হরেক রকম বাদামের হরেক রকমের উপকারিতা | বাদাম খাওয়ার নিয়ম

বাদাম খেলে কি হয় | বাদাম খাওয়ার উপকারিতা

বন্ধুদের আড্ডায় বাদাম এক অতি পরিচিত খাবার। বছরের পুরো সময়ই ছোট থেকে বড়, সব দোকানেই বাদাম কিনতে পাওয়া যায়। সাধারণত আমরা যে বাদাম খেয়ে থাকি তার নাম চীনা বাদাম। কিন্তু এই বাদাম ছাড়া আরো অনেক রকমের বাদাম রয়েছে। প্রত্যেক বাদামেরই রয়েছে আলাদা আলাদা পুষ্টিগুণ এবং ব্যবহার।

 

বাদামের প্রকারভেদ

সারাবিশ্বে অসংখ্য রকমের বাদাম রয়েছে। আবহাওয়া ও জলবায়ুর তারতম্যের কারণে একেক অঞ্চলে একেক রকমের বাদাম উৎপন্ন হয়। তবে সারাবিশ্বে মোটামুটি ১০-১২ রকমের বাদাম রয়েছে যেগুলো প্রায় সকলের কাছেই পরিচিত।

সহজলভ্যতা ও বহুল ব্যবহারের দিক থেকে যেসব বাদাম আমাদের কাছে অধিক পরিচিত সেগুলো হলো কাঠবাদাম, চিনাবাদাম, কাজুবাদাম, পেস্তাবাদাম, ব্রাজিলিয়ান বাদাম, চেস্ট নাট ( এক ধরনের গোলাকার বাদাম), হ্যাজেল নাট, ম্যাকাডেমিয়া বাদাম, পিক্যান বাদাম, পিলি বাদাম, পাইন বাদাম ও আখরোট।

 

বাদাম খাওয়ার উপকারিতা



বাদামে উচ্চমাত্রায় ফ্যাট থাকে। কিন্তু এই ফ্যাট শরীরের জন্য ক্ষতিকর নয়। বরং উপকারী। এছাড়া বাদাম ফাইবার ও প্রোটিনের ভালো উৎস। বিভিন্ন গবেষণা থেকে বাদামের নানাবিধ উপকারের কথা জানা গেছে। বিশেষ করে বাদাম খাওয়ার ফলে হৃদরোগের ঝুঁকি অনেকাংশে কমে যায়। এছাড়া বাদামের আরো যেসকল উপকারিতা রয়েছে সে সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক।

পুষ্টি উপাদানের বড় উৎস: বাদামে বিভিন্ন ধরনের পুষ্টি উপাদান থাকে যার প্রত্যেকটি আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য অপরিহার্য। ৩০ গ্রাম বিভিন্ন ধরনের বাদাম থেকে ১৭৩ ক্যালরি পাওয়া যায়। এছাড়া প্রোটিন ৫ গ্রাম, ফ্যাট ১৬ গ্রাম, ফাইবার ৩ গ্রাম, কার্বোহাইড্রেট ৬ গ্রাম পাওয়া যায়। এর পাশাপাশি বাদামে ভিটামিন ই, ম্যাগনেসিয়াম, ফসফরাস, কপার, ম্যাঙ্গানিজ ও সেলেনিয়াম থাকে।

অ্যান্টি-অক্সিডেন্টে ভরপুর: বাদামকে অ্যান্টি-অক্সিডেন্টের পাওয়ার হাউস বা শক্তিঘর বলা হয়। বিশেষ করে আখরোট ও কাঠবাদামে উচ্চমাত্রায় অ্যান্টি অক্সিডেন্ট পাওয়া যায় যা অক্সিডেটিভ স্ট্রেসের বিরুদ্ধে লড়াই করে শরীরে বিভিন্ন রোগ সৃষ্টির ঝুঁকি কমায়।

বাদাম ওজন কমাতে সহায়ক: বাদামকে উচ্চ ক্যালরি সম্পন্ন খাবার মনে করা হয়। কিন্তু বাদাম খাওয়ার ফলে ওজন বাড়ে না। বরং তা ওজন কমাতে সাহায্য করে। এক গবেষণায় দেখা গেছে, ডায়েটে অলিভ অয়েলের চেয়ে বাদাম খেলে দ্রুত ওজন কমানো সম্ভব। ওজন কমানোর জন্য কাঠবাদাম খুবই উপকারী। কাজুবাদামেরও একই গুণ রয়েছে।

যে সকল নারী অতিরিক্ত ওজনের সমস্যায় ভুগছেন তাদের ডায়েটে বাদাম রাখার পরামর্শ দিয়ে থাকেন চিকিৎসকরা। কারণ ডায়েটে বাদাম রাখলে অন্য নারীদের চেয়ে তিনগুণ দ্রুত ওজন কমানো সম্ভব। অনেকে অতিরিক্ত ফ্যাট থাকার কারণে বাদাম খেতে চান না। তাদের জন্য আশার বাণী হলো আমাদের শরীর বাদামে থাকা ফ্যাট পুরোপুরি শোষণ করে না। যার ফলে বাদামে অতিরিক্ত ফ্যাট থাকলেও বাদাম খেয়ে মোটা হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।

বাদাম কোলেস্টেরল ও টাইগ্লিসারাইডের মাত্রা কমায়: অতিরিক্ত কোলেস্টেরল ও টাইগ্লিসারাইডের ফলে শরীর মুটিয়ে যায় এবং ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। যদি নিয়মিত বাদাম খাওয়া হয় তাহলে এই সমস্যা থেকে মুক্তি করা সম্ভব। বিশেষ করে পেস্তাবাদাম টাইগ্লিসারাইডের মাত্রা কমায়। প্রায় ১২ সপ্তাহের এক গবেষণায় দেখা গেছে যারা নিয়মিত পেস্তাবাদাম খান, তাদের শরীরে টাইগ্লিসারাইড প্রায় ৩৩% কম। আর কোলেস্টেরলকে নিয়ন্ত্রণ করে বাদামের ফ্যাটি এসিড।

কাঠবাদাম ও হ্যাজেল নাট খাওয়ার ফলে শরীরের জন্য ক্ষতিকর নিম্ন ঘনত্বের লিপোপ্রোটিন (এলডিএল) কমিয়ে উপকারী উচ্চ ঘনত্বের লিপোপ্রোটিনের মাত্রা বাড়ে। কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য আখরোট, চিনাবাদাম, পাইন বাদাম ও ম্যাকাডেমিয়া নাটও খুবই উপকারী। এই বাদামগুলো যেভাবে খুশি খেতে পারেন।

প্রদাহ কমাতে সহায়ক: বাদামের মধ্যে প্রদাহ বিরোধী উপাদান রয়েছেন। কোনো চোট, ব্যাকটেরিয়া কিংবা অন্য কোনো কারণে শরীরে প্রদাহ সৃষ্টি হলে বাদাম খাওয়া উত্তম। নিয়মিত বাদাম খেলে ক্ষণস্থায়ী ও দীর্ঘমেয়াদী প্রদাহ থেকে মুক্তি লাভ করা সম্ভব। বিশেষ করে যারা কিডনি ও ডায়াবেটিসের সমস্যা ভুগছেন। এর জন্য খেতে হবে আখরোট, পেস্তাবাদাম, কাঠবাদাম ও ব্রাজিলিয়ান বাদাম।

ফাইবারের ভালো উৎস: ফাইবার আমাদের শরীরের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যখন খাবারে ফাইবারের অভাব হয় তখন আমাদের শরীরের মধ্যে থাকা ব্যাকটেরিয়ার বংশবিস্তার ঘটে। ফাইবার খাবার হজমে সহায়তা করার পাশাপাশি খাবারের ক্যালরির মাত্রা কমিয়ে দেয়। যার ফলে শরীরে অতিরিক্ত ক্যালরি জমা হতে পারে না। কাঠবাদাম, পেস্তাবাদাম, চিনাবাদাম, পিক্যান, হ্যাজেলনাট, ম্যাকাডেমিয়া বাদাম ও ব্রাজিলিয়ান বাদামে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার থাকে।

বাদাম হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়: হৃদযন্ত্রের জন্য বাদাম খুবই উপকারী। বিভিন্ন গবেষণা থেকে জানা গেছে, বাদাম খেলে হৃদযন্ত্রের জন্য ক্ষতিকর কোলেস্টেরলের মাত্রা কমে যায়৷ যার ফলে হৃদরোগ হওয়ার সম্ভাবনাও কম থাকে। একই সাথে স্ট্রোক করার ঝুঁকি হ্রাস পায়।

 

কাজুবাদামের উপকারিতা

নিয়মিত কাজুবাদাম খেলে হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কম থাকে।

কাজুবাদামে উচ্চমাত্রায় কপার থাকে। যা রক্তের দূষিত কণিকা দূর করে রক্তে লৌহের মাত্র বাড়ায়। ফলে রক্তের বিভিন্ন রোগ হওয়ার ঝুঁকি অনেকাংশে কমে যায়।

কাজুবাদামে জিয়া জ্যানথিন নামে এক ধরনের শক্তিশালী পিগমেন্ট থাকে, যা আমাদের চোখকে বিভিন্ন সংক্রমণ থেকে দূরে থাকতে সহায়তা করে।

কাজুবাদামে উচ্চমাত্রায় সেলেনিয়াম, জিঙ্ক, ম্যাগনেসিয়াম, আয়রন ও ফসফরাস থাকে। সেলেনিয়াম আমাদের ত্বকের জন্য খুবই উপকারী। এছাড়া সেলেনিয়াম ক্যান্সারের বিরুদ্ধেও কাজ করে।

কাজুবাদাম ওজন কমাতে সহায়তা করে। এই বাদাম ফাইবারের বড় এক উৎস। নিয়মিত কাজুবাদাম খেলে চুল উজ্জ্বল ও ঘন হয়।

 

কাজুবাদামের অপকারিতা

অনেক গুনাগুনের পাশাপাশি কাজুবাদামের বিভিন্ন ধরনের অপকারিতাও রয়েছে। অতিরিক্ত কাজুবাদাম খাওয়ার ফলে ওজন বেড়ে যায়৷ এছাড়া কাজুবাদামে উচ্চমাত্রায় ম্যাগনেসিয়াম থাকার ফলে অনেক অ্যান্টিবায়োটিকের কার্যকারিতা মন্থর করে দেয়। যাদের এলার্জির সমস্যা রয়েছে তাদের কাজুবাদাম খেলে সমস্যা হতে পারে। এছাড়া কাঁচা কাজুবাদামের মধ্যে থেকে এক ধরনের বিষাক্ত তরল বের হয় যা শরীরে লাগলে ঘা হয়ে যায়৷ এ কারণে বাজারে খোলযুক্ত কাঁচা কাজুবাদাম পাওয়া যায় না।

 

কাঠবাদামের উপকারিতা

কাঠবাদাম হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমায়।

মস্তিষ্কের সুস্থতা বজায় রাখতে এবং স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধির ক্ষেত্রে কাঠবাদাম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
কাঠবাদামে থাকা ভিটামিন -ই ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট আমাদের ত্বক সুস্থ রাখে।

কাঠবাদাম ডায়াবেটিস প্রতিরোধ করে।

কাঠবাদাম ওজন বৃদ্ধি ও অতিরিক্ত খাওয়ার অভ্যাস প্রতিরোধ করে।

কাঠবাদাম খাওয়ার পরে শরীরে পুষ্টি উপাদান শোষণ করার ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।

কাঠবাদাম পাকস্থলির পরিপাক ক্রিয়া ঠিক রাখতে সহায়তা করে।

এই বাদাম শরীরের প্রদাহ কমায় এবং ক্যানসার প্রতিরোধ করে।



কাঠবাদামের অপকারিতা

অতিরিক্ত কাঠবাদাম খাওয়ার ফলে হজমের সমস্যা হয়।

১০০ গ্রাম কাঠবাদামে ২৫ গ্রাম ভিটামিন-ই থাকে। একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষ দিনে সর্বোচ্চ ১৫ গ্রাম ভিটামিন-ই গ্রহণ করতে পারেন। অতিরিক্ত ভিটামিন-ই গ্রহণের ফলে ডায়রিয়া, শরীর দুর্বল ও চোখের জ্যোতি কমে যেতে পারে।

অতিরিক্ত কাঠবাদাম খাওয়ার ফলে ওজন বৃদ্ধি পায়।

অতিরিক্ত কাঠবাদাম খেলে শরীরে রক্তচাপের ঔষুধ ও অ্যান্টিবায়োটিক কাজ করতে পারে না।

গর্ভবর্তী মহিলাদের অতিরিক্ত কাঠবাদাম খেলে বাচ্চার সমস্যা হতে পারে।

 

চিনাবাদামের উপকারিতা

বায়োটিনের বড় উৎস চিনাবাদাম। বায়োটিনকে ভিটামিন বি কমপ্লেক্সের সাথে তুলনা করা হয়। বায়োটিন স্কোরোসিস, ডায়াবেটিস ও মস্তিষ্কের সুস্থতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

চিনাবাদামে শতকরা ৮০ ভাগ অসম্পৃক্ত ফ্যাট থাকে যা হৃদযন্ত্রের জন্য খুবই উপকারী। নিয়মিত চিনাবাদাম খেলে হৃদরোগের ঝুঁকি কম থাকে।

চিনাবাদামে পর্যাপ্ত অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট থাকে, যা ক্যান্সার প্রতিরোধ করে।

চিনাবাদাম পিত্তথলিতে পাথর হওয়া প্রতিরোধ করে।

চিনাবাদাম মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি করে।

 

চিনাবাদামের অপকারিতা

অতিরিক্ত চিনাবাদাম খেলে ওজন বৃদ্ধি পায়।

চিনাবাদামে প্রচুর পরিমাণে ফসফরাস থাকে, যা শরীরে অন্যান্য জলীয় উপাদান শোষণে বাধা প্রদান করে।

চিনাবাদামে এলার্জির সমস্যা হতে পারে।

চিনাবাদামে প্রচুর পরিমাণে সোডিয়াম থাকে যা রক্তচাপ বাড়িয়ে দেয়।

 

পেস্তাবাদামের উপকারিতা

পেস্তাবাদামে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন, ফাইবার ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট থাকে।

অন্যান্য বাদামের তুলনায় পেস্তাবাদামে ক্যালরি কম থাকে। কিন্তু অ্যামিনো এসিড থাকে সর্বোচ্চ পরিমাণে যা আমাদের শরীরের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

পেস্তাবাদাম ওজন কমাতে সাহায্য করে।

পেস্তাবাদাম খাওয়ার ফলে রক্তের কোলেস্টেরল মাত্রা কমে যায়৷ ফলে রক্তচাপ স্বাভাবিক থাকে।

পেস্তাবাদাম রক্তে চিনির মাত্রা কমায়।

 

পেস্তাবাদামের অপকারিতা

অতিরিক্ত পেস্তাবাদাম খাওয়ার ফলে ওজন বৃদ্ধি পায়।

অতিরিক্ত পেস্তাবাদাম রক্তচাপ বাড়িয়ে দেয়।

যারা কিডনির সমস্যায় ভুগছেন তাদের পেস্তাবাদাম পরিহার করা উচিত। এছাড়া অতিরিক্ত পেস্তাবাদাম কিডনিতে পাথর সৃষ্টি করে থাকে।

পেস্তাবাদাম এলার্জির সমস্যা তৈরি করে। এছাড়া অতিরিক্ত ফাইবার থাকায় হজমেও সমস্যা তৈরি করে।

 

কাঁচা বাদাম খাওয়ার উপকারিতা

কাঁচা বাদাম খেলে বেশি উপকার পাওয়া যায়। বাদাম ভাজলে আগুনের তাপে উপকারী মনোআন্স্যাচুরেটেড এবং পলিআন্স্যাচুরেটেড ফ্যাট নষ্ট হয়ে যায়। আর তেলে ভাজা বাদাম খেলে রক্তচাপ বেড়ে যেতে পারে। তবে ১০-১৫ মিনিট নিম্ন তাপে ভোজ্য তেল ছাড়া বাদাম ভেজে খাওয়া যেতে পারে।

কাঁচা বাদাম খাওয়ার আগে ভালভাবে পরিষ্কার করে নিতে হবে। এতে মানব দেহের জন্য ক্ষতিকর ব্যক্টেরিয়া এবং ফাঙ্গাস থাকতে পারে। কাঁচা বাদাম সারারাত ভিজিয়ে রেখে সকালে খেলে ত্বকের উপকার হয় এবং অধিক পুষ্টিগুণ পাওয়া যায়।

 

Source:
1.https://www.fastnewsfeed.com/health/disadvantages-of-cashew-nuts-everyone-should-know/
2. https://food.ndtv.com/food-drinks/7-incredible-cashew-nut-benefits-from-heart-health-to-gorgeous-hair-1415221?amp=1&akamai-rum=off#aoh=15732868142020&referrer=https%3A%2F%2Fwww.google.com&amp_tf=From%20%251%24s
3. https://m.timesofindia.com/life-style/health-fitness/photo-stories/5-surprising-side-effects-of-eating-too-many-almonds/amp_etphotostory/60747918.cms
4. https://nuts.com/healthy-eating/benefits-of-peanuts
5. https://www.livestrong.com/article/474309-side-effects-of-eating-too-many-peanuts/
6. https://www.healthline.com/nutrition/9-benefits-of-pistachios#18

আপনার পছন্দের লেখাগুলো নিয়মিত পেতে ইমেইল দিয়ে এখনি সাবস্ক্রাইব করুন।
সর্বশেষ পোস্টগুলো
আমার ওজন কমানোর গল্প

আমার ৩৪ কেজি ওজন কামানোর কথা

home remedies for insomnia

অনিদ্রা দূর করার উপায় । ১০ টি ঘরোয়া ঔষধ

আঁচিলের প্রাকৃতিক চিকিৎসা

আঁচিলের প্রাকৃতিক চিকিৎসা

আমার ওজন কমানোর খাবার তালিকা

আমার ওজন কমানোর খাবার তালিকা বা ডায়েট চার্ট

অতিরিক্ত ওজন কমানোর ঔষধ

ওজন কমানোর প্রাকৃতিক ঔষধ

ওজন বাড়ানোর খাবার তালিকা

কফ কাশির প্রাকৃতিক ঔষধ

কফ বা কাশির প্রাকৃতিক চিকিৎসা

কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করার উপায়

কোষ্টকাঠিন্য থেকে মুক্তির উপায়

গরম পানি খাওয়ার উপকারিতা

গরম পানি খাওয়ার ১০ টি উপকারিতা

খুশকি দূর করার উপায়

ঘরে বসে খুশকি দূর করার সহজ ১০টি উপায় । খুশকি দূর করার প্রাকৃতিক শ্যাম্পু

চুল পরা বন্ধের উপায়

চুল পড়া বন্ধের প্রাকৃতিক ঔষধ 

দ্রুত ওজন বাড়ানোর উপায়

দ্রুত ওজন বারানোর উপায়

বমি দূর করার উপায়

বমি দূর করার উপায় | বমি হলে করনীয়

ব্যায়াম ছাড়া ওজন কমানোর উপায়

ব্যায়াম ছাড়া ওজন কমানোর ৯ টি সহজ উপায়

দ্রুত ওজন কমানোর খাবার তালিকা

মাসে ১০ কেজি ওজন কমানোর ডায়েট চার্ট




Categories

মধুর উপকারিতা ও মধু খাওয়ার নিয়ম

মধুর উপকারিতা ও মধু খাওয়ার নিয়ম

প্রকৃতি থেকে প্রাপ্ত উপকারী খাদ্যের মধ্যে মধু অন্যতম। হাজার বছর ধরে এটি  মানুষের নিকট একটি গুরুত্বপূর্ণ খাবার। ধারণা করা হয় যে, প্রাচীন মিশরীয়রা সর্বপ্রথম মধুকে খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করার প্রচলন শুরু করে। এর হাজার বছর পর আজ এটি শুধু খাদ্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি! সময়ের পরিক্রমায় মানুষের নিকট গুরুত্বপূর্ণ ঔষধে পরিণত হয়েছে। বর্তমান সময়ে মধু যেমন খুব দামী তেমনি বেশ চাহিদা সম্পন্ন। স্বাস্থ্য সচেতন মানুষের নিকট মধু একটি গুরুত্বপূর্ণ খাদ্য। বিভিন্ন প্রকার ফুল থেকে সংগৃহীত মধুর উপকারিতা, মধুর ব্যবহার ও মধু সেবনের নিয়ম সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।

মৌমাছিরা বিভিন্ন ফুলের পরাগ রেণু থেকে মধু সংগ্রহ করে সেগুলো মৌচাকে একত্রিত করে। সে জমানো মধু মৌয়ালদের মাধ্যমে সংগ্রহ করে প্রক্রিয়াকরণ এবং প্রক্রিয়াকরণ ছাড়া দু-ভাবেই বাজারজাত করা হয়। মধুতে মানবদেহের জন্য প্রয়োজনীয় বেশকিছু খাদ্য উপাদান রয়েছে। যুগে যুগে মধুর নানা প্রয়োজনীয় ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যবহারের কারণে  বিশেষজ্ঞরা একে সোনালি তরল হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

মধুতে প্রায় ৪৫টি খাদ্য উপাদান রয়েছে। প্রতি ১০০ গ্রাম মধুতে থাকে ৩০৪ ক্যালরি। এছাড়া মধুতে আরো রয়েছে ৮২ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট, ৪ মিলিগ্রাম সোডিয়াম, ৫২ মিলিগ্রাম পটাশিয়াম, ০.৩ গ্রাম প্রোটিন, ২% লৌহ ও ৮২ গ্রাম চিনি। মধুতে কোনোপ্রকার চর্বি ও কোলেস্টেরল নেই। আর এতে যে চিনি থাকে তা একেবারেই প্রাকৃতিক।

মধুর উপকারিতা ও মধু খাওয়ার নিয়ম
মধুর উপকারিতা ও মধু খাওয়ার নিয়মগুলো জেনে নিন।

 

মধুর উপকারিতা

মধু একটি উপকারী তরল খাদ্য। মধু সেবনে বিভিন্ন ধরণের জটিল রোগবালাই থেকে সহজে আরোগ্য লাভ করা যায়। দেহে তাপ ও শক্তি উৎপাদন করার প্রয়োজনীয় উপাদান থাকার কারণে শীতপ্রধান দেশে মধু খুবই জনপ্রিয়। কারণ বছরের নির্দিষ্ট কিছু সময় তাপমাত্রা যখন হিমাঙ্কের নিচে নেমে যায় তখন মধু শরীরে তাপ ও শক্তির যোগান দেয়। এতে করে সেখানকার মানুষ তীব্র শীতেও সুস্থ থাকতে পারেন।

কোষ্ঠকাঠিন্য ও পেটের রোগের জন্য মধু খুবই উপকারী। এতে প্রাকৃতিক শর্করা রয়েছে যা খুব সহজেই খাবার হজমে সহায়তা করে। এতে থাকা ডেক্সট্রিন খাওয়ার পর খুব অল্প সময়ে রক্তে প্রবেশ করে মানবদেহে হজমক্রিয়া শুরু করে। যাদের কোষ্ঠকাঠিন্য এবং খাবারদাবার হজমে সমস্যা তারা মধু সেবনে উপকার পেতে পারেন।

মধুতে কোনোপ্রকার চর্বি ও কোলেস্টেরল না থাকায় এটি সেবনে হৃদরোগের ঝুঁকি কমে। এছাড়াও যাদের অনেক আগে থেকেই শ্বাসকষ্ট রয়েছে তারাও মধু সেবনে উপকার পেতে পারেন। মধুতে থাকা ক্যালসিয়াম মানবদেহের হাঁড় গঠনে সহায়তা করে। আর এই ক্যালসিয়াম মুখের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধিতেও কার্যকরী ভূমিকা পালন করে। মধু ব্যাতিত পৃথিবীতে বিদ্যমান খুব কম প্রাকৃতিক খাদ্য থেকে সৌন্দর্য বৃদ্ধির গুণাগুণ পাওয়া যায়। 

দৈনন্দিন জীবনে নানা সমস্যার কারণে মানুষ দুশ্চিন্তায় ও অনিদ্রায় ভোগেন। ঘুমানোর পূর্বে মধু সেবনের ফলে এই অনিদ্রা দূর হয়।এছাড়াও যাদের যৌন দুর্বলতা রয়েছে তারাও মধু সেবন করতে পারেন। যেসকল পুরুষরা যৌন দুর্বলতায় ভুগছেন তারা প্রতিদিন ছোলার সঙ্গে মধু সেবনে ভালো ফলাফল পেতে পারেন। যৌন রোগের প্রাকৃতিক ঔধের মধ্যে মধু এখন অবধি সবচেয়ে বেশি কার্যকর ভূমিকা পালন করছে।



খালি পেটে মধুর উপকারিতা

মধু সেবনের কয়েকটি বিশেষ নিয়মের মধ্যে খালি পেটে সেবনের নিয়মটি সবচেয়ে বেশি কার্যকর। খুব সকালে এক গ্লাস কুসুম গরম পানির সাথে এক চামচ মধু ও এক চামচ লেবুর রস মিশিয়ে পান করলে শরীরের অতিরিক্ত ওজন কমে যায়। এই প্রক্রিয়ায় নিয়মিত মধু সেবন করলে শরীরের বিষাক্ত উপাদানগুলো বের হয়ে যায়, লিভার পরিষ্কার হয় এবং মেদ গলে বেরিয়ে আসে।

সকালে খালি পেটে মধু সেবনে আরো নানাবিধ উপকার পাওয়া যায়। বিশেষ করে যারা স্থায়ীভাবে সর্দি, কাশি, কফ ও শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত তারা উপকৃত হবেন। ভালো ফল পাওয়ার জন্য প্রতিদিন সকালে মধু সেবন চালিয়ে যেতে হবে। এছাড়াও বদহজম কিংবা ভারী খাবারে যাদের সমস্যা হয় তারা খাবারের পূর্বে এক চামচ মধু সেবন করলে বদহজম থেকে মুক্তি পেতে পারেন।

 

পুরাতন মধুর উপকারিতা

পুরাতন মধু বলতে এক বছর কিংবা তার পূর্বে সংগৃহীত মধুকে বোঝায়। গবেষণায় দেখা গেছে যে, কিছু কিছু ক্ষেত্রে নতুন কিংবা কাঁচা মধুর থেকে ও পুরাতন মধু বেশি কার্যকরী ভূমিকা পালন করে। তবে পুরাতন মধু হৃদরোগ এবং শ্বাসকষ্টে আক্রান্তদের জন্য বেশি উপকারি। এছাড়াও এটি বার্ধক্যজনিত সমস্যায় ভুগতে থাকা পুরুষদের নানাবিধ উপকার করে।

কাঁচা মধুর উপকারিতা
এসিডিটি থেকে বাঁচতে আদা ও লেবুর সাথে কাঁচা মধু মিশিয়ে সেবন করুন।

 

কাঁচা মধুর উপকারিতা

মৌচাক থেকে সংগ্রহ করার পর যে মধু পাওয়া যায় সেটিই কাঁচা মধু (Row Honey)। মধু মৌচাক থেকে সংগ্রহের পর কয়েকটি ধাপে বোতলজাত করা হয়। প্রক্রিয়াজাত মধু থেকে ও কাঁচা মধু বেশি বেশ তাজা হয়ে থাকে। যার কারণে এতে বিশেষ কিছু প্রতিষেধক ও উপকার পাওয়া যায়। আদা কিংবা লেবুর রসের সঙ্গে কাঁচা মধু মিশ্রিত করে খাওয়ার কারণে অ্যাসিডিটি কমে যায়। এছাড়াও বমি বমি ভাব দূর হয় এবং শরীরে তাপ সঞ্চান সঞ্চালনে বৃদ্ধি ঘটে। গর্ভবতী নারীদের গর্ভধারণের প্রথম অবস্থায় কাঁচা মধু সেবনের পরামর্শ দেয়া হয়।

 

রূপচর্চায় মধুর ব্যবহার

ঔষধ হিসেবে মধু যেমন খুব কার্যকর তেমনি নারীদের রূপচর্চায়ও মধুর ব্যাপক কার্যকারিতা লক্ষ্য করা যায়। কৃত্রিম প্রসাধনী ব্যবহারের কারণে যখন ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়তে শুরু করেছিলো ঠিক তখনি গবেষকরা রূপচর্চায় মধুর উপকারিতা প্রমাণ করেন।

লাবণ্যময় চেহারার জন্য মধু বেশ উপকারি। প্রতিদিন এক চামচ মধু মুখে মেখে ১০ মিনিট রাখলে ত্বক সহজেই আর্দ্র হয়না এবং চেহারার উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পায়। আর এই কাজটি নিয়মিত করলে দীর্ঘ মেয়াদি ফল পাওয়া সম্ভব। এছাড়াও মধুতে থাকা অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল বা জীবাণুনাশক উপাদান মুখের ব্রণ ও কালচে ভাব দূর করে। আর এই সুফল পাওয়ার জন্য এক চামচ মধু ও নারিকেল মিশিয়ে মুখে লাগালে ভাল ফল পাওয়া যায়।

 

চুলের যত্নে মধুর উপকারিতা

বর্তমানে চুলের যত্নেও মধুর ব্যাপক ব্যবহার শুরু হয়েছে। চুলের জন্য উপকারী বেশকিছু উপাদান সঠিক মাত্রায় মধুতে বিদ্যমান থাকায় আজকাল কয়েকটি নামিদামি শ্যাম্পু ও কন্ডিশনার প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান তাদের পণ্যের কার্যকারিতা বৃদ্ধির জন্য মধু ব্যবহার করছে। মধুতে থাকা পুষ্টিগুণ নিস্তেজ চুলকে উজ্জ্বল ও প্রাণবন্ত করে তোলে। দুই চা চামচ মধু পরিমাণমত নারিকেল তেলের সঙ্গে মিশিয়ে চুলে মাখিয়ে ২০ মিনিট থেকে ৩০ মিনিট পর্যন্ত রেখে ধুয়ে ফেলতে হবে। এতে করে কন্ডিশনারের সুফলও পাওয়া যায়। এছাড়াও মধুতে থাকা গ্লুকোজের কারণে চুলের উজ্জ্বলতাও বৃদ্ধি পায়। প্রাকৃতিকভাবে চুলের নানাবিধ যুত্নে মধুর থেকে বেশি উপকারি উপাদান দ্বিতীয়টি এখন অবধি খুঁজে পাওয়া যায়নি।

 

চায়ের সাথে মধুর উপকারিতা

দৈনন্দিন জীবনে আমরা প্রায় সবাই কমবেশি চা পান করে থাকি। আর এই চা যেমনই হোক তাতে মিষ্টি স্বাদ না হলে যেন অসম্পূর্ণ থেকে যায়। চায়ে মিষ্টতা আনতে আমরা সব চেয়ে বেশি ব্যবহার করি চিনি। আর এতেই বিপত্তি ঘটে! কারণ নিয়মিত চিনি গ্রহণ করায় দিন দিন ডায়াবেটিস সহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্তের হার বাড়ছে। ফলে বিশেষজ্ঞরা বরাবরই চায়ে চিনি পরিহার করার পরামর্শ দেন। তবে একাধিক গবেষণার ফলাফল থেকে জানা যায়, চায়ে মিষ্ট স্বাদ পেতে চিনির পরিবর্তে মধু ব্যবহার নিরাপদ।

এক কাপ গরম চায়ে পরিমাণমত মধু মিশ্রিত করে পান করলে শরীরের রক্ত সঞ্চালনে উন্নতি ঘটে। এছাড়াও পুরাতন কাশি থাকলে তা সেরে যায়। বিশেষ করে গ্রিন টি বা হার্বাল টি এর সঙ্গে মধু মিশিয়ে খেলে মানবদেহের ভোকাল কর্ড বা স্বরতন্ত্রী সবসময় নিরাপদ থাকে।

তবে চায়ের সঙ্গে মধু সেবনে শরীরের কোষগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হয়। কারণ মধুতে থাকা অ্যান্টি অক্সিডেন্টস ক্যান্সারের কোষ গঠনে বাধা প্রদান করে। শুধু ক্যান্সারই নয়, আরো কয়েকটি মারাত্মক রোগও প্রতিরোধ করে চা এবং মধুর মিশ্রণ। চিনিতে ডায়াবেটিস হওয়ার ঝুঁকি থাকলেও মধুতে এমন ঝুঁকি নেই। হাজার বছর ধরে চায়ে চিনির পরিবর্তে মধুর ব্যবহার হয়ে আসছে। 

ধারনা করা হয়, খ্রিস্টপূর্ব ২৭৩৭ সালে চীনা সম্রাট কাসান নুঙ্গের সময় থেকে চায়ে মধু মেশানোর প্রচলন শুরু হয়। পরে এই পদ্ধতি চীন, জাপান থেকে আস্তে আস্তে ভারতীয় উপমহাদেশে ছড়িয়ে পরে। যদিও আধুনিক যুগে চিনি সহজলভ্য ও সস্তা হওয়ায় চায়ে চিনির ব্যাবহার ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে গবেষকদের মতে খুব শীঘ্রই চায়ে চিনির ব্যবহার সীমিত পর্যায়ে আনা জরুরি। নতুবা হৃদরোগ, ক্যান্সার ও ডায়াবেটিকস জাতীয় রোগির সংখ্যা দ্বিগুণ বৃদ্ধি পাবে। আর চায়ে চিনির বিকল্প হিসেবে মধু হতে পারে সর্বোত্তম।



 

সরিষা ফুলের মধুর উপকারিতা

সহজলভ্য মধুর মধ্যে সরিষা ফুলের মধু অন্যতম। কারণ বর্তমানে যেসকল দেশে বাণিজ্যিকভাবে মধু উৎপাদন হচ্ছে, প্রায় সবখানেই সরিষার চাষকেই কাজে লাগানো হচ্ছে। আর এই সরিষা ফুল থেকে প্রাপ্ত মধুর ঘ্রাণ এবং স্বাদ এক কথায় অসাধারণ। বিশেষ করে সরিষা ফুলের কাঁচা মধু। এতে পাকস্থলীর ক্যান্সার নিরাময়যোগ্য কিছু বিশেষ উপাদান মিশ্রিত থাকে। এছাড়াও সরিষা ফুলের মধু পেশীতে বাহ্যিকভাবে ব্যবহার করলে আঘাতের ব্যাথা কিংবা সাধারণ যে কোনো ব্যাধা উপশম হয়।

 

কালোজিরা ফুলের মধুর উপকারিতা

কালোজিরা মানবদেহের জন্য খুবই উপকারি একটি মশলা দানা। নানানপ্রকার ভেষজগুণ সম্পন্ন হওয়ায়, এর ব্যবহার রান্না ঘর ছাপিয়ে ঔষধালয়েও সুপ্রসিদ্ধ। শরীরের অভ্যন্তরীণ রোগবালাই নিরাময়ে কালোজিরার ব্যবহার প্রাচীন কাল থেকেই হয়ে আসছে। সেই পরিপ্রেক্ষিতে কালোজিরার মধুও বিভিন্ন সময় মানুষের নিকট জনপ্রিয়তা পেয়েছে। তবে কালোজিরার চাষ পৃথিবীর সব অঞ্চলে হয় না বলে এই জাতীয় মধু সহজলভ্য নয়। কালোজিরার ফুলের মধু মূলত পুরুষদের যৌন দুর্বলতা কমায় এবং নানাবিধ যৌন সমস্যার স্থায়ী সমাধান করে।

 

লিচু ফুলের মধুর উপকারিতা

এটি বাজারে পাওয়া সব চেয়ে কম দামে ভাল ফুলের মধু। কারণ এটি সরিষা ও কালোজিরা ফুলের মধুর থেকেও সহজলভ্য এবং দামে সস্তা। তবে লিচু ফুল থেকে প্রাপ্ত মধুর চাহিদাও নেহাতই কম নয়। মূলত শরীরের অতিরিক্ত ওজন কমানোর জন্য সহায়ক ভূমিকা পালন করে এটি। অনেকে সরিষা কিংবা কালোজিরার মধুর ঘ্রাণ সহ্য করতে পারেন না। আর তাদের জন্য ডাক্তাররা সবসময় লিচু ফুলের মধু খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন।

মধুর অপকারিতা

 

মধুর অপকারিতা

প্রায় প্রত্যেক খাদ্যেরই উপকারি দিকের পাশাপাশি কিছু অপকারি দিকও থাকে। তেমনিভাবে মধুরও কখনো কখনো উপকারের বদল অপকার করে। কারণ সকল ফুলের মধু মানুষের পক্ষে সেবন যোগ্য না। কারণ বনজঙ্গলে থাকা বিষাক্ত ফুলের মধু সেবন করলে নানাবিধ জটিল রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। এমনি এমনই একপ্রকার ফুল হচ্ছে রোডড্রেনডন।

শিশু এবং প্রাপ্তবয়স্কদের মধু সেবনে বেশ নিয়মনীতি রয়েছে। একজন কিশোর যতটুকু মধু সেবন করতে পারবে একজন শিশু কিন্তু ততটুক মধু সেবন করতে পারবে না। যদি শিশুরা মাত্রাতিরিক্ত মধু সেবন করে তবে এলার্জি, পেটে অস্বস্তি এমনকি মারাও যেতে পারে।

বর্তমানে বাজার থেকে ক্রয়কৃত কৃত্রিম রাসায়নিক ওষুধ সেবনের পাশাপাশি মধু সেবন করলে বিষক্রিয়া সৃষ্টি হতে পারে। তবে এমনটা আবার সব ওষুধের ক্ষেত্রে ঘটে না। চা, গরম পানি কিংবা খালি মধু অতিরিক্ত সেবনের কারণে রক্তচাপ বেড়ে যেতে পারে।

যদিও বর্তমান সময়ে মধু প্রক্রিয়াজাতকরণে ব্যাপক উন্নতি সাধিত হয়েছে। বিশেষ করে মধুকে বেশিদেন সংগ্রহে রাখতে বিভিন্নরকম ক্যামিকেল ব্যবহার করছে প্রতিষ্ঠানগুলো। এছাড়াও নকল মধু তৈরিকারী অসাধু ব্যবসায়ীরা তো রয়েছেই। সবমিলিয়ে মধু দ্বারা মানুষের উপকারের বদলে ক্ষতি করার পেছনে সবচেয়ে বেশি দায়ী আধুনিক সংগ্রহ পদ্ধতি এবং নকল মধু প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। এতে করে মানুষ যেমন উপকারের বদল ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে তেমনি নানাপ্রকার রোগেও আক্রান্ত হচ্ছে। তাই পরিশেষে বলতে চাই, মধু আমাদের জন্য স্রষ্টার দানকৃত মহৌষধ হয়েই থাকুক।

আপনার পছন্দের লেখাগুলো নিয়মিত পেতে ইমেইল দিয়ে এখনি সাবস্ক্রাইব করুন।
সর্বশেষ পোস্টগুলো
আমার ওজন কমানোর গল্প

আমার ৩৪ কেজি ওজন কামানোর কথা

home remedies for insomnia

অনিদ্রা দূর করার উপায় । ১০ টি ঘরোয়া ঔষধ

আঁচিলের প্রাকৃতিক চিকিৎসা

আঁচিলের প্রাকৃতিক চিকিৎসা

আমার ওজন কমানোর খাবার তালিকা

আমার ওজন কমানোর খাবার তালিকা বা ডায়েট চার্ট

অতিরিক্ত ওজন কমানোর ঔষধ

ওজন কমানোর প্রাকৃতিক ঔষধ

ওজন বাড়ানোর খাবার তালিকা

কফ কাশির প্রাকৃতিক ঔষধ

কফ বা কাশির প্রাকৃতিক চিকিৎসা

কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করার উপায়

কোষ্টকাঠিন্য থেকে মুক্তির উপায়

গরম পানি খাওয়ার উপকারিতা

গরম পানি খাওয়ার ১০ টি উপকারিতা

খুশকি দূর করার উপায়

ঘরে বসে খুশকি দূর করার সহজ ১০টি উপায় । খুশকি দূর করার প্রাকৃতিক শ্যাম্পু

চুল পরা বন্ধের উপায়

চুল পড়া বন্ধের প্রাকৃতিক ঔষধ 

দ্রুত ওজন বাড়ানোর উপায়

দ্রুত ওজন বারানোর উপায়

বমি দূর করার উপায়

বমি দূর করার উপায় | বমি হলে করনীয়

ব্যায়াম ছাড়া ওজন কমানোর উপায়

ব্যায়াম ছাড়া ওজন কমানোর ৯ টি সহজ উপায়

দ্রুত ওজন কমানোর খাবার তালিকা

মাসে ১০ কেজি ওজন কমানোর ডায়েট চার্ট




Categories

মাসে ১০ কেজি ওজন কমানোর ডায়েট চার্ট

দ্রুত ওজন কমানোর খাবার তালিকা

১ মাসে ১০ কেজি ওজন কমানো অসম্ভব নয়। কঠোর ইচ্ছাশক্তি ও পরিশ্রমের মাধ্যেমে এটা করা যায়। আপনার মনও দেহ যদি এটা করতে পুরোপুরি সম্মতি না দেয় তাহলে এটা চেষ্টা করাই ভাল। কেননা শুধু ৭-১০ দিন কষ্ট করার কোন মানে হয় না। আপনি বরং অন্যকোন পদ্ধতি অনুসরণ করুন। আপনি আজ শুরু করলে আজ থেকেই ওজন কমা শুরু করবে না।

Continue reading

দ্রুত ওজন বারানোর উপায়

দ্রুত ওজন বাড়ানোর উপায়

স্বাভাবিকের চেয়ে কম ওজন (underweight) অসুস্থতার পাশাপাশি দৈনন্দিন জীবনে অশান্তির একটি বড় কারণ। ভুক্তভোগীরা দ্রুত ওজন বারানোর উপায় জানার জন্য নানা লোকের নানা পদ্ধতি বা কৌশল অনুসরণ করেন। এসব ছেলে মেয়েদের আমাদের দেশে সবাই একটু বাঁকা চোখে দেখে। এর জন্য তাদের নানা কটু কথা শুনতে হয়। ছেলেদের তুলনায় এটা নিয়ে মেয়েরা বেশি ভুক্তভোগী।

Continue reading

ওজন বাড়ানোর খাবার তালিকা

বেশি খেলে ওজন বাড়ে এটা ভুল ধারণা। আপনার ওজন বাড়ানোর খাবার তালিকায় উচ্চ প্রোটিন, ক্যালরি ও ফ্যাটযুক্ত খাবার থাকতে হবে। না হলে অতিরিক্ত খাওয়ার তুলনায় ওজন বাড়ার হার অনেক কম হবে। আবার অতিরিক্ত খেলে সবাই মোটা হয় না। আর মোটা হলেও, ওজন বাড়ার সাথে নানা রোগব্যাধিও বাড়তে থাকে।

Continue reading