কিভাবে চুলের যত্ন করবেন

চুলের যত্ন

উজ্জ্বল এবং মসৃণ চুল আর শারীরিক সৌন্দর্য যেন একসূত্রে গাঁথা! নিত্য আমাদেরকে চুল ফাটা, চুল ভেঙে যাওয়া, রুক্ষ হওয়াসহ চুলের নানা সমস্যায় পড়তে হয়। তবে আশার কথা হলো, নিয়মিত চুলের যত্ন এবং খাদ্যাভ্যাসে সতর্কতায় আপনি পেতে পারেন সুন্দর ঝলমলে চুলের বাহার।

 

চুলের যত্নে লেবু

চুলের যত্নে বিভিন্ন উপায়ে লেবু ব্যবহার করতে পারেন।

লেবুর এমন কিছু ব্যবহারের কথা জেনে নেওয়া যাক-

১. ৪ টেবিল চামচ আমলকির রস ও সমপরিমাণ লেবুর রস মিশিয়ে চুলের ত্বকে ম্যাসেজ করুন। আধ ঘণ্টা অপেক্ষা করে চুল শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে ২ থেকে ৩বার এই প্যাক ব্যবহারে চুল হবে মসৃণ ও ঝলমলে।

২. খানিকটা নারকেল তেল ও লেবুর রস একত্রে মেশান। এবার মিশ্রণটি ধীরে ধীরে চুলের গোঁড়ায়স্ক্যাল্প মাখুন। ১৫ থেকে ২০ মিনিট পর হালকা শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন। চুল ধোয়ার পর কন্ডিশনার লাগিয়ে নিন। সপ্তাহে একবার এই পদ্ধতি অনুসরণ করুন। এভাবে ছয় সপ্তাহ ব্যবহার করুন। এতে চুল পড়া বন্ধ হবে।

৩. চুল শুষ্ক প্রকৃতির হলে অথবা মাথার ত্বক ঘেমে যাওয়ার প্রবণতা থাকলে, শ্যাম্পুর সঙ্গে কয়েক ফোঁটা লেবুর রস মিশিয়ে ব্যবহার করুন। এতে চুল ঝরঝরে থাকে, মাথার ত্বক ও চুল ঘেমে স্যাঁতসেঁতে হয়ে পড়ে না, এবং ঘামজনিত দুর্গন্ধও হয় না। বাইরে যাওয়ার আগে এভাবে শ্যাম্পু করে নেওয়া ভালো, প্রয়োজনে প্রতিদিনই করতে পারবেন।

৪. তৈলাক্ত মাথার ত্বকে যদি খুশকি হয়, তাহলে ২ টেবিল চামচ মেথি, ২ টেবিল চামচ লেবুর রস ও ২ টেবিল চামচ পানি মিশিয়ে সারা রাত ভিজিয়ে রাখুন। সকালে মাথার ত্বকে লাগিয়ে ১ ঘণ্টা পর শ্যাম্পু করে নিন। অনেক সময় মাথায় ফুসকুড়ির মতো গোটা দেখা যায়। এ রকম সমস্যা দূর করতে এটি সপ্তাহে ২ দিন ব্যবহার করুন।

৫. ২ টেবিল চামচ আমলকির পাউডার, সমপরিমাণ মেথি পাউডার ও ১টি লেবুর খোসা (সবুজ অংশ) একসঙ্গে পেস্ট করে নিন। এরপর এক থেকে দেড় টেবিল চামচ জলপাই তেল বা নারকেল তেল মিশিয়ে মাথার ত্বকে লাগিয়ে রাখুন ১ ঘণ্টা (মাথার ত্বকের সঙ্গে সঙ্গে চুলেও দেওয়া যায়)। এরপর শ্যাম্পু করে ফেলুন। সপ্তাহে এক দিন ব্যবহার করুন। এটি চুলের দ্রুত বৃদ্ধিতে দারুণ সহায়ক।


নিয়মিত লেবুর এই হেয়ার প্যাকগুলো ব্যবহারে খুশকিসহ চুলের সব সমস্যা দূর হবে। চুলের রুক্ষতা কমবে, সে সঙ্গে কমবে চুল পড়ার হারও।

 

চুলের যত্নে পেঁয়াজ

পেঁয়াজে প্রচুর পরিমাণে জীবাণুনাশক উপাদান থাকে। এটি চুলের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে দারুণভাবে সাহায্য করে।

কীভাবে তৈরি করবেন পেঁয়াজের রস

প্রথমে পেঁয়াজের খোসা ছাড়িয়ে নিন। তারপর একে চার টুকরো করে কাটুন। এবার পেঁয়াজের টুকরোগুলো মিক্সারে ব্লেন্ড করে নিন। ব্লেন্ড হয়ে গেলে পেঁয়াজের রস ছেঁকে নিন। এ ক্ষেত্রে খেয়াল রাখতে হবে পেঁয়াজের রস চুলের গোঁড়াে লাগানোর সময় গোটা পেঁয়াজের টুকরো যেন চুলে আটকে না যায়।

পেঁয়াজ দিয়ে তৈরি হেয়ার প্যাক

১. পেঁয়াজ ও মধু দিয়ে তৈরি হেয়ার প্যাক : এক কাপের এক তৃতীয়াংশ পেঁয়াজের রস নিন। তারপর এক টেবিল চামচ মধু মেশান। এবার মিশ্রণটি চুলের গোঁড়ায় ভালো করে মেখে নিন। ৩০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন।

২. অলিভ অয়েল এবং পেঁয়াজের রস : অলিভ অয়েলের সঙ্গে তিন টেবিল চামচ পেঁয়াজের রস মেশান। এ মিশ্রণটি হাতে নিয়ে চারপাশ থেকে চুলের গোঁড়ায় এবং চুলের গোঁড়াে লাগিয়ে নিন। দুই ঘণ্টা রেখে কম ক্ষারযুক্ত শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন। চুলের শক্তি বৃদ্ধিতে এবং খুশকি কমাতে এটি দারুণ কার্যকর।

 

চুলের যত্নে মধু

ঝলমলে ও সুন্দর চুলের জন্য মধু অত্যন্ত কার্যকর। চুলের যত্নের জন্য যে প্রক্রিয়ায় মধু ব্যবহার করবেন:

২০০ গ্রাম নারকেল তেলের সঙ্গে ২ টেবিল চামচ মধু মিশিয়ে চুলের গোড়ায় ম্যাসাজ করুন। ১ ঘণ্টা পর শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

অথবা ১ কাপ টক দইয়ের সাথে আধা কাপ মধু মিশিয়ে চুলে লাগিয়ে আধা ঘণ্টা পর ভেষজ শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

 

চুলের যত্নে অ্যালোভেরার ব্যবহার

অ্যালোভেরা জেলে রয়েছে ছত্রাকবিরোধী এবং জীবাণুনাশক উপাদান, যা মাথার ত্বকের চুলকানি প্রতিরোধ করে। ফলে খুশকি থেকে মুক্ত থাকে চুল। এতে বিদ্যমান বিশেষ ধরনের ময়েশ্চারাইজার আপনার চুলে প্রাকৃতিক কন্ডিশনার হিসেবে কাজ করে এবং চুলের আর্দ্রতা ধরে রাখে। প্রোটিন, ভিটামিন ও মিনারেলে ভরপুর অ্যালোভেরা চুলের ফলিকলকে পরিপুষ্ট করে চুল পড়া কমায়। চুল দ্রুত বড় হতেও সাহায্য করে।

অ্যালোভেরা ব্যবহারের নিয়ম

১. অ্যালোভেরার জেল সরাসরি মাথার ত্বকে এক ঘণ্টা লাগিয়ে রেখে দিন, এরপর মৃদু (মাইল্ড) শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে দু-তিন দিন ব্যবহারে দারুণ উপকার পাবেন।

২. রুক্ষ চুলকে উজ্জ্বল করতে ব্যবহার করতে পারেন মধু,নারকেল তেল ও অ্যালোভেরা জেল। শুষ্ক চুলে আর্দ্রতা ফেরাতে ও চুলের ডিপ কন্ডিশনিং করতে এই উপাদানগুলো ব্যবহার করতে পারেন।

এক চা চামচ মধু, দু’ চামচ নারকেল তেল ও দু’ চামচ অ্যালোভেরা নিয়ে মিশিয়ে এক জেলের মতো উপাদান তৈরি করুন। গোসলের ৩০ মিনিট আগে এই মিশ্রণ চুলে লাগিয়ে একটা শাওয়ার ক্যাপে ঢেকে দিন মাথা। পারে আধঘণ্টা পর শ্যাম্পু করুন।

৩. চুলের উজ্জ্বলতা ধরে রাখতে দই ও অ্যালোভেরা ব্যবহার করুন। দু’ চামচ টক দইয়ের সঙ্গে এক চামচ অ্যালোভেরা মিশিয়ে প্রায় ১০ মিনিট ধরে মাথার ত্বকে মাসাজ করুন। পরে শ্যাম্পু করে ধুয়ে নিন চুল। এরপর অবশ্যই কন্ডিশনার লাগাবেন।

যারা নিয়মিত চুলে মেহেদি লাগান, তারা মেহেদির সঙ্গেও অ্যালোভেরা জেল ব্যবহার করতে পারেন ।




 

চুলের যত্নে ডিম

ডিমে প্রচুর পরিমাণে খনিজ, প্রোটিন এবং ভিটামিন বি কমপ্লেক্স রয়েছে যা চুলের যত্নে দারুণ উপকারি। এটি চুল পড়া প্রতিরোধ করে এবং চুলের বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।

আসুন জেনে নেই পাতলা চুল ঘন করতে ডিমের ব্যবহার-

১. একটি পাত্রে ডিম ফাটিয়ে নিন। এক টেবিল চামচ ক্যাস্টর অয়েল মিশিয়ে নিন। ক্যাস্টর অয়েলের পরিবর্তে নারকেল তেলও ব্যবহার করতে পারেন। ভাল করে ডিম ফাটিয়ে একটা মাস্ক তৈরি করে নিন।

সপ্তাহে তিন দিন এই মাস্ক ভাল করে চুলের গোড়া থেকে ডগা পর্যন্ত লাগিয়ে নিন। মাথার তালুতেও ম্যাসাজও করুন। আধ ঘণ্টা পর ঠাণ্ডা পানিতে ধুয়ে শ্যাম্পু করে নিন। শ্যাম্পুর পর চুলে হালকা করে কন্ডিশনার লাগিয়ে নিন।

২. চুল সিল্কি করতে এক কাপ দইয়ের সঙ্গে একটা ডিমের কুসুম মিশিয়ে নিন। এই প্যাক চুলে লাগিয়ে ২০ মিনিট রাখুন। ঠান্ডা পানিতে ধুয়ে ফেলুন। চুল থেকে আঁশটে গন্ধ বেরোলে হালকা শ্যাম্পু করে নিন।

৩. ঘন চুল পেতে চাইলে একটি ডিমের সাদা অংশের সঙ্গে এক চা চামচ অলিভ অয়েল ঘন করে মিশিয়ে নিন। স্ক্যাল্প ও চুলে ভালো করে লাগিয়ে নিন। ১৫ থেকে ২০ মিনিট পর প্রথমে ঠান্ডা পানিতে ধুয়ে তারপর শ্যাম্পু করে নিন।

৪. ডিম দিয়ে তৈরি করতে পারেন কন্ডিশনার। একটা ডিমের কুসুমের সঙ্গে এক টেবিল চামচ অলিভ অয়েল ভালো করে মেশান। এর সঙ্গে হালকা গরম পানি মিশিয়ে পাতলা করে নিন। চুল শ্যাম্পু করার পর এই কন্ডিশনার গোটা চুলে লাগান।

 

ছেলেদের চুলের যত্ন

ছেলেরা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দীর্ঘসময় ধরে জেল হেয়ার স্প্রে ব্যবহার করে থাকে। এতে চুলে ময়লা, ধুলোবালি আটকে যায়। তাই দিনের বেলা যখন আপনার বাইরে কাজ করার সম্ভাবনা বেশি, তখন জেল ব্যবহার করবেন না। আর যখনই জেল বা হেয়ার স্প্রে ব্যবহার করবেন, চেষ্টা করুন দ্রুত বাসায় ফিরে শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলতে। শ্যাম্পু করার পর কন্ডিশনার ব্যবহার করুন। কন্ডিশনার এর স্থলে এক মগ পানিতে লেবুর রস দিয়েও চুল ধুয়ে নিতে পারেন। কন্ডিশনার ব্যবহারের ক্ষেত্রে খেয়াল রাখুন কন্ডিশনার যেন চুলের গোঁড়া ও মাথার ত্বকে না লেগে থাকে।

এছাড়া যেসব বিষয় লক্ষ্য রাখতে হবে:

নিয়মিত চুল আঁচড়াতে হবে। এতে খুশকি হবার সম্ভাবনা কমে যাবে।
পুষ্টিকর খাবার খাওয়া প্রয়োজন। এতে মাথার ত্বক ও চুল ভালো থাকবে।
অতিরিক্ত চা, কফি পান পরিহার করতে হবে।
প্রতিটি চুলের গোড়ায় অক্সিজেনের প্রবেশ ও হাইড্রোজেন নির্গমনের ব্লক রয়েছে। প্রতিদিন গোসল করলে এ ব্লকগুলো সচল থাকে। চুলের বৃদ্ধিও ভালো হয়।
মাফলার, টুপি বা অন্য কোনো গরম কাপড়ের উপকরণ দিয়ে মাথা বা চুল ঢেকে রাখলে চুল ভালো থাকে।
শীতের সময় গরম পানি দিয়ে গোসল করলেও মাথায় গরম পানি দেয়া থেকে বিরত থাকুন।

 

মেয়েদের চুলের যত্ন

মেয়েদের সৌন্দর্য হলো চুল(Hair)। তাই নিয়মিত চুলের যত্ন নেয়া অত্যন্ত জরুরি। ব্যস্ত জীবনের মাঝে একটু সময় বের করে কীভাবে চুলের যত্ন নেবেন—তা জেনে নিই-

 

আবহাওয়া ও পরিবেশ বুঝে চুলের যত্ন

আবহাওয়া পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে চুলের অনেক সমস্যা দেখা দিতে পারে। বৃষ্টিতে চুল ভিজলে ভেঙে যেতে পারে এবং পড়েও যায়।

এজন্য-

সপ্তাহে দুই দিন চুলে তেল লাগান। মাথায় পুরো এক ঘণ্টা তেল রেখে তবে শ্যাম্পু(Shampoo) করে চুল ধুয়ে নিতে হবে। এভাবে নিয়মিত চুলে তেল লাগালে চুল সতেজ ও কোমল থাকবে।


 

চুল বুঝে শ্যাম্পু নির্বাচন

কারও চুল পাতলা আবার কারও ঘন হয়। তাই চুলের ব্যালান্স বুঝে শ্যাম্পু কন্ডিশন করতে হবে। স্বাভাবিক ও রং করা চুলের শ্যাম্পু করার ক্ষেত্রে রয়েছে ভিন্নতা। অনেকের ধারণা, বেশি শ্যাম্পু করলে চুল পড়ে যায়। বরং চুলে নিয়মিত শ্যাম্পু করলে পরিষ্কার থাকে এবং এর স্বাভাবিক আর্দ্রতা বজায় থাকে।

শ্যাম্পুর পরিবর্তে

শ্যাম্পুর বিকল্প হিসেবে এবং রং করা চুলের জন্য মসুর ডাল বেশ ভালো কাজ করে। দুই টেবিল চামচ শর্ষেবাটা ও দুই টেবিল চামচ মসুর ডাল সারা রাত ভিজিয়ে রেখে পাতলা পেস্ট তৈরি করে নিন। এরপর পরিষ্কার মাথার চুলের গোড়ায় এই পেস্টটি ব্যবহার করুন।

কন্ডিশনারের বিকল্প চা–পাতা

বাড়িতে চা খাওয়ার পর চায়ের পাতা ফেলে না দিয়ে এটি চুলের যত্নে ব্যবহার করতে পারেন। এ চা–পাতা পানিতে ভিজিয়ে শ্যাম্পুর পর চুলে দিয়ে স্বাভাবিক পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। কিন্তু এর জন্য চা তৈরির সময়ে কোনো রকম চিনি ব্যবহার করা যাবে না। তাতে চুলে আঠালো ভাব চলে আসবে।

 

মেয়েদের চুলের যত্নে কিছু ভেষজ তেল-

ক্যাস্টর অয়েল

ক্যাস্টর অয়েল ওমেগা ৬ ফ্যাটি এসিড, ভিটামিন ই-সমৃদ্ধ যা চুলকে মজবুত ও উজ্জ্বল করে। এ ছাড়া এটি নতুন চুল গজাতেও সাহায্য করে। অন্যদিকে এতে ভিটামিন বি রয়েছে, যা চুলের বৃদ্ধির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

নারকেল তেল

চুলের যত্নে নারকেল তেলের জুড়ি নেই। নারকেল তেল ভিটামিন ই-সমৃদ্ধ। চুল এ তেল ভালোভাবে শুষে নিতে পারে। এর ফলে এই তেলের কার্যকারিতাও বেশি।

সূর্যমুখী তেল

তৈলাক্ত চুলের জন্য এ তেল খুব উপযোগী। হালকা হওয়ার ফলে চুলে ম্যাসাজ করলে, চুল তেল তেলে হয় না। তবে কখনোই চুলে সূর্যমুখী তেল বেশি সময়ের জন্য লাগিয়ে রাখবেন না। এতে চুলের গোড়া নরম হয়ে চুল পড়ার সমস্যা দেখা দিতে পারে।

 

চুলের যত্নে ভিটামিন ই ক্যাপসুল

ভিটামিন ই ক্যাপসুল চুলের গোড়ায় রক্ত সঞ্চালন বাড়ায়। ফলে দ্রুত বাড়ে চুল এবং নতুন চুল গজাতে সাহায্য করে। পাশাপাশি চুলের গোড়া মজবুত করে চুল পড়া বন্ধ করে। চুলের অকালপক্কতা প্রতিরোধে ভিটামিন-ই ক্যাপসুল দারুণ সহায়ক।

যেভাবে ব্যবহার করবেন

১. নারকেল তেলের সঙ্গে কয়েকটি ভিটামিন ই ক্যাপসুলের মিশিয়ে নিন। মিশ্রণটি রাতে ঘুমানোর আগে চুলের আগা থেকে গোড়া পর্যন্ত লাগান। চুলের গোড়ায় ৫ মিনিট ম্যাসাজ করুন। পরদিন সকালে ভেষজ শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন চুল।

২. একটি কলা চটকে নিন। ৩টি ভিটামিন ই ক্যাপসুলের তেল ও ১ টেবিল চামচ মধু মিশিয়ে চুলের লাগান। ১ ঘণ্টা পর শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। অ্যালোভেরা জেল ব্লেন্ড করে ভিটামিন ই ক্যাপসুল মিশিয়ে চুলের গোড়ায় ম্যাসাজ করুন। কিছুক্ষণ পর ধুয়ে শ্যাম্পু করে নিন।

৩. ২ টেবিল চামচ টক দইয়ের সঙ্গে কয়েকটি ভিটামিন ই ক্যাপসুলের তেল মেশান। মিশ্রণটি চুলের আগা থেকে গোড়া পর্যন্ত লাগিয়ে রাখুন ৪০ মিনিট। মাইল্ড শ্যাম্পু ব্যবহার করে পরিষ্কার করে ফেলুন চুল।

 

বাড়তি সতর্কতা

অ্যান্ড্রোজেনিক হরমোন নারীর চুল পড়া ও পুরুষের টাকের সবচেয়ে বড় কারণ। এই হরমোন সাধারণত পুরুষের শরীরে বেশি পরিমাণে থাকে। নারীর মেনোপজের সময় ও পরে অ্যান্ড্রোজেনিক হরমোন আনুপাতিক হারে বেড়ে যায়। তখন হঠাৎ চুল বেশি করে পড়তে শুরু করে। এক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

ছত্রাক সংক্রমণ বা খুশকি চুল পড়ার অন্যতম কারণ। তাই চুল ভেজা রাখা যাবে না। প্রয়োজনে চুলে ছত্রাক বিরোধী শ্যাম্পু ব্যবহার করুন।

শরীরের পুষ্টির ওপর চুলের স্বাস্থ্য নির্ভর করে। দৈনিক খাদ্যতালিকায় পরিমিত পরিমাণে প্রোটিন, শর্করা, চর্বি, খনিজ ও ভিটামিন জাতীয় খাবার রাখুন। এছাড়া স্বাস্থ্যজ্জ্বল চুল পেতে প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করা উচিৎ।

Source:

https://www.medicalnewstoday.com/articles/321850
https://www.healthline.com/health/beauty-skin-care/regrow-hair-naturally
https://www.mayoclinic.org/diseases-conditions/hair-loss/diagnosis-treatment/drc-20372932
https://www.healthline.com/health/beauty-skin-care/how-to-repair-damaged-hair

আপনার পছন্দের লেখাগুলো নিয়মিত পেতে ইমেইল দিয়ে এখনি সাবস্ক্রাইব করুন।
সর্বশেষ পোস্টগুলো
আমার ওজন কমানোর গল্প

আমার ৩৪ কেজি ওজন কামানোর কথা

home remedies for insomnia

অনিদ্রা দূর করার উপায় । ১০ টি ঘরোয়া ঔষধ

আঁচিলের প্রাকৃতিক চিকিৎসা

আঁচিলের প্রাকৃতিক চিকিৎসা

আমার ওজন কমানোর খাবার তালিকা

আমার ওজন কমানোর খাবার তালিকা বা ডায়েট চার্ট

অতিরিক্ত ওজন কমানোর ঔষধ

ওজন কমানোর প্রাকৃতিক ঔষধ

ওজন বাড়ানোর খাবার তালিকা

কফ কাশির প্রাকৃতিক ঔষধ

কফ বা কাশির প্রাকৃতিক চিকিৎসা

কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করার উপায়

কোষ্টকাঠিন্য থেকে মুক্তির উপায়

গরম পানি খাওয়ার উপকারিতা

গরম পানি খাওয়ার ১০ টি উপকারিতা

খুশকি দূর করার উপায়

ঘরে বসে খুশকি দূর করার সহজ ১০টি উপায় । খুশকি দূর করার প্রাকৃতিক শ্যাম্পু

চুল পরা বন্ধের উপায়

চুল পড়া বন্ধের প্রাকৃতিক ঔষধ 

দ্রুত ওজন বাড়ানোর উপায়

দ্রুত ওজন বারানোর উপায়

বমি দূর করার উপায়

বমি দূর করার উপায় | বমি হলে করনীয়

ব্যায়াম ছাড়া ওজন কমানোর উপায়

ব্যায়াম ছাড়া ওজন কমানোর ৯ টি সহজ উপায়

দ্রুত ওজন কমানোর খাবার তালিকা

মাসে ১০ কেজি ওজন কমানোর ডায়েট চার্ট




Categories

স্তন ক্যান্সার প্রতিরোধে যা জানা জরুরি

স্তন ক্যান্সার

স্তন ক্যান্সার হল কোষের অপরিণত বৃদ্ধি। স্তন কোষের অনিয়মিত বিভাজনের ফলে এটি টিউমার বা পিণ্ডে পরিণত হয় এবং রক্তনালীর লাসিকার মাধ্যমে শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে পড়ে।

 

স্তন ক্যান্সার বা ব্রেস্ট ক্যান্সারের লক্ষণ

১. কোনো র‌্যাশ ছাড়াই চুলকানির অনুভূতি, এটি স্তন ক্যানসারের অন্যতম লক্ষণ। ব্রেস্টফিডিং করছেন না অথচ স্তনবৃন্ত (nipple) থেকে অল্প অল্প দুধের মতো জলীয় পদার্থ নিঃসরণ হচ্ছে-এমনটা দেখলে দ্বিধা না করে সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। এটি ব্রেস্ট ক্যানসারের আরেকটি বড় লক্ষণ। অনেক সময় স্তনবৃন্ত থেকে রক্ত পড়তেও দেখা যায়।

২. স্তনে টিউমার থাকলে তা আশপাশের টিস্যুগুলির উপর চাপ সৃষ্টি করে এবং এর ফলে স্তনে ফোলা ভাব দেখা যায়। কাঁধ এবং ঘাড়ের ব্যথাও ব্রেস্ট ক্যানসারের লক্ষণ। কারণ এটি স্তন থেকে খুব সহজেই শরীরের অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে পড়ে।

৩. স্তনবৃন্ত চ্যাপ্টা হয়ে যাওয়া, বেঁকে যাওয়া বা স্তনবৃন্তের শেপ অসমান হয়ে যাওয়া ক্যানসারের লক্ষণ।
৪. স্তনে ছোট ছোট ফুসকুড়ির মতো লাম্পও ক্যান্সারের লক্ষণ। এই ব্রেস্ট লাম্পগুলি অনেক সময় আন্ডারআর্ম বা কলার বোনের তলাতেও দেখা যায়, যেগুলি টিপলে শক্ত অনুভূত হয়। অন্তর্বাস পরে থাকার সময় যদি ঘর্ষণ অনুভব করেন, এবং ব্যথা লাগে তবে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হোন।

৫. স্তনবৃন্ত খুবই সংবেদনশীল অংশ। যদি দেখেন স্তনবৃন্ত স্পর্শ করার পরও তেমন কোনো অনুভূতি হচ্ছে না, তবে তা ব্রেস্ট ক্যানসারের লক্ষণ।

৬. স্তনের ত্বকে লালচে আভা এবং কমলা লেবুর খোসার মত অমসৃণতা দেখা দিলে একজন ক্যান্সার বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেয়া প্রয়োজন। এটি এডভান্সড ব্রেস্ট ক্যান্সারের লক্ষণ।

৭. স্তনবৃন্তে বিশেষ কিছু পরিবর্তন পরিলক্ষিত হওয়া, যেমন- স্তনবৃন্ত দেবে যাওয়া, চুলকানি, জ্বালা পোড়া, খুস্কি অথবা ক্ষত কিংবা ঘা এর উপস্থিতি।

 

ব্রেস্ট ক্যান্সার কেন হয়




দেরিতে সন্তান গ্রহণ, সন্তান না থাকা, কিংবা সন্তানকে বুকের দুধ না খাওয়ানো, খাদ্যাভ্যাসে শাকসবজি বা ফলমূলের চাইতে চর্বি ও প্রাণীজ আমিষ বেশি থাকলে এবং প্রসেসড ফুড বেশি খেলে স্তন ক্যান্সারের আশঙ্কা বেশি থাকে। অতিরিক্ত ওজনও স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়।

দীর্ঘদিন ধরে জন্ম নিয়ন্ত্রণ পিল খাওয়া বা হরমোনের ইনজেকশন নেয়া, স্তন ক্যান্সারের অন্যতম কারণ।

বয়স বাড়ার সাথে সাথে (বিশেষ করে ৫০ বছর বয়সের পর) স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বাড়ে। কারো যদি বারো বছরের আগে ঋতুস্রাব হয় এবং দেরিতে মেনোপজ বা ঋতু বন্ধ হয়, তারাও এ ঝুঁকিতে থাকেন।

স্তনের আকার অনুযায়ী সঠিক মাপের ব্রা ব্যবহার করুন। স্তনের আকারের চেয়ে বড় মাপের বক্ষবন্ধনী স্তনের টিস্যুগুলোকে ঠিকমত সাপোর্ট দিতে পারে না। আবার অতিরিক্ত ছোট বা টাইট ব্রা স্তনের তরলবাহী লসিকাগুলো কেটে ফেলতে পারে। এটি আপনার স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়।

সারাক্ষণ বক্ষবন্ধনী পরে থাকার কারণে ঘাম নির্গমনে বিগ্ন ঘটে ফলে আর্দ্রতা জমে থাকে। এ কারণে স্তন ক্যান্সারের হতে পারে। ঘরে থাকার সময়টুকুতে বক্ষবন্ধনী ব্যবহার না করার চেষ্টা করুন।

আজকাল কর্মজীবী নারী হোক বা শিক্ষার্থী সারাদিন বাইরে থাকা আর সেই সাথে ঘামের দুর্গন্ধ এড়াতে ডিওডোরেন্ট ব্যবহার করেন। এই ডিওডোরেন্ট কেনার সময় খেয়াল রাখুন এতে কী কী উপাদান আছে। এলুমিনাম বেসড উপাদান থাকলে তা স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়। ডিওডোরেন্ট ব্যবহারের আগে একজন স্কিন বিশেষজ্ঞের সাথে পরামর্শ করে নিন।

আলমারির কাপড়-চোপড় পোকামাকড়ের হাত থেকে বাঁচাতে আমরা ন্যাপথালিন ব্যবহার করে থাকি। অনেকে বাথরুমের দুর্গন্ধ এড়াতে বেসিনের সিঙ্কেও ফেলে রাখেন। এটি ক্ষতিকর কেমিকেল দিয়ে তৈরি, যা কেবল পোকা-মাকড়কে দূরে রাখে না, বরং আপনার স্তন ক্যান্সারের ঝুকিও বৃদ্ধি করে। ন্যাপথালিনের বিকল্প হিসেবে নিমপাতা শুকিয়ে কাগজে মুড়িয়ে রেখে দিন।

অতিমাত্রায় অ্যালকোহল, তামাক সেবনের ফলেও স্তন ক্যান্সার হতে পারে।

বংশে এর আগে কারো ব্রেস্ট বা ওভারি ক্যানসার থাকলে বা বিএআরসিএ ১, ও বিএআরসি ২, জিন থাকলে ব্রেস্ট ক্যানসারের ঝুঁকি অনেক বেশি।

 

স্তন ক্যান্সারের ডায়াগনোসিস

২০ বছর বয়স থেকেই প্রত্যেকের উচিত স্তন ক্যান্সার বিষয়ে সচেতন হওয়া এবং প্রতি মাসে নির্দিষ্ট সময়ে নিজের স্তন পরীক্ষা করা। মাসিক শুরুর ৫-৭ দিন পর এই পরীক্ষা করতে হবে যখন স্তন নরম ও কম ব্যথা থাকে।

আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে পরীক্ষা

আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের স্তনকে চারটি ভাগে ভাগ করে প্রতিটি অংশের অভ্যন্তরে কোন চাকা বা দলার মতো আছে কিনা তা অনুভব করুন। হাত দুটো পাশে রাখুন, এবং ভাল করে লক্ষ্য করুন স্তনের চামড়ায় কোন পরিবর্তন কিংবা আকারে কোনো তারতম্য এসেছে কী না। এবার দুই হাত কোমরে রেখে বুক সামনের দিকে চিতিয়ে দেখুন স্তনে কোনো ধরনের দাগ, ঘা কিংবা গর্ত আছে কী না। এবার হাত দুটো উঁচু করে আরো একবার পরীক্ষা করুন। এক্ষেত্রে আপনি নিপল থেকে শুরু করে বৃত্তাকারভাবে বাহিরের দিকে উপর-নিচ করে সম্পূর্ণ স্তন পরীক্ষা করতে পারেন। আপনার বাম হাত দিয়ে ডান পাশের ও ডান হাত দিয়ে বাম পাশের স্তন পরীক্ষা করুন।

গোসলের সময় পরীক্ষা

গোসলের পূর্বে একটি হাত মাথায় রাখুন। আরেকটি হাতের আঙুল দিয়ে কলার বোনের কয়েক ইঞ্চি নিচ থেকে একদম বগল পর্যন্ত চেপে দেখুন, পুরো স্তনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত চক্রাকারে পরীক্ষা করতে থাকুন, প্রথমে হালকাভাবে, পরে একটু চাপ দিয়ে স্তনের টিস্যুগুলো পরীক্ষা করুন।

শুয়ে শুয়ে পরীক্ষা

বিছানায় শুয়ে ডান দিকের কাঁধের ওপর একটি বালিশ রাখুন। ডান হাত মাথার পেছনে দিন। এবার বাম হাতের আঙুল দিয়ে চক্রাকারে ডান পাশের স্তন পুরোটা পরীক্ষা করুন। স্তনবৃন্ত চেপে ধরে নিশ্চিত হয়ে নিন কোনো তরল নিঃসৃত হচ্ছে কী না, কিংবা কোনো ধরনের অস্বাভাবিক ব্যাপারে আছে কী না। একইভাবে এবার বাম পাশের স্তন পরীক্ষা করুন।

ডাক্তারি পরীক্ষা কখন প্রয়োজন

যাদের পরিবারে কারো স্তন ক্যান্সারের হিস্ট্রি রয়েছে, তাদের হাসপাতালে স্তন পরীক্ষা অর্থাৎ ম্যামোগ্রাম করিয়ে নেয়া উচিৎ। ধনী দেশগুলোতে স্তন ক্যান্সার স্ক্রিনিং-এর জন্য প্রধানত ম্যামোগ্রাম বেছে নেওয়া হয়। সাধারণত ৫০ বছরের বেশি বয়সী নারীদের নির্ধারিত বিরতিতে এক, দুই বা তিন বছর পরপর নিয়মিতভাবে ম্যামোগ্রাম করা হয়। এটি বিশেষ ধরণের এক্স-রে, যার মাধ্যমে স্তনে খুব ছোট চাকা বা অন্যান্য পরিবর্তন ধরা পড়ে। এই পদ্ধতি তুলনামূলকভাবে ব্যয়বহুল। এছাড়া ইমেজিং পরীক্ষার মধ্যে রয়েছে আলট্রাসাউন্ড, এমআরআই (MRI) এবং সার্জিক্যাল টেস্টের মধ্যে বায়োপসি (bipsy) অন্যতম। সিইএ (CEA), সিএ-১৫-৩ (CA-15-3), বা সিএ-২৭.২৯ টেস্ট এবং রক্তের সিবিসি (CBC) পরীক্ষারও প্রয়োজন পড়ে।



ব্রেস্ট ক্যান্সারের চিকিৎসা

ব্রেস্ট ক্যান্সারের চিকিৎসায় সার্জারি প্রথম অপশন।

লাম্পেক্টমি

টিউমার ও তার আশেপাশের কিছু টিস্যু কেটে এই অপারেশন করা হয়।

মাস্টেক্টমি

এই অপারেশন-এ স্তন এবং এর নিচের মাংসপেশি, বগলের লসিকাগ্রন্থিসহ আনুষঙ্গিক আক্রান্ত টিস্যু কেটে ফেলা হয় কিংবা সম্পূর্ণ স্তন কেটে ফেলা হয়। কোন কোন রোগীর স্তনের চামড়া সংরক্ষণ করে বিকল্পভাবে স্তন পুণর্গঠন করা হয়। শরীরের অন্য জায়গা থেকে মাংসপেশি কেটে নিয়ে স্তনের আকার করে স্তনের জায়গায় পুনঃস্থাপন করার মাধ্যমে এটি করা হয়। র‌্যাডিক্যাল ম্যাস্টেক্টমির মাধ্যমে বুকের দেয়ালের মাংসপেশি, বগলের নিচে লিম্ফনোডসহ পুরো স্তন কেটে বাদ দেওয়া হয়।

ক্যান্সার কোষ লিম্ফনোডে পৌঁছে তার মাধ্যমে শরীরের অন্যান্য অঙ্গে ছড়িয়ে পড়ে। সেন্টিনেল নোড বায়োপসির মাধ্যমে লিম্ফনোড সরিয়ে ফেলা হয়। একে বলা হয় অ্যাক্সিলারি লিম্ফনোড ডিসেকশন।

রেডিও থেরাপি

এক্ষেত্রে তেজস্ক্রিয় রশ্মি প্রয়োগ করে শরীরের ক্যান্সারের কোষ নির্মূল করা হয়। তাছাড়া দেহের অভ্যন্তরে তেজস্ক্রিয় পদার্থ স্থাপন করেও চিকিৎসা করা যায়।

কেমোথেরাপি

সাধারণত স্তন ক্যান্সার চিকিৎসায় অপারেশন পরবর্তী সময়ে Adjuvant Chemotherapy দেওয়া হয়ে থাকে। এতে ক্যান্সার কোষের পুনরাবির্ভাবের ঝুঁকি থাকে না। তবে অনেক ক্ষেত্রে টিউমার বেশি বড় থাকলে Chemotherapy (Neo Adjuvant) অপারেশনের আগে নিতে হতে পারে। সাধারণত ৬-৮টি ডোজ (প্রতি মাসে একটি করে) বা রক্তনালির মাধ্যমে ইনজেকশন দেওয়া হয়। কেমোথেরাপি ইস্ট্রোজেন তৈরি বন্ধ করতে সাহায্য করে। ইস্ট্রোজেন স্তন ক্যান্সারের জন্য দায়ী। কেমোথেরাপিতে ব্যবহৃত ওষুধের মধ্যে রয়েছে সাইক্লোফসফামাইড, ডক্সোরুবিসিন, ভিনক্রিস্টিন, মিটোমাইসিন, মেথোট্র্যাক্সেট, ৫-ফ্লোরোইউরাসিল, প্যাক্লিটেক্সেল, হারসেপটিন ইত্যাদি।

বায়োলজিক্যাল ইম্যুনোথেরাপি

বায়োলজিক্যাল ইম্যুনোথেরাপি সার্জারি, রেডিওথেরাপি এবং কেমোথেরাপি তুলনায় বহুল ব্যবহৃত প্রযুক্তি। বায়ো-ইম্যুনোথেরাপির মাধ্যমে রোগীর রক্ত সংগ্রহ করে, ইমিউনোলজিক সেল (ডিসি-সিআইকে) তৈরি করা হয়। এরপর এ সংগৃহীত রক্ত রোগীর শরীরে পুনরায় প্রবেশ করিয়ে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো হয়। এটি ক্যান্সার কোষকে সরাসরি ধ্বংস করে মেটাস্টিসিস রোধ করে থাকে।

 

ব্রেস্ট ক্যান্সার প্রতিরোধের উপায়

বিশ্বে প্রতি ৮ জনে ১ জন নারী জীবনের কোনো না কোনো পর্যায়ে ব্রেস্ট ক্যান্সারে আক্রান্ত হন। কিছু রিস্ক ফ্যাক্টর আছে যা পরিবর্তন করা সম্ভব নয়, যেমন- জেনেটিক কারণ। কিন্তু আপনার ডায়েট ও লাইফ স্টাইল পরিবর্তনের মাধ্যমে স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি কমানো যাবে।

 

ক্যান্সার প্রতিরোধী খাবার খান

আঁশযুক্ত খাবার ক্যান্সার সৃষ্টিকারি ইস্ট্রোজেনের মাত্রা হ্রাস করে। এজন্য মটরশুঁটি, তাজা ফল, শস্য এবং ফ্ল্যাভনয়েড, ক্রুসিফেরাস ফাইটোনিউট্রিয়েন্ট ও ক্যারোটিনয়েড সমৃদ্ধ সবজি খান। পেঁয়াজ পাতা ক্যান্সার সৃষ্টিকারী ফ্রি র‍্যাডিকেলকে ডিটক্সিফাই করে এবং ক্যান্সার কোষের বিভাজন প্রতিরোধ করে। সয়াবিন ও অন্য সয়া পণ্য যেমন- টফু ব্রেস্ট ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়। কিন্তু মিষ্টি স্বাদের ও রিফাইন্ড সয়া পণ্য যেমন- সয়া দুধ ও সয়া তেল এড়িয়ে চলুন।

ব্রেস্ট ক্যান্সার প্রতিরোধক অন্যান্য খাদ্য সমূহ:

মিষ্টি আলু

মিষ্টি আলু বিটা ক্যারোটিন সমৃদ্ধ সবজি। উচ্চমাত্রায় বিটা ক্যারোটিন গ্রহণ কোলন, ফুসফুস এবং স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়।

পত্র বহুল সবুজ শাক-সবজি

পালং শাক, লেটুস, হেলেঞ্চা শাক ইত্যাদি সবুজ শাক-পাতায় প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ও মিনারেল, এন্টিঅক্সিডেন্ট এবং এনজাইম রয়েছে । এছাড়াও আছে গ্লুকোসাইনোলেটস, এন্টিব্যাকটেরিয়াল ও এন্টিভাইরাল উপাদান এবং কার্সিনোজেনস। এটি টিউমার সৃষ্টি রোধ, ক্যান্সার কোষ ধ্বংস ও ক্যান্সার স্থানান্তরে বাধা প্রদান করে।

ক্যাবেজ পরিবার ভুক্ত সবজি

বাঁধাকপি, ফুলকপি, ওলকপি, শালগম, ব্রাসেলস স্প্রাউটে আইসোথায়োসায়ানেটস নামক ফাইটোকেমিক্যাল আছে, যা ক্যান্সার প্রতিরোধে সহায়ক।

বেরি জাতীয় ফল

ব্ল্যাক বেরি, ব্লু বেরি, স্ট্রবেরি, গোজীবেরি, রাস্পবেরি, চেরি, মালবেরি ইত্যাদিতে ক্যান্সার নিরাময়ের পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।

উজ্জ্বল কমলা রঙের ফল ও সবজি

কমলা, লেবু, জাম্বুরা, মিষ্টিকুমড়া, পেঁপে, গাজর ও স্কোয়াশ প্রভৃতি ক্যারোটিনয়েড এন্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর। এসব খাবার শরীরকে ডিটক্সিফাই করে ক্যান্সার প্রতিরোধ করে।

হলুদ

হলুদে বিদ্যমান অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট মানব দেহের টিস্যুর মধ্যে প্রবেশ করে দেহকে ক্যান্সার প্রতিরোধী করে তোলে।

অর্গানিক মাংস

কোনো প্রকার স্টেরয়েড, হরমোন ও এন্টিবায়োটিক প্রয়োগ ছাড়া পালিত মুরগির কলিজা এবং তৃণভোজী গরুর মাংস ব্রেস্ট ক্যান্সার রোগীর খাদ্য তালিকায় থাকা বাধ্যতামূলক। কারণ এ পুষ্টি সমৃদ্ধ খাবারে উচ্চ মাত্রায় ভিটামিন বি ১২ রয়েছে। সেলেনিয়াম, জিংক ও বি ভিটামিন রক্ত পরিশোধন, হজম ক্ষমতা বৃদ্ধি ছাড়াও হরমোনের ভারসাম্য রক্ষা করে।

দুধ ও দুগ্ধজাত খাদ্য

বিভিন্ন দুগ্ধজাত খাবার, যেমন টক দই হলো প্রোবায়োটিক বা ভালো ব্যাক্টেরিয়ার উত্তম উৎস। প্রোবায়োটিক টিউমার বৃদ্ধি প্রতিরোধ করে। গরু ও ছাগলের দুধ এবং পনিরে রয়েছে সালফার প্রোটিন ও স্যাচুরেটেড ফ্যাট। এটি ব্রেস্ট এবং ওভারিয়ান ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়।

সামুদ্রিক মাছ

সামুদ্রিক মাছ এন্টিইনফ্ল্যামেটরি, এন্টিটিউমার বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন। এটি ব্রেস্ট ক্যান্সার প্রতিরোধে দারুণ কার্যকর।

গ্রীন টি

গ্রীন টি-তে পলিফেনোলিক কম্পাউন্ড, ক্যাটেচিন, গ্যালোক্যাটেচিন এবং ইজিসিজি (এন্টিঅক্সিডেন্ট) রয়েছে। এটি ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়। স্তন ক্যান্সারের আশঙ্কা হ্রাসে প্রতিদিন গ্রীন টি পান করুন।

মাশরুম

উচ্চ পুষ্টিসম্পন্ন মাশরুম রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় ও স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়। এজন্য প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় মাশরুম যোগ করুন।



স্বাস্থ্যকর অপরিশোধিত ভোজ্য তেল

নারকেল তেল, তিসির তেল এবং এক্সট্রা ভার্জিন অলিভ অয়েল অন্ত্রে পুষ্টি যোগায় ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। জলপাই তেলে রয়েছে ফাইটোনিউট্রিয়েন্টস যা প্রদাহ কমায়। এমনকি ব্রেস্ট ও কলোরেক্টাল ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতেও এটি বেশ কার্যকর।

রসুন

রসুনে সালফারে পূর্ণ অ্যালিসিন ও ডিসালফাইড থাকে, যা স্তন ব্রেস্ট ক্যান্সার প্রতিরোধ করে।

হলুদ

হলুদ হলো প্রাকৃতিক অ্যান্টিসেপটিক। ক্যান্সার কোষের বৃদ্ধি রুখতেও এই মশলা বিশেষ উপকারি।

ব্রোকলি

ব্রোকলিতে সালফোরাফেন থাকায় তা ক্যান্সার কোষ ধ্বংসে খুব কার্যকর। কোলন, প্রস্টেট ও ব্রেস্ট ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগীদের জন্য এটি দারুণ উপকারি।

গাজর

গাজর অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট। এটি শরীরে ফ্যাট অক্সিডেশনে বাধা দেয় ও শরীরে ক্যান্সারের কোষ উৎপাদন কমায়। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় গাজর যোগ করুন, এতে ব্রেস্ট ক্যান্সারের আশঙ্কা প্রায় ১৮ থেকে ২০ শতাংশ কমে যাবে।

টমেটো

টমেটো হচ্ছে “নিউট্রিশনাল পাওয়ার হাউজ” যা ব্রেস্ট ক্যান্সার প্রতিরোধে দারুণ কার্যকর। টমেটোর রস ক্ষতিকর ডিএনএ নষ্ট করে ফেলে।

বাদাম

বাদামে প্রচুর পুষ্টিগুণ থাকে। বাদামে সেলেনিয়াম নামক অ্যান্টি ক্যান্সার উপাদান বিদ্যমান, যা কোলন, ফুসফুস, যকৃত, এবং ব্রেস্ট ক্যান্সারের ঝুঁকি হ্রাস করে। বাদামের মাখনও ক্যান্সার প্রতিরোধে বেশ উপকারি।

কালো চকলেট

কালো চকলেটেও রয়েছে এন্টি ক্যান্সার প্রপার্টি। ডার্ক চকলেটের পলিফেনলস ব্রেস্ট ক্যান্সার প্রতিরোধে সহায়ক।

সতর্কতা

১. ব্রেস্ট ক্যান্সার প্রতিরোধে ঋতুস্রাব বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর হরমোন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপি নেয়া থেকে বিরত থাকুন।

২. আপনার শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন। স্থূল নারীদের ক্ষেত্রে স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি বেশি।

৩. ঘন ঘন স্তন পরীক্ষা করুন। প্রাথমিক পর্যায়ে স্তন ক্যান্সার শনাক্ত হলে আপনার সুস্থ থাকা ও বেঁচে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।

৪. আপনার সন্তানকে বুকের দুধ খাওয়ান। শিশুদের ব্রেস্ট ফিডিং করলে অল্প বয়সে স্তন ক্যান্সার সৃষ্টির আশঙ্কা থাকে না।

৫. ধূমপান বর্জন করুন। ধূমপান ও তামাকজাতীয় পদার্থ ক্যান্সার সৃষ্টি করে।

৬. রাত জাগবেন না। প্রতিদিন অন্তত সাত-আট ঘণ্টা ঘুমাবেন।

৭. রাসায়নিক সমৃদ্ধ পরিষ্কারক, কীটনাশক ব্যবহার এড়িয়ে চলুন

৮. প্লাস্টিকের সামগ্রিতে খাদ্য ও পানি সংরক্ষণ পরিহার করুন।

৯. থ্যালেট ও প্যারাবেন সমৃদ্ধ বিউটিকেয়ার প্রোডাক্ট ব্যবহার বন্ধ করুন, এতে স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি হ্রাস পাবে।

Source:

https://www.healthline.com/health/breast-cancer
https://www.medicalnewstoday.com/articles/37136
https://www.cdc.gov/cancer/breast/basic_info/risk_factors.htm
https://www.nhs.uk/conditions/breast-cancer/causes/

আপনার পছন্দের লেখাগুলো নিয়মিত পেতে ইমেইল দিয়ে এখনি সাবস্ক্রাইব করুন।
সর্বশেষ পোস্টগুলো
আমার ওজন কমানোর গল্প

আমার ৩৪ কেজি ওজন কামানোর কথা

home remedies for insomnia

অনিদ্রা দূর করার উপায় । ১০ টি ঘরোয়া ঔষধ

আঁচিলের প্রাকৃতিক চিকিৎসা

আঁচিলের প্রাকৃতিক চিকিৎসা

আমার ওজন কমানোর খাবার তালিকা

আমার ওজন কমানোর খাবার তালিকা বা ডায়েট চার্ট

অতিরিক্ত ওজন কমানোর ঔষধ

ওজন কমানোর প্রাকৃতিক ঔষধ

ওজন বাড়ানোর খাবার তালিকা

কফ কাশির প্রাকৃতিক ঔষধ

কফ বা কাশির প্রাকৃতিক চিকিৎসা

কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করার উপায়

কোষ্টকাঠিন্য থেকে মুক্তির উপায়

গরম পানি খাওয়ার উপকারিতা

গরম পানি খাওয়ার ১০ টি উপকারিতা

খুশকি দূর করার উপায়

ঘরে বসে খুশকি দূর করার সহজ ১০টি উপায় । খুশকি দূর করার প্রাকৃতিক শ্যাম্পু

চুল পরা বন্ধের উপায়

চুল পড়া বন্ধের প্রাকৃতিক ঔষধ 

দ্রুত ওজন বাড়ানোর উপায়

দ্রুত ওজন বারানোর উপায়

বমি দূর করার উপায়

বমি দূর করার উপায় | বমি হলে করনীয়

ব্যায়াম ছাড়া ওজন কমানোর উপায়

ব্যায়াম ছাড়া ওজন কমানোর ৯ টি সহজ উপায়

দ্রুত ওজন কমানোর খাবার তালিকা

মাসে ১০ কেজি ওজন কমানোর ডায়েট চার্ট




Categories

গর্ভবতী মায়ের যত্ন| গর্ভাবস্থায় করনীয় ও বর্জনীয়

গর্ভবতী মা

নারী জীবনের সবচেয়ে রোমাঞ্চকর বিষয় হচ্ছে মা হওয়ার অনুভূতি। সন্তান ধারণের এই দশ মাস গর্ভবতী মা’র জীবনে আসে ব্যাপক পরিবর্তন। গর্ভধারণের পুরো সময়কে তিনভাগে ভাগ করা যায়- প্রথম ট্রাইমিস্টার (Trimester), দ্বিতীয় ট্রাইমিস্টার এবং তৃতীয় ট্রাইমিষ্টার। যারা প্রথমবার মা হয়, গর্ভধারণের পর এক-দুই মাস তারা অনেক সময় বুঝতেই পারেন না যে তারা প্রেগন্যান্ট। সন্তানের সুরক্ষার জন্য গর্ভধারণের প্রথম তিন মাস গর্ভবতী মায়েদের সতর্ক থাকা অত্যন্ত জরুরি।

 

গর্ভবতী হওয়ার লক্ষণ

পিরিয়ড বন্ধ হওয়া গর্ভধারণের প্রাথমিক লক্ষণ।

এছাড়া নিচের লক্ষণগুলো প্রকাশ পেলে আপনি গর্ভবতী কিনা এটা পরীক্ষা করিয়ে নিন-

তাপমাত্রা বৃদ্ধি

নিষেকের পর, একটি নতুন জীবনকে জায়গা দেওয়ার জন্য শরীর নিজেকে প্রস্তুত করে তোলে। এসময় শরীরের তাপমাত্রা অতিমাত্রায় বেড়ে যায়। যদি টানা ১৮ দিন শরীরের তাপমাত্রা এভাবে বাড়তে থাকে তাহলে অবশ্যই প্রেগন্যান্সি টেস্ট করান।

স্তনে ব্যথা অনুভব

গর্ভধারণের পর ইস্ট্রোজেনের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার ফলে, গর্ভবতী মা স্তনে ব্যথা অনুভব করেন। এ সময় স্তনবৃন্ত গাঢ়তর দেখায় এবং স্তন অত্যন্ত সংবেদনশীল হয়ে পড়ে। পুরো প্রেগন্যান্সির সময় জুড়েই স্তনের আকারে পরিবর্তন হয়ে থাকে। কখনো কখনো নিপল চেপে ধরলে এক ধরনের তরল বেরিয়ে আসে।

অবসাদ এবং ক্লান্তি

বাড়ন্ত শিশুকে পুষ্টি দেওয়ার জন্য গর্ভাবস্থায় শরীরে অতিরিক্ত রক্ত উৎপন্ন হয়। এজন্য এসময় অল্পতেই ক্লান্তি এসে যায়। প্রথম সপ্তাহে এই ক্লান্তিভাব সবচেয়ে বেশি হয়।

বমি বমি ভাব

প্রেগন্যান্সির শুরুর দিকে, আপনি অস্বস্তি এবং বমি বমি ভাব অনুভব করতে পারেন। বমিভাবের বিড়ম্বনা থেকে মুখে অতিরিক্ত তরল সৃষ্টি হয়। এর ফলে মুখ থেকে লালা পড়তে থাকে। বমির ঔষধ খাওয়ার চেয়ে ঘরোয়া উপায়ে বমি দূর করুন। 

গন্ধের প্রতি বিতৃষ্ণা

গর্ভধারণের শুরুর দিকে আপনি মুখে অদ্ভুত বাজে স্বাদ অনুভব করতে পারেন। এসব উপসর্গ আপনাকে জানান দেয়, আপনি মাতৃত্বের পথে যাত্রা শুরু করেছেন।

পেট ফোলা

অতিরিক্ত হরমোন নিঃসরণ এসময় পরিপাক কাজে বাধা সৃষ্টি করে। ফলে অন্ত্রে গ্যাস আটকে থাকে। এতে পেট ফুলে অপ্রীতিকর বাতকর্ম এবং ঢেঁকুর হতে পারে।

প্রস্রাব করার তাড়না

শিশু যত বড় হয়, জরায়ুর আকারও তত বাড়ে এবং মূত্রথলির ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়তে থাকে। ফলে ঘন ঘন প্রস্রাবের তাড়না দেখা দেয়।

মুড সুইং

গর্ভকালীন সময়ে হরমোনের ভারসাম্যহীনতা দেখা দেয়, যা মস্তিষ্কের নিউরোট্রান্সমিটারগুলোকে প্রভাবিত করে। এর ফলে কেউ কেউ বেশি উচ্ছ্বাসপ্রবণ হয়ে পড়েন আবার অনেকে ডিপ্রেশনে ভুগতে পারেন।

মাথা ব্যথা

গর্ভাবস্থায় রক্তবাহী নালীগুলো স্ফীত হয়ে যায় এবং রক্তে শর্করার মাত্রা কমিয়ে দেয়। ফলে মাথা ব্যাথার সৃষ্টি হয়। গর্ভাবস্থায় লিগামেন্ট এবং জয়েন্টের প্রসারণের ফলে মেরুদণ্ডেও ব্যথা হতে পারে।

কোষ্ঠকাঠিন্য

প্রোজেস্টেরোন হরমোন নিঃসরণ কোষ্ঠকাঠিন্যের জন্য দায়ী। পিরিয়ড মিস করার পর এক সপ্তাহের বেশী সময় ধরে কোষ্ঠকাঠিন্যে ভুগলে প্রেগন্যান্সি টেস্ট করুন।

আরো পড়ুনঃ কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করার প্রাকৃতিক উপায়

শ্বাসকষ্ট

দুটি জীবনের শ্বাস নেওয়ার জন্য, গর্ভাবস্থায় আপনার আরো বেশী অক্সিজেন এবং রক্তের প্রয়োজন হয়। তাই, এসময় আপনার শ্বাসকষ্টের উপসর্গ দেখা দিতে পারে। গর্ভাবস্থায় মুখে ব্রণ বা পিম্পলসও দেখা দেয়।

উদ্ভট স্বপ্ন

সাধারণত গর্ভে সন্তান এলে গর্ভবতী মায়েরা অতিরিক্ত পরিমাণে স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন। গর্ভবতী হয়েছেন এমন স্বপ্নই দেখেন তারা। এসময় তাদের দৃষ্টি বিভ্রমও হয়।

খাবারে অরুচি

শরীরে হরমোনের তারতম্যের কারণে এসময় খাবারে অরুচি সৃষ্টি হয়।

রক্তপাত বা স্পটিং

জরায়ুতে ভ্রূণ ইমপ্ল্যান্টেশনের সময় রক্তপাত হতে পারে। ওভুলেশনের এক থেকে দুই সপ্তাহের মধ্যে এ ইমপ্ল্যান্টেশন হয়ে থাকে। স্পটিং হওয়ার পরে বাড়িতে কিট এনে প্রেগন্যান্সি টেস্ট করে নিন।


গর্ভাবস্থায় করণীয়

শিশুর জন্মপূর্ব সময়ে (Pre-natal) মাল্টি-ভিটামিন খাওয়া শুরু করুন, খাদ্যাভাসের দিকে নজর দিন। অনেক মা মনে করেন ভিটামিন ওষুধ খেলে বাচ্চা বড় হয়ে যায় এবং সিজারের সম্ভাবনা বাড়ে। এটি সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। ভিটামিন মায়ের শরীরের রক্তশূন্যতা দূর করে এবং হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি কমিয়ে দেয়। ক্রনিক অসুখ (ব্লাড প্রেসার, শ্বাসকষ্ট, ডায়াবেটিস ইত্যাদি) থাকলে, তা নিয়ন্ত্রণে রাখতে যত্নবান হোন।

 

 

গর্ভাবস্থায় অন্যান্য করণীয় কাজ:

পরিমিত পরিমাণ পানি পান

গর্ভাবস্থায় মহিলারা প্রায়শই ডিহাইড্রেটেড হয়ে যান। পর্যাপ্ত পরিমাণ পান পান করে, আপনি কেবল ডিহাইড্রেশনই প্রতিরোধ করছেন না, পাশাপাশি মূত্রনালীর সংক্রমণের ঝুঁকিও হ্রাস করছেন।

ডায়েট

আপনার ডায়েটে ফলিক অ্যাসিড বাধ্যতামূলক করুন। ফলিক এসিড আপনার গর্ভের সন্তানের স্নায়ুর বিকাশে সাহায্য করে। খাওয়া এবং ব্যায়ামের মধ্যে একটি ভাল ভারসাম্য বজায় রাখুন। কেগেল ব্যায়াম করার জন্য নিয়মিত সময় দিন। কেগেল পেশী যোনি অঞ্চলে থাকে যা আপনাকে আপনার মূত্রত্যাগ এবং অন্যান্য গতিবিধি নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। এতে গর্ভকালীন ব্যথা থেকেও মুক্তি পাবেন। এসময় হালকা কাজ করলে ক্ষতি হবে না। তবে ভারী কোনো কাজ করা থেকে বিরত থাকুন।

ভ্রমণে সতর্কতা

ভ্রমণ করার সময় খুব বেশি সতর্কতা অবলম্বন করা দরকার। অল্প দূরত্বের ভ্রমণ বা দূরের সফরে যাওয়া, যাই হোক না কেন, আপনার যাত্রা শুরু করার আগে আপনার কাছে প্রয়োজনীয় সমস্ত ওষুধ এবং গিয়ার রয়েছে কিনা তা নিশ্চিত করুন।

পর্যাপ্ত বিশ্রাম

দুপুরে খাওয়ার পর ন্যাপ বা হালকা ঘুমিয়ে নিন। এতে আপনার শরীরে প্রয়োজনীয় শক্তি সঞ্চয় হবে।

আরো পড়ুনঃ গর্ভাবস্থায় অনিদ্রা দূর করার ১০টি ঘরোয়া উপায়

 

গর্ভাবস্থাকে স্মরণীয় করুন

একটি ছোট ডায়েরি লেখা শুরু করুন। প্রতিদিন আপনি কি করেছেন এবং কেমন অনুভব করেছেন-তা লিখুন।

ডাক্তারি পরামর্শ

কোন ব্যথা বা যন্ত্রণা অথবা জ্বরের ক্ষেত্রে প্রথমে আপনার ডাক্তারকে যোগাযোগ করুন। চিকিৎসকের সাথে কথা বলার আগে কোন ওষুধ, এমনকি মলম বা লোশনও ব্যবহার করবেন না।

বিশেষ রোগ-প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা

এ সময় নিয়মিত সাবান দিয়ে ভালোভাবে গোসল করুন এবং হাত-পায়ের নখ কেটে ছোট করে রাখুন। গর্ভকালে মায়েদের দাঁতগুলো বেশ নরম হয়ে যায়, তাই দাঁত ও মাড়ির বিশেষ যত্ন নিতে হবে।

পিচ্ছিল স্থানে হাঁটা যাবে না এবং সিঁড়ি বেয়ে ওঠার সময় বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। গর্ভবতী মায়েদের অবশ্যই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন, আরামদায়ক, সহজে পরিধানযোগ্য ও ঢিলেঢালা পোশাক পরা উচিৎ। সঠিক মাপের এবং নরম জুতো পরুন।

গর্ভাবস্থায় রক্তপাত এবং সমাধান

রক্তপাত ঘটার পর চিকিৎসকের শরণাপন্ন হলে প্রথমে আল্ট্রাসনোগ্রাম করানো হয়। এর মাধ্যমে গর্ভস্থ সন্তান জীবিত নাকি মৃত সেটা জানা যাবে। জীবিত সন্তান গর্ভে থাকার পরও রক্তপাত হতে পারে, যাকে বলে ‘থ্রেটেন্ড মিসক্যারেজ’। এসব ক্ষেত্রে হাসপাতালে ভর্তি করিয়ে চিকিৎসা দিয়ে রক্তপাত বন্ধ করা যায় এবং সুস্থ শিশু ভূমিষ্ঠ করা যায়। আল্ট্রাসনোগ্রাম ছাড়াও রক্ত পরীক্ষা করে দেখা হয় গর্ভস্থ সন্তান সুস্থ রয়েছে কি না।

অনেক সময় আঘাত বা পানি বেশি থাকার কারণে প্লাসেন্টা বা গর্ভফুল সময়ের আগেই জরায়ু থেকে সরে আসে। এটা বেশ ঝুঁকিপূর্ণ, যাকে ‘প্লাসেন্টাল অ্যাবরাপশন’ বলা হয়। আবার অনেক ক্ষেত্রে গর্ভফুল জরায়ুর মুখের ওপর বা জরায়ু মুখের খুব কাছাকাছি ইমপ্লান্টেড হয়ে থাকে। ওই সময় এসব রোগীকে হাই রিস্ক প্রেগন্যান্সির রোগী হিসেবে শনাক্ত করে চিকিৎসা করা হয়। নিরাপদ ডেলিভারির জন্য আগে থেকে তিন থেকে চারজন রক্তদাতা রেডি করে রাখুন।

গর্ভাবস্থায় রক্তপাত এড়াতে-:

❏ গর্ভাবস্থায় পূর্ণ বিশ্রামে থাকতে হবে।

❏ ভারী কাজ করা যাবে না।

❏ দুশ্চিন্তামুক্ত ও সদা হাসিখুশি থাকতে হবে।

❏ তলপেটে আঘাত, চাপ লাগা বা এমন কোনো কাজ করা যাবে না।

❏ দূরবর্তী স্থানে বা ঝুঁকিপূর্ণ ভ্রমণ করা যাবে না।

❏ সহবাস থেকে বিরত থাকাই শ্রেয়।

❏ থাইরয়েড, ডায়াবেটিস, ইনফেকশন ইত্যাদি থাকলে তার চিকিৎসা নিতে হবে।

❏ নিয়মিত চেকআপ করাতে হবে এবং চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলতে হবে।

পা ফোলা প্রতিরোধে করণীয়:

গর্ভাবস্থায় আপনার শরীর বাড়তি তরল তৈরি করে এবং কখনো কখনো আপনার পা এবং পায়ের পাতায় এই তরল জমা হওয়ার প্রবণতা দেখা যায়৷

ফোলাভাবের উপশম করতে, দিনের বেলায় কিছুক্ষণ পা উপরদিকে তুলে রেখে বিশ্রাম করার চেষ্টা করুন৷ অনেকক্ষণ ধরে একভাবে দাঁড়িয়ে থাকলে ফোলাভাব বেড়ে যেতে পারে। তাই কিছু কিছু কাজ বসে করার চেষ্টা করুন৷
শুতে যাওয়ার এক ঘন্টা আগে থেকে কোনো তরল না খাওয়ার চেষ্টা করুন৷ হাঁটু দুটির মাঝখানে বালিশ বা কাপড়ের প্যাড রেখে বাঁ পাশ ফিরে ঘুমোন৷


গর্ভবতী মায়ের টিকা

গর্ভাবস্থায় যে ৫ ধরণের টিকা নেয়া নিরাপদ :

১। ফ্লু(flu) এর টিকা

মার্কিন যুক্তরাস্ট্রের সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল (CCD) ফ্লু(flu) এর ঋতুতে গর্ভবতী নারীদের ফ্লু শট নেয়ার পরামর্শ দেয়। গর্ভাবস্থায় ফ্লুতে আক্রান্ত হলে নিউমোনিয়ার মত জটিল অবস্থারও সৃষ্টি করতে পারে।

২। টিটেনাস/ডিপথেরিয়া/পারটুসিস টিকা(Tdap)

টিটেনাস রোগের ঝুঁকি এড়াতে গর্ভবতী মহিলাদের টিটানাস টক্সয়েড ভ্যাকসিন নেওয়া উচিৎ।

Tdap গর্ভাবস্থার যে কোন সময়ই নেয়া যায়। তবে গর্ভকালের ২৭-৩৬ মাসের মধ্যে নেয়াটাই উপযুক্ত সময়।

৩। হেপাটাইটিস বি এর টিকা

গর্ভবতী নারী যদি হেপাটাইটিস বি তে আক্রান্ত হন, তাহলে ডেলিভারির সময় এই ইনফেকশন নবজাতকের মধ্যে ছড়াতে পারে। যথাসময়ে চিকিৎসা করা না হলে শিশুর পরিণত বয়সে যকৃতের ক্রনিক রোগ হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

CCD এর মতে সকল গর্ভবতী নারীরই হেপাটাইটিস বি শনাক্তকরণের পরীক্ষা করানো উচিৎ। কারণ অনেকে লক্ষণ প্রকাশ ছাড়াও এ রোগে আক্রান্ত হতে পারেন।

৪। হেপাটাইটিস-এ এর টিকা

পানি ও খাবারের মাধ্যমে হেপাটাইটিস-এ তে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এর ফলে জ্বর, ক্লান্তি ও বমি ভাব দেখা দেয়। হেপাটাইটিস-এ এর সংক্রমণ গর্ভের সন্তানের উপর মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে।

৫। নিউমোকক্কাল ভ্যাক্সিন

ডায়াবেটিস অথবা কিডনি রোগে আক্রান্ত গর্ভবতী মায়েদের নিউমোকক্কাল ভ্যাকসিন নেয়ার পরামর্শ দেয়া হয়।

কোন কোন টিকা গর্ভাবস্থায় নেওয়া যাবে না:

কিছু টিকা রয়েছে, যা গর্ভকালীন সময়ে নেওয়া রীতিমতো বিপজ্জনক। মাম্পস, হাম, চিকেন পক্স, বিসিজি, হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস, টাইফয়েডের টিকা গর্ভাবস্থায় নেয়া থেকে বিরত থাকুন।

 

গর্ভবতী মায়ের দৈনিক খাদ্য তালিকা

গর্ভাবস্থায় প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ডি ও ওমেগা ৩ ফ্যাটি এসিডসমৃদ্ধ খাবার খান। আপনার গর্ভের সন্তানের মস্তিষ্কের ও চোখের গঠনের জন্য এটি অত্যন্ত জরুরি। গর্ভের তৃতীয় ট্রাইমিস্টার বা ৭ম মাস থেকে ৯ মাস বা বাচ্চা জন্মানোর আগ পর্যন্ত সময়টাতে কোষ্ঠকাঠিন্য হবার বেশি আশঙ্কা থাকে। আদা চা গর্ভবতী মায়েদের এ কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে মুক্তি দিতে দারুণ সহায়ক। হজমশক্তি বাড়াতে এর পাশাপাশি নিয়মিত আঁশযুক্ত ফল ও শাকসবজি খান।

 

গর্ভবতী মহিলাদের কিছু স্বাস্থ্যকর খাবারের তালিকা-

ডিম

ডিমে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন, ফ্যাট, ভিটামিন এবং খনিজ পদার্থ রয়েছে, যা গর্ভের শিশুর বৃদ্ধির জন্য অতীব প্রয়োজনীয়। একটি ডিমে একশো বারো মিলিগ্রাম কোলাইন থাকে যা গর্ভের শিশুর স্নায়ুতন্ত্রের বিকাশে সহায়তা করে।

ফর্টিফায়েড ফুড

হরমোনের পরিবর্তনের ফলে গর্ভাবস্থায় অপ্রত্যাশিত ক্ষুধার সৃষ্টি হয়। এ চাহিদা মেটানোর জন্য খাদ্যশস্য (গমবীজ, তেলবীজ, ভূট্টাদানা ইত্যাদি ) খুবই উপযোগী।

কলা

কলা ফোলিক এসিড, ভিটামিন বি ৬, ক্যালসিয়াম এবং পটাসিয়ামের ভালো উৎস। উপরন্তু, কলা অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসমৃদ্ধ এবং ইনস্ট্যান্ট শক্তিবৃদ্ধিকারী। পুষ্টি চাহিদা মেটাতে গর্ভাবস্থায় দিনে তিন থেকে চারটি কলা খান।

মিষ্টি আলু

মিষ্টি আলুতে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার, ফোলিক এসিড, ভিটামিন সি এবং বিটা ক্যারোটিন বিদ্যমান থাকে। যা একজন গর্ভবতী মায়ের জন্য প্রয়োজনীয়।

মাছ

গর্ভাবস্থার দ্বিতীয় ট্রাইমিস্টারে প্রচুর মাছ খাবেন, কারণ এটি আয়োডিনের চাহিদা মেটাতে খুব সহায়ক। এ সময়ে বাচ্চার থাইরয়েড গ্ল্যান্ড কাজ করা শুরু করে। থাইরয়েড গ্রন্থির কার্যকারিতার জন্য আয়োডিন অতীব প্রয়োজনীয় উপাদান। এটি প্রিক্ল্যাম্পসিয়ার মতো মারাত্মক জটিলতার বিরুদ্ধেও সুরক্ষা প্রদান করে।

বাদামের মাখন

কাজুবাদাম, নারকেল এবং ব্রেজিল বাদাম–এই সব থেকে একটি স্বাস্থ্যকর মাখন তৈরি করা যায়। গর্ভের শিশুর মস্তিষ্কের সঠিক বিকাশের জন্য এ ধরনের অসম্পৃক্ত চর্বি অত্যন্ত উপকারি।

বাদাম নিয়ে আরো পড়ুনঃ হরেক রকম বাদামে হরেক রকম স্বাদ। 

মটরশুটি

মটরশুটিতে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন এবং ফাইবার রয়েছে। এতে বিদ্যমান উচ্চমাত্রার পটাসিয়াম এবং ম্যাগনেসিয়াম গর্ভবতী মহিলাদের জন্য উপকারি। মটরশুঁটি কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দূর করতেও দারুণ সহায়ক।

এসময় গর্ভস্থ শিশুর দেহে লৌহের চাহিদা মেটানোর পর মায়ের রক্তে হিমোগ্লোবিনের ঘাটতি দেখা দেয়। এর ফলে দুর্বলতা, মানসিক অবসাদ বা ক্লান্তি, বুক ধড়ফড় করা, মাথাঘোরা ইত্যাদি দেখা যায়। বাড়তি পুষ্টি চাহিদা মেটাতে কলিজা, কালো ও সবুজ কচুর শাক, বিট, লেটুসপাতা, হলুদ ইত্যাদি খান।

খাদ্য গ্রহণে সতর্কতা-

গর্ভাবস্থায় কাঁচা ডিম খাওয়া থেকে বিরত থাকুন। কারণ এতে সালমোনেলা নামক ব্যাকটেরিয়া থাকে।

অপাস্তুরিত দুধ বা কাঁচা দুধে লিস্টেরিয়া নামক ব্যাকটেরিয়া থাকে। তাই ভালো করে না ফুটিয়ে দুধ পান করবেন না।

লিভারে রেটিনল থাকে; যা প্রাণীজ ভিটামিন-এ এর উৎস। তবে অতিরিক্ত কলিজার তৈরি খাবার গর্ভের শিশুর জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

কফি ক্লান্তি দূর করার জন্য কার্যকর হলেও গর্ভাবস্থায় কফি খাওয়া যথাসম্ভব পরিহার করুন। অতিরিক্ত ক্যাফেইন গ্রহণের ফলে কম ওজনের শিশু জন্ম গ্রহণ করে। মিসক্যারেজের মত ঘটনাও ঘটতে পারে।

সামুদ্রিক মাছ স্বাস্থ্যের জন্য উপকারি। কিন্তু অধিক পরিমাণে খেলে গর্ভের শিশুর স্নায়ুতন্ত্রের ক্ষতি হয়। কারণ সামুদ্রিক মাছে পারদ জাতীয় পদার্থ থাকে।

গর্ভবতী মহিলাদের জন্য কাঁচা বা আধা পাকা পেঁপে খাওয়া বিপদজনক। এতে গর্ভপাতের আশঙ্কা রয়েছে।

 

গর্ভবতী মায়ের ওজন

মায়ের স্বাস্থ্যকর ওজন—মা আর শিশু দুজনের জন্যই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গর্ভবতী মায়ের ওজন প্রয়োজনের তুলনায় কম হলে গর্ভের শিশুর বৃদ্ধি বাধাপ্রাপ্ত হয়, শিশুর ওজন কম হয়। এ ছাড়া গর্ভকাল পূর্ণ হওয়ার আগেই সন্তানের জন্ম হয়ে যাবার ঝুঁকি থাকে মায়ের ওজন কম থাকলে। কম ওজন নিয়ে কিংবা পূর্ণ গর্ভকাল পেরোনোর আগে জন্মানো শিশুর রোগ প্রতিরোধক্ষমতা স্বাভাবিক শিশুদের চেয়ে কম হয়। নানান জটিলতায় ভোগে এই শিশুরা।

অন্যদিকে মায়ের ওজন প্রয়োজনের তুলনায় বেশি বেড়ে গেলে গর্ভকালীন ও প্রসবকালীন জটিলতা বাড়ে। মায়ের উচ্চ রক্তচাপ, প্রি-একলাম্পসিয়া, একলাম্পসিয়া ও ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ে। গর্ভস্থ শিশু অত্যধিক বড় হয়ে যেতে পারে, প্রসবের সময় শিশু বাধাপ্রাপ্ত হতে পারে (অবস্ট্রাক্টেড লেবার), প্রসব হতে খুব বেশি সময় লাগতে পারে (প্রলম্বিত প্রসব)। প্রসবের সময় শিশুর মাথা বের হয়ে ঘাড় আটকে যেতে পারে, এমনকি প্রসবকালীন শিশুর মৃত্যুও হতে পারে। ওজন বাড়তি থাকলে প্রসব–পরবর্তী সময়ে মায়ের অত্যধিক রক্তক্ষরণ হতে পারে, যা মাকেও মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিতে পারে।

গর্ভবতী মায়েদের মাসে এক কেজি বা প্রতি দুই সপ্তাহে আধা কেজি ওজন বাড়া সুস্থতার লক্ষণ। গর্ভের শিশু বড় হওয়ার সাথে সাথে মায়ের বাড়তি এনার্জির প্রয়োজন। তাই গর্ভাবস্থার তৃতীয় ট্রাইমিস্টারে এসে আপনি বেশি বেশি পুষ্টিকর খাবার খাবেন। তবে অতিরিক্ত ওজন বৃদ্ধি হয়ে থাকলে ওজনে ভারসাম্য আনার চেষ্টা করুন।



গর্ভবতী মায়ের ঘুমানোর নিয়ম

চিকিৎসকরা গর্ভবতী নারীদের বাম পাশ ফিরে ঘুমাতে পরামর্শ দিচ্ছেন। কিন্তু কেন?

গর্ভকালে ভ্রুণ দিনদিন বড় হতে থাকে, তাই এটি স্বাভাবিকভাবেই তার মায়ের অভ্যন্তরীণ অর্গান ও রক্তনালীতে ক্রমান্বয়ে বেশি চাপ ফেলে। শিশু যখন ব্লাডারে অথবা অন্ত্রে লাথি মারে, তখন গর্ভবতী মা ব্যথা অনুভব করতে পারেন। এজন্য বাম পাশ ফিরে শোয়াই সব থেকে বেশি নিরাপদ। এতে রক্ত সঞ্চালন সহজতর হয়, গর্ভের শিশুর পুষ্টি জোগাতে আপনার হার্ট থেকে অমরা/গর্ভফুলে রক্ত সরবরাহের জন্য সহজ পথ তৈরি হয়। এভাবে শোয়াতে আপনার লিভার, অতিরিক্ত ওজনবিশিষ্ট শরীরের চাপ থেকে সুরক্ষিত থাকবে।

গর্ভাবস্থায় চিৎ বা উপুড় হয়ে শোবেন না। যখন উপুড় হয়ে শোবেন পাকস্থলী তখন আপনার প্রসারিত জরায়ুর উপর চাপ সৃষ্টি করবে। আপনি যদি চিত হয়ে ঘুমান তাহলে হয়তো আপনার নিঃশ্বাস নিতে বেশি কষ্ট হবে।

 

নিরাপদ গর্ভধারণে আরো কিছু টিপস্-

পেট ও পিঠকে একটু বেশি সাপোর্ট দিতে দুই হাঁটুর মাঝে একটি বালিশ ব্যবহার করুন।
শ্বাসকষ্ট থেকে রেহাই পেতে আপনার বুকের পাশেও একটি বালিশ আলতো করে রাখতে পারেন। এতে আপনার পাকস্থলী এসিডিটি থেকে মুক্ত থাকবে আর আপনার হার্ট এ জ্বালাপোড়াও কম অনুভব হবে।

এ কৌশল অবলম্বন করলে ঘুমন্ত অবস্থায় আপনার বডি আপনা-আপনিই আরামদায়ক পজিশনে থাকবে নতুবা আপনাকে জাগিয়ে দেবে। পর্যাপ্ত পরিমাণ ঘুমোনো আপনার জন্য এখন খুব জরুরি। গর্ভাবস্থায় দিনের বেলা কমপক্ষে দু-ঘণ্টা ঘুম বা বিশ্রাম এবং রাতে কমপক্ষে আট ঘণ্টা ঘুম আবশ্যক। ঘুমের অভাবে আপনার প্রি-এক্লাম্পসিয়া বা উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে। এটি গর্ভকালীন ডায়াবেটিস এবং পালমোনারি হাইপারটেনশনেরও আশঙ্কা তৈরি করে।

 

গর্ভবতী মায়ের আ’মল

ভ্রুণ অবস্থা থেকে মায়ের যাবতীয় আমল ও আখলাক গর্ভে থাকা সন্তানের ওপর বিশেষ প্রভাব বিস্তার করে। তাই গর্ভবতী মায়ের প্রধান কর্তব্য হচ্ছে, গোনাহ ও আল্লাহর নাফরমানি থেকে নিজেকে বিরত রাখা। এ সময়ে পরনিন্দা-পরচর্চা করা, ঝগড়া করা, গালা-গালি করা ও অন্যান্য মন্দ কাজ থেকে বিরত থাকা বাঞ্চনীয়।

এছাড়া করণীয়-

১. অসুস্থতা, বমি বমি ভাব, দুর্বলতা প্রভৃতি কারণে ধৈর্যহারা হবেন না। ‘এই সময়টার প্রতিটি মুহূর্ত আপনার জন্য জিহাদতূল্য ইবাদত’। নবীজী ﷺ চমৎকার বলেছেন, الصَّبْرُ ضِيَاءٌ সবর হল জ্যোতি। (মুসলিম: ২২৩)

২. যখনি মা হওয়ার আনন্দে পুলকিত হবেন তখনি আল্লাহর শোকর আদায় করুন। আল্লাহ তাআলা বলেন, واشكروا لي ولا تكفرون আমার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর; অকৃতজ্ঞ হয়ো না। (সূরা বাকারা: ১৫২)

৩. ওযু অবস্থায় থাকার চেষ্টা করুন: কেননা দৈহিক সুস্থতা ও আত্মিক প্রশান্তির ক্ষেত্রে ওযুর ভূমিকা অপরিসীম।

৪. এসময় বেশি বেশি কুর’আন তিল’ওয়াত করুন। প্রায় ২০ তম সপ্তাহে গর্ভের বাচ্চা শোনার সক্ষমতা অর্জন করে। মা প্রতিদিন কিছু কুর’আন তিল’লওয়াত করে বাচ্চার মাঝে কুর’আনের মাঝে সম্পর্ক জুড়ে দেয়ার এটাই উপযুক্ত সময়।

বুযুর্গগণ কতিপয় সূরার বিষয়বস্তুর প্রতি লক্ষ রেখে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন—

☞ প্রথম মাসে সূরা-আল ইমরান পড়লে সন্তান দামি হবে।
☞ দ্বিতীয় মাসে সূরা-ইউসুফ পড়লে সন্তান সুন্দর হবে।
☞ তৃতীয় মাসে সূরা মারিয়াম পড়লে সন্তান সহিষ্ণু হবে।
☞ চতুর্থ মাসে সূরা-লোকমান পড়লে সন্তান বুদ্ধিমান হবে।
☞ পঞ্চম মাসে সূরা-মুহাম্মদ পড়লে সন্তান চরিত্রবান হবে।
☞ ষষ্ঠ মাসে সূরা-ইয়াসিন পড়লে সন্তান জ্ঞানী হবে।
☞ সপ্তম, অষ্ঠম, নবম ও দ্বশম মাসে সূরা-ইউসুফ, মুহাম্মদ এবং ইব্রারাহিম কিছু কিছু পড়বে।

☞ ব্যাথা উঠলে সূরা-ইনশিকাক পড়ে পানিতে ফুক দিয়ে পান করলে ব্যথা কমে যাবে।

৫. গর্ভকালীন সময়ে মাঝে মাঝে অসহায়বোধ হয়। এমনও মনে হয়, না-জানি এবার আমি মরে যাব কিনা! তাই গর্ভকালীন সময়ে বেশি বেশি দু’আ করুন। কেননা এ সময়ের দোয়া আল্লাহ কবুল করেন। আল্লাহ বলেন, أَمَّن يُجِيبُ الْمُضْطَرَّ إِذَا دَعَاهُ وَيَكْشِفُ السُّوءَ বলো তো কে নিঃসহায়ের ডাকে সাড়া দেন, যখন সে ডাকে এবং কষ্ট দূরীভূত করেন? (সূরা নামল ৬২)

৬. নেক, সুস্থ ও সুন্দর সন্তান কামনা করে বার বার মহান রব্বুল আ’লামিনের কাছে প্রার্থনা করুন। যেমন, এ দোয়াটি মুখস্থ করে নিতে পারেন— رَبِّ هَبْ لِىْ مِنْ لَّدُنْكَ ذُرِّيَّةً طَيِّبَةً‌ۚ اِنَّكَ سَمِيْعُ الدُّعَآءِ হে আমার পালনকর্তা! আপনার পক্ষ থেকে আমাকে পুত-পবিত্র সন্তান দান করুন। নিশ্চয়ই আপনি প্রার্থনা শ্রবণকারী। (আল ‘ইমরান: ৩৮)

৭. আল্লাহর এ দু’টি গুণবাচক নাম পড়ুন: কোনো গর্ভবর্তী মহিলা যদি আল্লাহ তাআলার গুণবাচক নাম (اَلْمُتَعَالِىْ) ‘আল-মুতাআ’লি’ এবং (اَلْمُبْدِئُ) ‘আল-মুবদিয়ু’ পড়তে থাকে তবে ওই মহিলা তার গর্ভকালীন কষ্টক্লেশ থেকে মুক্তি পায়।

 

গর্ভবতী মায়ের সাবধানতা

গর্ভাবস্থায়, প্রসবের সময় বা প্রসবের পর, যেকোনো সময় যদি খিচুনি দেখা দেয় তবে দেরি না করে সঙ্গে সঙ্গে বিশেষায়িত হাসপাতালে মাকে ভর্তি করাতে হবে। খিচুনি একলামসিয়ার প্রধান লক্ষণ। দ্রুত পদক্ষেপ ও চিকিৎসায় বাচ্চা এবং মা দু’জনের জীবনই রক্ষা পাবে ইনশা’আল্লাহ।

গর্ভাবস্থায় যদি কেঁপে কেঁপে ভীষণ জ্বর আসে এবং প্রসাবের সময় জ্বালাপোড়া হয়, তবে তা মূত্রনালির সংক্রমণের ইঙ্গিত বহন করে। সময়মতো উপযুক্ত চিকিৎসা করালে অল্প সময়ে এ জটিলতা দূর হয়ে যায়।

প্রসবব্যথা যদি ১২ ঘণ্টার বেশি হয় অথবা প্রসবের সময় যদি বাচ্চার মাথা ছাড়া অন্য কোনো অঙ্গ বের হয়ে আসে, তবে বাসা-বাড়িতে প্রসবের চেষ্টা না করে সবারই উচিৎ মাকে নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া।

গর্ভাবস্থায় বা প্রসবের পর মায়ের রক্তচাপ লক্ষ রাখা জরুরি। উচ্চ রক্তচাপ অনেক সময় মায়ের জীবনের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ায় এবং এটি একলামসিয়ার অন্যতম লক্ষণ। তাই যাঁরা আগে থেকেই উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত, তাদের উচিৎ ডাক্তারের পরামর্শ মোতাবেক ওষুধ সেবন করে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং নিজ ও বাচ্চা উভয়ের সুস্থতা নিশ্চিত করা।

আপনি ঝুঁকলে, গর্ভস্থ আপনার পেটের উপর চাপ দেয়। এটি অ্যাসিড রিফ্লাক্সের কারণ হতে পারে। এ অ্যাসিড খাদ্যনালীতে ফিরে যায় এবং আপনার জিহ্বায় একটি অপ্রীতিকর স্বাদ ও আপনার খাদ্যনালীতে জ্বালার সংবেদন তৈরি করে।

এজন্য-

আপনার মাথা, ঘাড় এবং পিঠ একই সরল রেখায় রাখুন। দুই পা সর্বদা একই দিকে নির্দেশ করে রাখুন এবং উভয় পায়ে আপনার ওজন সমানভাবে ছড়িয়ে দিন। আপনার শরীরে টান প্রতিরোধ করতে লো-হিলযুক্ত জুতো বেছে নিন। গর্ভাবস্থায় কোনও কিছু জিনিস তোলার সময় আপনার পিঠ সোজা রাখুন এবং কেবল আপনার হাঁটু ও নিতম্ব বাঁকান।

প্রেগন্যান্সি পিরিয়ডে পেটের এক্সরে শিশুর birth defect এর কারণ হতে পারে। যদি কোনো ইমার্জেন্সি কারণে X-Ray করতে বলা হয়, সেক্ষেত্রে আপনার ডাক্তারকে প্রেগন্যান্সির ব্যাপারে জানান।

পূর্বে কোনো এবরশন বা MR / D&C করিয়ে থাকলে ডাক্তারকে জানান। এর আগে কোনো মৃত শিশু জন্ম দিলে বা জন্মের পর কোনো শিশুর মৃত্যু ঘটলেও-সেই বিষয়টি অবগত করুন। ১৮ থেকে ২২ সপ্তাহের মধ্যে একটি আল্ট্রাসনোগ্রাম করাতে পারেন, যেটাকে anomaly scan বলে। এর মাধ্যমে শিশুর জন্মগত ত্রুটি নির্ণয় করা সম্ভব

সকালে ও বিকেলে কিছু সময়ের জন্য স্বাস্থ্যকর ও মনোরম পরিবেশে হাঁটাহাঁটি গর্ভবতী মায়েদের জন্য উপকারি। এতে শরীর সুস্থ ও মন প্রফুল্ল থাকে। তাই সময় পেলে ফুলের বাগান, লেকের পাড়, পার্ক-এসব স্থানে একটু বেড়িয়ে আসুন।

Source:

https://www.womenshealth.gov/pregnancy/youre-pregnant-now-what/stages-pregnancy
https://www.medicinenet.com/pregnancy/article.htm
https://www.webmd.com/baby/guide/exercise-during-pregnancy
https://www.mdpi.com/1660-4601/17/5/1771/htm
https://www.healthline.com/health/pregnancy
https://www.nhs.uk/conditions/pregnancy-and-baby/

আপনার পছন্দের লেখাগুলো নিয়মিত পেতে ইমেইল দিয়ে এখনি সাবস্ক্রাইব করুন।
সর্বশেষ পোস্টগুলো
আমার ওজন কমানোর গল্প

আমার ৩৪ কেজি ওজন কামানোর কথা

home remedies for insomnia

অনিদ্রা দূর করার উপায় । ১০ টি ঘরোয়া ঔষধ

আঁচিলের প্রাকৃতিক চিকিৎসা

আঁচিলের প্রাকৃতিক চিকিৎসা

আমার ওজন কমানোর খাবার তালিকা

আমার ওজন কমানোর খাবার তালিকা বা ডায়েট চার্ট

অতিরিক্ত ওজন কমানোর ঔষধ

ওজন কমানোর প্রাকৃতিক ঔষধ

ওজন বাড়ানোর খাবার তালিকা

কফ কাশির প্রাকৃতিক ঔষধ

কফ বা কাশির প্রাকৃতিক চিকিৎসা

কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করার উপায়

কোষ্টকাঠিন্য থেকে মুক্তির উপায়

গরম পানি খাওয়ার উপকারিতা

গরম পানি খাওয়ার ১০ টি উপকারিতা

খুশকি দূর করার উপায়

ঘরে বসে খুশকি দূর করার সহজ ১০টি উপায় । খুশকি দূর করার প্রাকৃতিক শ্যাম্পু

চুল পরা বন্ধের উপায়

চুল পড়া বন্ধের প্রাকৃতিক ঔষধ 

দ্রুত ওজন বাড়ানোর উপায়

দ্রুত ওজন বারানোর উপায়

বমি দূর করার উপায়

বমি দূর করার উপায় | বমি হলে করনীয়

ব্যায়াম ছাড়া ওজন কমানোর উপায়

ব্যায়াম ছাড়া ওজন কমানোর ৯ টি সহজ উপায়

দ্রুত ওজন কমানোর খাবার তালিকা

মাসে ১০ কেজি ওজন কমানোর ডায়েট চার্ট




Categories

কলার উপকারিতা | কলা খেলে কি হয়

কলার উপকারিতা

কলা শরীরের পুষ্টি চাহিদা পূরণের পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতেও বেশ সহায়ক। এজন্য আমাদের প্রায় প্রতিদিনকার প্রাতরাশে এটি খুব সহজেই জায়গা করে নিয়েছে। কলা আপনার তাৎক্ষণিক শক্তির সঞ্চারিকা হিসাবেও কাজ করবে। স্থায়ীভাবে সকল প্রকার ক্লান্তি ও অবসাদ থেকে মুক্তি দিতে কলার জুড়ি নেই।

 

কলার পুষ্টি উপাদান

প্রতি ১০০ গ্রাম কলায় ১১৬ ক্যালোরি শক্তি, ৮৫ মি.গ্রা. ক্যালসিয়াম, ০.৬মি.গ্রা. আয়রন থাকে। এছাড়াও কলাতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি, ফসফরাস, প্রোটিন, খনিজ লবণ রয়েছে। কলা পটাশিয়ামের এক অনন্য উৎস। তাছাড়া শারীরিক ও মানসিক কর্মক্ষমতা বৃদ্ধিতে প্রতিদিনের প্রয়োজনীয় ভিটামিন বি৬ কলা থেকে পাওয়া যায়।

কলা খাওয়ার উপকারিতা

কলা বহুগুণে সমৃদ্ধ। তাই, শরীর সুস্থ রাখতে প্রতিদিন ছোট-বড় সকলেরই একটি করে কলা খাওয়া উচিৎ।

আসুন জেনে নেওয়া যাক কলা খাওয়ার কিছু উপকারিতা

 

মানসিক অবসাদ কমায়

কলায় বিদ্যমান ট্রাইপটোফিন নামক রাসায়নিক উপাদানের প্রভাবে দেহে ফিল-গুড হরমোন নিঃসৃত হয়। কলা রক্তে শর্করার মাত্রা ঠিক রেখে স্নায়বিক চাপ কমাতে সাহায্য করে। শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণেও কলা খুব উপকারি। প্রি-মেন্সট্রয়াল সিনড্রোম প্রতিরোধে কলা ফ্যাটি ফুডের মতোই কার্যকর।

 

শরীরকে ডিটক্সিফাই করে

কলায় বিদ্যমান প্রেকটিন শরীরের ক্ষতিকর পদার্থগুলোকে মূত্রের মাধ্যমে বের করে দেয়। এমনকি শরীর থেকে নিকোটিনের প্রভাব দূর করতেও বেশ সহায়ক। এছাড়া কলা শরীর থেকে চর্বি এবং অন্যান্য অপ্রয়োজনীয় উপাদান শোষণ করে এবং অন্ত্রের ব্যাকটেরিয়াগুলোকে ধ্বংস করে।


অ্যানিমিয়া প্রতিরোধ করে

কলায় প্রচুর পরিমাণে আয়রন রয়েছে, যা শরীরে লোহিত রক্তকণিকার পরিমাণ বৃদ্ধি করে এবং অ্যানিমিয়ার প্রকোপ কমায়। কলা রক্তকে পরিশুদ্ধ করতেও অনেক কার্যকর।

 

ব্লাড প্রেসার নিয়ন্ত্রণ করে

কলা শরীরে লবণের ভারসাম্য বজায় রাখে। ফলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে। প্রতিদিন একটি বা দুটি কলা খেলে আপনার হৃদযন্ত্র সচল থাকবে এবং হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমবে।

 

কিডনি সুস্থ রাখে

কলা ইউরিনে ক্যালসিয়াম জমা হতে বাধা দেয় বলে কিডনিতে পাথর হওয়ার আশঙ্কা কমে যায়।

 

শরীরে শক্তির যোগান দেয়

কলাতে প্রচুর পরিমাণে প্রাকৃতিক শর্করা ও সল্যুবল ফাইবার রয়েছে , যা শরীরে শক্তির যোগান দেয়। এছাড়া কলা শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় অ্যামিনো অ্যাসিড উৎপাদন করে।

 

হজমে সহায়তা করে

কলা অ্যান্টাসিডের মত কাজ করে। কলার ফাইবার ও প্রোবায়োটিক অলিগোস্যাকারাইজড হজমের জন্য দারুণ উপকারি। এর ফলে আপনার শরীরে অধিক পরিমাণে পুষ্টি সঞ্চয় হয়। কলা পাকস্থলীতে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া প্রতিরোধেও সহায়তা করে।

অ্যাসিডিক বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান থাকায় শুকনো কিছু খাবারের সঙ্গে কলা মিলিয়ে খাওয়া ভালো। তা না হলে শরীরে উচ্চ মাত্রার ম্যাগনেশিয়ামের ভারসাম্যহীনতা দেখা দেয়।

 

পাকস্থলির আলসার প্রতিরোধ করে

কলা প্রোটেক্টিভ মিউকাস লেয়ার বৃদ্ধির মাধ্যমে পাকস্থলিতে পিএইচ লেভেল ঠিক রাখে, যা আপনাকে বুক-জ্বালা ও পাকস্থলীর আলসার থেকে রক্ষা করবে। কলা অভ্যন্তরীণ অ্যাসিড নিঃসরণে বাধা দেয়।

 

ত্বকের যত্নে কলা

কলা ত্বকের হারানো আর্দ্রতা পুনরুদ্ধার করে ত্বককে সতেজ করে তুলতে, শুষ্কতা নিরাময় করতে সহায়তা করে।

ব্যবহারবিধি:

১) অর্ধেক পাকা কলা নিয়ে তার মধ্যে এক টেবিল চামচ চন্দন কাঠের গুঁড়ো এবং ১ চা-চামচ মধু মিশিয়ে নিন। অথবা একটা পাকা কলা কেটে এর মধ্যে একটি লেবুর রস মিশিয়ে নিন।

২) এরপর এটি মুখে লাগিয়ে ২০-২৫ মিনিট অপেক্ষা করুন।

৩) তারপর হালকা গরম জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এই মাস্কটি তৈলাক্ত ত্বকের জন্য অন্যতম একটি উপকারি ফেসপ্যাক।

এটি ত্বক থেকে অতিরিক্ত সেবাম নিঃসরণ দূর করে ত্বককে উজ্জ্বল করে তুলতে সহায়তা করবে।


শরীরে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট বৃদ্ধি করে

কলা ডোপামিন, ক্যাটেচিন্স এর মতো কিছু গুরুত্বপূর্ণ অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট সরবরাহ করে থাকে। পাকা কলা শরীরের TNF-A নামক এক ধরণের যৌগ সরবরাহ করে, যা শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি শ্বেত রক্তকণিকার পরিমাণ বাড়ায়। এতে করে ব্লাড ক্যান্সারের ঝুঁকি অনেকটা কমে যায়। কলায় বিদ্যমান ফোলেট ও লেক্টিন নামক রাসায়নিক উপাদান শরীরের কোষগুলোকে ভাইরাস আক্রমণ থেকে শরীরকে রক্ষা করে।

 

মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য রক্ষায় কলার ব্যবহার

নিয়মিত কলা খেলে মস্তিষ্কের কার্যকারিতা বৃদ্ধি পায়। এটি কোষে অক্সিজেনের মাত্রা স্বাভাবিক রাখে এবং নিউরন গুলোকে সুগঠিত রাখতে সহায়তা করে। এছাড়াও মৃগী এবং পারকিনসন রোগের সমস্যায় সমাধানে কলা দারুণ কার্যকর। কলা খাওয়ার ফলে মেনোপজাল পরবর্তী মহিলাদের স্ট্রোকের ঝুঁকি অনেকাংশে কমে যায়।

 

হাড় গঠনে কলার উপকারিতা

কলা হাড়ের সুরক্ষায় সহায়তা করে। নিয়মিত কলা খাওয়ার ফলে অস্টিওপোরোসিস এর সমস্যা কম হয়।

 

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে কলার ভূমিকা

কলার মধ্যে থাকা ভিটামিন বি সিক্স ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। প্রতিদিন কলা খাওয়ার ফলে টাইপ টু ডায়াবেটিস রোগীদের রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বৃদ্ধি পায় এবং শরীরে ফ্রুক্টোজ এর পরিমাণ স্বাভাবিক থাকে।

 

চোখের স্বাস্থ্য রক্ষায় কলা

কলায় বিদ্যমান ভিটামিন-এ চোখ এবং কর্নিয়ায় সুরক্ষা প্রদান করে থাকে; যাতে ব্যাকটেরিয়া দ্বারা চোখ সংক্রমিত হতে না পারে।

 

মাসিকের যন্ত্রণা কমাতে কলার উপকারিতা

কলায় থাকা খনিজ উপাদান পিরিয়ডের সময় জরায়ুর পেশীগুলোকে শক্তি প্রদান করে এবং ব্যথা কমাতে সহায়তা করে।

 

মর্নিং সিকনেস সমস্যায় কলা

গর্ভাবস্থার প্রথম দিকে সকাল বেলা বমি ভাব কিংবা বমি হতে দেখা যায়। কলা মর্নিং সিকনেস সমস্যা কমাতে সহায়তা করে।

 

ওজন কমাতে

শরীরের অতিরিক্ত ওজন কমানোর জন্য প্রতিদিন সকালে খালি পেটে একটি করে কলা খান। সবুজ কলাতে প্রচুর পরিমাণে স্টার্চ রয়েছে। এটি শরীরে ফাইবার এর মত কাজ করে রক্তে শর্করার মাত্রা কে নিয়ন্ত্রণ করে।

 

অনিদ্রা কাটাতে কলার ব্যবহার

কলাতে বিদ্যমান ট্রিপটোফ্যান ও মেলাটোনিন ঘুমের ওষুধ তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। রোজ খাদ্যতালিকায় একটি করে কলা রাখুন, অনিদ্রার সমস্যা দূর হয়ে যাবে ইনশা’আল্লাহ।

 

পায়ের যত্নে কলার ব্যবহার

দীর্ঘ সময় ধরে খালিপায়ে হাঁটা-চলা করলে গোড়ালির সমস্যা দেখা যেতে পারে। ফাটা গোড়ালির সমস্যা সমাধানে কলা খুব উপকারি।

ব্যবহার: দুটি পাকা কলা ব্লেন্ড করে পানিতে মিশিয়ে পরিষ্কার পায়ে লাগিয়ে রাখুন। ১০ মিনিট পর ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এটি পায়ের ত্বককে মসৃণ করে তুলবে।

 

চুলের যত্নে কলা

চুলকে স্বাস্থ্যোজ্জ্বল করে তুলতে এবং চুলের বৃদ্ধিতে কলা বেশ সহায়ক ভেষজ মেডিসিন। এটা চুল পড়া বন্ধের প্রাকৃতিক ঔষধ হিসেবেও কার্যকর।

খুশকির সমস্যা দূর করতে চুলে কলা, টক দই আর লেবুর রসের তৈরি একটি মিশ্রণ ব্যবহার করতে পারেন।

ব্যবহার: অর্ধেক পাকা কলার সঙ্গে তিন চামচ টক দই ও এক চামচ লেবুর রস ভালোভাবে মিশিয়ে নিন। এটি শুধু চুলের গোড়া ও মাথার তালুর ত্বকে লাগাবেন। খেয়াল রাখতে হবে, এই মিশ্রণটি যাতে মাথার বাকি চুলে না লাগে। ২০-২৫ মিনিট পর চুল ভাল ভাবে শ্যাম্পু করে ধুয়ে ফেলুন। এতে চুল হয়ে উঠবে ঝলমলে এবং আরো উজ্জ্বল।

 

কাঁচা কলার উপকারিতা

কাঁচা কলায় আছে অত্যাবশ্যকীয় খনিজ ও পুষ্টি উপাদান যা চর্বিকে শক্তিকে রূপান্তরিত করে এবং এনজাইম ভাঙতে সহায়তা করে। কাঁচা কলা শরীরের ইলেক্ট্রোলাইটের ভারসাম্য বজায় রেখে কিডনি বা বৃক্কের কাজকে ত্বরান্বিত করে । প্রতিদিন কাঁচা কলা খেলে ‘কিডনি ক্যান্সার’- এর ঝুঁকি দূর হয়ে যায়।

কাঁচা কলার খোসা সেদ্ধ করে ভর্তা করে বা সবজির মতো রান্না করেও খেতে পারেন। ডায়রিয়ার সময় কাঁচা কলা খেলে শরীরের পটাশিয়ামের অভাব দূর হয়।

তবে বেশি পরিমাণে কাঁচা কলা খাওয়ার ফলে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দেখা দিতে পারে।

কলার থোড়ের স্বাস্থ্যগুণ

কলার থোড় পেট পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে।
এসিডিটির সমস্যায় ভুগলে কলার থোড় ব্লেন্ড করে শরবত বানিয়ে খেতে পারেন। নিয়মিত থোড়ের রসে এলাচ গুঁড়ো মিশিয়ে খেতে পারলে গলব্লাডার পরিষ্কার থাকে। শিশুর ইউরিনের কোনো সমস্যা থাকলে থোড়ের রসে কয়েক ফোঁটা লেবুর রস মিশিয়ে খাওয়ান।


কলার খোসার উপকারিতা

কলার খোসাতেও রয়েছে অনেক পুষ্টিগুণ। কলার খোসাকে আপনি ব্যক্তিগত অনেক কাজে ব্যবহার করতে পারেন। তবে রাসায়নিকমুক্ত কলা হলে তা ভালো কাজে দেবে।

চলুন তবে জেনে নেয়া যাক, এর গুণাগুণ সম্পর্কে-

জুতা পলিশ

জুতা চকচকে রাখতে কলার খোসা ব্যবহার করা হয়। খোসার ভিতরের নরম অংশ জুতার উপর কিছুক্ষণ ঘষুন। তারপর একটি নরম কাপড় দিয়ে জুতা মুছে ফেলুন।

রূপার উজ্জ্বলতা ধরে রাখতে

কলার খোসা ব্লেন্ড করে পানির সাথে মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন। এ পেস্টটি রুপার পাতের উপর ঘষুন। এরপর পানি দিয়ে ধুয়ে একটি শুকনো পরিষ্কার কাপড় দিয়ে মুছে ফেলুন।

দাঁত সাদা করতে

হলদেটে দাঁত নিয়ে বিড়ম্বনার শেষ নেই। কলার খোসার নরম অংশটি দিয়ে দাঁতের উপর কিছুক্ষণ ঘষুন। নিয়মিত ব্যবহারে দাঁতের হলদে ভাব দূর হয়ে যাবে।

ব্যথা প্রশমিত করতে

শরীরের যেকোনো প্রদাহে সরাসরি কলার খোসা লাগিয়ে রাখুন। ৩০ মিনিট পর খোসাটি সরিয়ে ফেলুন। দেখবেন ব্যথা অনেকটা কমে গেছে। এছাড়া ভেজিটেবল অয়েল এবং কলার খোসা একসাথে ব্যবহার করতে পারেন।

ব্রণ প্রতিরোধে

ব্রণের উপর কলার খোসার একটি ছোট টুকরো কেটে নিয়ে নরম অংশটি ম্যাসাজ করুন। তারপর ৫ মিনিটের জন্য তা রেখে দিন। এটি শুকিয়ে গেলে হালকা গরম জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে ডিমের সাদা অংশ এবং কলা খোসার ভিতরের অংশ একসাথে মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন। এ মিশ্রণটি ত্বকে ৫ মিনিট ধরে ব্যবহার করুন ৫ মিনিট। তারপর পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন।

কালো দাগ দূর করতে

ব্যথায় কালো হয়ে যাওয়া দাগ দূর করতে কলার খোসা বেশ কার্যকর। দাগের স্থানে কলার খোসা কিছুক্ষণ ঘষুন অথবা ঐ স্থানে কলার খোসা দিয়ে পেঁচিয়ে রাখুন।

দাদের ওষুধ

কলার খোসা দাদের ওষুধ হিসেবেও কাজ করে। চুলকালে সেই অংশে কলার খোসা ঘষে দিলে চুলকানি বন্ধ হবে। কোথাও পাঁচড়া-জাতীয় কিছু হলে সেই জায়গায় কলার খোসা মেখে রাখুন, অথবা কলার খোসা পানিতে মধ্যে সেদ্ধ করে সেই পানি দিয়ে সংক্রমিত জায়গা কয়েক দিন ধুয়ে ফেলুন।

মশা কিংবা পোকামাকড়ের সংক্রমণ প্রতিরোধে

মশার কামড়ে ফুলে, লাল হয়ে ওঠা ত্বকের যত্নে কলার খোসা ব্যবহার করুন। তবে আক্রান্ত স্থানটিতে কলার খোসা ব্যবহার করার আগে অবশ্যই একবার ডেটল দিয়ে মুছে নেবেন। তাতে ব্যাকটেরিয়া সম্পূর্ণরূপে নির্মূল হয়ে যাবে।

সোরিয়াসিস রোগে

সোরিয়াসিসের মতো মারাত্মক রোগের জন্যও কলা বেশ কার্যকর প্রতিষেধক। ত্বকে এটি ব্যবহার করার ১০ মিনিটের মধ্যে সোরিয়াসিসের লক্ষণগুলো চলে যাবে।

 

গর্ভাবস্থায় কলা খাওয়ার উপকারিতা

কলার পুষ্টিগুণ গর্ভাবস্থায় ভ্রূণের সুস্থ বিকাশে সহায়তা করে। বিভিন্ন ঔষধের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া থেকে মুক্তি দিতে এবং মা ও শিশু উভয়ের স্বাস্থ্যের জন্যও কলা খুব উপকারি।

চলুন দেখে নিই, এসময় কলা খাওয়ার কিছু উপকারিতা-

  • কলা গর্ভাবস্থায় বমি বমিভাব থেকে মুক্তি দেয়।
  • এডিমার কারণে গর্ভবতী মহিলার গোড়ালি, পা এবং অন্যান্য জয়েন্টগুলিতে ফোলাভাব হতে পারে। আপনার ডায়েটে কলা অন্তর্ভুক্ত করুন; এ ফোলাভাব কমে যাবে।
  • গর্ভাবস্থার শেষ ত্রৈমাসিকে শক্তি স্তরে ভারসাম্য থাকা জরুরি। কলা আপনাকে তাৎক্ষণিক শক্তি বৃদ্ধিতে সাহায্য করবে।
  • গর্ভাবস্থায় কলা খাওয়ার ফলে শরীরে ফোলেটের মাত্রা উন্নত হয় এবং শিশুর জন্মগত ত্রুটি হ্রাস পায়। এসময় নিয়মিত কলা খাওয়া শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশের জন্য জরুরি।
  • কলাতে প্রচুর পরিমাণে ডায়েটরি ফাইবার থাকে যা গ্যাসের ফলে পেটে ফোলাভাব হওয়া কমাতে সাহায্য করে।
  • কলা ক্যালসিয়ামের একটি দুর্দান্ত উৎস, যা শিশু এবং মা উভয়েরই হাড়ের বিকাশের জন্য অত্যাবশ্যক। শরীরে পেশী সংকোচন নিয়ন্ত্রণের জন্যও ক্যালসিয়াম প্রয়োজন।
  • কলা ক্ষুধার উদ্দীপক হিসাবে কাজ করে। গর্ভবতী মহিলারা যাদের ক্ষুধা হ্রাস হয়ে যায়, তাদের নিয়মিত কলা খাওয়া উচিৎ।

সতর্কতা:

কলাতে চিটিনেজ নামক অ্যালার্জেন থাকে, যা ল্যাটেক্স-ফ্রুট সিনড্রোমের কারণ হয়। গর্ভাবস্থায় ডায়াবেটিসে আক্রান্ত মহিলাদেরও খুব বেশি কলা খাওয়া উচিৎ নয়, কারণ এতে চিনির মাত্রা দ্রুত বাড়তে পারে।

 

কলার অপকারিতা

১) কলার মধ্যে অতিমাত্রায় পটাশিয়াম বিদ্যমান। অত্যাধিক পরিমাণে পটাশিয়ামের উপস্থিতির কারণে হৃদপিণ্ড অকার্যকর হয়ে পড়ে। তাই অতিরিক্ত কলা খাওয়া এড়িয়ে চলুন।

২) কলা গাছের পাতা, কান্ড সবকিছুই খাদ্য হিসেবে ব্যবহার হয়। কিন্তু এলার্জির আশঙ্কা থাকলে দেখে নেবেন কলা গাছের কোন বিশেষ অংশ আপনার খাওয়া উচিৎ নয়।

৩) কলার মধ্যে উচ্চমাত্রায় অ্যামিনো এসিড থাকায়, অধিকমাত্রায় কলা খাওয়ার ফলে রক্তনালীতে প্রভাব পড়তে পারে। যার ফলে মাথাব্যথার সৃষ্টি হয়।

৪) অতিরিক্ত কলা খাওয়ার ফলে হাইপারক্যালেমিয়া রোগ দেখা দিতে পারে। যার ফলে পেশির দুর্বলতা কিংবা অনিয়মিত হৃদস্পন্দনের সমস্যা হতে পারে।

৫) যদি কারো কিডনির সমস্যা থাকে সেক্ষেত্রে তাদের কলা খাওয়ার পরিমাণ কমিয়ে দেওয়া উচিৎ।

প্রাণবন্ত থাকতে কে না চায়? কিন্তু সবসময় সেটা সম্ভব হয়ে ওঠে না। বহুমুখী কাজের চাপ যেনো দিন দিন বেড়েই চলেছে। সময়ের সাথে দৌড়াতে দৌড়াতে-ই দিনের শেষ। এই নিরন্তর ব্যস্ততার মাঝেও চটপটে থাকতে চাই শরীরে সঠিক মাত্রার পুষ্টিগুণ। একদম ছোট শিশু থেকে শুরু করে, কিশোর-তরুণ, প্রাপ্তবয়স্ক এমনকি বৃদ্ধদেরও নিয়মিতভাবে ফল খাওয়া উচিৎ। কলা তেমনই একটি ফল যা খেতে সুস্বাদু এবং অবাক করা সব ভেষজগুণে টইটম্বুর।

Source:

https://www.healthline.com/nutrition/11-proven-benefits-of-bananas
https://www.medicalnewstoday.com/articles/271157
https://www.bbcgoodfood.com/howto/guide/health-benefits-bananas
https://www.everydayhealth.com/diet-nutrition/11-banana-health-benefits-you-might-not-know-about/

আপনার পছন্দের লেখাগুলো নিয়মিত পেতে ইমেইল দিয়ে এখনি সাবস্ক্রাইব করুন।
সর্বশেষ পোস্টগুলো
আমার ওজন কমানোর গল্প

আমার ৩৪ কেজি ওজন কামানোর কথা

home remedies for insomnia

অনিদ্রা দূর করার উপায় । ১০ টি ঘরোয়া ঔষধ

আঁচিলের প্রাকৃতিক চিকিৎসা

আঁচিলের প্রাকৃতিক চিকিৎসা

আমার ওজন কমানোর খাবার তালিকা

আমার ওজন কমানোর খাবার তালিকা বা ডায়েট চার্ট

অতিরিক্ত ওজন কমানোর ঔষধ

ওজন কমানোর প্রাকৃতিক ঔষধ

ওজন বাড়ানোর খাবার তালিকা

কফ কাশির প্রাকৃতিক ঔষধ

কফ বা কাশির প্রাকৃতিক চিকিৎসা

কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করার উপায়

কোষ্টকাঠিন্য থেকে মুক্তির উপায়

গরম পানি খাওয়ার উপকারিতা

গরম পানি খাওয়ার ১০ টি উপকারিতা

খুশকি দূর করার উপায়

ঘরে বসে খুশকি দূর করার সহজ ১০টি উপায় । খুশকি দূর করার প্রাকৃতিক শ্যাম্পু

চুল পরা বন্ধের উপায়

চুল পড়া বন্ধের প্রাকৃতিক ঔষধ 

দ্রুত ওজন বাড়ানোর উপায়

দ্রুত ওজন বারানোর উপায়

বমি দূর করার উপায়

বমি দূর করার উপায় | বমি হলে করনীয়

ব্যায়াম ছাড়া ওজন কমানোর উপায়

ব্যায়াম ছাড়া ওজন কমানোর ৯ টি সহজ উপায়

দ্রুত ওজন কমানোর খাবার তালিকা

মাসে ১০ কেজি ওজন কমানোর ডায়েট চার্ট




Categories

রসুন এর উপকারিতা | রসুন কিভাবে খেতে হয়?

রসুন এর উপকারিতা

রান্নায় স্বাদ বাড়াতে রসুন এক অনন্য মসলা। তীব্র সুঘ্রাণের কারণে সবজি, মাংস থেকে শুরু করে কাচ্চি, কারি রান্নায়ও রসুনের জুড়ি নেই। রসুনকে বলা হয় ‘পাওয়ার হাউস অব মেডিসিন অ্যান্ড ফ্লেভার’। নিয়মিত কাঁচা বা সিদ্ধ রসুন সেবনে শরীর সুস্থ থাকে।

রসুনের পুষ্টি উপাদান

প্রতি ১০০ গ্রাম রসুনে ১৫০ ক্যালরি শক্তি, ৩৩ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট এবং ৬.৩৬ গ্রাম প্রোটিন থাকে। এছাড়াও রসুনে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন বি১, বি২, বি৩, বি৬, ভিটামিন সি, ফোলেট, ক্যালসিয়াম, আয়রন, ম্যাগনেশিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ, ফসফরাস, পটাশিয়াম, সোডিয়াম এবং জিঙ্ক রয়েছে।

খালি পেটে রসুন খাওয়ার উপকারিতা

অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর রসুন রক্ত পরিশুদ্ধ করে। রক্তে উপস্থিত শর্করার পরিমাণ নিয়ন্ত্রণেও রসুন বেশ সহায়ক। সকালে খালি পেটে কয়েক কোয়া রসুন খেলে সারা রাত ধরে চলা বিপাকক্রিয়ার কাজ উন্নত হয়।

২/৩ টি রসুনের কোয়া কুচি করে সামান্য ঘি’য়ে ভেজে নিন। এটি সবজির সাথে কিংবা এমনি খাওয়ার অভ্যাস করুন। এতে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দূর হবে। বাড়তি ওজন কমাতে খালি পেটে গরম পানিতে রসুন এবং লেবুর রস মিশিয়ে খেয়ে নিন।

এ ছাড়া নিয়মিত রসুন খাওয়ার ফলে শরীরের দূষিত টক্সিনও মূত্রের মাধ্যমে বেরিয়ে যায়। শীতকালে প্রতিদিন খালি পেটে এক কোয়া রসুন খেলে ঠান্ডা লাগার প্রবণতা অনেকটা কমে। এটি শক্তিশালী অ্যান্টিবায়োটিক এর মতো কাজ করে।

রসুন হজম ও ক্ষুধার উদ্দীপক হিসেবে কাজ করে। স্ট্রেস বা চাপের কারণে আমাদের গ্যাস্ট্রিক এর সমস্যায় পড়তে হয়। খালি পেটে রসুন খাওয়ার ফলে আমাদের স্নায়বিক চাপও কমে যায়।

রসুনের নানাবিধ ঔষধি গুণাগুণ

রসুন কেবল রান্নায় সুগন্ধ ও স্বাদ বৃদ্ধি করে না পাশপাশি এর ঔষধি গুণ নানা রকমের রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে।

চলুন দেখে নিই, কি কি কারণে রসুন আমাদের কাছে এতো সমাদৃত-


রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে

উচ্চ রক্তচাপ বা হাইপারটেনশন হৃদ রোগের অন্যতম কারণ। এর ফলে রক্তনালী, চোখ, হৃদযন্ত্র, মস্তিষ্ক ও কিডনির মতো গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলো নষ্ট হয়ে যেতে পারে। দৈনিক চার কোয়া করে রসুন খেলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকবে। এছাড়া রসুনে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি থাকে, যা স্কার্ভি রোগের প্রতিরোধক ও প্রতিষেধক হিসেবে কাজ করে এবং রক্তনালী নমনীয় করে।

শরীরে কোলেস্টেরল লেভেল ঠিক রাখে

রসুন কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে। উপকারি কোলেস্টেরল বা এইচডিএল বাড়াতে ও ট্রাইগ্লিসারাইড কমাতেও এটি সহায়ক। এতে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি অনেকটা কমে যায়।

অ্যাজমা, কফ, নিউমোনিয়া প্রতিরোধে

রসুন কফের উপশমে ভারি উপকারি ঔষধ। সামান্য তেলে ১/২ কোয়া রসুন ভেজে তা ১ টেবিল চামচ মধুর সাথে মিশিয়ে প্রতিদিন ঘুমাতে যাওয়ার আগে খান, বুকে কফ জমা থেকে মুক্তি মিলবে ইনশা’আল্লাহ।

অ্যাজমা ও নিউমোনিয়ার সমস্যা নিরাময়ে প্রতিদিন রাতে ঘুমানোর আগে দুধে রসুন মিশিয়ে খান। রসুন যক্ষা, ব্রংকাইটিস, ফুসফুসের কনজেশন, হাঁপানি, হুপিং কাশি ইত্যাদিও প্রতিরোধ করে।

জীবনীশক্তি বৃদ্ধি করে

নিয়মিত রসুন খাওয়ার ফলে অ্যালঝাইমার ও ডিমেনসিয়ার প্রকোপ কমে যায়৷ রসুনের ২-৩টি কোয়া কুচিয়ে নিয়ে এক টেবিলচামচ মধু মিশিয়ে নিয়মিত খান। এতে আপনার শরীর ফিট থাকবে এবং এনার্জিতে কোন কমতি হবে না।

অনিদ্রার সমস্যা দূর করে

এক গ্লাস রসুন-দুধ খেয়ে নিন, অনিদ্রাজনিত সমস্যা দূর হয়ে যাবে

রসুন-দুধ পানীয় যেভাবে প্রস্তুত করবেন:

উপকরণ: আধা লিটার দুধ, খোসা ছাড়ানো ১০ কোয়া থেঁতলানো রসুন, সামান্য চিনি এবং ১/২ লিটার পানি।

একটি পাত্রে দুধ ও পানি মেশান। এরপর থেঁতলানো রসুন যোগ করে চুলোয় ভালো করে ফুটিয়ে নিন। সাথে প্রয়োজনমতো চিনি মিশিয়ে নিন। তাৎক্ষণিক ফলাফল পেতে এটি উষ্ণ থাকতে থাকতেই পান করুন।

শরীরকে ডিটক্সিফাই করে

রসুনে বিদ্যমান সালফার ‘অরগ্যান ড্যামেজ’ থেকে আমাদের রক্ষা করে। পেটের কৃমি নিরাময়েও রসুন ভারি উপকারি। রসুন প্যারাসাইট, জ্বর, বিষন্নতা এবং ডায়াবেটিসও প্রতিরোধ করে। এক গ্লাস কুসুম গরম পানিতে অর্ধেক পাতিলেবুর রস আর দু’কোয়া রসুন কুচি মিশিয়ে খেলে শরীর থেকে এসব ক্ষতিকর উপাদান সহজে বেরিয়ে যাবে।

হাড় মজবুত করে

বয়স বাড়ার সাথে সাথে অনেকের হাড়ে নানারকম সমস্যা দেখা দেয়। রোজ ২ গ্রাম করে রসুন খাওয়ার ফলে শরীরে ইস্ট্রোজেন হরমোনের মাত্রা বাড়ে। যেসব মহিলাদের মেনোপোজ হয়ে গেছে (এ সময় স্বাভাবিকভাবে মহিলাদের হাড় ভঙ্গুর হয়ে পড়ে), তারাও নিয়মিত রসুন খেলে উপকার পাবেন।

স্কিন ইনফেকশন সারিয়ে তোলে

রসুনে বিদ্যমান অ্যান্টি-ভাইরাল এবং অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল প্রোপার্টি সেল ড্যামেজ এবং ‘এজিং‘ প্রতিরোধ করে। রিঙ্কেল, ফাইন লাইনস, এজ স্পট, ডার্ক স্পট থেকেও স্কিনকে দূরে রাখে রসুন। রসুনের অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদান ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া নির্মূল করে ব্রণ কমাতে সাহায্য করে।

খাওয়ার নিয়ম: ১ কোয়া কাঁচা রসুন, মধু ও লেবুর সংযোগে চিবিয়ে খান, সাথে প্রচুর পরিমাণে পানি পান করুন।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়

ব্যাকটেরিয়া, ফাঙ্গাস আর প্যারাসাইটের মোকাবিলায় অ্যান্টিবায়োটিক হিসেবে রসুন দারুণ ফলদায়ক। রসুন ইস্ট ইনফেকশন দূর করতে সাহায্য করে। নিয়মিত রসুন সেবনে শরীরে সব ধরনের ক্যান্সারের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হয়। রসুনের নির্যাস থেকে ‘মাউথ ওয়াশ’ প্রস্তুত করা হয়। নিয়মিত এ ‘মাউথ ওয়াশ’ ব্যবহারে মাড়িতে ব্যাকটেরিয়ার বিস্তার বন্ধ হয়ে যায়।


আরো পড়ুনঃ কিভাবে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করবেন।

 

ব্ল্যাকহেডস দূর করতে

সাধারণত আমাদের ত্বকে অতিরিক্ত তেল জমে ব্ল্যাকহেডস তৈরি হয়। ব্ল্যাকহেডস কমাতেও রসুন বেশ সহায়ক।

ব্যবহার:

খানিকটা রসুন ও টমেটো ব্লেন্ড করে পেস্ট তৈরি করুন। গোসলের আগে এ পেস্ট মুখে মেখে ১৫ মিনিটের মতো রেখে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে ২-৩ দিন করুন। ব্ল্যাকহেডস দূর করার পাশাপাশি ত্বকে উজ্জ্বলতা ফিরিয়ে আনতে এটি খুব কার্যকর।

চুলের যত্নে রসুন

অল্প বয়সেই চুল পেকে যাচ্ছে?

রসুনে থাকা অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট এ অকালপক্কতা কমাতে দারুণ উপকারি। নারকেল তেলের মধ্যে কয়েক কোয়া রসুন ও একটু গোলমরিচ গুঁড়ো মিশিয়ে নিন। এরপর কম আঁচে ফুটিয়ে নিন। তেল ঠান্ডা হলে এটা ভেজা চুলে লাগান। ২০ মিনিট পর চুল ধুয়ে নিন। চুল থাকবে কালো ও স্বাস্থ্যোজ্জ্বল।

রসুন চুল পড়াও নিয়ন্ত্রণ করে। কয়েকটা রসুনের কোয়া কেটে নিয়ে স্ক্যাল্পে ঘষুন। এ ছাড়া খানিকটা রসুন অলিভ অয়েলে মিশিয়ে ভালো করে ফুটিয়ে নিয়েও স্ক্যাল্পে ম্যাসাজ করতে পারেন।

যৌনশক্তি বৃদ্ধিতে রসুন

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যমতে, প্রতি মিলিলিটার শুক্রাণুতে ২০ মিলিয়নের কম স্পার্ম থাকলে যেকোনো পুরুষ অনুর্বর হতে পারেন। বাজে খাদ্যাভ্যাস, ধূমপান, অ্যালকোহল, অনিয়ন্ত্রিত জীবন, ব্যায়ামে অনীহা প্রভৃতি কারণে দিন দিন পুরুষের প্রজনন ক্ষমতা কমছে।

যৌন শক্তি বৃদ্ধিতে দৈনন্দিন পুষ্টিকর খাবার-দাবার’ই যথেষ্ট। প্রতিদিনের খাবার মেন্যুতে দুধ, ডিম, মধু, কাঁচা রসুন রাখুন আর নিয়মতান্ত্রিক জীবন যাপন করুন, তাহলে যৌন দুর্বলতায় ভুগবেন না।

মূলত Semen (বীর্য) তৈরিতে রসুনের জুড়ি মেলা ভার। রসুনে এলিসিন নামে রাসায়নিক উপাদান রয়েছে, যা যৌন ইন্দ্রিয়গুলোতে রক্তের প্রবাহ বাড়িয়ে দেয়। কোন রোগের কারণে বা দুর্ঘটনায় আপনার যৌন ইচ্ছা কমে গেলে এটি আপনাকে যৌনশক্তি ফিরে পেতে সাহায্য করবে।

ব্যবহার পদ্ধতি:

২ চামচ কাঁচা আমলকির রসে খানিকটা রসুন বাটা মিশিয়ে নিয়মিত সেবন করুন। এতে স্ত্রী-পুরুষ উভয়ের যৌবন দীর্ঘস্থায়ী হবে।

অথবা, প্রতিদিন দু’কোয়া রসুন খাঁটি গাওয়া ঘি-এ ভেজে মাখন মিশিয়ে খান। সাথে গরম পানি বা দুধ খেলে ভাল ফল পাওয়া যাবে।

এছাড়া কোনো ব্যক্তির যৌন ইচ্ছা মাত্রাতিরিক্ত হয়ে গেলে (যা নার্ভাস সিস্টেমের ক্ষতি করতে পারে), তা স্বাভাবিক করে তুলতেও রসুন বেশ কার্যকর।

প্লাক জমাতে বাধা প্রদান করে

রসুন শিরা-উপশিরায় প্লাক জমাতে বাধা প্রদান করে। এটি অথেরোস্ক্লেরোসিসের মত মারাত্মক রোগের হাত থেকেও রক্ষা করে। শিরা-উপশিরায় রক্ত জমাট বাঁধতে রসুন দারুণ সহায়ক।

গিত ব্যথার সমাধানে

রসুন গিট বাতের প্রদাহ উপশম করে। নিয়মিত ২ কোয়া করে রসুন খেলে গিটের বাত সেরে যাবে। রসুন-দুধ খেলেও ভালো ফল পাওয়া যাবে।

শরীরের ফোড়া সারাতে

রসুন যেকোনো পুঁজ ও ব্যথাযুক্ত ফোড়া সারাতে দারুণ কার্যকর। সংক্রমিত স্থানে খানিকক্ষণ রসুনের রস লাগিয়ে রাখুন। শুকিয়ে গেলে তাড়াতাড়ি ধুয়ে ফেলুন। দাদ,খোস পাঁচড়া ইত্যাদি বিভিন্ন চর্মরোগের অত্যন্ত ফলদায়ক প্রতিষেধক রসুন।

কাটা সারিয়ে তুলতে

অসাবধানতাবশত শরীরের কোথাও কাঠ বা বাঁশের ছোট টুকরো ঢুকে গেলে তা বের করে সেখানে রসুনের কোয়া কেটে লাগিয়ে দিন। একই সাথে শরীরের ওই অংশে ব্যান্ডেজ করে দিতে হবে। কয়েকদিনের মধ্যেই এ কাটা সেরে উঠবে।

কর্পূরের সঙ্গে পোড়া রসুন মেশালে মশা, মাছি, পোকামাকড়ের হাত রেহাই পাওয়া যায়। রসুনকে পিষে পানিতে মিশিয়ে ঘর মুছলেও পোকা-মাকড়ের হাত থেকে রেহাই পাওয়া সম্ভব।


রসুনের আচার

রসুনের আচার শুধু স্বাদের জন্য নয়, স্বাস্থ্যের পক্ষেও বেশ উপকারি।

চলুন তৈরি করে নিই, মুখরোচক রসুনের আচার-

প্রয়োজনীয় উপকরণ:

২ কাপ রসুনের কোয়া
১/৪ কাপ তেঁতুল গোলা
আধা ভাঙা ২ চা-চামচ পাঁচফোড়ন
২ চা-চামচ আদা-বাটা
২ টেবিল-চামচ শুকনো মরিচের গুঁড়ো
১/৪ কাপ পেঁয়াজ বেরেস্তা
২ টেবিল-চামচ সরিষা
২ টেবিল-চামচ গুড়
তেজপাতা
লবণ ও কাঁচামরিচ
১/২ কাপ করে সয়াবিন ও সরিষার তেল
দু’তিন টেবিল-চামচ ভিনেগার

প্রস্তুত প্রণালী:

প্রথমে সরিষা ও আদাবাটায় খানিকটা লেবুর রস মিশিয়ে একটি পাত্রে রেখে দিন। এরপর চুলায় কড়াই বা ফ্রাইপ্যানে সরিষার তেল ঢালুন।

প্যানে তেল গরম হলে অর্ধেক পাঁচফোড়ন ও তেজপাতা দিন। তেল ফুটে উঠলে আদা ও সরিষা পেস্ট, সিরকা, টালা শুকনা-মরিচের গুঁড়ো তেলে দিয়ে নাড়তে থাকুন।

এরপর ভালোভাবে পেস্টটি মিশে গেলে রসুনগুলো ঢেলে আঁচ বাড়িয়ে নাড়তে থাকুন। তেল ও মসলা ফুটে এলে ঢাকনা দিয়ে ঢেকে দিন।

খানিকক্ষণ পর রসুন সিদ্ধ হয়ে এলে আঁচ কমিয়ে দিন এবং পেঁয়াজ বেরেস্তা ও পরিমাণমতো গুড় ও লবণ দিন। মাঝে মাঝে নেড়ে দিতে হবে যেন লেগে না যায়।

এবার বাকি অর্ধেক পাঁচফোড়ন দিয়ে দিন। ঝোল শুকিয়ে এলে তেল ছাড়ার দুই মিনিট পর নামিয়ে ফেলুন।

আচার ঠাণ্ডা হলে শুকনো কাঁচের বৈয়ামে ভরে রেখে দিন। ঠান্ডা জায়গায় আচার রাখলে অনেক দিন ভালো থাকবে। ফ্রিজে রেখে এ আচার সংরক্ষণ করতে পারেন। আচার তোলার সময় শুকনা চামচ ব্যবহার করবেন। সতর্ক থাকুন যাতে আচারে পানি ঢুকে ফাঙ্গাস পড়ে না যায়।

আপনি চাইলে শুধু সিরকায় শুকনো মরিচ, লবণ দিয়ে কাশ্মীরি আচারের মতো করে রসুন কোয়া জ্বাল দিয়ে ঠান্ডা করে বৈয়ামে রাখতে পারেন।

আচারের স্বাস্থ্যগুণ

রসুনের আচার আমাদের শরীরের জন্য ন্যাচারাল অ্যান্টিবায়োটিক হিসেবে কাজ করে। সর্দি, কাশি, হৃদরোগ, কোলেস্টেরল ইত্যাদি সমস্যার দ্রুত প্রতিকারে রসুনের আচারে মধু মিশিয়ে খান। যারা কেমোথেরাপি নিচ্ছেন তাদের জন্যও রসুনের আচার ভালো প্রতিষেধক।

অতিরিক্ত রসুন খাওয়ার ফলে কি কি সমস্যা হতে পারে/ সতর্কতা

শ্বাসকষ্টে ভুগছেন এমন রোগীদের রসুন না খাওয়াই ভালো। কাঁচা রসুন খাওয়া মাথা ব্যথা, বমি ইত্যাদির অন্যতম কারণ। এমনকি অতিরিক্ত রসুন খাওয়ার ফলে নিঃশ্বাসে দুর্গন্ধ সৃষ্টি হতে পারে।

যেকোনো অপারেশনের কয়েকদিন আগে থেকে রসুন খাওয়া বন্ধ করে দেয়া উচিৎ। যাদের শরীর থেকে রক্তপাত সহজে বন্ধ হয় না, অতিরিক্ত রসুন খাওয়া তাদের জন্য বিপদজনক।

যারা ‘ওয়ারফারিন’ ‘অ্যাসপিরিন’ ইত্যাদি ‘ব্লাড থিনার’ ধরনের ওষুধ সেবন করেন, তারা অতিরিক্ত রসুন খাওয়া এড়িয়ে চলুন। কারণ, এতে রক্ত অতিরিক্ত পাতলা হয়ে অভ্যন্তরীণ রক্তপাত শুরু হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

গর্ভবতী নারীদের রসুন খাওয়া থেকে বিরত থাকা উচিৎ। এতে ‘লেইবার পেইন’ বা প্রসব বেদনা বেড়ে যেতে পারে। শিশুকে দুগ্ধদানকারী মায়েদেরও রসুন খাওয়া পরিহার করা দরকার। রসুন খাওয়ার ফলে তা মায়ের দুধের মাধ্যমে শিশুর পাকস্থলীতে ঢুকে শিশুর পেট ব্যথার কারণ হতে পারে।

যকৃত শরীরের রক্ত পরিশোধন, চর্বি ও প্রোটিন বিপাক, শরীর থেকে অ্যামোনিয়া অপসারণ ইত্যাদি কাজ সম্পন্ন করে থাকে। মাত্রাতিরিক্ত রসুন খাওয়ার ফলে এতে বিদ্যমান ‘অ্যালিসিন’ যকৃতে বিষক্রিয়া তৈরি করতে পারে।

নারীর জননাঙ্গে ‘ইস্ট’ জনিত প্রদাহের চিকিৎসা চলাকালীন রসুন থেকে দূরে থাকা উচিৎ।

অতিরিক্ত রসুন খাওয়ার কারণে ‘হাইফিমা’ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে ‘আইরিস’ ও ‘কর্নিয়া’র মাঝে রক্তক্ষরণ ঘটতে পারে। ফলে দৃষ্টিশক্তি হারানোর মারাত্মক ঝুঁকি রয়েছে।

সুস্থ জীবনের জন্য স্বাস্থ্যসম্মত খাবারের পাশাপাশি পর্যাপ্ত ব্যায়াম খুব জরুরি। নিয়মিত ব্যায়ামের ফলে শরীরে হরমোনের প্রবাহ বাড়ে। এজন্য নিজের কাজ, মিটিং বা অন্যান্য প্রয়োজনের মাঝেও ব্যায়ামের জন্য প্রতিদিন কিছু সময় বের করুন। প্রতিদিন ঘুম থেকে উঠে রোজকার কাজকর্মের একটা ছক কষে নিন। নতুন আশা, নতুন আকাঙ্ক্ষা জড়িয়ে থাকে প্রতিটি প্রভাতে-ই!

Source:

https://www.healthline.com/nutrition/11-proven-health-benefits-of-garlic
https://food.ndtv.com/food-drinks/powerhouse-of-medicine-and-flavour-surprising-health-benefits-of-garlic-1200468?amp=1&akamai-rum=off
http://www.bbc.co.uk/sn/humanbody/truthaboutfood/healthy/erectiledysfunction.shtml
https://www.medicalnewstoday.com/articles/265853

আপনার পছন্দের লেখাগুলো নিয়মিত পেতে ইমেইল দিয়ে এখনি সাবস্ক্রাইব করুন।
সর্বশেষ পোস্টগুলো
আমার ওজন কমানোর গল্প

আমার ৩৪ কেজি ওজন কামানোর কথা

home remedies for insomnia

অনিদ্রা দূর করার উপায় । ১০ টি ঘরোয়া ঔষধ

আঁচিলের প্রাকৃতিক চিকিৎসা

আঁচিলের প্রাকৃতিক চিকিৎসা

আমার ওজন কমানোর খাবার তালিকা

আমার ওজন কমানোর খাবার তালিকা বা ডায়েট চার্ট

অতিরিক্ত ওজন কমানোর ঔষধ

ওজন কমানোর প্রাকৃতিক ঔষধ

ওজন বাড়ানোর খাবার তালিকা

কফ কাশির প্রাকৃতিক ঔষধ

কফ বা কাশির প্রাকৃতিক চিকিৎসা

কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করার উপায়

কোষ্টকাঠিন্য থেকে মুক্তির উপায়

গরম পানি খাওয়ার উপকারিতা

গরম পানি খাওয়ার ১০ টি উপকারিতা

খুশকি দূর করার উপায়

ঘরে বসে খুশকি দূর করার সহজ ১০টি উপায় । খুশকি দূর করার প্রাকৃতিক শ্যাম্পু

চুল পরা বন্ধের উপায়

চুল পড়া বন্ধের প্রাকৃতিক ঔষধ 

দ্রুত ওজন বাড়ানোর উপায়

দ্রুত ওজন বারানোর উপায়

বমি দূর করার উপায়

বমি দূর করার উপায় | বমি হলে করনীয়

ব্যায়াম ছাড়া ওজন কমানোর উপায়

ব্যায়াম ছাড়া ওজন কমানোর ৯ টি সহজ উপায়

দ্রুত ওজন কমানোর খাবার তালিকা

মাসে ১০ কেজি ওজন কমানোর ডায়েট চার্ট




Categories

এলার্জির চিকিৎসায় ভেষজ ঔষধ

এলার্জির চিকিৎসায় ভেষজ ঔষধ
এন্টিজেন জাতীয় পদার্থের প্রভাবে আমাদের শরীরে কিছু অস্বাভাবিক প্রতিক্রিয়ায় সৃষ্টি হয়; যেমন- চুলকানি, ত্বক ফুলে যাওয়া, হাঁচি, কাশি ইত্যাদি। এ সৃষ্ট উপসর্গগুলোই হলো এলার্জি। এলার্জিতে ভোগে না এমন মানুষ খুব কমই আছে। অনেকের সিজনাল ডাস্ট এলার্জি, অর্থাৎ শীতকালে বাতাসের শুষ্কতার কারণে এলার্জি হয়। আবার কেউ কেউ সারাবছরই এ সমস্যায় পড়েন। রাস্তাঘাটের ধুলোবালি, ঘরদোর পরিষ্কার করতে গিয়েও ডাস্ট এলার্জির শিকার হতে হয়।  

এলার্জি কেন হয়

দেহের গঠনগত ভিন্নতার কারণে এলার্জির কারণেও বৈচিত্র্য থাকে। একেকজনের একেক কারণে এলার্জির উপসর্গ দেখা যায়। এলার্জির কারণগুলো দেখে নিই-

১. মশা, বেলেমাছি, মৌমাছি, বোলতা, ভীমরুল প্রভৃতি পতঙ্গে এলার্জির উপদান থাকে। শরীরে পশম বা পালক আছে এমন গৃহপালিত পশু (যেমন- বিড়াল, কুকুর, গিনিপিক ইত্যাদি) এবং গৃহপালিত পাখিও অনেক সময় এলার্জি সৃষ্টি করতে পারে।

২. খাদ্যে প্রচুর পরিমাণে এলার্জির সম্ভাবনা থাকে। কিছু সবজি, মাছ, মাংস, চকোলেট, বাদাম, পেয়াজ, আপেল, গম, ডিম, রসুন, তরমুজ ইত্যাদিতে এলার্জির উপাদান থাকে।। এমনকি ঠান্ডা পানীয়ও কোনো কোনো ব্যক্তির এলার্জির জন্য দায়ী।

৩. ঔষধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ফলেও এ রোগের সৃষ্টি হতে পারে। ফোঁড়া, পাঁচড়া, মাথা ব্যথা, জ্বর, শরীর ব্যথা ইত্যাদির জন্য পেনিসিলিন ও অ্যাসপিরিন জাতীয় ওষুধ আমরা ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন ছাড়াই খেয়ে থাকি। পেনিসিলিন ও অ্যাসপিরিন থেকে শরীরে এলার্জিজনিত চুলকানি হতে পারে। তাই ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া কোন ওষুধ সেবন করা যাবে না।

৪. দূষিত বাতাস, ধোঁয়া, কাঁচা রংয়ের গন্ধ, চুনকাম ইত্যাদি দেহে এলার্জিক বিক্রিয়া সৃষ্টি করে। এতে হাঁপানি বেড়ে যাওয়ার মারাত্মক আশঙ্কা রয়েছে। যারা হাঁপানিতে ভুগছেন তাদের এগুলো পরিত্যাগ করা বাঞ্ছনীয়। কোনো কোনো খাদ্য ছত্রাক দ্বারা দূষিত হয়ে থাকে। পনির, পাউরুটি এবং কেক তৈরিতে ছত্রাক ব্যবহৃত হয়। এ ছত্রাক এলার্জির অন্যতম কারণ।

৫. ঘরের ধুলোতে মাইট নামক এক ধরনের ক্ষুদ্র জীবাণু থাকে, যা শতকরা প্রায় ষাট শতাংশ ক্ষেত্রে এলার্জি সৃষ্টির জন্য দায়ী। ঝাড়ু দেয়ার সময় এবংকম্বল, পর্দা, তোষক, বালিশ, আসবাবপত্র প্রভৃতিতে যে ধুলো জমে, তা পরিষ্কার করার সময় মুখে মাস্ক বা রুমাল ব্যবহার করুন।

৬. বাবা মা কেউ এলার্জিতে আক্রান্ত থাকলেসন্তানের মাঝে এলার্জি হওয়ার অধিক আশঙ্কা থাকে।

বাতাসে (বিশেষ করে শীতকালে) যখন ফুলের রেণু বেশি থাকে তখন এলার্জির প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। শিল্পোন্নত দেশগুলোতে বায়ু দূষণের পরিমাণ বেশি হওয়াতে সেখানে এলার্জির প্রকোপও বেশি।

এলার্জি জাতীয় খাবার

বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দেখা যায় হাঁসের ডিম, গরুর মাংস, ফার্মের মুরগী, বেগুন, মিষ্টিকুমড়ো ইত্যাদি খাবার শরীরে অ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়া তৈরি করে থাকে। কোনো একটি খাবারে একজনের শরীরে অ্যালার্জিজনিত সমস্যা হলে, সে খাবারটি অন্যজনের শরীরেও অ্যালার্জি তৈরি করবে এমন নয়। তবে যাদের অ্যালার্জির সমস্যা বেশি আছে, তাঁদের অ্যালকোহল, চা এবং কফি পান না করাই ভালো। কিছু কিছু খাবারে এলার্জির মারাত্মক আশঙ্কা থাকে; যেমন- দুধে, বিশেষ করে গরুর দুধে শিশুদের এলার্জি হতে পারে। এছাড়া পেয়াজ, রসুন, আপেল, আঙ্গুর, তরমুজ, চকোলেট ইত্যাদি কোনো কোনো ব্যক্তির এলার্জি সৃষ্টি করতে পারে। চলুন, এলার্জি জাতীয় কিছু মাছের কিছু তালিকা দেখে নেই-
  • চিংড়ি
  • পাঙ্গাস
  • বোয়াল
  • ইলিশ
এছাড়াও কতিপয় ছোট মাছে অনেকের এলার্জি হতে পারে। যেমনঃ পুঁটি মাছ, বেলে মাছ, শিং মাছ ইত্যাদি। খাবারে অ্যালার্জির কারণে বেশ কিছু সমস্যা (যেমন- বমি, মাথাব্যথা, পেট ব্যথা, ডায়রিয়া ইত্যাদি) দেখা দিতে পারে। কোনো খাবারে অ্যালার্জিজনিত সমস্যা হলে, সেই খাবারটি খাওয়া যথাসম্ভব এড়িয়ে চলুন।  

এলার্জিজনিত সমস্যা ও উপসর্গ

এলার্জি অত্যন্ত সংকটজনক, যা হঠাৎ শুরু হয় এবং চরম পর্যায়ে মানুষের মৃত্যুও ঘটাতে পারে। সাধারণত এলার্জেনের প্রভাবে কয়েক মিনিট বা ঘণ্টার ব্যবধানে চুলকানিযুক্ত ফুসকুড়ি, গলা ফোলা, এবং নিম্ন রক্তচাপসহ বেশ কিছু উপসর্গ প্রকাশ পেতে থাকে। চলুন, বিভিন্ন ধরনের এলার্জির লক্ষণগুলো  সমন্ধে জেনে নিই- ফুড এলার্জি খাদ্যে এলার্জিজনিত উপসর্গগুলি হলো- ত্বক লাল হয়ে যাওয়ার সাথে সাথে চুলকানি, নাক বন্ধ হয়ে যাওয়া, বমির ভাব, উদরাময় ইত্যাদি। কোনো কোনো ক্ষেত্রে খাদ্যের এলার্জি থেকে এনাফাইল্যাক্সিস-ও হতে পারে। এর ফলে-
  • দম বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়
  • জিভ, গলা এবং ঠোঁট ফুলে যায়
  • হাত এবং পায়ে ঝিঁ ঝিঁ করে
খাদ্যে এলার্জির কারণ-
  • জন্মের পরপর একাধিকবার
  • ডায়রিয়াজনিত রোগে ভোগা
  • জীবনের শুরুতেই নানাবিধ
  • এন্টিবায়োটিকস্ ঔষধ গ্রহণসহ
  • যাদের পরিপাকতন্ত্র একটু দেরিতে পরিণত অবস্থার দিকে এগোয় তাদেরও খাবারে এলার্জি দেখা দেয় এছাড়া কোনো কারণে পরিপাকতন্ত্রের ব্যাক্টেরিয়াল ফ্লোরা বিপর্যস্ত হলেও ফুড এলার্জি দেখা দেয়।
এলার্জিক রাইনিটিস ধূলিকণা, কুকুর ও বিড়ালের লোম, ছত্রাক ইত্যাদি এলার্জিক রাইনিটিসের জন্য দায়ী। নিঃশ্বাসের সাথে এ জাতীয় জীবাণু যখন নাকের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে, তখন নাক সংলগ্ন কান, সাইনাস এবং গলাও সংক্রমিত হয়। উপসর্গ:
  • নাক দিয়ে অনবরত পানি ঝরা
  • নাক বন্ধ হয়ে যাওয়া
  • নাকে চুলকানো
  • অতি মাত্রায় হাঁচি
  • কান ও গলা চুলকানো, খুসখুস করা ইত্যাদি।
এলার্জিক এ্যাজমা বা হাঁপানী শ্বাস-প্রশ্বাস জনিত এ সমস্যায় ফুসফুস ও এর অভ্যন্তরভাগে প্রদাহের সৃষ্টি হয়। ফলে ফুসফুসে বাতাস প্রবেশের পথ সংকীর্ণ হয়ে পড়ে। উপসর্গ:
  • প্রথম দিকে সর্দি-কাশি বা শুকনো কাশি শুরু হয়, ক্রমশ শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়
  • নিঃশ্বাসে শো শো শব্দ হয়, দম বন্ধ হয়ে আসার উপক্রম হয় ইত্যাদি।
এলার্জিক কনজাংকটিভাইটিস বা চোখের এলার্জি শরীরের অন্যান্য অংশের মত চোখেও এলার্জির সৃষ্টি হয়। ঋতু পরিবর্তনের সময় এ ধরনের এলার্জি বেশি দেখা যায়। এছাড়া কাজল, আইলাইনার, মাসকারা ইত্যাদি প্রসাধনীও অনেক সময় চোখের এলার্জির কারণ হয়। উপসর্গ:
  • সমস্ত চোখ বিশেষ করে চোখের পাতার নীচে লাল হওয়া
  • চুলকানির ফলে চোখ ফুলে ওঠা
  • চোখ ছলছল করে পানি পড়া।
হাইভস্ এলার্জিক ও নন এলার্জিক উভয় ব্যক্তির শরীরেই হাইভস দেখা দিতে পারে। বিশেষ কোন খাবার বা ওষুধের কারণে শরীরের যে কোনো অংশের ত্বকে এ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। উপসর্গ:
  • তীব্র চুলকানি
  • ত্বক লাল হয়ে ফুলে যাওয়া
এলার্জিক শক এলার্জির কারণে শরীরের একাধিক অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংক্রমিত হয়। হরমোনাল ইনজেকশন বা কোনো পোকামাকড়ের হুল দ্বারা এ ধরনের প্রতিক্রিয়া হতে পারে। উপসর্গ:
  • দ্রুত শ্বাস নেওয়া, সাথে শো শো আওয়াজ হওয়া, গলা শুকিয়ে আসা।
  • নাক বন্ধ হওয়া
  • ব্লাড প্রেসার কমে যাওয়া
  • সমস্ত ত্বক লাল বর্ণে রূপ নেওয়া।
  • মুখ মণ্ডল, ঠোঁট, গলা এবং জিহ্বা ফুলে যাওয়া।
  • যেখান কীট-পতঙ্গ কামড়ায় বা হুল ফোটায় সেখানে চুলকানি, ছুলি এবং অবশেষ ছোট ফোসকা পড়ে, যার ভিতরে পুঁজের মতন বস্তু থাকে
  • বমি বমি ভাব
এছাড়া পাকস্থলী ও অন্ত্রের উপসর্গের মধ্যে পেশির সঙ্কোচনজনিত পেটে ব্যথা, ডায়রিয়া ইত্যাদি অন্যতম। আক্রান্ত ব্যক্তি মূত্রথলীর নিয়ন্ত্রণও হারাতে পারে, এবং নিতম্বে (pelvis) জরায়ুর সংকোচনের কারণে ব্যথা অনুভূত হতে পারে। মস্তিষ্কের চারপাশের রক্তনালীসমূহের বিস্তৃতির কারণে মাথাব্যথা হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এলার্জির সংক্রমণ

শ্বেত রক্তকণিকা আমাদের শরীরের ইমিউনিটি সিস্টেমকে শক্তিশালী করে তোলে। রক্তকোষে এক ধরনের আইজি এন্টিবডি উৎপন্ন হয়। এলার্জেন(যা এলার্জির জন্য দায়ী) কোনো কারণে দেহের সংস্পর্শে এলে এটি আইজি এন্টিবডির সাথে মিশে ত্বকের নিচে, শ্বাসনালীতে, নাকে ও অন্ত্রে অবস্থিত মাস্টসেলকে ভেঙে ফেলে। ফলে মাস্টসেল থেকে হিস্টামিন, সেরোটনিন ইত্যাদি নির্গত হয়ে রক্তনালীর উপর প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে এবং এতে এলার্জির প্রভাব দেখা দেয়।  

প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নীরিক্ষা

এলার্জির চিকিৎসা শুরুর আগে রক্ত পরীক্ষা করে নেয়া জরুরি। এর ফলে রক্তে ইয়োসিনোফিলের মাত্রা বেশি আছে কিনা তা নির্ণয় করা যায়। হাঁপানি রোগীর ক্ষেত্রে অবশ্যই বুকের এক্সরে করে নেয়া দরকার, এটা জানার জন্য যে অন্য কোনো কারণে শ্বাসকষ্ট হচ্ছে কিনা। আবার, স্কিন প্রিক টেস্টের মাধ্যমে রোগীর চামড়ায় বিভিন্ন এলার্জেন দিয়ে এ পরীক্ষা-নীরিক্ষা করে নির্ণয় করা হয় কোন কোন জিনিসে রোগীর এলার্জি আছে। স্পাইরোমেট্রি পরীক্ষার মাধ্যমে রোগীর ফুসফুসের অবস্থা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।  

এলার্জির চিকিৎসা

চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ প্রয়োগের মাধ্যমে এলার্জি অনেকটা উপশম করা যায়। অনেকের ধারণা এলার্জি একবার হলে আর সারবে না। সংক্রমণের প্রাথমিক অবস্থায় যথাযথ চিকিৎসায় এলার্জি পুরোপুরি ভালো হয়। তবে অবহেলা করলে এবং রোগ দীর্ঘসময় ধরে থাকলে চিকিৎসা একটু কঠিন হতে পারে। এলার্জেন পরিহার: এলার্জির প্রধান ওষুধ হল এন্টিহিস্টামিন ও নেসাল স্টেরয়েড। এন্টিহিস্টামিন ও নেসাল স্টেরয়েডের ব্যবহারে উপসর্গ তাৎক্ষণিকভাবে প্রশমিত হয়। তবে স্টেরয়েডে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থাকে বিধায় এ ওষুধ এক নাগাড়ে বেশিদিন ব্যবহার করা উচিৎ নয়। নিয়মিতভাবে ‘জল নেতি’ করে নাক পরিষ্কার রাখলে বাতাসে বয়ে আসা এলার্জেন থেকে বাঁচতে পারবেন। ভ্যাকসিন বা ইমুনোথেরাপি: এলার্জি ভ্যাকসিন বা ইমুনোথেরাপির মাধ্যমে শরীরে এলার্জির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে উঠে। এ প্রক্রিয়ায় কোনো অ্যালার্জিক ব্যক্তির শরীরে ভ্যাকসিন বা ইমুনোথেরাপি ইনজেক্ট করে এলার্জেনের সংবেদনশীলতা কমিয়ে আনা হয়। কিভাবে কাজ করে :

১. ইমুনোথেরাপি রক্তে আইজিই( IgE- Immunoglobulin E)’র মাত্রা ধীরে ধীরে কমিয়ে দেয়, যা এলার্জির জন্য দায়ী।

২. রক্তকোষে আইজিজি(IgG-Immunoglobulin G)’র মাত্রা বাড়িয়ে দেয়, যা অ্যালার্জি প্রতিরোধ করে।

৩. হিস্টামিন নিঃসরণের পরিমাণ হ্রাস করে।

বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতে ইমুনোথেরাপি’র মাধ্যমে এলার্জির চিকিৎসা দেওয়া হয়ে থাকে। এটাই এলার্জিক রাইনাইটিস রোগীদের দীর্ঘমেয়াদে সুস্থ থাকার একমাত্র চিকিৎসা পদ্ধতি।

 

এলার্জির চিকিৎসা

এলার্জিতে ফুলে যাওয়া কমাতে এলার্জি-প্রতিরোধী ওষুধ, যেমন-এন্টিহিস্টামাইনস সাহায্য করে। এন্টিহিস্টামাইনস্ হিস্টামাইন নামক রাসায়নিকের নিঃসরণকে ব্যাহত করে এবং নাক থেকে জল পড়া এবং নাক বন্ধ হওয়া থেকে মুক্তি দেয়। ডিকনজেস্টান্টস্ নাকের ভিতরের পর্দাগুলোর ফোলা কমায়। ত্বকে ফুসকুড়ির ছড়িয়ে পড়া বন্ধ করার জন্য কর্টিকোস্টেরয়েড ব্যবহার করা হয়। যদি কারো তীব্র এলার্জিক প্রতিক্রিয়ার আশঙ্কা থাকে, তাদের হাতের কাছে এপিনেফ্রিন ইনজেকশান রাখা দরকার।  

এলার্জির ভেষজ ঔষধ

চলুন, এলার্জি প্রতিরোধে কিছু ভেষজ ঔষধের ব্যবহার দেখে নিই- নিম পাতা নিম পাতা ত্বকের যে কোনো সমস্যা সমাধানে অনেক কার্যকর। নিম পাতা সিদ্ধ করে সেই পানি দিয়ে গোসল করলে খোসপাঁচড়া চলে যায়। পোকামাকড় হুল ফোটালে নিমের মূলের ছাল বা পাতা বেটে ক্ষতস্থানে লাগালে ব্যথা উপশম হয়। ব্যবহার: নিমপাতা রোদে শুকিয়ে গুঁড়ো করে নিন। এক চা চামচের ৩ ভাগের ১ ভাগ নিমপাতার গুঁড়ো এবং ১ চা চামচ ইসবগুলের ভুষি ১ গ্লাস পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। ১/২ ঘণ্টা পর চামচ দিয়ে ভালো করে মিশিয়ে নিন। প্রতিদিন সকালে খালি পেটে, দুপুরে ভরা পেটে এবং রাতে শোয়ার আগে খান। ইনশা’আল্লাহ এলার্জির সমস্যা দূর হয়ে যাবে। তুলসী পাতা কর্পূর সমৃদ্ধ তুলসী পাতা ত্বকের যেকোন ধরণের জ্বালাপোড়া ও চুলকানি কমাতে সহায়তা করে। তুলসির কাঁচা পাতার রস বা বিচির থেতলানের পর রস কিছুটা গরম করে সংক্রমিত জায়গায় লাগালে এলার্জি ভালো হয়। অথবা খানিকটা আদা ও তুলসি পাতা পানিতে ফুটিয়ে তাতে এক কাপ মধু মিশিয়ে দিনে ৪ থেকে ৫ বার খেলেও উপকার পাবেন। কলা অ্যালার্জির প্রাদুর্ভাব দেখা দিলে তাৎক্ষণিকভাবে কলা খেলে অ্যালার্জির বিড়ম্বনা থেকে মুক্তি পেতে পারেন। কলার চামড়ায় প্রচুর পরিমাণে ফ্যাটি উপাদান বিদ্যমান, যা ত্বককে ময়েশ্চারাইজড্ করে তোলে। ব্রণ দূর করার জন্যও কলার চামড়া ব্যবহার করা হয়। লেবু লেবুর রস মেশানো পানি এবং মধু শরীরের জন্য ভারি উপকারি ডিটক্সিফাইং পানীয়। এটি নিয়মিত পান করলে শরীরের টক্সিক পদার্থগুলো বের হয়ে আসবে এবং অ্যালার্জির সমস্যা কমে যাবে। বিশেষ করে লেবুর ভোলাটাইল তেল শরীরের যেকোন রকমের চুলকানি দূর করতে সাহায্য করে। লেবু টুকরা করে কেটে নিয়ে চুলকানির স্থানে কিছুক্ষণ ঘষুন, চুলকানি কমে যাবে। গ্রিন টি গ্রিন টি-তে বিদ্যমান এন্টি-অক্সিডেন্ট, এন্টি-হিস্টাসিন এলার্জিক প্রতিক্রিয়া হ্রাস করতে সাহায্য করে। এটি চোখে লাল ভাব, র‌্যাশ বেরোনো ইত্যাদি প্রতিরোধ করে। কফি, কোমল পানীয় ইত্যাদির অভ্যাস পরিহার করুন। এর পরিবর্তে দৈনিক দু-তিন বার গ্রিন টি খান। আদা আদা গ্যাস্ট্রোইন্টেস্টাইনাল এবং অ্যালার্জির সমস্যা প্রতিরোধ করে। বমি ভাব, মাথা ঘোরানো, হজমের সমস্যা এমনকি ডায়রিয়া নিরাময়েও আদা খুব উপকারি। খানিকটা আদা কুঁচি কুঁচি করে কেটে গরম পানিতে ফুটিয়ে তাতে মধু মিশিয়ে নিয়মিত খান, এলার্জির বিড়ম্বনা থেকে মুক্তি পাবেন। অ্যাপেল সিডার ভিনেগার অ্যাপেল সিডার ভিনেগারে বিদ্যমান অ্যাসিটিক অ্যাসিড এলার্জেনের সংক্রমণকে প্রতিরোধ করে। ১ গ্লাস পানিতে ২ চামচ ভিনেগার মিশিয়ে নিয়মিত পান করলে এলার্জি সমস্যা দূর হয়। ব্রোমেলিন ব্রোমেলিন শরীরে প্রদাহ জনিত প্রতিক্রিয়া কমায়। নিয়মিত ব্রোমেলিনসমৃদ্ধ খাবার খান, এলার্জির সমস্যা লাঘব হবে। উৎস: আনারস জিংক জিংকসমৃদ্ধ খাবারে অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল এজেন্টস্ থাকে যা এলার্জেনের প্রতিক্রিয়া হ্রাস করতে সহায়ক। ওয়েস্টার মাশরুম জিংকের সবচেয়ে ভালো উৎস। মিষ্টি কুমড়ার বীজ, শিম বীজ, বাদাম, সূর্যমুখীর বীজ ইত্যাদিতেও প্রচুর পরিমাণে জিংক রয়েছে। প্রাণিজ জিঙ্কের প্রধান উৎস হল মুরগীর মাংস। এলার্জি থেকে বাঁচতে নিয়মিত জিংকসমৃদ্ধ খাবারের অভ্যাস গড়ে তুলুন। ক্যারোটিনয়েড ক্যারোটিনয়েড হলো উদ্ভিদের মধ্যস্থিত রঞ্জক বা রঙিন পদার্থ। এসবের মধ্যে ক্যারোটিন, বিটা ক্যারোটিন, লুটিন, লাইকোপেন, ক্রিপটোজেন্থিন এবং জিজেন্থিন থাকে যা এলার্জিক প্রতিক্রিয়ায় ভালো কাজ করে। উৎস: সবুজ, হলুদ অর্থাৎ রঙিন শাক-সবজি (যেমন- গাজর, মিষ্টি কুমড়া, হলুদ, পালংশাক, ডাটা শাক ইত্যাদি)। অনন্তমূল অনন্তমূল এক ধরনের লতানো উদ্ভিদ। এতে প্রচুর পরিমাণে স্টেরল, টার্পিন, লুপিয়ল, স্যাপোনিন ও ট্যানিন বিদ্যমান, যা এলার্জেন প্রতিরোধক। এছাড়া গাছের পাতায় ও শিকড়ে টাইলোফিরিন থাকে যা এলার্জিজনিত শ্বাসনালীর প্রদাহসহ অ্যাজমার প্রতিষেধক হিসেবে কাজ করে। ব্যবহারবিধি: ১-৩ গ্রাম মূল অথবা গাছের চূর্ণ দিনে দু’বার খাবারের পর খেলে খোস পাঁচড়া , কুষ্ঠরোগ, শ্বেতি, চুলকানিসহ সব ধরনের চর্মরোগ থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। শরীরের প্রদাহ ও ব্রণে অনন্তমূল পেস্টের মতো তৈরি করে কুমুম গরম পানি মিশিয়ে প্রলেপ দিলে দ্রুত উপশম হবে, ইনশা’আল্লাহ। অথবা ৩ গ্রাম অনন্তমূল বেটে খানিকটা সৈন্ধবলবণ মিশিয়ে শরবতের মতো প্রতিদিন দু’বার খান। একজিমা ও হাঁপানির সমস্যা থাকলে তা সেরে যাবে। ইউক্যালিপটাস তেল মাথা যন্ত্রণা, নাক দিয়ে পানি পড়া ইত্যাদির প্রতিকারে এক বাটি গরম পানিতে কয়েক ফোঁটা ইউক্যালিপটাস তেল নিয়ে তার ভাঁপ নিন। এতে নাক বন্ধ হওয়া, নাকের ভিতরে অ্যালার্জির কারণে কোনো প্রদাহ থাকলে তা থেকেও রেহাই মেলে। দুগ্ধজাত পদার্থ খাওয়ার পাতে টক দই, ছানা ইত্যাদি দুগ্ধজাত খাদ্য রাখুন। এদের প্রোবায়োটিক উপাদান শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বহুগুণে বাড়িয়ে দেয়। ফলে ধুলোবালির কারণে এলার্জেনের প্রতিক্রিয়া সৃষ্টির আশঙ্কা কমে। ঘি এক চামচ খাঁটি ঘি তুলোয় নিয়ে চুলকানির জায়গায় লাগান, আরাম পাবেন। নিয়মিত ঘি খেলেও ঠান্ডা লাগা বা এলার্জির প্রবণতা কমবে। দ্রুত ফল পেতে, ৫ থেকে ৭ ফোঁটা ঘি নারিকেল কোরায় মিশিয়ে খান। অলিভ অয়েল অলিভ অয়েলে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্টস ও ভিটামিন ই যা ত্বককে এলার্জেনের প্রতিক্রিয়া থেকে রক্ষা করে। ব্যবহার: খানিকটা গরম পানিতে এক কাপ এক্সট্রা ভার্জিন অয়েল, এক কাপ নারকেল তেল ও চার টেবিল চামচ মোম নিন। এরপর এতে আট ফোঁটা ল্যাভেন্ডার এসেনশিয়াল অয়েল যোগ করুন। তৈরিকৃত মলমটি প্রতিদিন আক্রান্ত স্থানে লাগিয়ে ম্যাসাজ করুন। অ্যালোভেরা অ্যালোভেরাতে প্রচুর পরিমাণে মশ্চারাইজিং ক্ষমতা রয়েছে। চুলকানির জায়গায় এক টুকরা অ্যালোভেরা কেটে ঘষুন, চুলকানি চলে যাবে। অ্যালার্জির কারণে মাঝে মাঝে ত্বকে লালচে দাগ দেখা যায়। এ দাগ দূর করতে গোসলের পানিতে অ্যালোভেরার রস মিশিয়ে ত্বকে লাগান। অ্যান্টিঅক্সিডেন্টস্ অনেক সময় পাকস্থলীতে প্রোটিনের আধিক্য হলেও অ্যালার্জির প্রাদুর্ভাব দেখা দিতে পারে। তাই, এলার্জি প্রতিরোধে নিয়মিত অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট-সমৃদ্ধ খাবার খান। উৎস: কাঁচা মরিচ, বাঁধাকপি, আলু, বাতাবি, টমেটো, পেয়ারা, কামরাঙ্গা ইত্যাদি। শসা এবং গাজরের রস তাৎক্ষণিক এলার্জির সমস্যা দূরীকরণে শসা এবং গাজরের রস দারুণ উপকারি। এগুলোতে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি-এলার্জিক উপাদান বিদ্যমান, যা দেহ কোষগুলোকে এলার্জেনের প্রতিক্রিয়া রুখতে সাহায্য করে। ক্যাস্টর অয়েল ক্যাস্টর অয়েল শুধুমাত্র আপনার চুলের সমস্যায় নয়, এলার্জির অস্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া প্রতিরোধেও সহায়ক। তাই নিয়ম করে প্রতিদিন সকালে এক কাপ পানিতে ৫-১০ ফোঁটা ক্যাস্টর অয়েল মিশিয়ে খান। আপনার শিশুকে ছোট থেকেই সব ধরনের খাবার, ফল ও সবজি খাওয়ানোর অভ্যাস করুন। এর ফলে সে খাদ্যজাত এলার্জির হাত থেকে মুক্ত থাকবে।

এলার্জি প্রতিরোধে বাড়তি সতর্কতা :

১. গোসলখানার জানালা সবসময় খোলা রাখুন, যাতে পর্যাপ্ত আলো-বাতাস প্রবেশ করতে পারে। মেঝে, প্যান, বাথটাব ক্লিনার দিয়ে নিয়মিত পরিষ্কার করুন। ২. রান্নার সময় মশলার ঝাঁঝাঁলো গন্ধ এড়াতে মুখে মাস্ক বা শুকনো কাপড় ব্যবহার করুন। ৩. ধুলোবালি থেকে বাঁচতে শিশুদের খেলনা, শোপিস, জুতা, ফ্যান, এসি, ঝাড়বাতি ইত্যাদি নিয়মিত ঝাড় দিন। ৪. গৃহপালিত পশুপাখি থাকলে তাকে নিয়মিত গোসল করান এবং থাকার জায়গা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখুন। উচ্ছিষ্ট খাবার থাকলে তা নির্দিষ্ট জায়গায় ফেলে দিন। ৫. বিছানার চাদর, বালিশের কভার, মশারি ভালো করে ধুয়ে পরিষ্কার রাখুন। লেপ-কম্বল রোদে শুকিয়ে নিন, যাতে সূর্যের আল্ট্রা-ভায়োলেট রশ্মিতে হাউজ ডাস্ট মাইট মরে যায়। এক সপ্তাহ পর পর ভেজা কাপড় দিয়ে দরজা এবং জানালা পরিষ্কার করুন। ৬. রাস্তা-ঘাটে চলাচলের সময় ধুলোবালি থেকে বাঁচতে মাস্ক ব্যবহার করুন। ৭. উচ্চ মাত্রার সুগন্ধি ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন। স্প্রে করার সময়ও নিরাপদ দূরত্বে অবস্থান করুন। ৮. ফ্রিজের পানি এবং ঠান্ডা খাবার গ্রহণ করা যথাসম্ভব পরিহার করুন। ৯. ভিটামিন-ডি আমাদের শরীরকে এলার্জি প্রতিরোধে সক্ষম করে তোলে। তাই, সকালের রোদে দৈনিক কমপক্ষে ১/২ ঘন্টা সময় কাটান। ১০. যে কোন ওষুধ খাওয়ার আগে চিকিৎসকের কাছ থেকে আগে এর সাইড ইফেক্ট সম্পর্কে জেনে নিন। ভ্রমণের সময় অ্যালার্জি প্রতিরোধক মেডিসিন সাথে রাখুন। শারীরিক সুস্থতা প্রাত্যহিক জীবনের আনন্দ উপভোগের জন্য অপরিহার্য। দেহের ক্ষয়পূরণ ও কর্মোদ্যম ফিরিয়ে আনতে পরিপূর্ণ বিশ্রামও প্রয়োজন। পাশাপাশি মানসিক প্রশান্তির জন্য নিয়মিতভাবে ভ্রমণ,খেলাধুলা, বনভোজন এবং বই পড়ুন, প্রাণোচ্ছ্বল থাকুন। Source: https://www.healthline.com/health/home-remedies-for-allergies https://www.webmd.com/allergies/allergy-education-17/slideshow-natural-relief https://www.verywellhealth.com/natural-allergy-remedies-89245 https://food.ndtv.com/health/5-remarkable-home-remedies-for-seasonal-allergies-1676578
আপনার পছন্দের লেখাগুলো নিয়মিত পেতে ইমেইল দিয়ে এখনি সাবস্ক্রাইব করুন।
সর্বশেষ পোস্টগুলো
আমার ওজন কমানোর গল্প

আমার ৩৪ কেজি ওজন কামানোর কথা

home remedies for insomnia

অনিদ্রা দূর করার উপায় । ১০ টি ঘরোয়া ঔষধ

আঁচিলের প্রাকৃতিক চিকিৎসা

আঁচিলের প্রাকৃতিক চিকিৎসা

আমার ওজন কমানোর খাবার তালিকা

আমার ওজন কমানোর খাবার তালিকা বা ডায়েট চার্ট

অতিরিক্ত ওজন কমানোর ঔষধ

ওজন কমানোর প্রাকৃতিক ঔষধ

ওজন বাড়ানোর খাবার তালিকা

কফ কাশির প্রাকৃতিক ঔষধ

কফ বা কাশির প্রাকৃতিক চিকিৎসা

কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করার উপায়

কোষ্টকাঠিন্য থেকে মুক্তির উপায়

গরম পানি খাওয়ার উপকারিতা

গরম পানি খাওয়ার ১০ টি উপকারিতা

খুশকি দূর করার উপায়

ঘরে বসে খুশকি দূর করার সহজ ১০টি উপায় । খুশকি দূর করার প্রাকৃতিক শ্যাম্পু

চুল পরা বন্ধের উপায়

চুল পড়া বন্ধের প্রাকৃতিক ঔষধ 

দ্রুত ওজন বাড়ানোর উপায়

দ্রুত ওজন বারানোর উপায়

বমি দূর করার উপায়

বমি দূর করার উপায় | বমি হলে করনীয়

ব্যায়াম ছাড়া ওজন কমানোর উপায়

ব্যায়াম ছাড়া ওজন কমানোর ৯ টি সহজ উপায়

দ্রুত ওজন কমানোর খাবার তালিকা

মাসে ১০ কেজি ওজন কমানোর ডায়েট চার্ট




Categories

এইডস রোগের উৎপত্তি, লক্ষণ ও চিকিৎসা

সমাজের চোখে এইডস রোগীরা ব্রাত্য। এইডস বেশিরভাগ ক্ষেত্রে অসুরক্ষিত যৌন সঙ্গম থেকে হয়ে থাকে। তবে এটাই এইডস হওয়ার একমাত্র কারণ নয়। ছোট্ট শিশু এইচআইভি পজিটিভ নিয়ে জন্মায় কারণ তার বাবা-মা কেউ একজন এই ভাইরাসের ধারক। তাই, ডাক্তাররা বিয়ের আগে রক্তপরীক্ষা করা আবশ্যক বলে মনে করছেন।

তবে এইচআইভি পজিটিভ নয় এমন ব্যক্তিরাও অনেক সময় এইডসে আক্রান্ত হন। কারণ বিরল প্রজাতির কিছু ক্যানসার থেকেও এইডস হতে পারে। এটি আপনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নষ্ট আপনার সুস্থ জীবনধারাকে অস্বাভাবিক করে তুলতে পারে, এজন্য সতর্ক থাকুন।

 

এইডস রোগের উৎপত্তি

কঙ্গোর রাজধানী কিনসাসাতে ১৯২০ সালে প্রথম এইচআইভি ভাইরাসের সংক্রমণ ঘটে। মূলত কঙ্গো ১৯০৮ থেকে ১৯৬০ সাল পর্যন্ত বেলজিয়ান ঔপনিবেশিক শাসনের অধীনে ছিল। ঐসময় প্রতিবছর প্রায় ১০ লাখ লোক রেলে কিনসাসায় যাতায়াত করতো। বিভিন্ন দেশ থেকে লোকসমাগম এবং অস্বাস্থ্যকর জীবন-যাপনের ফলে কঙ্গোতে এইচআইভি’র সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

এ রোগের বিস্তারের জন্য দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধও অনেকাংশে দায়ী। যুদ্ধকালীন সময়ে একই সিরিঞ্জ বারবার ব্যবহার করে আহত সৈন্যদের অনিরাপদ পদ্ধতিতে চিকিৎসা দেয়ার কারণে সংক্রমণ অতিমাত্রায় বৃদ্ধি পায়। আফ্রিকান দেশগুলোর অনিরাপদ যৌনপল্লীগুলোও এ ভাইরাসের সংক্রমণের অন্যতম কারণ।

১৯৮১ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের গবেষকরা সর্বপ্রথম এইডস এর ভাইরাস শনাক্ত করে এর নাম দেন হিউম্যান টি-সেল লিম্ফোট্রপিক ভাইরাস, সংক্ষেপে HTLV (III) । পরবর্তীতে ১৯৮৪ সালে ফ্রান্সের গবেষকরা এ মরণব্যাধি ভাইরাসের নাম দেন ‘লিম্ফাডেনোপ্যাথি অ্যাসোসিয়েটেড ভাইরাস’ (Lymphadenopathy Associated Virus), সংক্ষেপে ‘লাভ’ (LAV)। এর ২ বছর পর এ ভাইরাসের নতুন নামকরণ করা হয় হিউম্যান ইমিউনো ডেফিসিয়েন্সি ভাইরাস (Human Immuno-deficiency Virus-HIV)।

 

এইচ আই ভি/এইডস সংক্রমণের তিনটি ধাপ

এইচআইভি’র সংক্রমণ তিনটি পর্যায়ে হয়ে থাকে। সঠিক সময়ে চিকিৎসা না নিলে এটি আপনার ইমিউনিটি সিস্টেমকে পুরোপুরি নষ্ট করে দিতে পারে।

এই স্তরগুলি হলো –



প্রথম স্টেজ: অ্যাকিউট এইচআইভি ইনফেকশান

প্রাথমিকভাবে এইচআইভি ভাইরাসে সংক্রমিত হলেও মারাত্মক কোনো প্রভাব শরীরে পড়ে না। তবে এইচআইভি সংক্রমিত ব্যক্তি এসময় ঘনঘন অসুস্থ হয়ে পড়তে পারেন। এ শারীরিক অবস্থাকে বলা হয় রেট্রোভাইরাল সিনড্রম বা প্রাথমিক এইচআইভি সংক্রমণ। এইডসের প্রথম স্টেজে ফ্লুর মতো জ্বর হয়, আবার ১-২ সপ্তাহ পরে সেরেও যায়। এছাড়া এ স্তরে এইডস এর আরো বেশ কিছু উপসর্গ দেখা যায়; যেমন- পেটের প্রদাহ, মাথাঘোরা, বমিভাব, ক্লান্তি, পেশীর ব্যথা, গলা ব্যথা, গাঁট ফুলে যাওয়া, শরীরের ঊর্ধ্বাংশ বা টরসোতে লাল লাল গোটা গোটা দাগ, তীব্র জ্বর ইত্যাদি। অসুরক্ষিত যৌন সঙ্গম বা অন্যান্য কারণে এইচ আই ভির ভাইরাস আপনার শরীরে প্রবেশ করতে পারে। এ ভাইরাস প্রতিরোধের জন্য আপনি অ্যান্টি-এইচআইভি ওষুধ খেতে পারেন। তবে ডাক্তারের পরামর্শ নেয়া বাঞ্ছনীয়, কারণ এসব পিইপি (PeP- Post-exposure Prophylaxis) ওষুধের অনেক ক্ষতিকর পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া রয়েছে।

দ্বিতীয় স্টেজ: ক্রনিক এইচআইভি ইনফেকশান

এইচআইভি সংক্রমণের দ্বিতীয় স্তরকে অ্যাসিম্পটোম্যাটিক বা ক্লিনিক্যালি লেটেন্ট পিরিয়ড বলে। এ সময় এইচআইভি’র সংক্রমণ বা এইডস এর লক্ষণ বোঝা যায় না। আর সে কারণেই দ্বিতীয় স্টেজ খুবই ভয়ঙ্কর। আপনি বুঝতেই পারবেন না আপনার শরীরে কতটা শক্তিশালী ভাইরাস বাসা বেঁধে আছে। আর নিজের অজান্তেই রক্তদান বা অন্য কোনো উপায়ে এইচআইভি ভাইরাস অন্যের শরীরে স্থানান্তরিত হয়ে যাবে। ক্রনিক এইচআইভি ইনফেকশানের স্টেজ দশ বছর পর্যন্ত দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।

এ সময় এই ভাইরাস আপনার রক্তের সি-ডি-ফোর-টি কোষের কার্যকারিতা নষ্ট করে দিবে। রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে বোঝা যাবে আপনার রক্তে কি পরিমাণে এ কোষ বিদ্যমান। ইমিউনিটি সিস্টেম ভেঙে পড়ার কারণে আপনার রক্তে এই কোষের সংখ্যা ক্রমশ কমতে থাকবে এবং আপনি আরো দ্রুত অসুস্থ হয়ে পড়বেন। তবে সতর্কতা ও সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে আপনি এই ভাইরাসের বিরুদ্ধে শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারেন।

তৃতীয় বা অ্যাডভান্স স্টেজ: এইডস

যখন কারো রক্তে প্রতি মাইক্রো লিটারে সি-ডি-ফোর-টি কোষ ২০০’র নিচে নেমে যায়, তখন ধরে নিতে হবে এটি সংক্রমণের অ্যাডভান্সড্ স্টেজ। আবার যাদের কাপোসি’স সারকোমা (Kaposi’s Sarcoma) বা ত্বকের ক্যানসার এবং নিউমোসাইটিস নিউমোনিয়া (Pneumocystis Pneumonia) থাকে, তাদের এইডস হওয়ার আশঙ্কা অনেক বেশি। এসময় শরীরে ক্লান্তিভাব, গলা ও পেট ও থাইয়ের মাঝ বরাবর অংশে ফোলাভাব, দীর্ঘসময় ধরে জ্বর, রাত্রে ঘাম হওয়া, হঠাৎ করে ওজন কমে যাওয়া, ত্বকের উপর বেগুনি রঙের দাগ, হাঁপানি, অনেক দিন ধরে ডায়রিয়া হওয়া, মুখ, গলা ও ভ্যাজাইনাতে ছত্রাক সংক্রমণ, হঠাৎ করে রক্তক্ষরণ বা চোট পাওয়া ইত্যাদি বিভিন্ন উপসর্গ প্রকাশ পেতে থাকে।

 

এইচআইভি/এইডস এর সংক্রমণ

এইচআইভি ভাইরাস সিডি৪ টি লিমফোসাইট জাতীয় কোষের ভেতর আশ্রয় নিয়ে বেঁচে থাকে। এসব কোষ সহজে ধ্বংস হয় না, কারণ এদের মেটাবলিজম বা বিপাকীয় ক্ষমতা অতি উচ্চ। তাই এগুলোই এইচআইভির মূল লক্ষ্যবস্তু।

সাধারণত বিভিন্ন বডি ফ্লুইড বা শারীরিক তরলের মাধ্যমে একজন থেকে আরেক জনের শরীরে এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে। রক্ত, সিমেন, ভ্যাজাইনাল ও রেকটাল ফ্লুইড এবং মাতৃদুগ্ধের মাধ্যমে এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা অনেক বেশি।

এছাড়া অন্য যে উপায়ে এইচআইভি ভাইরাস অন্যের শরীরে প্রবেশ করতে পারে-

  • ১। এইচআইভি সংক্রমণ সবচেয়ে বেশি হয়ে থাকে অ্যানাল সেক্সের মাধ্যমে। সমকামী পুরুষ যারা কোনো সুরক্ষা ছাড়া অন্য পুরুষের সঙ্গে যৌন সংসর্গ করেন তাদের মধ্যে সংক্রমণের আশঙ্কা সবচেয়ে বেশি।
  • ২। অসুরক্ষিত বা অন্যের ব্যবহৃত সিরিঞ্জ অথবা সূচ ব্যবহার করলেও এইচআইভি সংক্রমণ হতে পারে।
  • ৩। ট্যাটু করলে বা নাক/কান পিয়ারসিং করলে। যদি এই যন্ত্রগুলো স্টেরিলাইজ না করা হয় তাহলে সংক্রমণের আশঙ্কা থাকে।
  • ৪। কোনো গর্ভবতী মা যদি এইচ আই ভি পজিটিভ হয়, তবে জন্মের পর তার সন্তানের রক্তেও এই ভাইরাস থাকতে পারে।
  • ৫। স্তন্যপানের সময়।
  • ৬। এইচ আই ভি পজিটিভ আছে এমন কেউ যদি আপনাকে রক্ত দেয় তাহলেও এই ভাইরাস আপনার শরীরে প্রবেশ করতে পারে।

 

এইডস এর প্রধান লক্ষণসমূহ

এইচআইভি ভাইরাস শরীরে প্রবেশ করার পর শুরুর কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ইনফ্লুয়েঞ্জার ভাব দেখা দিতে পারে। পাশাপাশি কণ্ঠনালীতে ব্যথা ও শরীরে র‍্যাশ দেখা দেয়।

অন্যান্য রোগের মতো সুনির্দিষ্ট কোনো শারীরিক পরিবর্তন এইডস আক্রান্ত রোগীর দেহে দেখা যায়। তবে প্রাথমিকভাবে বেশ কিছু উপসর্গ দেখলে আমাদের এইডস পরীক্ষার জন্য ডাক্তারের শরণাপন্ন হওয়া উচিৎ।

যেমনঃ

  • দীর্ঘ সময় ধরে শরীরে জ্বর থাকা।
  • জিভে,ঠোঁটে,গলায় ও যৌনাঙ্গে ঘা হয়ে যাওয়া।
  • শারীরিক ক্রমান্বয়ে দুর্বল হতে থাকে।
  • কোনও কিছু খাওয়ার সময় মুখে ও গলায় ব্যথা অনুভূত হওয়া।
  • শুকনো কাশি ও শ্বাসকষ্টের সমস্যা।
  • রাতের বেলা সারা শরীরে ঘাম দেখা দেওয়া।
  • শরীরের লিম্ফ নোড বা লাসিকা গ্রন্থি ফুলে যাওয়া।
  • দীর্ঘ সময় ধরে ডায়রিয়া থাকা।
  • শরীরের ওজন কমতে থাকা।
  • ধীরে ধীরে শরীরের অঙ্গ অকেজো হয়ে যাওয়া।
  • মস্তিষ্কে ক্রিপটোকোকাল মিনিঙ্গিটিস নামক এক ধরনের পরজীবির সংক্রমণ দেখা দেয়। ফলে স্মৃতিশক্তি ও দৃষ্টিশক্তি দুর্বল হয়ে পড়া।
  • ঘাড়ে ও বগলে ফোলাভাব দেখা দেওয়া।
  • চোখ, নাক, মুখ, পিঠ, গলায় লাল, গোলাপী অথবা কালো রঙের র‌্যাশ বেরোনো।
  • মুখ ও জিহ্বায় সাদা দাগ পড়ে, এমনকি মুখ বেঁকে যেতে পারে।
  • মহিলাদের ক্ষেত্রে মাসিকে সমস্যা দেখা দিতে পারে। আগের তুলনায় এসময় ব্লিডিং এর পরিমাণ কম হয়।

অনেক সময় রক্ত পরীক্ষায়ও এইডসের জীবাণু ধরা পড়ে না। এইচআইভি ভাইরাস আস্তে আস্তে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ধ্বংস করে দেয়, ফলে সামান্য অসুখেও মৃত্যুর আশঙ্কা তৈরি হয়ে পড়ে।

 

এইডস রোগী কতদিন বাঁচে

এইডসে আক্রান্ত রোগীর বেঁচে থাকার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। কোনো ব্যক্তির দেহে এইডসের ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার প্রথম দিন থেকেই তার স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হতে থাকে। কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়া এইডস রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরা প্রায় ৩ বছরের মতো বেঁচে থাকতে পারেন৷ তবে অতিমাত্রায় সংক্রমিত হলে রোগী ১ বছরের বেশি সময় বাঁচতে পারেন না।

অনেকসময় কোনো রোগীর দেহে এইডসের সম্পূর্ণ বিকাশ হতে ১০ বছরের মতো সময় লাগে। বিভিন্ন এন্টি রেট্রোভাইরাল ড্রাগ ব্যবহার করে রোগীর দেহে এইচআইভি ভাইরাসের ব্যাপ্তিকাল বাড়ানো যায়। তবে সব রোগীর দেহে এসকল ঔষধ পরিপূর্ণভাবে কার্যকর হয় না। এইডসে আক্রান্ত অধিকাংশ রোগীই রোগটি সম্পর্কে সঠিকভাবে অবগত না হওয়ায়, নিজের অজান্তেই রোগীর দেহে এইআইভি পূর্ণমাত্রায় ছড়িয়ে পড়ে। তবে বর্তমান সময়ে সঠিক প্রতিরোধ ব্যবস্থার কারণ এইচআইভি পজিটিভ ব্যক্তিও দীর্ঘদিন সুস্থ জীবনযাপন করতে পারছেন।


ডায়াগনোসিস বা এইডস টেস্ট

এইডস রোগের সংক্রমণ নির্ণয়ের দুটি প্রধান উপায় রয়েছে। প্রথমত, রোগীর দেহে সরাসরি এইচআইভি ভাইরাস শনাক্ত করা, দ্বিতীয়ত, ভাইরাসের বিরুদ্ধে তৈরি হওয়া অ্যান্টিবডিগুলো শনাক্ত করার মাধ্যমে এইডস টেস্ট করা। বেশিরভাগ সময়ই রক্ত কিংবা লালার মাধ্যমে রোগীর দেহে এইচআইভির সংক্রমণ জীবাণু পরীক্ষা করা হয়।

চিকিৎসা ব্যবস্থার উন্নতির ফলে এখন ‘ফোর্থ জেনারেশন এইচআইভি টেস্ট’ করানো সম্ভব। আগে পরীক্ষার মাধ্যমে শুধু এইচআইভি’র অ্যান্টিবডি শরীরে রয়েছে কিনা তা জানা যেত। এখন এইচআইভি অ্যান্টিবডির সঙ্গে p24 antigens-এর উপস্থিতিও নির্ণয় করা সম্ভব।

এছাড়া কেউ চাইলে ঘরে বসে নিজের দেহে এইচআইভির পরীক্ষা করতে পারেন। ‘ওরাকুইক’ নামের একটি যন্ত্রের সাহায্যে লালা পরীক্ষার মাধ্যমে এইডসের উপস্থিতির পরীক্ষা করা যায়।

 

এইডস এর চিকিৎসা

এইচআইভি রোগীর দেহে অন্যান্য সংক্রামক রোগ, যেমন হেপাটাইটিস বি বা যক্ষা ইত্যাদির প্রাদুর্ভাব দেখা দিতে পারে। অনেকসময় নার্ভের সমস্যা, হার্টের সমস্যা বা ক্যান্সারের মতো কঠিন রোগও দেখা দেয়। এমনকি গনোরিয়া, ক্ল্যামেডিয়া, সিফিলিসের মতো মারাত্মক যৌনরোগেও সংক্রমিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

এইচআইভি’র চিকিৎসা সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করে আক্রান্ত ব্যক্তির শারীরিক অবস্থার উপরে। যদি রোগীর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকে তবে তাকে নানা ধরনের অ্যান্টিরেট্রোভাইরাল ওষুধ সেবনের পরামর্শ দেয়া হয়।

পাশাপাশি ইমিউনিটি সিস্টেমে ভারসাম্য রাখতে করণীয়:

# পরিমিত পরিমাণে সুষম খাদ্য গ্রহণ করতে হবে৷ যেসব খাবার সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়াতে পারে, সেগুলি এড়িয়ে চলুন; যেমন: কাঁচা মাংস। যথাসম্ভব রান্না করা খাবার খাওয়ার চেষ্টা করুন।

# নিয়মিত ব্যায়াম করুন।

# পর্যাপ্ত পরিমাণ বিশ্রাম নিন।

এইডস রোগীর জন্য বন্ধুবান্ধব, পরিবার এবং সমাজের মানুষদের মানসিক সমর্থন অনেক গুরুত্বপূর্ণ।

 

এইডস এর ঔষধ

ফিউশন ইনহিবিটর্স এইডস এর চিকিৎসায় খুবই কার্যকরী ওষুধ যা শরীরের CD4 কোষগুলোতে এইচআইভি ভাইরাস প্রবেশে বাধা দেয়। এইচআইভি অতি অভিযোজনক্ষম হওয়ায় এটি সরাসরি দেহের টি-সেলগুলোকে সংক্রমিত করে এবং এসব সেলের প্রোটিন গ্রহণ করে স্বল্পসময়েই বংশবিস্তার করে। ইসিডিফোর-এলজি ওষুধ কোষের অভ্যন্তরে থাকা প্রোটিনের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এইডস এর চিকিৎসায় জিডোবোডিন, ল্যামিবোডিন, নেভিরাপিন, টেনোফোবিন ইত্যাদি ওষুধ প্রেসক্রাইভ করে থাকে।

এইডসের চিকিৎসায় ব্যবহৃত আরো কিছু অ্যান্টিবায়োটিকস্:

Alltera Alltera
Valten 300 Mg
Saquin Saquin 500 Mg
Ritocom 50 Mg/200 Mg
Heptavir 10 Mg
Lamimat
Dinosin 100 Mg Tablet
LAMIVIR 100MG
Dinex Ec 400 Mg

 

এইডস এর ভ্যাকসিন

এইচআইভি ভাইরাস শরীরে প্রবেশ করে শরীরের রোগ প্রতিরোধক কোষ যেমন হেলপার টি সেল, মনোসাইট, ম্যাক্রোফেজ, ডেনপ্রাইটিক সেল, চর্মের ল্যাঙ্গারহেন্স সেল, মস্তিষ্কের গ্লায়াল সেল ইত্যাদিকে আত্রমণ করে এবং ধীরে ধীরে এগুলোর কার্যকারিতা নষ্ট করে দেয়। তখন যে কোনো সংক্রামক জীবাণু সহজেই এইচআইভি আক্রান্ত ব্যক্তিকে আক্রমণ করতে পারে।

এইচআইভি সংক্রমণ প্রতিরোধে মূলত দু’ধরনের ভ্যাক্সিন প্রয়োগ করা হয়। প্রথমটি হলো প্রিভেন্টিভ বা প্রতিরোধমূলক ভ্যাক্সিন। এটি এইচআইভি নেগেটিভ ব্যক্তিদের জন্য। মৃত এইচআইভি ভাইরাস শরীরে প্রবেশ করিয়ে অ্যান্টিবডি উৎপাদনের মাধ্যমে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে তোলা হয়। আর অন্যটি হলো থেরাপিউটিক ভ্যাক্সিন, যা আক্রান্ত ব্যক্তির দেহে সংক্রমণকে নিয়ন্ত্রণ করবে এবং রোগের বিস্তারকে বাধাগ্রস্ত করবে। এই ভ্যাক্সিনগুলো শরীরের সংক্রমিত হওয়া কোষগুলো খুঁজে বের করে এবং তাদের কপি বা প্রতিলিপি তৈরি করতে বাধা দেয়।

যুক্তরাজ্যের একটি সফল গবেষণায় দেখা যায়, এইচআইভি ভাইরাসমুক্ত একজন সুস্থ মানুষের অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপনের মাধ্যমেও এইডসে আক্রান্ত ব্যক্তির দেহকে সফলভাবে এইডসের ভাইরাসমুক্ত করা যায়। প্রক্রিয়াটি এইডস রোগের ভবিষ্যৎ চিকিৎসা পদ্ধতির উন্নতি সাধনের জন্য যুগান্তকারী পদক্ষেপ।

 

এইডস প্রতিরোধে করণীয়

এইচআইভির প্রতিরোধের মূল উপজীব্য হলো শিক্ষা, সচেতনতা, ঝুঁকির মাত্রা সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান ও ধারণা। মানুষের চিন্তায় এবং আচরণের ইতিবাচক পরিবর্তনও অত্যন্ত জরুরি। ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলা এইডস প্রতিরোধের অন্যতম উপায়। যৌন সম্পর্কের ক্ষেত্রে ধর্মীয় ও সামাজিক অনুশাসন মেনে চলতে হবে। বিবাহপূর্ব যৌন সম্পর্ক এড়িয়ে চলুন। এবং একাধিক যৌন সঙ্গী পরিহার করুন। নিরাপদ যৌনক্রিয়ার অভ্যাসের মাধ্যমে অসংক্রমিত মানুষ এইচআইভি সংক্রমণ থেকে মুক্ত থাকতে পারেন।

পাশাপাশি ইনজেকশনের মাধ্যমে শরীরে ড্রাগ নেয়া থেকে বিরত থাকুন। সূচ, সিরিঞ্জ, ব্লেড বা অন্যান্য যন্ত্রপাতি একাধিকবার ব্যবহার পরিহার করতে হবে। রক্ত গ্রহণ বা অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ প্রতিস্থাপনের পূর্বে অবশ্যই জেনে নিতে হবে দাতা ব্যক্তি এইচআইভি নেগেটিভ কিনা। যৌনরোগ বা প্রজননতন্ত্রের সংক্রমণ থাকলে এইচআইভি আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। কেউ যৌনরোগে আক্রান্ত হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।

এইচআইভি আক্রান্ত মায়ের থেকে সন্তানের আক্রান্ত হওয়ার অনেকখানি আশঙ্কা রয়েছে। এজন্য সন্তান নেয়ার পূর্বে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা সম্পন্ন করুন। তবে যেসব মায়েরা থেরাপি গ্রহণ করেন, তাদের ক্ষেত্রে গর্ভস্থ সন্তান আক্রান্ত হওয়ার হার খুবই কম। যেসব মহিলা এইডসে আক্রান্ত, ডাক্তারগণ তাদের সন্তানদেরকে বুকের দুধ পান করানোর ক্ষেত্রে নিরুৎসাহিত করেন।

জনসচেতনতা বাড়াতে বিভিন্ন প্রচার মাধ্যমের সাহায্যে প্রতিরোধমূলক তথ্য জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। এইচআইভি পজিটিভ হলেই তৎক্ষণাৎ মৃত্যু ঘটবে না, তবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে একজন রোগী দীর্ঘদিন বেঁচে থাকতে পারবেন। রোগীর আশা ও আত্মবিশ্বাস এ ক্ষেত্রে অত্যন্ত জরুরি।

 

এইচআইভি/এইডস প্রতিরোধে পিতা-মাতা ও অভিভাবকদের ভূমিকা

এইডস প্রতিরোধে সচেতনতাই হতে পারে সবচেয়ে বড় হাতিয়ার। পিতা-মাতা ও অভিভাবকগণ তাদের সন্তানদের এইচআইভি/এইডস প্রতিরোধ সংক্রান্ত সঠিক তথ্য দিতে পারেন।

যেমন:

  • এইচআইভি/এইডস ও অন্যান্য যৌনরোগ এবং প্রজনন স্বাস্থ্য বিভিন্ন বিষয়ে সন্তানদের খোলামেলো আলোচনায় অংশ নিতে উৎসাহিত করুন।
  • জীবনভিত্তিক শিক্ষা প্রদানের মাধ্যমে আত্ননির্ভরশীল করে গড়ে তুলুন ও ঝুঁকিপূর্ণ আচরণ থেকে বিরত থাকতে পরামর্শ দিন।
  • নেশাজাতীয় দ্রব্য গ্রহণ থেকে বিরত রাখুন এবং পুনর্বাসনের ব্যবস্থা নিন।
  • স্ব-স্ব ধর্মীয় মূল্যবোধ, অনুশাসন ও আদেশ মেনে চলার পরামর্শ দিন।
  • পাঠ্যপুস্তকে অর্ন্তভুক্ত এইচআইভি ও এইডস বিষয় ও এ সংক্রান্ত বইপত্র/পুস্তিকা সংগ্রহ করে পড়তে উৎসাহিত করুন এবং আলোচনায় অংশ নেয়ার সুযোগ করে দিন।
  • যুবসমাজের উপযোগী বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করতে উৎসাহিত করুন।

 

এইচ আই ভি/এইডস কখন সংক্রমিত হয় না:

১। এইচআইভি ভাইরাস বাতাস বা পানির মাধ্যমে ছড়ায় না।

২। কোনো এইডস আক্রান্ত ব্যক্তিকে স্পর্শ করলে।

৩। এইডস রোগীর সঙ্গে করমর্দন করলে বা তাকে জড়িয়ে ধরলে।

৪। এইচ আই ভি পজিটিভ কারো সঙ্গে এক টেবিলে বা এক থালায় খেলে বা তার গ্লাসে কোনো পানীয় পান করলেও এইডস হয় না।

৫। এইডস রোগীর তোয়ালে, বিছানা বা বালিশ ব্যবহার করলেও এইডস হয় না।

৬। এইডস আক্রান্ত ব্যক্তির ব্যবহৃত ওয়াশরুম ব্যবহার করলে।



বাংলাদেশে এইডস এর চিকিৎসা

এইচআইভি সংক্রমণ শুধু একটি স্বাস্থ্যগত সমস্যা নয়, বরং আক্রান্ত ব্যক্তির ওপর সামাজিক, পারিবারিক, আর্থিক ও মানসিক প্রভাব প্রবলভাবে পরিলক্ষিত হয়। ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধের কারণে অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশে এইচআইভি সংক্রমণের হার অনেক কম; মোট জনসংখ্যার ০.১ শতাংশ। তবে নতুন রোগীর সংখ্যা ক্রমান্বয়ে বাড়ছে।

আর্থ-সামাজিক ও ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বস্তিতে বসবাস করা জনগোষ্ঠী এইচআইভি আক্রান্তের ঝুঁকির তালিকায় রয়েছেন। এখন নারী-পুরুষ যৌনকর্মী ছাড়াও বিবাহিত দম্পতিদের মাধ্যমেও এ রোগের বিস্তার ঘটছে। নারীদের মধ্যে এইচআইভি ছড়িয়ে পড়াকে বৈশ্বিকভাবে মহামারীর অশনি সঙ্কেত হিসেবে দেখা হয়। বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রামের জেলাগুলোতে এইডসের বিষয়ে নজরদারির সুযোগ একদমই সীমিত।

তাছাড়া লাখ লাখ বাংলাদেশি শ্রমিক মধ্যপ্রাচ্য আর ইউরোপে অভিবাসী হয়েছেন। তারা সেখানে প্রধানত কায়িক শ্রম করেন। অভিবাসী শ্রমিকদের মধ্যে এইচআইভির সংক্রমণ অনেক বেশি। অজ্ঞতার কারণে এইডসে আক্রান্ত হলে পরবর্তীতে তারা অনুতপ্ত হন।

বাংলাদেশে ১৯৮৯ সালে প্রথম এইডস রোগী পাওয়া যায়। এরপর এইডস রোগী প্রতি বছর ধীরে ধীরে বাড়ছে। সুইস রেড ক্রিসেন্টের তত্ত্বাবধানে ২০০৫ সালে বেসরকারিভাবে সর্বপ্রথম দেশে এইচআইভি/এইডস রোগীদের শনাক্তকরণ ও চিকিৎসা শুরু হয়। এরপর উন্নয়ন সহযোগী গ্লোবাল ফান্ড এবং সেভ দ্যা চিলড্রেন এবং বিভিন্ন এনজিওর আর্থিক সহায়তায় এ কাজ চলতে থাকে। তবে তারা মূলত এইডস রোগী ও ঝুঁকিপূর্ণ গোষ্ঠীগুলোর কাছে ওষুধ ও অন্যান্য সরঞ্জাম পৌঁছে দেয়ার কাজ করতো। সে সময় এনজিগুলোর শুধু ওষুধ সরবরাহ করতে ব্যয় হতো প্রায় ১৪ কোটি টাকা।

সরকারিভাবে ২০১৬ সাল থেকে এইডসের চিকিৎসা ও পুনর্বাসন পরিচালিত হচ্ছে। একই বছর থেকে এসব কর্মসূচী সরাসরি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এএসপি কর্মসূচির মাধ্যমে পরিচালিত হতে শুরু করে। এতে বিপুল পরিমাণ টাকা সাশ্রয় হচ্ছে। আর রোগীরাও আগের তুলনায় বেশি সেবা পাচ্ছেন। সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচির কারণে খরচ আগের তুলনায় প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। পাশাপাশি বেড়েছে সেবার পরিধি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষরা বলছেন, ২০৩০ সালের মধ্যে এইডস মুক্ত হবে বাংলাদেশ।

এ কর্মসূচির আওতায় বর্তমানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ), চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, এমএজি ওসমানি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সিলেট, খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং রাজধানীর সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে রোগীদের নিয়মিত ওষুধ ও চিকিৎসা সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

‘প্রিভেনশন মাদার টু চাইল্ড ট্রান্সমিশন (পিএমটিসিটি)’ প্রকল্পের আওতায় শুধু বিএসএমএমইউ-তে এইডসে আক্রান্ত ৬৪ জন রোগী চিকিৎসাধীন। এর মধ্যে ৫২ জন মা সন্তান প্রসব করেছেন। নবজাতকদের ৫০ জনই এইচআইভি মুক্ত, ১ জন এইচআইভি নিয়ে জন্মগ্রহণ করেছে এবং একজন মারা গেছে। এছাড়া একই সময়ে সিলেটে ২৬ জন অন্তঃসত্তার মধ্যে ২৪ জন এইচআইভিমুক্ত সুস্থ সন্তান প্রসব করেছেন।

এইচআইভি/এইডস নির্মূলে আত্মনিয়ন্ত্রণ ও ইতিবাচক মনোবৃত্তির পরিচর্যা, উন্নত মননশীলতা এবং সুকুমারবৃত্তির অনুশীলন একান্তই জরুরি। নারী বা পুরুষ, যে কেউ এইচআইভি সংক্রমিত হলে, তাকে ভয় পাওয়া, ঘৃণা করা বা তার কাছ থেকে দূরে থাকা উচিৎ নয়। তার প্রতি সমবেদনা জানানো, যত্ন করা ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা আমাদের সবার দায়িত্ব। আসুন আমরা ঐক্যের হাত তুলি, এইচআইভি প্রতিরোধ করি।

Source:

https://www.healthline.com/health/hiv-aids
https://www.medicalnewstoday.com/articles/17131
https://medbroadcast.com/condition/getcondition/hivaids
https://www.healthxchange.sg/men/health-scares-outbreaks/hiv-symptoms-causes-prevention

আপনার পছন্দের লেখাগুলো নিয়মিত পেতে ইমেইল দিয়ে এখনি সাবস্ক্রাইব করুন।
সর্বশেষ পোস্টগুলো