেয় ফলে ত্বক রুক্ষ হয়ে যায়। এছাড়াও বয়সের কারণে, পুষ্টির অভাবে এবং বংশীয় কারণে ত্বক শুষ্ক ও রুক্ষ হতে পারে। শুষ্ক ও রুক্ষ ত্বকের যত্নে বাজারে প্রচলিত অনেক লোশন এবং ময়েশ্চারাইজার ক্রিম পাওয়া যায়।

Continue reading

শিশুর সর্দি কাশি দুর করার উপায়

শিশুর সর্দি কাশি হলে করনীয়

প্রত্যেক বছর বাংলাদেশে কমপক্ষে হাজার হাজার নবজাতক এবং শিশুরা সর্দিকাশিতে ভোগে শুধুমাত্র দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হওয়ার কারণে। অধিকাংশ শিশু জন্মের প্রথম বছরে সাতবারের বেশি ঠান্ডা রোগে আক্রান্ত হয়। নানা মাধ্যমে শিশুদের শরীরে রোগসংক্রামণ দ্বরা আক্রান্ত হয়। ক্ষতিকর ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত ব্যাক্তি অথবা দূষিত বাতাস এবং আবহাওয়ার মাধ্যে বেশি আক্রান্ত হয়।

Continue reading

বমি দূর করার উপায় | বমি হলে করনীয়

বমি দূর করার উপায়

বমি মানবদেহের একটি বিরক্তিকর সমস্যা বা রোগ। এটা কোন মারাত্মক রোগ বা স্বাস্থ্য ঝুঁকি না। শিশু থেকে বৃদ্ধ সবার এই রোগ হতে পারে। বমি দূর করতে ডাক্তারের কাছে না গিয়ে আপনার হাতের কাছে থাকে বিভিন্ন কিছু দিয়ে ঘরোয়া চিকিৎসা করুন। নানা কারণে বমি বা বমি বমি ভাব হতে পারে। অধিকাংশ সময় শরীরের সাময়িক প্রতিক্রিয়ার কারণে বমি হয়।

Continue reading