স্তন ক্যান্সার প্রতিরোধে যা জানা জরুরি

স্তন ক্যান্সার

স্তন ক্যান্সার হল কোষের অপরিণত বৃদ্ধি। স্তন কোষের অনিয়মিত বিভাজনের ফলে এটি টিউমার বা পিণ্ডে পরিণত হয় এবং রক্তনালীর লাসিকার মাধ্যমে শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে পড়ে।

 

স্তন ক্যান্সার বা ব্রেস্ট ক্যান্সারের লক্ষণ

১. কোনো র‌্যাশ ছাড়াই চুলকানির অনুভূতি, এটি স্তন ক্যানসারের অন্যতম লক্ষণ। ব্রেস্টফিডিং করছেন না অথচ স্তনবৃন্ত (nipple) থেকে অল্প অল্প দুধের মতো জলীয় পদার্থ নিঃসরণ হচ্ছে-এমনটা দেখলে দ্বিধা না করে সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। এটি ব্রেস্ট ক্যানসারের আরেকটি বড় লক্ষণ। অনেক সময় স্তনবৃন্ত থেকে রক্ত পড়তেও দেখা যায়।

২. স্তনে টিউমার থাকলে তা আশপাশের টিস্যুগুলির উপর চাপ সৃষ্টি করে এবং এর ফলে স্তনে ফোলা ভাব দেখা যায়। কাঁধ এবং ঘাড়ের ব্যথাও ব্রেস্ট ক্যানসারের লক্ষণ। কারণ এটি স্তন থেকে খুব সহজেই শরীরের অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে পড়ে।

৩. স্তনবৃন্ত চ্যাপ্টা হয়ে যাওয়া, বেঁকে যাওয়া বা স্তনবৃন্তের শেপ অসমান হয়ে যাওয়া ক্যানসারের লক্ষণ।
৪. স্তনে ছোট ছোট ফুসকুড়ির মতো লাম্পও ক্যান্সারের লক্ষণ। এই ব্রেস্ট লাম্পগুলি অনেক সময় আন্ডারআর্ম বা কলার বোনের তলাতেও দেখা যায়, যেগুলি টিপলে শক্ত অনুভূত হয়। অন্তর্বাস পরে থাকার সময় যদি ঘর্ষণ অনুভব করেন, এবং ব্যথা লাগে তবে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হোন।

৫. স্তনবৃন্ত খুবই সংবেদনশীল অংশ। যদি দেখেন স্তনবৃন্ত স্পর্শ করার পরও তেমন কোনো অনুভূতি হচ্ছে না, তবে তা ব্রেস্ট ক্যানসারের লক্ষণ।

৬. স্তনের ত্বকে লালচে আভা এবং কমলা লেবুর খোসার মত অমসৃণতা দেখা দিলে একজন ক্যান্সার বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেয়া প্রয়োজন। এটি এডভান্সড ব্রেস্ট ক্যান্সারের লক্ষণ।

৭. স্তনবৃন্তে বিশেষ কিছু পরিবর্তন পরিলক্ষিত হওয়া, যেমন- স্তনবৃন্ত দেবে যাওয়া, চুলকানি, জ্বালা পোড়া, খুস্কি অথবা ক্ষত কিংবা ঘা এর উপস্থিতি।

 

ব্রেস্ট ক্যান্সার কেন হয়




দেরিতে সন্তান গ্রহণ, সন্তান না থাকা, কিংবা সন্তানকে বুকের দুধ না খাওয়ানো, খাদ্যাভ্যাসে শাকসবজি বা ফলমূলের চাইতে চর্বি ও প্রাণীজ আমিষ বেশি থাকলে এবং প্রসেসড ফুড বেশি খেলে স্তন ক্যান্সারের আশঙ্কা বেশি থাকে। অতিরিক্ত ওজনও স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়।

দীর্ঘদিন ধরে জন্ম নিয়ন্ত্রণ পিল খাওয়া বা হরমোনের ইনজেকশন নেয়া, স্তন ক্যান্সারের অন্যতম কারণ।

বয়স বাড়ার সাথে সাথে (বিশেষ করে ৫০ বছর বয়সের পর) স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বাড়ে। কারো যদি বারো বছরের আগে ঋতুস্রাব হয় এবং দেরিতে মেনোপজ বা ঋতু বন্ধ হয়, তারাও এ ঝুঁকিতে থাকেন।

স্তনের আকার অনুযায়ী সঠিক মাপের ব্রা ব্যবহার করুন। স্তনের আকারের চেয়ে বড় মাপের বক্ষবন্ধনী স্তনের টিস্যুগুলোকে ঠিকমত সাপোর্ট দিতে পারে না। আবার অতিরিক্ত ছোট বা টাইট ব্রা স্তনের তরলবাহী লসিকাগুলো কেটে ফেলতে পারে। এটি আপনার স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়।

সারাক্ষণ বক্ষবন্ধনী পরে থাকার কারণে ঘাম নির্গমনে বিগ্ন ঘটে ফলে আর্দ্রতা জমে থাকে। এ কারণে স্তন ক্যান্সারের হতে পারে। ঘরে থাকার সময়টুকুতে বক্ষবন্ধনী ব্যবহার না করার চেষ্টা করুন।

আজকাল কর্মজীবী নারী হোক বা শিক্ষার্থী সারাদিন বাইরে থাকা আর সেই সাথে ঘামের দুর্গন্ধ এড়াতে ডিওডোরেন্ট ব্যবহার করেন। এই ডিওডোরেন্ট কেনার সময় খেয়াল রাখুন এতে কী কী উপাদান আছে। এলুমিনাম বেসড উপাদান থাকলে তা স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়। ডিওডোরেন্ট ব্যবহারের আগে একজন স্কিন বিশেষজ্ঞের সাথে পরামর্শ করে নিন।

আলমারির কাপড়-চোপড় পোকামাকড়ের হাত থেকে বাঁচাতে আমরা ন্যাপথালিন ব্যবহার করে থাকি। অনেকে বাথরুমের দুর্গন্ধ এড়াতে বেসিনের সিঙ্কেও ফেলে রাখেন। এটি ক্ষতিকর কেমিকেল দিয়ে তৈরি, যা কেবল পোকা-মাকড়কে দূরে রাখে না, বরং আপনার স্তন ক্যান্সারের ঝুকিও বৃদ্ধি করে। ন্যাপথালিনের বিকল্প হিসেবে নিমপাতা শুকিয়ে কাগজে মুড়িয়ে রেখে দিন।

অতিমাত্রায় অ্যালকোহল, তামাক সেবনের ফলেও স্তন ক্যান্সার হতে পারে।

বংশে এর আগে কারো ব্রেস্ট বা ওভারি ক্যানসার থাকলে বা বিএআরসিএ ১, ও বিএআরসি ২, জিন থাকলে ব্রেস্ট ক্যানসারের ঝুঁকি অনেক বেশি।

 

স্তন ক্যান্সারের ডায়াগনোসিস

২০ বছর বয়স থেকেই প্রত্যেকের উচিত স্তন ক্যান্সার বিষয়ে সচেতন হওয়া এবং প্রতি মাসে নির্দিষ্ট সময়ে নিজের স্তন পরীক্ষা করা। মাসিক শুরুর ৫-৭ দিন পর এই পরীক্ষা করতে হবে যখন স্তন নরম ও কম ব্যথা থাকে।

আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে পরীক্ষা

আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের স্তনকে চারটি ভাগে ভাগ করে প্রতিটি অংশের অভ্যন্তরে কোন চাকা বা দলার মতো আছে কিনা তা অনুভব করুন। হাত দুটো পাশে রাখুন, এবং ভাল করে লক্ষ্য করুন স্তনের চামড়ায় কোন পরিবর্তন কিংবা আকারে কোনো তারতম্য এসেছে কী না। এবার দুই হাত কোমরে রেখে বুক সামনের দিকে চিতিয়ে দেখুন স্তনে কোনো ধরনের দাগ, ঘা কিংবা গর্ত আছে কী না। এবার হাত দুটো উঁচু করে আরো একবার পরীক্ষা করুন। এক্ষেত্রে আপনি নিপল থেকে শুরু করে বৃত্তাকারভাবে বাহিরের দিকে উপর-নিচ করে সম্পূর্ণ স্তন পরীক্ষা করতে পারেন। আপনার বাম হাত দিয়ে ডান পাশের ও ডান হাত দিয়ে বাম পাশের স্তন পরীক্ষা করুন।

গোসলের সময় পরীক্ষা

গোসলের পূর্বে একটি হাত মাথায় রাখুন। আরেকটি হাতের আঙুল দিয়ে কলার বোনের কয়েক ইঞ্চি নিচ থেকে একদম বগল পর্যন্ত চেপে দেখুন, পুরো স্তনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত চক্রাকারে পরীক্ষা করতে থাকুন, প্রথমে হালকাভাবে, পরে একটু চাপ দিয়ে স্তনের টিস্যুগুলো পরীক্ষা করুন।

শুয়ে শুয়ে পরীক্ষা

বিছানায় শুয়ে ডান দিকের কাঁধের ওপর একটি বালিশ রাখুন। ডান হাত মাথার পেছনে দিন। এবার বাম হাতের আঙুল দিয়ে চক্রাকারে ডান পাশের স্তন পুরোটা পরীক্ষা করুন। স্তনবৃন্ত চেপে ধরে নিশ্চিত হয়ে নিন কোনো তরল নিঃসৃত হচ্ছে কী না, কিংবা কোনো ধরনের অস্বাভাবিক ব্যাপারে আছে কী না। একইভাবে এবার বাম পাশের স্তন পরীক্ষা করুন।

ডাক্তারি পরীক্ষা কখন প্রয়োজন

যাদের পরিবারে কারো স্তন ক্যান্সারের হিস্ট্রি রয়েছে, তাদের হাসপাতালে স্তন পরীক্ষা অর্থাৎ ম্যামোগ্রাম করিয়ে নেয়া উচিৎ। ধনী দেশগুলোতে স্তন ক্যান্সার স্ক্রিনিং-এর জন্য প্রধানত ম্যামোগ্রাম বেছে নেওয়া হয়। সাধারণত ৫০ বছরের বেশি বয়সী নারীদের নির্ধারিত বিরতিতে এক, দুই বা তিন বছর পরপর নিয়মিতভাবে ম্যামোগ্রাম করা হয়। এটি বিশেষ ধরণের এক্স-রে, যার মাধ্যমে স্তনে খুব ছোট চাকা বা অন্যান্য পরিবর্তন ধরা পড়ে। এই পদ্ধতি তুলনামূলকভাবে ব্যয়বহুল। এছাড়া ইমেজিং পরীক্ষার মধ্যে রয়েছে আলট্রাসাউন্ড, এমআরআই (MRI) এবং সার্জিক্যাল টেস্টের মধ্যে বায়োপসি (bipsy) অন্যতম। সিইএ (CEA), সিএ-১৫-৩ (CA-15-3), বা সিএ-২৭.২৯ টেস্ট এবং রক্তের সিবিসি (CBC) পরীক্ষারও প্রয়োজন পড়ে।



ব্রেস্ট ক্যান্সারের চিকিৎসা

ব্রেস্ট ক্যান্সারের চিকিৎসায় সার্জারি প্রথম অপশন।

লাম্পেক্টমি

টিউমার ও তার আশেপাশের কিছু টিস্যু কেটে এই অপারেশন করা হয়।

মাস্টেক্টমি

এই অপারেশন-এ স্তন এবং এর নিচের মাংসপেশি, বগলের লসিকাগ্রন্থিসহ আনুষঙ্গিক আক্রান্ত টিস্যু কেটে ফেলা হয় কিংবা সম্পূর্ণ স্তন কেটে ফেলা হয়। কোন কোন রোগীর স্তনের চামড়া সংরক্ষণ করে বিকল্পভাবে স্তন পুণর্গঠন করা হয়। শরীরের অন্য জায়গা থেকে মাংসপেশি কেটে নিয়ে স্তনের আকার করে স্তনের জায়গায় পুনঃস্থাপন করার মাধ্যমে এটি করা হয়। র‌্যাডিক্যাল ম্যাস্টেক্টমির মাধ্যমে বুকের দেয়ালের মাংসপেশি, বগলের নিচে লিম্ফনোডসহ পুরো স্তন কেটে বাদ দেওয়া হয়।

ক্যান্সার কোষ লিম্ফনোডে পৌঁছে তার মাধ্যমে শরীরের অন্যান্য অঙ্গে ছড়িয়ে পড়ে। সেন্টিনেল নোড বায়োপসির মাধ্যমে লিম্ফনোড সরিয়ে ফেলা হয়। একে বলা হয় অ্যাক্সিলারি লিম্ফনোড ডিসেকশন।

রেডিও থেরাপি

এক্ষেত্রে তেজস্ক্রিয় রশ্মি প্রয়োগ করে শরীরের ক্যান্সারের কোষ নির্মূল করা হয়। তাছাড়া দেহের অভ্যন্তরে তেজস্ক্রিয় পদার্থ স্থাপন করেও চিকিৎসা করা যায়।

কেমোথেরাপি

সাধারণত স্তন ক্যান্সার চিকিৎসায় অপারেশন পরবর্তী সময়ে Adjuvant Chemotherapy দেওয়া হয়ে থাকে। এতে ক্যান্সার কোষের পুনরাবির্ভাবের ঝুঁকি থাকে না। তবে অনেক ক্ষেত্রে টিউমার বেশি বড় থাকলে Chemotherapy (Neo Adjuvant) অপারেশনের আগে নিতে হতে পারে। সাধারণত ৬-৮টি ডোজ (প্রতি মাসে একটি করে) বা রক্তনালির মাধ্যমে ইনজেকশন দেওয়া হয়। কেমোথেরাপি ইস্ট্রোজেন তৈরি বন্ধ করতে সাহায্য করে। ইস্ট্রোজেন স্তন ক্যান্সারের জন্য দায়ী। কেমোথেরাপিতে ব্যবহৃত ওষুধের মধ্যে রয়েছে সাইক্লোফসফামাইড, ডক্সোরুবিসিন, ভিনক্রিস্টিন, মিটোমাইসিন, মেথোট্র্যাক্সেট, ৫-ফ্লোরোইউরাসিল, প্যাক্লিটেক্সেল, হারসেপটিন ইত্যাদি।

বায়োলজিক্যাল ইম্যুনোথেরাপি

বায়োলজিক্যাল ইম্যুনোথেরাপি সার্জারি, রেডিওথেরাপি এবং কেমোথেরাপি তুলনায় বহুল ব্যবহৃত প্রযুক্তি। বায়ো-ইম্যুনোথেরাপির মাধ্যমে রোগীর রক্ত সংগ্রহ করে, ইমিউনোলজিক সেল (ডিসি-সিআইকে) তৈরি করা হয়। এরপর এ সংগৃহীত রক্ত রোগীর শরীরে পুনরায় প্রবেশ করিয়ে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো হয়। এটি ক্যান্সার কোষকে সরাসরি ধ্বংস করে মেটাস্টিসিস রোধ করে থাকে।

 

ব্রেস্ট ক্যান্সার প্রতিরোধের উপায়

বিশ্বে প্রতি ৮ জনে ১ জন নারী জীবনের কোনো না কোনো পর্যায়ে ব্রেস্ট ক্যান্সারে আক্রান্ত হন। কিছু রিস্ক ফ্যাক্টর আছে যা পরিবর্তন করা সম্ভব নয়, যেমন- জেনেটিক কারণ। কিন্তু আপনার ডায়েট ও লাইফ স্টাইল পরিবর্তনের মাধ্যমে স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি কমানো যাবে।

 

ক্যান্সার প্রতিরোধী খাবার খান

আঁশযুক্ত খাবার ক্যান্সার সৃষ্টিকারি ইস্ট্রোজেনের মাত্রা হ্রাস করে। এজন্য মটরশুঁটি, তাজা ফল, শস্য এবং ফ্ল্যাভনয়েড, ক্রুসিফেরাস ফাইটোনিউট্রিয়েন্ট ও ক্যারোটিনয়েড সমৃদ্ধ সবজি খান। পেঁয়াজ পাতা ক্যান্সার সৃষ্টিকারী ফ্রি র‍্যাডিকেলকে ডিটক্সিফাই করে এবং ক্যান্সার কোষের বিভাজন প্রতিরোধ করে। সয়াবিন ও অন্য সয়া পণ্য যেমন- টফু ব্রেস্ট ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়। কিন্তু মিষ্টি স্বাদের ও রিফাইন্ড সয়া পণ্য যেমন- সয়া দুধ ও সয়া তেল এড়িয়ে চলুন।

ব্রেস্ট ক্যান্সার প্রতিরোধক অন্যান্য খাদ্য সমূহ:

মিষ্টি আলু

মিষ্টি আলু বিটা ক্যারোটিন সমৃদ্ধ সবজি। উচ্চমাত্রায় বিটা ক্যারোটিন গ্রহণ কোলন, ফুসফুস এবং স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়।

পত্র বহুল সবুজ শাক-সবজি

পালং শাক, লেটুস, হেলেঞ্চা শাক ইত্যাদি সবুজ শাক-পাতায় প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ও মিনারেল, এন্টিঅক্সিডেন্ট এবং এনজাইম রয়েছে । এছাড়াও আছে গ্লুকোসাইনোলেটস, এন্টিব্যাকটেরিয়াল ও এন্টিভাইরাল উপাদান এবং কার্সিনোজেনস। এটি টিউমার সৃষ্টি রোধ, ক্যান্সার কোষ ধ্বংস ও ক্যান্সার স্থানান্তরে বাধা প্রদান করে।

ক্যাবেজ পরিবার ভুক্ত সবজি

বাঁধাকপি, ফুলকপি, ওলকপি, শালগম, ব্রাসেলস স্প্রাউটে আইসোথায়োসায়ানেটস নামক ফাইটোকেমিক্যাল আছে, যা ক্যান্সার প্রতিরোধে সহায়ক।

বেরি জাতীয় ফল

ব্ল্যাক বেরি, ব্লু বেরি, স্ট্রবেরি, গোজীবেরি, রাস্পবেরি, চেরি, মালবেরি ইত্যাদিতে ক্যান্সার নিরাময়ের পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।

উজ্জ্বল কমলা রঙের ফল ও সবজি

কমলা, লেবু, জাম্বুরা, মিষ্টিকুমড়া, পেঁপে, গাজর ও স্কোয়াশ প্রভৃতি ক্যারোটিনয়েড এন্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর। এসব খাবার শরীরকে ডিটক্সিফাই করে ক্যান্সার প্রতিরোধ করে।

হলুদ

হলুদে বিদ্যমান অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট মানব দেহের টিস্যুর মধ্যে প্রবেশ করে দেহকে ক্যান্সার প্রতিরোধী করে তোলে।

অর্গানিক মাংস

কোনো প্রকার স্টেরয়েড, হরমোন ও এন্টিবায়োটিক প্রয়োগ ছাড়া পালিত মুরগির কলিজা এবং তৃণভোজী গরুর মাংস ব্রেস্ট ক্যান্সার রোগীর খাদ্য তালিকায় থাকা বাধ্যতামূলক। কারণ এ পুষ্টি সমৃদ্ধ খাবারে উচ্চ মাত্রায় ভিটামিন বি ১২ রয়েছে। সেলেনিয়াম, জিংক ও বি ভিটামিন রক্ত পরিশোধন, হজম ক্ষমতা বৃদ্ধি ছাড়াও হরমোনের ভারসাম্য রক্ষা করে।

দুধ ও দুগ্ধজাত খাদ্য

বিভিন্ন দুগ্ধজাত খাবার, যেমন টক দই হলো প্রোবায়োটিক বা ভালো ব্যাক্টেরিয়ার উত্তম উৎস। প্রোবায়োটিক টিউমার বৃদ্ধি প্রতিরোধ করে। গরু ও ছাগলের দুধ এবং পনিরে রয়েছে সালফার প্রোটিন ও স্যাচুরেটেড ফ্যাট। এটি ব্রেস্ট এবং ওভারিয়ান ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়।

সামুদ্রিক মাছ

সামুদ্রিক মাছ এন্টিইনফ্ল্যামেটরি, এন্টিটিউমার বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন। এটি ব্রেস্ট ক্যান্সার প্রতিরোধে দারুণ কার্যকর।

গ্রীন টি

গ্রীন টি-তে পলিফেনোলিক কম্পাউন্ড, ক্যাটেচিন, গ্যালোক্যাটেচিন এবং ইজিসিজি (এন্টিঅক্সিডেন্ট) রয়েছে। এটি ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়। স্তন ক্যান্সারের আশঙ্কা হ্রাসে প্রতিদিন গ্রীন টি পান করুন।

মাশরুম

উচ্চ পুষ্টিসম্পন্ন মাশরুম রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় ও স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়। এজন্য প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় মাশরুম যোগ করুন।



স্বাস্থ্যকর অপরিশোধিত ভোজ্য তেল

নারকেল তেল, তিসির তেল এবং এক্সট্রা ভার্জিন অলিভ অয়েল অন্ত্রে পুষ্টি যোগায় ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। জলপাই তেলে রয়েছে ফাইটোনিউট্রিয়েন্টস যা প্রদাহ কমায়। এমনকি ব্রেস্ট ও কলোরেক্টাল ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতেও এটি বেশ কার্যকর।

রসুন

রসুনে সালফারে পূর্ণ অ্যালিসিন ও ডিসালফাইড থাকে, যা স্তন ব্রেস্ট ক্যান্সার প্রতিরোধ করে।

হলুদ

হলুদ হলো প্রাকৃতিক অ্যান্টিসেপটিক। ক্যান্সার কোষের বৃদ্ধি রুখতেও এই মশলা বিশেষ উপকারি।

ব্রোকলি

ব্রোকলিতে সালফোরাফেন থাকায় তা ক্যান্সার কোষ ধ্বংসে খুব কার্যকর। কোলন, প্রস্টেট ও ব্রেস্ট ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগীদের জন্য এটি দারুণ উপকারি।

গাজর

গাজর অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট। এটি শরীরে ফ্যাট অক্সিডেশনে বাধা দেয় ও শরীরে ক্যান্সারের কোষ উৎপাদন কমায়। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় গাজর যোগ করুন, এতে ব্রেস্ট ক্যান্সারের আশঙ্কা প্রায় ১৮ থেকে ২০ শতাংশ কমে যাবে।

টমেটো

টমেটো হচ্ছে “নিউট্রিশনাল পাওয়ার হাউজ” যা ব্রেস্ট ক্যান্সার প্রতিরোধে দারুণ কার্যকর। টমেটোর রস ক্ষতিকর ডিএনএ নষ্ট করে ফেলে।

বাদাম

বাদামে প্রচুর পুষ্টিগুণ থাকে। বাদামে সেলেনিয়াম নামক অ্যান্টি ক্যান্সার উপাদান বিদ্যমান, যা কোলন, ফুসফুস, যকৃত, এবং ব্রেস্ট ক্যান্সারের ঝুঁকি হ্রাস করে। বাদামের মাখনও ক্যান্সার প্রতিরোধে বেশ উপকারি।

কালো চকলেট

কালো চকলেটেও রয়েছে এন্টি ক্যান্সার প্রপার্টি। ডার্ক চকলেটের পলিফেনলস ব্রেস্ট ক্যান্সার প্রতিরোধে সহায়ক।

সতর্কতা

১. ব্রেস্ট ক্যান্সার প্রতিরোধে ঋতুস্রাব বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর হরমোন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপি নেয়া থেকে বিরত থাকুন।

২. আপনার শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন। স্থূল নারীদের ক্ষেত্রে স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি বেশি।

৩. ঘন ঘন স্তন পরীক্ষা করুন। প্রাথমিক পর্যায়ে স্তন ক্যান্সার শনাক্ত হলে আপনার সুস্থ থাকা ও বেঁচে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।

৪. আপনার সন্তানকে বুকের দুধ খাওয়ান। শিশুদের ব্রেস্ট ফিডিং করলে অল্প বয়সে স্তন ক্যান্সার সৃষ্টির আশঙ্কা থাকে না।

৫. ধূমপান বর্জন করুন। ধূমপান ও তামাকজাতীয় পদার্থ ক্যান্সার সৃষ্টি করে।

৬. রাত জাগবেন না। প্রতিদিন অন্তত সাত-আট ঘণ্টা ঘুমাবেন।

৭. রাসায়নিক সমৃদ্ধ পরিষ্কারক, কীটনাশক ব্যবহার এড়িয়ে চলুন

৮. প্লাস্টিকের সামগ্রিতে খাদ্য ও পানি সংরক্ষণ পরিহার করুন।

৯. থ্যালেট ও প্যারাবেন সমৃদ্ধ বিউটিকেয়ার প্রোডাক্ট ব্যবহার বন্ধ করুন, এতে স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি হ্রাস পাবে।

Source:

https://www.healthline.com/health/breast-cancer
https://www.medicalnewstoday.com/articles/37136
https://www.cdc.gov/cancer/breast/basic_info/risk_factors.htm
https://www.nhs.uk/conditions/breast-cancer/causes/

আপনার পছন্দের লেখাগুলো নিয়মিত পেতে ইমেইল দিয়ে এখনি সাবস্ক্রাইব করুন।
সর্বশেষ পোস্টগুলো
আমার ওজন কমানোর গল্প

আমার ৩৪ কেজি ওজন কামানোর কথা

home remedies for insomnia

অনিদ্রা দূর করার উপায় । ১০ টি ঘরোয়া ঔষধ

আঁচিলের প্রাকৃতিক চিকিৎসা

আঁচিলের প্রাকৃতিক চিকিৎসা

আমার ওজন কমানোর খাবার তালিকা

আমার ওজন কমানোর খাবার তালিকা বা ডায়েট চার্ট

অতিরিক্ত ওজন কমানোর ঔষধ

ওজন কমানোর প্রাকৃতিক ঔষধ

ওজন বাড়ানোর খাবার তালিকা

কফ কাশির প্রাকৃতিক ঔষধ

কফ বা কাশির প্রাকৃতিক চিকিৎসা

কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করার উপায়

কোষ্টকাঠিন্য থেকে মুক্তির উপায়

গরম পানি খাওয়ার উপকারিতা

গরম পানি খাওয়ার ১০ টি উপকারিতা

খুশকি দূর করার উপায়

ঘরে বসে খুশকি দূর করার সহজ ১০টি উপায় । খুশকি দূর করার প্রাকৃতিক শ্যাম্পু

চুল পরা বন্ধের উপায়

চুল পড়া বন্ধের প্রাকৃতিক ঔষধ 

দ্রুত ওজন বাড়ানোর উপায়

দ্রুত ওজন বারানোর উপায়

বমি দূর করার উপায়

বমি দূর করার উপায় | বমি হলে করনীয়

ব্যায়াম ছাড়া ওজন কমানোর উপায়

ব্যায়াম ছাড়া ওজন কমানোর ৯ টি সহজ উপায়

দ্রুত ওজন কমানোর খাবার তালিকা

মাসে ১০ কেজি ওজন কমানোর ডায়েট চার্ট




Categories